বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৭ ডিসেম্বর ১৯৮১
গল্প/কবিতা: ৫০টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

৩৩

স্বপ্নীল প্রেম

প্রেম ফেব্রুয়ারী ২০১৭

বেদনার নেই শেষ

আমার স্বপ্ন ডিসেম্বর ২০১৬

ভালোবাসা

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নভেম্বর ২০১৬

মুক্তির চেতনা (মার্চ ২০১২)

মোট ভোট ৩৩ একটি দেখা গল্প

তৌহিদ উল্লাহ শাকিল
comment ২৩  favorite ১  import_contacts ৫৫২

কি পরিষ্কার বাগানের এদিকটা বলে উঠে লুনা।তার সাথে সকাল থেকে ঘুর ঘুর করছে ছোট ভাই লিমন। লুনা লিমনের চেয়ে বছর তিন এর বড় । লুনার তালাক হয়ে হয়ে গেছে আজ তিন মাস হল । লুনা আগের চেয়ে অনেকটা ফর্সা হয়ে গেছে , কিন্তু কেমন যেন চিন্তিত থাকে সারাক্ষণ । দুই ভাইবোনের মাঝে বেশ ভাব সেই ছোটবেলা থেকেই । মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান তাই বড় ধরনের কোন চাওয়া পাওয়া নেই । তাদের বাবা লুতফুর রহমান পুলিশের সাব ইন্সপেক্টার হিসাবে রিটায়ার্ড করেছেন বছর পাঁচ পূর্বে। বারান্দার টেবিলে দৈনিক পত্রিকা আর বিদেশী ইংরেজী গোয়েন্দা গল্পের বইয়ে মুখ বুঝে পড়ে থাকেন সারক্ষণ । এই পরিবারের সকলের দিনটা বেশ ভালোই কাটে কিন্তু যখন রাত নেমে আসে তখন প্রতিটি রুমে কেমন একটা হাহাকার আর একাকীত্ব নিয়ে সকলে বেঁচে থাকে দিনের পর দিন।
কিন্তু এই পরিবারটি এমন ছিল না । এই পরিবারের বড় ছেলে লোকমান তখন ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়ে । মেঝ মেয়ে লুবনা ডাক্তারি পড়ে । ছোট দুই ছেলেমেয়ে লিমন এবং তার বোন লুনা তখন বেশ ছোট। প্রাইমারী স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে হাইস্কুলের খোলা হাওয়ায় দুইজন তখন বেশ খুশি । পরিবার সংসার এসব কিছুই বুঝার মত বয়স দুইজনের কারো হয়নি । বড় ভাই ঢাকা থেকে আসার সময় নানা বিস্কুট সন্দেশ নিয়ে আসত তা পেলে দুই জনের খুশীর সীমা থাকতা না । তবে সব সময় তো একরকম যায় না । পরিবর্তন হয় , ঝড় আসে , এরপর ও বেঁচে থাকতে হয় ।

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তখন ভয়ানক রকমের।শেখ সাহেব নির্বাচনে নিরুঙ্কশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেলে ও পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক দল ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চাচ্ছে না। পরিস্থিতি দিনের পর দিন ঘোলাটে হয়ে উঠছে । ভেতরে ভেতরে হীন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠার পরিকল্পনায় মত্ত তখন পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী। ঢাকা শহরের মানুষ আতঙ্কের মাঝে বাস করছে তখন । কিন্তু গ্রামের মানুষ তখন এসব ব্যাপারে কিছুই জানেনা। তারা শুধু জানে মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ভোটে জিতলে ও ক্ষমতায় বসতে দিচ্ছে না পশ্চিমা শাসকরা। শেখ মুজিব দমবার পাত্র নন । এখানে সেখানে মিটিং মিছিল আলোচনা তখন তুঙ্গে। শেখ মুজিবর রহমান সাত’ই মার্চ তার ঐতিহাসিক ভাষণে অত্যান্ত সু কৌশলে স্বাধীনতার ঘোষণা বলে গেলেন । যুদ্ধের জন্য সকলকে প্রস্তুত থাকতে বললেন । দেশের সাধারন মানুষ তার ভাষণ বুঝতে পারল । সকলে নিজেদেরকে প্রস্তুত রখতে লাগল । কিন্তু সেই হায়নার দল আরো গভীরে ভাবতে থাকে এবং পঁচিশে মার্চ রাতে , রাতের অন্ধকারে অসহায় নিরস্ত্র ঘুমন্ত বাংলাদেশীদের উপর পাশবিক এবং অমানবিক নির্যাতন চালায় । পৃথিবীর ইতিহাসে এমন ন্যাক্কার জনক ঘটনা আর ঘটেছে বলে জানা যায়নি । একে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত খুন বলা চলে । সেই পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের জন্য আজো পাকিস্তান বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চায়নি ।
সেদিনের সেই রাতে হোস্টেল ক্যাম্পাস থেকে লোকমানকে ও নিয়ে যাওয়া হয় পাকিস্তান বাহীনির যুদ্ধ ক্যাম্পে । কিন্তু এরপর আর কোন খবর পাওয়া যায়নি লোকমানের । দেশ স্বাধীন হলে ও লোকমানের কোন খোঁজ পায়নি তার পরিবার । তার বাবা সেই সময় রাজারবাগ পুলিশ লাইনে কর্মরত ছিলেন । তিনি এবং তার অনেক সঙ্গী মিলে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সাথে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলেন । দেশ স্বাধীন হয় বিজয় মিছিল নিয়ে অমুকের সন্তান তমুকের সন্তান ফিরে এলেও লোকমান আর ফিরে আসেনি । অনেকে বলে শুধু লোকমান নয় এমন হাজার হাজার লোকমান কে মুক্তির চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে দেয়নি পাকসেনারা । তাদের কে নির্মম ভাবে হত্যা করে তাদের লাশ ঘুম করে দেওয়া হয়েছে ।
যুদ্ধ চলাকালে পুলিশে চাকুরী করে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করছে বলে রাজাকার সোলাইমান তার মেয়ে লুবনাকে পাকিস্তান ক্যাম্পে দিয়ে দেয় । দেশ স্বাধীন হওয়ার পরদিন স্কুলের পাশের বটগাছে উলঙ্গ লুবনা গলায় দড়ি দিয়ে সেই পাক হায়নার পাশবিক নির্যাতন থেকে মুক্তি খুঁজে নেয় , এই সমাজ , এই স্বাধীন দেশ থেকে । নিজের ইজ্জতের বিনিময়ে স্বাধীন দেশের মাটিতে তার জানাযায় কোন হুজুর সেদিন যায়নি দেখে লুতপুর রহমানের সেদিন খুব দুঃখ হয়েছিল । কেন দেশ স্বাধীন করলেন এই জন্য । যে স্বাধীন দেশে একজন মুক্তিযুদ্ধার লাঞ্ছিত মেয়েকে দাপন করতে নানা প্রশ্ন উঠে। ভালো মন্দের বিচার করবে উপরে ওয়ালা । তথাকথিত সেই সকল হুজুরদের ধিক্কার জানাতে ভুলেনি মুক্তিযুদ্ধা লুতফুর রহমান। নিজে নিজের মেয়ের জানাজা দিয়ে দাফন করেছিলেন । সবাই মুখ ফিরিয়ে নিলে ও উপরে ওয়ালা সেদিন মুখ ফিরিয়ে নেয়নি , একরকম ঝড় বাতাস দিয়ে কবরে বালির স্তূপ করে দিয়েছিলেন তিনি । সেইসব এখন ইতিহাস।

স্কুলের মাষ্টার হিসাবে লিমনের বেশ সুনাম । আদর্শবাদী লোক হিসাবে এলাকার সবাই একনামে চেনে । লিমন চেষ্টা করে এলাকার গরীব দুঃখী সকল মানুষের উপকার করতে । তার বাবা মুক্তিযুদ্ধ করেছে এটা তার গর্ব । অন্যায়ের সাথে আপোষ করাটা তার হয় না । ভাই বোনের কথা মনে হলে নিরবে চোখের পানি ঝরে । কিন্তু যেই চেতনায় এই দেশ স্বাধীন হয়েছে , সেই দেশ এখন আর নেই । স্কুল কলেজে এখন সন্ত্রাসীদের আস্তানা হয়ে উঠেছে । আওয়ামীলীগ, বি এন পি এবং জামায়াত শিবির ছাত্রাঙ্গনে নিজেদের কালো থাবা দিয়ে সব গ্রাস করে চলছে । নিরিহ দারিদ্র ছাত্রদেরকে নিজেদের দলে নিয়ে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে । সেই সাথে একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন থেকে শিক্ষিত না হয়ে, গড়ে উঠছে মাস্তান এবং সন্ত্রাসী রুপে। এদের দেখলে ঘৃণা হয় । কিন্তু আজ দেশে প্রতিবাদ করার সাহস পর্যন্ত মানুষ হারিয়ে ফেলেছে ।
স্কুলের সামনের মাঠ ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসছে । স্কুলের চারদিকে বাজার । বাজারের মাঝখানে স্কুল। আর সেই কারনে বাজারের চারদিকে স্কুলের মার্কেট । এসব মার্কেট ভাড়া দিয়ে স্কুলের বেশ টাকা আয় হয় । প্রথমে এগুলো খোলা জায়গা ছিল । লিমন মাষ্টার হিসাবে আসার পর স্কুলের ফান্ড এবং সরকারের থেকে অর্থ অনুদান নিয়ে এই পরিকল্পনা করে স্কুলের চেহারার আমুল পরিবরতন ঘটান । সে কারনে স্কুলটি দেখতে এখন বেশ সুন্দর এবং এর বাৎসরিক আয়ের পরিমান অনেক । এতদিনে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের জন্য সকলে গড়িমসি করত । কিন্তু এখন এলাকার গন্যমান্য এবং রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিল । এর মূল কারন স্কুলের বার্ষিক আয়।
স্কুলের উন্নয়নে সকলে এগিয়ে আসবে এটাই স্বাভাবিক । কিন্তু দেখা গেল বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী লোক এগিয়ে এল স্কুলের বিপুল পরিমান সম্পদ লুটে পুটে খাবার জন্য । মুক্তির চেতনায় একজন একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসাবে লিমন এর প্রতিবাদ করল । সেই স্পষ্ট জানিয়ে দিল যারা স্কুলের উন্নয়নের জন্য কাজ করবে শুধু মাত্র তাদেরকেই নির্বাচনে অংশ গ্রহনের সুযোগ দেওয়া হবে ।
এতে করে প্রভাবশালীদের দলে যেন মৌমাছির চাকের মত ঢিল পড়ল । বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী লোক লিমনের বিরুদ্ধে সোচ্ছার হয়ে উঠল । লিমন এসব জেনে শুনে ও অসীম সাহসীকতার সাথে নিজেই নৈতিক প্রচারনায় লেগে রইল ।

লুনা ব্রাকের একটা চাকুরী করে । এন জি ও থেকে পাওয়া হোন্ডা দিয়ে কাজে আসা যাওয়া করে । বাসায় দুই ভাই বোন আর বাবা থাকে । আর একতা ছুটা কাজের বুয়া আছে । যে সবসময় রান্না বান্না করে দিয়ে যায় । লুনা’র তালাকের পর মাস খানিকের মধ্যেই এই চাকুরীটা মিলেছে । চাকুরীটা বেশ ভালোই লাগে ।
এলাকার প্রভাবশালী দল লিমনকে কিভাবে শায়েস্তা করা যায় সেই ব্যাপারে সদা তৎপর । আজ কয়েকদিন হল কাজের চাপ একটু বেশী তাই বাসায় ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যায় । আবার নতুন ঝামেলা হয়েছে এলাকার ছেলে পাভেল কে নিয়ে । পাভেল চায় লুনাকে বিয়ে করতে । কিন্তু লুনা এই ব্যাপারে রাজী নয় । একবার বিয়ে করে , সে আর বিয়ের ব্যাপারে রাজী না । বেঁচে থাকতে আর বিয়ে করবে না বলে মনে মনে সিদ্ধান্ত নেয় ।
আজ পাশের এলাকায় ঋণ বিতরন করে ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে । গ্রামের মোড় পর্যন্ত সকলে একসাথে ছিল কিন্তু বাকী পথটুকু একা যেতে হবে । আর এই পথটুকু রাত হলে পেরুতে বেশ ভয় লাগে লুনার । তবে মনে সাহস নিয়ে হোন্ডা চালায় সে ধীর গতিতে । রাস্তার ঠিক মাঝখানে একটা গাছের ঢাল পড়ে থাকতে দেখে গতি স্লো করে সে । অমনি চারপাশ থেকে অন্ধকারের ভেদ করে মুখোশ ধারী কিছু লোক মুখ চেপে ধরে রাস্তার পাশের মাঠের দিকে টেনে হিচড়ে নিয়ে যায়।
রাত দশটার পর ও যখন লুনা বাসায় ফেরেনি তখন তার বৃদ্ধ বাবা এবং ভাও লিমন আতংকিত হয়ে পড়ে । রাত সাড়ে এগারোটার দিকে স্থানীয় পুলিশের কাছে ব্যাপারটা জানায় । পুলিশ জি ডি করতে বলে । লিমনের সারারাত ঘুম আসে না । এই কোন দেশে বাস করছে । যে দেশে সাধারন মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই । দিনে দুপুরে নির্বিচারে মানুষ খুন করে খুনীরা পার পেয়ে যায় । সেই দেশে বেঁচে থাকা অস্মভব।
অন্যরুমে মুক্তিযোদ্ধা বৃদ্ধ বাবা না খ্যে মেয়ের জন্য বসে আছেন একাকী । বহু দিন পর তিনি আবার সিগারেট টানছেন একটার পর একটা । সারা ঘর সিগারেটের ধোঁয়াময়। এই জন্যই কি স্বাধীন করেছিলাম দেশ , যে দেশে বেঁচে থাকার নিরাপত্তা পর্যন্ত নেই , বসে ভাবছেন মুক্তিযোদ্ধা লুতফুর রহমান।
দিনের পর দিন পার হয়ে যায় লুনার কোন খোঁজ এখন পর্যন্ত দিতে পারেনি পুলিশ । এদিকে স্কুলের নির্বাচনে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী চেয়ারম্যান পদে প্রতিযোগিতা করছেন । অনেক চেস্টা ও তদবির করে ও কোন লাভ হয়নি ।

ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে বিপুল ভোটে সরকারী দলের একজন আমলা জিতে গেলেন । নির্বাচনের কয়েকদিন পর তিনি দফায় দফায় মিটিং করে স্কুলের সকল তথ্য জেনে নিলেন । স্কুলের পাশের দোকান গুলো নিজের ইচ্ছেমত লোকদের কে বরাদ্দ দিতে লাগলেন ক্ষমতাবলে। মাস্টার লিমনকে একের পর এক গুরু দায়িত্ব দিতে লাগলেন । একদিন বিকালে স্কুল ফান্ডের কিছু টাকা ম্যানেজিং কমিটির চেয়ারম্যান মাষ্টার লিমনের কাছে রাখতে দিলেন বললেন আজ ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেছে । আগামীকাল সকালে জমা দিয়ে দিবেন । এতগুলো টাকাতো স্কুলে ফেলে রাখা যায় না ।
রাত এগারোটার দিকে একদল পুলিশ মাষ্টার লিমনের বাড়ি ঘেরাও করে । বলে স্কুলের টাকা চুরি হয়েছে বলে চেয়ারম্যান আজ বিকালে ডায়েরী করেছেন থানায় । পুলিশ বিশস্ত সূত্রের মাধ্যমে জানতে ফেরেছে টাকাটা এই বাড়িতেই আছে । লিমন বলল হ্যাঁ টাকা এই বাড়িতেই আছে । তবে টাকাটা সে চুরি করেনি চেয়ারম্যান সাহেব তার কাছে জমা রেখেছেন ।
মাষ্টার লিমনের কথা শুনে পুলিশ সকলে হাসতে লাগল এবং মাষ্টার লিমনকে অ্যারেস্ট করে নিয়ে চললেন । মুক্তিযোদ্ধা লুতফর রহমান তখন নির্বাক হয়ে দরজায় মাঠে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন নিতান্ত অসহায় ভাবে। সামনের বারান্দা দিয়ে যখন পুলিশ বের হবে তখন একজন পুলিশ দেখতে পেল লুনার ঝুলন্ত লাশ । এক ঘটনায় আরেক ঘটনা হয়ে গেল । মাষ্টার লিমন বোন কে এই অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করে উঠল । কিন্তু পুলিশের দল তাকে তার বোনের কাছে যেতে দিলনা । টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গাড়ীতে উঠাল । আর কিছু পুলিশ লুনার লাশ পাটিতে পেঁচিয়ে ময়না তদন্তের জন্য থানায় নিয়ে চলল।
মুক্তিযোদ্ধা লুতফুর রহমানের চেতনা তখন লোফ ফেল । অনেক পর তিনি জেগে উঠলেন বিড়বিড় করে কি যেন বললেন। আবার থেমে গেলেন । সামনে পড়ে থাকা ছড়িটা হাতে তুলে নিলেন । খুব জোরে চিৎকার দিয়ে বলে উঠলেন –যুদ্ধে যেতে হবে আবার যুদ্ধে যেতে হবে । দেশে সব হায়নায় ভরে গেছে । ওরে কে কোথায় আছিস , এদিকে আয় । আবার যুদ্ধে যেতে হবে অস্ত্র তুলে নে । দেশ স্বাধীন করতে হবে । হা হা হা হা ।
পরদিন সকালে মহান মুক্তিযোদ্ধা লুতফুর রহমান সাহেবের মৃত দেহ পাওয়া গেল নিজের ঘরের ভেতরে । মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আছে । সম্ভবত হার্ট এট্যাক করেছেন শেষ রাতের দিকে কোন এক সময় । একদল মাছি রক্তে মাখা মৃতদেহের মুখের কাছে ভন ভন করছে । একের পর এক লোক ছুটেআসছে মুক্তিযোদ্ধা লুতফুর রহমানকে দেখতে ।লুনার দেখানো বাগানের পরিস্কার জায়গাটিতে তখন কয়েকজন দুটি কবর খুড়ছে ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন