বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২ জানুয়ারী ১৯৭৫
গল্প/কবিতা: ৩৯টি

সমন্বিত স্কোর

৪.১

বিচারক স্কোরঃ ২ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.১ / ৩.০

ত্রিভুজ সংসার

আমার আমি অক্টোবর ২০১৬

মধু বাউল

ঘৃণা সেপ্টেম্বর ২০১৬

ফুলেশ্বরের স্বপ্ন

প্রায়শ্চিত্ত জুন ২০১৬

গল্প - কি যেন একটা (জানুয়ারী ২০১৭)

মোট ভোট ১৪ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.১ ঋতুবিহারী

মোজাম্মেল কবির
comment ৬  favorite ০  import_contacts ১৩৫

হাওর এর ধারে দাড়িয়ে বাবা দলছুট কয়েকটি পাখির দিকে আঙ্গুল তুলে আমাকে বললো -এরা আর কোন দিন তাদের দেশে ফিরে যেতে পারবে না। কেন জানিস? আমি বললাম -জানিনা বাবা। কেন ফিরে যেতে পারবে না?
-এদের সঙ্গী শিকারির হাতে ধরা পড়েছে। এরা এখনো তার সন্ধানে আছে। যদি কখনো খুঁজে পায় তাহলে একসাথে যাবে। বাবা বললো।
-যদি খুঁজে না পায়? আমি জানতে চাইলাম।
-খুঁজে না পেলে এরাও একদিন কোন শিকারির হাতে ধরা পড়বে। বাজারে বিক্রি হবে। বাবার মুখ তখন বিষণ্ণ লাগে দেখতে।
ছোট কালে আমাকে নিয়ে বাবা শীতের অথিতি পাখি দেখতে নিয়ে যেতো। শীতের শেষে না ফেরা পাখি গুলোর জন্য তার অনেক মায়া হতো। এ বছর বাবা ঢাকায়। শীত চলে যাচ্ছে। পাখি দেখতে গ্রামে যেতে চাইছে। ধর্মপাশা বাজার থেকে কিছু দূর হেটে রাস্তার পাশে একটা শত বছরের পুরনো বট গাছ। বাবা বটতলার মাচায় বসে হাওরের পাখি দেখবে। আমিও বলেছি বাবাকে সময় করে নিয়ে যাবো।


রাত বারোটর সময় দরজায় টোকা শুনে বিছানা থেকে উঠে আসি। দরজা খুলে দেখি বাবা দাড়িয়ে আছে দরজার সামনে। এতো রাতে বাবার রসগোল্লা খেতে ইচ্ছে হলো। আমি বললাম -বাবা তোমার সুগার লেবেল অনেক বেশী মনে আছে? ডাক্তর...
-তুই কি আমাকে রসগোল্লা খাওয়াবি না? হ্যা কিংবা না বল। বাবা একটু রেগে গেলেন মনে হচ্ছে।

আমি ফ্রিজ থোকে মিষ্টি বের করে খেতে দিলাম। বাবা খাবে না। দোকানে গিয়ে খাবে। আমি বললাম -এতো রাতে উত্তরায় কোনো মিষ্টির দোকান খোলা নেই। এবার আরেকটু বেশী রেগে বাবা বললো -দোকান কোথায় খোলা আছে জানি না। আমি দোকানে বসে রসে ডুবা রসগোল্লা খাবো।
বাবার সাথে আমার এই কথা গুলো আমাদের শোবার ঘর থেকে শুনছে মলি। আমি প্যান্ট পড়ে গাড়ির চাবি নিয়ে তৈরী হলাম। মলি বিরক্ত হয়নি বুঝা গেলো যখন সে আমাকে বললো -টঙ্গী স্টেশন রোডে একটা দোকান খোলা পেতে পারো।
বাবা লুঙ্গী পড়েই গাড়িতে উঠলেন। টঙ্গী স্টেশন রোডের সেই দোকানে বসে বাবার মিষ্টি খাওয়া দেখে চোখে জল এসে যায় আমার। কি শিশুসুলভ আচরণ! মনে পড়ে শৈশবে বাবা রাতে বাড়ী ফিরে মাঝ রাতে আমাকে আর বুবুকে ঘুম থেকে তুলে মিষ্টি খেতে দিতেন। মুখে অর্ধেকটা মিষ্টি নিয়ে চোখ ঘুমে ঢলে পড়তো আমাদের ভাই বোনের। বাবা আলতো করে দুই গালে হাতের স্পর্শ দিতো। পুরোটা খাওয়া শেষ করে পানি খাইয়ে মুখ মুছে দিতো গামছা দিয়ে। তখন বাবার চোখে কি আনন্দ! আমারো তেমনই আনন্দ লাগছিলো বাবার রসগোল্লা খাওয়া দেখে। আমার বৃদ্ধ বাবাকে দেখে বুঝতে পারলাম মানুষ কিভাবে শিশু থেকে বড় হয়ে আবার শিশু হয়ে যায়।

আটাত্তুর চলছে বাবার। বছর খানেক হলো এমন পাগলামি বেড়েছে। মা মারা যাওয়ার পর থেকে। ধর্মপাশা আমাদের গ্রামের বাড়ীতে ভালোই সময় কাটছিলো। মা বেঁচে থাকতে এক রাতের জন্যও ঢাকায় রাখা যেতো না বাবাকে। এমনকি মাকে সাথে নিয়ে ঢাকায় আসলেও থাকতে চাইতো না। মা মারা যাওয়ার পর একা গ্রামে রাখা সম্ভব ছিলো না বাবাকে। বাবা গ্রাম ছেড়ে আসতেও রাজী হচ্ছিলো না। রান্না বান্না কে করবে দেখভাল কে করবে এইসব বুঝিয়ে শুনিয়ে ঢাকায় নিয়ে আসতে হয়। প্রথম কয়েকদিন খুব সমস্যা হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে পাগলের মতো হয়ে যেতো হাটার জন্য। সকালে তিন চার কিলো না হাটলে তার ভালো লাগে না। সেক্টরের পার্কে হাঁটতে নিয়ে যাই। তাতে বাবার মন ভরে না। সকালে উঠে প্রায় প্রতিদিন শুনতে হতো -আমাকে এভাবে কতোদিন খাঁচায় বিন্দি করে রাখবি? বনের পাখি বনে ছেড়েদে বাবা।

রাতে বাবা ঘুমায় না। সারারাত জেগে থাকে। শোবার ঘর থেকে রান্নাঘর হটাহাটি করে। রাতের বেলা বসে বসে সিগারেট খায়। দিনের বেলা দানোয়ানকে দিয়ে সিগারেট আনিয়ে বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে।
মলি প্রতিদিন রান্নার আগে বাবার কাছে জানতে চায় -বাবা আজ আপনার কি খেতে ইচ্ছা হচ্ছে? বাবা হয়তো বলবে পাবদা মাছ অথবা মলা মাছ। বাবার পছন্দের খাবার গুলো ঘরে মজুদ রাখে মলি। মলির বাচ্চা হবে মাস চারেক পর। এই শরির নিয়ে নিজ হাতে বাবার পছন্দের খাবার রান্না করে।
একটা মাত্র বছর। কথায় কিংবা কাজে বাবা মনে কষ্ট পাক আমি মনে প্রাণে চাই না। বাবার প্রতি বিরক্ত হতে আমি কখনোই চাই না। কিন্তু আমি অনুভব করলাম ক্রমে ক্রমে আমার মনের মধ্যে বাবার প্রতি বিরক্তির জন্ম নিচ্ছে। এমন গোপন বিরক্তি যা মানুষ কথায় কিংবা কাজে প্রকাশ করে না। পৃথিবীর সব ভালো মানুষের মনেও হয়তো এমন গোপন বিরক্তি ঘাপটি মেরে থাকে। আমি কতোটা ভালো মানুষ তা আমি জানি না কিন্তু আমি একজন ভালো সন্তান। তারপরেও আমাকে কেন গোপন বিরক্তি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে বুঝতে পারছি না। আমি হয়তো আর ভালো সন্তান নেই। আমিও মন্দ সন্তান হয়ে গেছি। পৃথিবীর সব ভালো মানুষ গুলোই কি আমার মতো এমন মন্দের সাথে লড়তে লড়তে হেরে যায়? আমি কি হেরে গেছি?

সেই রাতের পর থেকে আমাকে অনবরত আমার সাথে লড়ে যেতে হচ্ছে। রাতে কয়েকবার বাথরুমে যেতে হয় বাবাকে। অন্ধকারে প্রায় রাতেই আমাদের শোবার ঘরের দরজাকে বাথরুমের দরজা মনে করে খোলার চেষ্টা করতো। আমি উঠে দরজা খুলে বাথরুমে নিয়ে যেতাম। সেদিনও ভুল করে আমাদের দরজার সামনে দাড়ায় কিন্তু চাপ সামলাতে পারে নি। দরজার সামনেই প্রস্রাব করে দেয়। লুঙ্গীও ভিজে যায়। বাবা সরারাত না ঘুমিয়ে বসে থাকে। সকালে ঘুম থেক জেগে আমি বাবার চোখে মুখে ভয় দেখতে পেলাম। ছোট বাচ্চা যখন টেবিল থেকে খাবারের প্লেট ফেলে দিয়ে ভেঙে ফেলে ভয় পায় তেমন ভয়। বাবা ভয়ে ভয়ে আমার দিকে না তাকিয়ে বললো -চাপ সামলাতে পরি নি বাবা...
আমি বাবার পিঠে হাত দিয়ে বলি -কোন সমস্যা নেই বাবা। এমন হতেই পারে। বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে আমার চোখে জল প্রায় এসে যাচ্ছিলো। ছোটকালে কতো কষ্ট দিয়েছি তোমাদের। বাবার মুখে স্বস্তির ছাপ দেখতে পেলাম। বাবা মনে কোন কষ্ট পায় নি।
সেদিন থেকেই আমি বুঝতে পারলাম মানুষ মাঝে মাঝে তার নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। কিছু একটা অদৃশ্য শক্তি মানুষকে ঠেলে তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। তার তীব্র ইচ্ছা গুলোকে দুর্বল করে দেয়। তখন সে ভালো চিন্তা করতে চাইলেও পারে না। মনের মধ্যে মন্দের প্রভাব বেড়ে যায়। মন্দ শক্তিশালী হয় ভালো পরাজিত হয়। বাবার প্রতি আমার বিরক্তি যতোই মুছে ফেলি ততোই মাথা তুলে। মানুষ তার মনোভাব চেপে রাখতে পারে না। কোন না কোন ভাবে সে প্রকাশ পাবেই।


বয়স হলে মানুষ কিছু কিছু অনুভূতি হারিয়ে ফেলে। কারো অবহেলা গায়ে মাখার শক্তি থাকে না। তখন শুধু সে ভালবাসাই ভালো বুঝে অবহেলা বুঝে না। বাবার এখন সেই বয়স। বাবা রাতে লুকিয়ে লুকিয়ে সিগারেট খায় আমি বাঁধা দেই না। সিগারেট খেয়ে শরিরের যে ক্ষতি হচ্ছে বাধা দিলে মনে যে কষ্ট পাবে তা হয়তো আরও বেশী ক্ষতি হবে। আমার বিরক্তি যদি প্রকাশ পেয়ে যায় সেও এক ভয়!

শীত চলে যাচ্ছে। পাখি গুলো চলে যাওয়ার সময় হলো। বাবা এর আগেও জানতে চেয়েছেন -আমরা কবে যাচ্ছি? আমি বলেছি যাবো সময় করে দুই দিনের জন্য। তারপর প্রায় এক মাস কেটে গেছে। আমি ভুলে গেছি কিন্তু বাবা অপেক্ষায় আছে গ্রামে যাওয়ার জন্য। সামনে আমার অফিসের অনেক কাজ। এক দিনের জন্যও ছুটি নেয়া সমস্যা। বাসায় ফিরতে রাত এগারোটা কখনো তারও বেশী হয়। সেদিন বাসায় ফিরতেই বাবা সামনে এসে দাড়ায়। বলে -আসাদ, বাবা তুই কয়েক দিনের জন্য আমাকে গ্রামে রেখে আসতে পারবি? আমার আসলে তখন খুব ক্লান্ত লাগছিলো। মেজাজটাও ভালো ছিলো না। হঠাৎ একটু উত্তেজিত হয়ে বলি -গ্রামে গিয়ে তুমি করবেটা কি শুনি? কে আছে তোমার ওখানে?
-আমাকে কিছু টাকা দিতে পারবি? বাবা বললো।
-কি করবে তুমি টাকা দিয়ে?
-রাত বারোটায় হাওর এক্সপ্রেস ট্রেন চলে। আমি একা চলে যেতে পারবো বাবা।
-ঠিক আছে এখন ঘুমাও কাল দেখা যাবে। বাবা কিছু না বলে নিজের ঘরে চলে গেলো। সারা রাত আমার আর ঘুম হলো না। আমি জীবনে প্রথম বাবার সাথে এতোটা উত্তেজিত হলাম। ইচ্ছে হচ্ছিলো বাবার সাথে একটু কথা বলি। সেই অদৃশ্য শক্তিটা আমাকে পিছন থেকে আটকে রাখলো। আমাকে বিছানা থেকে উঠতে দিলো না। মানুষ যখন পরনির্ভরশীল হয়ে যায় তখন তার ইচ্ছে গুলো তার চার পাশে কেমন ঘুরঘুর করে। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আগামী শুক্রবারে বাবাকে গ্রামে নিয়ে যাবো। দুই চার দিন থাকবো সেখানে বাবাকে নিয়ে। পরদিন অফিসে বসের সাথে কথা বলে ছুটি নিলাম। কিন্তু আমি বাসায় এলে বাবা আর তার ইচ্ছের কথা বলে না। আমাকে দেখে ভয়ে ভয়ে দূরে সরে থাকে।
হাওর এক্সপ্রেস এর টিকিট করলাম। তিন দিন পর বৃহস্পতি বার রাত বারোটায় ট্রেন। বাবাকে বললাম কিন্তু বাবা খুব আগ্রহ দেখালো না। মলি বাবার কাপড় ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছে দুই দিন আগেই। সকালে বাবার গোছলের পানি গরম করে বাবার ঘরে ঢুকে দেখে বাবা ঘুমিয়ে আছে। বাবা এতো বেলা পর্যন্ত ঘুমায় না। গায়ের কম্বলটায় অর্ধেক শরির ঢাকা। ডান কাত হয়ে শুয়ে আছে। মলি বাবার কাঁধে হাত দিয়ে ঘুম থেকে জাগাতে চেষ্টা করে। শরির ভীষণ শক্ত। মুখ দিয়ে লালা গড়িয়ে পড়ছে বালিশে। খানিকটা ভিজে গেছে বালিশ। আমাকে ফোন করে। অফিস থেকে ছুটে আসি। বাবার খাটের নীচে পড়ে আছে ছাইদানি তার চারপাশে কয়েকটি সিগারেটের ফিল্টার। আমার বাবা দলছুট ঋতুবিহারী পাখি দেখতে চেয়ে ছিলো তা আর দেখা হলো না। নিজের সাথে দলছুট পাখির কোথাও কি মিল খুঁজে পেয়েছিলো? হয়তো পেয়েছিলো।
আমার অনাগত সন্তানের একটা কাল্পনিক মুখ ভেসে উঠলো চোখের সামনে। সেও কি একদিন এভাবে আমাকে কষ্ট দিবে? আমাকে অবহেলা করবে? বিরক্ত হবে? আমাকেও তার বোঝা হয়ে বেঁচে থাকতে হবে কয়েকটা দিন? আমি নিজেকে আবিস্কার করলাম দলছুট পাখিদের দলে। মানুষের ভিড়ে আমিও নিঃসঙ্গ এক মানুষ। সম্পর্ক আর ভালোবাসার মাঝখানে যে ফাঁকা জায়গাটুকু থাকে সেখানে কিছু একটা অজ্ঞাত কারণ বসবাস করে। তাই হয়তো সবাই একদিন দলছুট ঋতুবিহারী পাখি হয়ে নিঃসঙ্গ ঘুরে বেড়ায় উড়ে যাওয়ার আগে।

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • মোঃ সাকিব চৌধুরী
    মোঃ সাকিব চৌধুরী চমৎকার ভাবনার জন্য সাধারণ একটি গল্পও অসাধারণ হয়ে উঠেছিল । শুরুটা এবং শেষটা সত্যিই ভালো ছিল; তবে, মাঝখানে মনে হচ্ছিল কাহিনী কেমন যেন ছেড়ে ছেড়ে যাচ্ছে । কিছু বানান ভুলও চোখে পড়ল । শুভকামনা থাকল ভাইয়া । :)
    প্রত্যুত্তর . ১৪ জানুয়ারী, ২০১৭
    • মোজাম্মেল কবির অনেক ধন্যবাদ গল্পটি পড়ার জন্য এবং মন্তব্যের জন্য। একটা গল্প শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সরল পথে যায় না তাই হয়তো আপনার এমন লাগতে পারে। গল্পে যে বার্তাটি দিতে চেয়েছি সেটা দিতে পারলাম কি না তা আমি বেশী গুরুত্ব দেয়ার চেষ্টা করি। আমি বানান ভুলের ব্যাপারে সতর্ক থাকার চেষ্টা করি। এর পরও কিছু ভুল থেকে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। আমার ভুল বানান গুলো মন্তব্যে জুড়ে দিলে উপকৃত হতাম। ভালো থাকুন।
      প্রত্যুত্তর . ১৫ জানুয়ারী, ২০১৭
  • সেলিনা ইসলাম
    সেলিনা ইসলাম চমৎকার একটা গল্প পড়লাম! কাহিনী বিন্যাস উপাস্থাপনা খুব ভালো লাগলো। গল্প বড় হবার একটা ভয় গল্পকারের মনে হয়তবা কাজ করেছে। আর তাই গল্পের ভীতর কিছুটা এদিক সেদিক হয়েছে। তারপরও বেশ তৃপ্তি নিয়েই গল্প পড়লাম। শেষে এসে দীর্ঘশ্বাস সঙ্গী হল। অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
    প্রত্যুত্তর . thumb_up . ১৬ জানুয়ারী, ২০১৭
    • মোজাম্মেল কবির হ্যা আপা আপনি সত্যি বলেছেন। গল্প বড় হয়ে যাওয়ার একটা বিষয় আমার মনে বরাবরই কাজ করে। আমি আসলে গল্পের নির্যাস অল্প কথায় নিয়ে আসার চেষ্টা করি। অনলাইনে পাঠকের ধৈর্যচ্যুতি একটা বড় ব্যাপার। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
      প্রত্যুত্তর . ২৫ জানুয়ারী, ২০১৭
  • আহা রুবন
    আহা রুবন পড়া শেষ করে ছাদে তাকিয়ে কোথায় যেন হারিয়ে গেলাম। এক সময় যার হাত ধরে আমরা সবাই হাঁটতে শিখি, সে-ই একটা সময়ে শিশুর মত অসহায় হয়ে যায়। পরনির্ভরতা! আমার জীবনেও কি আসবে? নানা ভাবনা এসে মনে ভিড় করছে। যে লেখা পড়ার পর পাঠক কিছুক্ষণ আচ্ছন্ন থাকে, সেটাই-না সার্থক লেখা...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . thumb_up . ১৭ জানুয়ারী, ২০১৭
    • মোজাম্মেল কবির আমাদের সংক্ষিপ্ত জীবনের অলিগলিতে এমনই হাজারো গল্পের উপকরণ। আমরা কিছুটা উপলব্দি করতে সক্ষম হই অনেকটাই থেকে যায় অনাবিষ্কৃত। আপনার মন্তব্যে ধন্য হলাম। আমার লেখা সার্থক হলো। আমি বিজয়ী হলে যতোটুকু না আনন্দ পাবো তারচেয়ে আপনার অনুভূতি প্রকাশের মূল্য আমার কাছে অনেক বেশী। ধন্যবাদ সাথে কৃতজ্ঞতা রইলো আপনার জন্য।
      প্রত্যুত্তর . ২৫ জানুয়ারী, ২০১৭