বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১১ অক্টোবর ১৯৯০
গল্প/কবিতা: ৯টি

সমন্বিত স্কোর

৫.৯৯

বিচারক স্কোরঃ ৩.৬৬ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.৩৩ / ৩.০

হৃদ্যতা টিকিয়ে রাখতে

ভালবাসি তোমায় ফেব্রুয়ারী ২০১৪

নীরব আস্ফালন

ক্ষোভ জানুয়ারী ২০১৪

পাপমুখে দেশপ্রেমের বুলি

দেশপ্রেম ডিসেম্বর ২০১৩

পূর্ণতা (আগস্ট ২০১৩)

মোট ভোট ৩৫ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৫.৯৯ পূর্ণিমা দেখবো বলে বসে আছি

ইসহাক খান
comment ২৫  favorite ৫  import_contacts ১,৮৯২
আমি পূর্ণিমা দেখবো বলে বসে আছি।
আমি কোন নভোচারী নই, যে চাঁদকে দেখে নিকট ভবিষ্যতের আবাস হিসেবে।
আমি কোন জ্যোতির্বিদ নই, যে চাঁদকে জানে একটি মৃত উপগ্রহ বলে।
আমি পুরনো ধাঁচের মানুষ, চাঁদকে দেখি পুরনো মানুষের মতোই,
যারা আকাশের দিকে তাকিয়ে
অনাদিকাল ধরে শরীরে এক আশ্চর্য শিহরণ বোধ করে।
আমি সেই মানুষগুলোর একজন, যারা এখনো আকাশ দেখতে ভুলে যায় নি।
এখনো যারা রোমাঞ্চ খোঁজে জোছনায়, পূর্ণিমায়;
নক্ষত্রখচিত কালো আকাশে।

আমি একবিংশ শতাব্দীর মানুষ,
কিন্তু এখনো আমি কৃত্রিম আলোয় ডুবে যাই নি।
আর সবার মতো ফ্লোরোসেন্ট আলো আমাকে ভোলাতে পারে নি
আদিম সেই চন্দ্রালোকিত শিহরণের কথা।
প্রতি পূর্ণিমায় তাই আমি সব আলো নিভিয়ে দিই।

অমাবস্যা আমার কাছে অন্ধকার, অশুভ।
আমি অপেক্ষা করি সেই রাত্রিটির, যে রাত্রে শুভ্র গোল থালার মতো চাঁদ
জগৎকে ধুয়ে দেয়, স্নিগ্ধ পবিত্রতায় আচ্ছন্ন করে গোটা সৃষ্টিকে।
আমি ভালোবাসি চাঁদ, ভালোবাসি জোছনা।
ভালোবাসি স্নিগ্ধ কোমল আলোটিকে।

আকাশের কোণে আজ সন্ধ্যায় চেরা নখের মতো চাঁদটি উঁকি দিয়েছে।
পূর্ণ হবে এই চন্দ্র, এইটুকুই তো থাকবে না।

আমি পূর্ণিমা দেখবো বলে বসে আছি।
ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমীর রাতগুলো কেটে যাচ্ছে, ধীরে হলেও।
আমি জানি, অপেক্ষার রাতটি আর কয়েক রাত তফাতে।

শুক্লা দ্বাদশীর তেজ কেউ দেখেছে কি, আমার মতো করে?
আমার মতোই ভালোবেসে?
আরেকটু বাকি আছে চাঁদটির, পূর্ণতা পেতে।
একদিকে টোল খাওয়া চাঁদটি যেন অভিযোগের দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকায়।
আমি মৃদু হাসি। পূর্ণিমা আসছে।

আজ পূর্ণিমা।
যেমনটি বলেছিলাম, তার চেয়েও সুন্দর আজকের জোছনা।
হয়তো বিগত সব জোছনাকে ছাপিয়ে গেছে তার সৌন্দর্য, তার তীব্রতা।
কিংবা কে জানে, অনেক অপেক্ষার পর এসেছে বলেই হয়তো ... ...

সবকিছু ভেসে যাচ্ছে অনুপম জোছনায়।
নীরব বনানীতে, অনেক দূরে নেকড়ের ডাক শুনতে শুনতে,
পানিতে চাঁদের প্রতিবিম্ব দেখতে কেউ যেন ভুলে যেও না।
অনেক কিছু মনে পড়বে – অতীতকে, মৃত্যুকে, ছোট ছোট বেদনাগুলোকে।
আমি অসহ্য আনন্দ নিয়ে তাকিয়ে আছি আকাশের দিকে, মুগ্ধ দৃষ্টিতে।
প্রথম মানব বোধহয় এতটাই মমতা নিয়ে তাকিয়েছিলেন;
ঠিক এই চাঁদটির দিকেই।
হ্যাঁ, এই বুড়ি চাঁদটিই কত হাজার বছরের প্রতিফলন বয়ে বেড়াচ্ছে।

পূর্ণিমা দেখবো বলে বসে ছিলাম।
আজকের রাতটি এখানেই বসে থাকবো, যতক্ষণ না চাঁদ ডুবে যায়।
হয়তো আমার জীবনের শেষ জোছনা এটি,
দু’চোখ ভরে দেখে নিই না।
রাতচরা পাখিরা ডাকতে থাকে,
আমার জোছনা দেখা শেষ হয় না।
পূর্ণিমা এবং পূর্ণতার অনুভূতি নিয়ে আমি বসে থাকি।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন