বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৭ অক্টোবর ১৯৯০
গল্প/কবিতা: ৮টি

সমন্বিত স্কোর

২.২৫

বিচারক স্কোরঃ ১.০৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.২ / ৩.০

অস্থিরতা

অস্থিরতা জানুয়ারী ২০১৬

প্রাণের দাবি

উচ্ছ্বাস জুন ২০১৪

বাংলার প্রকৃতি

বাংলার রূপ এপ্রিল ২০১৪

শীত / ঠাণ্ডা (ডিসেম্বর ২০১৫)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.২৫ একটি শীতের সকাল

মোঃ মাহামুদুর রহমান সিদ্দিকী
comment ৭  favorite ০  import_contacts ২,৬০১
শীত নিয়ে আসলে অনেক অনেক কথা জমে আছে স্মৃতিতে, মজার মজার সব কথা; তা নিয়ে কথাও হয় অনেকের সাথে, গল্পও জমে তা আষাঢ়ে হোক বা নাই হোক, জমে মন্দ না।
একবার এক শীতকালের কথা বলছি, তখন স্কুলে পড়ি অষ্টম শ্রেণীতে। বৃত্তি কোচিং গ্রুপে ছিলাম-ছাত্র হিসাবে কোনকালেই আহামরি ছিলাম না। চলতাম একভাবে সবার সাথে সাথে। তো কোচিং এর মডেল টেস্টে রচনা এসেছিল “একটি শীতের সকাল”। অন্যান্য যা এসেছিলো তাও বেঁধেছিলো ভালোই কিন্তু হঠাৎ লেখার আগ্রহ জাগলো লিখবো তো লিখবোই ঐ রচনাই লিখবো। যথারীতি লিখে ফেললাম মোটামুটি সাড়ে তিন পৃষ্ঠার এক মাঝারি গোছের রচনা। ব্যাকরণ সহ অন্যান্য অংশ ভালো লিখেছি বলে আত্মবিশ্বাস ছিল অনেক যে বেশ ভালো মার্ক পাবো। মনে অনেক ফুর্তি নিয়ে পরীক্ষার কক্ষ থেকে বের হলাম। যে সম্মানিত শিক্ষক বাংলা ২য় পত্র পড়াতেন উনি আবার অনেকটা উন্নত চিত্তের তখনকার সময়ে, মানে উনি যেভাবে চাইতেন – তা কভু না পাইতেন – উল্টে ধোলাতেন। যাই হোক কিছুদিন বাদ খাতা দেখানোর সেই ক্রান্তি লগ্ন চলে আসলো, কার কেমন হয় জানিনা আমাদের ঐ সময়টাতে খাতা দেখানোর সময় সর্বোচ্চ উত্তেজনা এবং সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া নিয়ে সর্বোচ্চ ত্রাহি ত্রাহি ভাব কাজ করতো।
তো ভালোভাবে স্যার সবার খাতা দিয়ে দিলেন আমার খাতা তার মধ্যে নাই। যদিও ক্রমানুসারে সেরা ১০ এর মধ্যে সর্বদাই থাকতাম তবুও খাতা মোটেও না আসার কারণ বুঝলাম না। ভালো পরীক্ষা দেয়ার পরও খাতা না আসার কারণ মাথার চুল কয়েকটা ছেড়ার পরও আসলো না। পরে স্যার যথারীতি ক্লাস নেয়া শুরু করলেন।
ধুরছাই কিসের ক্লাস। মনই বসছে না কাজে। পরে আর কি এর ওর খাতা দেখছিলাম কে কত পেলো-কার কত ভালো হল। পরে ক্লাস শেষ হওয়ার মিনিট দশেক আগে স্যার থামলেন। এবার দেখি খাম থেকে একটা খাতা বের করছেন। বুঝতে আর বাকি থাকলো না যে ওটা কার খাতা। হৃদপিণ্ড মোটামুটি প্রস্তুত গলা পর্যন্ত উঠে আসার জন্য। স্যার এর দিকে তাকাতেও পারছি না কিন্তু খুব বুঝছি যে স্যার আমার দৃষ্টি কাড়ার চেষ্টা করছেন। পরে আর কি বা হতে পারে, আমার নাম ধরে ডাকলেন আর সামনে আসতে বললেন। এমনিতেই স্কুলে পড়া অবস্থায় এমন ছিলাম না যে স্যার সামনে ডেকেছেন আর খুব আনন্দ নিয়ে চলে গিয়েছি। তাছাড়া তখন কাউকে সামনে ডাকা মানে অনেক রিমান্ডে নেওয়ার মতো অবস্থা সবার নজর এবং মনোযোগ আমাকে ঘিরে। মনে হচ্ছে কি না কি করে বসেছি এখন ভরা মজলিসে তার বিচার হবে।

কিছুক্ষণ বাদ খুব অবাক হলাম। স্যার দেখি আমাকে পাশে নিয়ে আমার খাতা দেখিয়ে সব ভালো বিষয় গুলোর জন্য প্রশংসা করলো। সবশেষে যেই মাত্র স্যার রচনার পৃষ্ঠা উল্টালো ওমনি দেখি যে পুরো রচনা স্যার এক এক দাগ দিয়ে কেটে রেখেছেন। আমার তো চোঁখ কপালে উঠে গিয়েছে!!!

!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

একি কান্ড!!!!! এতো সাহস নিয়ে চরম এক রচনা খাতার পাতা প্রায় শেষ করে লিখেছিলাম আর স্যার তাতে ০০ দিয়ে রেখেছেন। এমন অপ্রস্তুত ও হতভম্ভ হয়েছিলাম যে কিছুই ভালোমন্দ মাথায় আসছিলো না। স্যার সদাসর্বদাই একটা চিকন সাড়ে তিন গিরার এক বেত আনতেন, বেতটা বেশ পাতলা তাই দুলতো আর সপাং সপাং করে যখন দিতেন কাউকে সে ছাড়া এমন ঝাল-চোখে পানি-পাছা ডলা আর কারো উপভোগ্য ছিলো না।

নিশ্চিত প্রায় যে, এবার আমার হচ্ছে...। গলদেশে ২-৪ টি ঢোক গেলা হয়ে গেছে ততক্ষনে। দেখলাম যে শুধু স্যার এর হাত বেত তুলতে যাচ্ছে, তাতেই চোঁখ বন্ধ............।


(২-৩ সেকেন্ড পরে)


নাহ! সব ঠিকাছে। আমিও ঠিকাছি।
স্যার আমার জন্য বেত ব্যবহার করেন নি। হাতে তুলেছিলেন ঠিকই কিন্তু সরিয়ে পাশে রাখার জন্য, আমাকে প্রহার করার জন্য নয়। বরং উনি এবার আর আমার উদ্দেশ্যে না বং সারা ক্লাশকে উদ্দেশ্যে করে কথা বলা শুরু করলেন। আমরা যেহেতু বৃত্তি গ্রুপ ছিলাম তাই আমাদের ক্ষুদ্র ভুল শুধরে দেয়াই স্যার দের কাজ।

স্যার বলা শুরু করলেন আর আমরা সবাই মন দিয়ে শোনা শুরু করলাম। তিনি বললেন যে, “দেখো, তোমাদের রচনা পড়েছিলো একটি শীতের সকাল। তোমারা কেউ সেটা লেখনি কারণ তাতে নম্বর অনেক ভালো আসে না। কিন্তু এই ছেলেটি লিখেছে । তবে ও যা লিখেছে তা হলো ‘শীতের সকাল’ রচনা কিন্তু আমি চেয়েছি ‘একটি শীতের সকাল’ । তার মানে শীতকালে তোমার দেখা কোন এক বিশেষ সকাল এর বর্ণনা।”
স্যার যখন কথা শুরু করেছিলো তখনও সবই কুশাচ্ছন্ন লাগছিলো কিন্তু তাঁর কথা শেষ হতেই সব কুয়াশা কাটিয়ে যেন আলোর মুখ দেখলাম, গোটা ব্যাপারটা বুঝতে আর বাকি রইলো না যে স্যার কি বোঝাতে চেয়েছেন। পরে স্যার আরো বিস্তারিত বললেন। আমরা সবাই একসাথে শিখলাম বিষয়টা।
কিন্তু সেদিন থেকে আজ অব্দি মনে আছে সেই শিক্ষাটা যে, শীতের সকাল ও একটি শীতের সকাল ব্যাপারটা এক নয় আলাদা। পরে বিষয়টা নিয়ে আরো মাথা ঘামিয়েছি যে সত্যিই তাই। যেমন ধরেন নৌকা ভ্রমন এবং একদিন নৌকায় ভ্রমণ ব্যাপারটা কিন্তু এক নয়। তেমনি স্বাভাবিকভাবে শীতের সকাল বলতে সামগ্রিক শীত বিষয়ক ব্যাখ্যাই বোঝায় কিন্তু যদি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় যে ‘একটি শীতের সকাল’ বা ‘তোমার দেখা একটি শীতের সকাল’ তাহলে কোন বিশেষ কিছুর ব্যাখ্যাই বোঝানো হয় – যা সেদিনের আগ পর্যন্ত বুঝতাম না কিন্তু তারপর থেকে খুব বুঝি এবং এর পরে অবশ্য এক পরীক্ষায় ‘একটি শীতের সকাল’ রচনা পড়েছিলো এবং আমি খুব আগ্রহের সাথে সেখানে আমার দেখা এক বিশেষ শীতের সকালের কথা লিখেছিলাম। খুবই কষ্টের এক সত্য ঘটনা লিখেছিলাম। সে ঘটনার কথা না হয় আরেক দিন বলবো - এক অতি দরিদ্র পরিবারের থমকে যাওয়া এক করুণ সকালের কথা, দাবানলে ছাই হয়ে যাওয়া স্বপ্ন-সর্বস্বের কথা।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন