বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৫ জানুয়ারী ১৯৮১
গল্প/কবিতা: ৩৩টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

প্রেম পণ্য

প্রেম ফেব্রুয়ারী ২০১৭

প্রতীক্ষায় থাকি

আমার আমি অক্টোবর ২০১৬

ভ্রান্ত ভোমর

ঘৃণা সেপ্টেম্বর ২০১৬

বৈরিতা (জুন ২০১৫)

মোট ভোট একজন মুশফিক সাহেব

আল- আমিন সরকার
comment ৫  favorite ০  import_contacts ৩৩৭
রাত অনেক হল- ঘুম আসে না মুশফিক সাহেবের । যদিও শরীরে রোগের কমতি নেই তার । কিন্তু ঘুমের ঔষধ যে নিয়মিত খেতে হয় তা ও নয় । প্রতিবার ডায়াগনোসিসের পর আর একটা করে নতুন রোগের অস্তিত্ব ধরা পরে । তার পর ও তার মত কর্মোদ্যম মানুষকে খুঁজে পাওয়া সহজ নয় । কাজের জন্য চষে বেড়ান দেশের এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে । তার ঘুম না আসার কারন হল চিন্তা, যদিও চিন্তার কারণটা ভিন্ন – যা অনেক দিন ধরে মনের কোনে লুকিয়ে রেখেছেন তিনি । শুধু অনুকুল পরিবেশের অপেক্ষায় ছিলেন এতকাল। ৭১ সালে মহান মুক্তি যুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনী তাদের গ্রামের বাড়ি পুড়িয়েছিল । জলন্ত আগুনে পুড়ে ছাই হতে দেখেছেন তিনি, তাদের সাজান সংসার । তাই সেই গ্রাম তার কাছে মায়ের মতই প্রিয় । বাবা- ই তার আদর্শ । চাকরী সুত্রে ঢাকা থাকলেও মুশফিক সাহেবের মন পড়ে থাকে প্রিয় গ্রামেই । গ্রামের মানুষ ঢাকা কিংবা এলাকাতে সমস্যায় পড়লে তিনিই এগিয়ে যান সবার আগে । ফেসবুকের কল্যাণে এলাকার যুব সমাজের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে ও চলেন । ঈদ , পুজা-পার্বণ আর বাংলা নববর্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনে প্রধান ভূমিকা পালন করার মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সার্বজনীন সম্পর্ক অটুট রাখতে মুখ্য ভুমিকা পালন করেন । মানুষের প্রতি ভালবাসা আর সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা শিখেছেন তিনি তার বাবার কাছ থেকেই । তার বাবা বলতেন – যেখানেই থাক না কেন, এই মাটির সাথে সম্পর্ক যেন ছিন্ন না হয় । সে জন্যই তার মাটির প্রতি এতো টান । মনে আজ চিন্তার টর্নেডো ঢেউ খেলে যাচ্ছে, ঘুম আসতে দিচ্ছে না । কারন আগামীকাল সে দেশের সেরা ইঞ্জিনিয়ারের পদ অলংকৃত করতে যাচ্ছেন । সে জানে, রাস্তা হল- উন্নয়নের পূর্ব শর্ত । রাস্তা- ঘাট হলেই তার প্রাণ প্রিয় গ্রামের আর গ্রামের মানুষের উন্নতি হবে ।

পরের দিন আনুষ্ঠানিক ভাবে তিনি দেশের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার হলেন । যদিও অনেকে কাজের চাপে আর বৈরি পরিবেশে- ভাল কথা গুলো, ভাল স্বপ্ন গুলো দেখতে ভুলে যায় । নিজের নামে বেনামে সম্পদ অর্জনে লেগে যায় । সেখানে কিন্তু মুশফিক সাহেব ভিন্ন , বিদেশী দাতা গোষ্ঠীকে বুঝাতে সক্ষম হন যে, তার এলাকার উন্নয়ন- দেশের জন্য কত টুকু দরকার । বলে রাখা দরকার, তার এলাকাতে দেশের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ধান, লিচু , মাছ , পাট উৎপন্ন হয় । বর্তমানে পোল্ট্রি ও গরুর ফার্ম- এর অবদানও কম নয় । এভাবেই মুশফিক সাহেবের এতোদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হওয়ার পথে আরও এগিয়ে যায় ।


যথা সময়ে রাস্তার কাজ শুরু হয় । আবার শেষ ও হয়ে যায় ভালোভাবে । তার গ্রাম আর আজ আগের মত নেই । এখন যে কেউ চাইলে ঢাকা থেকে ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের গ্রামে যেতে পারে । স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত পণ্য ঢাকা তথা সারা দেশে সরবরাহ ও করতে পারে সহজে । মোবাইল টাওয়ার ও হয়েছে ।দেশ বরেণ্য মানুষের আগমন ঘটে এখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে । এই ভাবে এগিয়ে যেতে থাকে তার এলাকা । সাথে সাথে তার জনপ্রিয়তা ও হয় আকাশ ছুঁয়া এবং এরই সাথে তার প্রতি ঈর্ষা পরায়ণ লোকের সংখ্যা বাড়তে থাকে । এলাকার সাধারণ মানুষ কৃতজ্ঞতা জানাতে, মুশফিক সাহেবের জন্য একটা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে । অন্য দিকে ঐ ঈর্ষা-পরায়ণ মানুষ গুলো, অনুষ্ঠানটি প্রতিরোধ করার ঘোষণা দেয় । মুশফিক সাহেব নির্বাক হয়ে বসে থাকে , তার জীপ সামনের দিকে এগোতে থাকে আঁধারের বুক ভিতর দিয়ে ...।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন