বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৯ অক্টোবর ১৯৯৬
গল্প/কবিতা: ৫টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৮৯

বিচারক স্কোরঃ ২.২৬ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.৬৩ / ৩.০

শেষ চিঠি

পরিবার এপ্রিল ২০১৩

অচেনা বাঙলা

বাংলা ভাষা ফেব্রুয়ারী ২০১৩

রোদ বৃষ্টির দিনে

ঈর্ষা জানুয়ারী ২০১৩

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী (নভেম্বর ২০১২)

মোট ভোট ৯২ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৮৯ প্রজন্মের বিজ্ঞান খেলা

মিনহাজুর রহমান জয়
comment ১৩  favorite ১  import_contacts ৫১৩

৯ অক্টোবর ২০১২ (দুপুর ২টা ১০ মিনিটে)

মাত্র ইংরেজি পরিৰা দিলাম।
এখন আবার কম্পিউটার ক্লাস। একটুও যাবার ইচ্ছা নেই।
তবুও মনটাকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে চলে গেলাম তৃতীয় তলার কম্পিউটার ল্যাবে। সবাই মিলে বুদ্ধি বের করলাম
আজকে কামরম্নজ্জামান স্যারকে বলব আজকের ক্লাসটা বাদ দিতে।
কিছুৰণের মধ্যেই স্যার হাজির।

আমরা জুতোগুলো বাহিরে রেখে একে একে ঢুকলাম কম্পিউটার ল্যাবে।
স্যারের মনটা মনে হয় আগে থেকেই ভাল ছিল। নিজেই মনে হয় জানতেন আমরা পরিৰা দিয়ে এসেছি তাই নিজে থেকে পড়া- লেখার কথা তুললেন না। শুরম্ন করলেন অন্য প্রসঙ্গ।
যদি তিনি কম্পিউটার বিষয়ক কোনো কথা বলতেন তাহলে হয়তো আমরা কোনোভাবেই মনযোগ দিয়ে তার কথাগুলা শুনতাম না। বাহিরের প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলায় আমরা হঠাৎ করে তার মজার মজার কথাগুলা শুনছিলাম। আর এমনিতেও তিনি খুব মজার মানুষ।

স্যার সামনে দাড়িঁয়ে।
আর আমরা যাতে আজকের পড়া এড়িয়ে যেতে পারি তাই একজন স্যারকে বললাম, স্যার চলুন আজকে মেডিটেশন করি।
স্যারের জবাব, মেডিটেশন! তা আমি নিজেই তো মেডিটেশন শিখতে পারলাম না। শুনো আজকে তোমাদের একটা কথা বলি। মেডিটেশন শিখার শখ আমার খুব আগে থেকেই। তো ভাবলাম মেডিটেশন শিখব। উত্তরার ৬নং সেক্টরের কোয়ান্টাম মেথডের মেডিটেশন প্রোগ্রামে গেলাম। সেখানে গিয়ে যখন চলিস্নশ জনের মত মানুষ মেডিটেশন শুরম্ন করলাম। আমি আবার আমার সাথে আমার মেয়ে পাচঁ বছরের মেয়ে মালিহাকে নিয়ে গিয়েছিলাম।
মেডিটেশন শুরম্ন হল। আসত্দে আসত্দে দম নাও। আসত্দে আসত্দে দম ছাড়ো। আসত্দে আসত্দে দম নেয়ার মাধ্যমে মনে কর প্রকৃতি থেকে সমসত্দ বিশুদ্ধ উপাদান তোমার মনের ভিতর প্রবেশ করছে। আর আসত্দে আসত্দে দম ছাড়ার মাধ্যমে মনে কোনো তোমার শরীরের সব অশুদ্ধ উপাদানগুলো বের হয়ে যাচ্ছে।
যখনই মেডিটেশনে নিমগ্ন হয়ে গেলাম। আমার মেয়ে আমাকে মেডিটেশনের মাঝখানে বার বার ডাকছিল। আব্বু। আব্বু।
কিরে মা?
গন্ধ।
আমি খেয়াল করে দেখলাম সত্যিই কেমন যেন দুর্গন্ধ আসছিল। সেই দু:খে আমার আর মেডিটেশন শিখা হল না। এই নিয়ে দুইবার আমি মেডিটেশন করতে গিয়ে গন্ধের জন্য ব্যর্থ।
মনে কর তোমাদের এখানে স্টুডেন্ট আছে বিশ জন। আর এই বিশ জনের যদি তিন থেকে চার জনের মুখে গন্ধ থাকে তাহলে মেডিটেশন করা যাবে। আরেক মজার বিষয় হচ্ছে তোমাদের মধ্যে কারো মোজার গন্ধ থাকলেও এখানে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তোমাদের আরেকটা মজার কথা বলি। আমার যেন মোজায় দুর্গন্ধ না হয় সে জন্য আমি দু হাতে পাউডার নিয়ে আগে পায়ে মাখি তারপর মোজা পড়ি। এটা অবশ্য ঠিক যে জুতার স্ট্রাক্চার এর জন্যও মাঝে মাঝে গন্ধ বের হয়। তুমি যদি একদম টাইড জুতো পায়ে পড় তাহলে তোমার পা ঘেমে দুর্গন্ধ বের হবে। অবশ্য তোমরা আরেকটা কাজ করতে পার। সেটা হল তোমরা মোজা পরার আগে দুপায়ে স্প্রে মেরে নিবে।

তখনই সামনে থেকে দুটো মেয়ে উঠে কোথায় যাচ্ছিল।
তা দেখে স্যারের প্রশ্ন, এই কি হয়েছে তোমাদেল?
স্যার এসির বাতাসে ঠান্ডা লাগে।
ঠান্ডা লাগে! তো আমাকে বললেই পারতা।
এটা বলে স্যার এসিটার তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দিয়ে দিল। আবার বলা শুরম্ন করলেন।
এই গরমের দিনে তোমাদের ঠান্ডা লাগছে তাই না। আসলে আমাদের এসিটার তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রিতে দেয়া ছিল। এখন ২৪ এ দেয়া। আমাদের সরকারিভাবে এটা আইন আপনারা এসি চালালে তা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে চালাবেন।
কেননা এটা বলা হয় যদি কোনোদিনের তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রিতে থাকে তাহলে সেদিনটা খুবই চমকপ্রদ। একদম নাতিশীতোষ্ণ। কিন্তু আমাদের মধ্যে কেউই এই আইনটা মেনে চলি না। তবে মেনে চলা প্রয়োজন।


মাঝখান থেকে কে যেন প্রশ্ন করে উঠল, স্যার আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা বেশি কোন জেলায়।
স্যারের জবাব, তোমরাই বল আমাদের দেশের সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা আর সবচেয়ে সুন্দর জেলা কোনটি?
কেন যেন বেশিরভাগই উত্তরটা দিল কঙ্সেবাজার।
স্যার শুনে জবাব দিলেন, কেন? সেখানে বৌদ্ধদের মন্দিরে হামলা হইছে এর জন্য!
আমরা সবাই এই ঘটনাটার কারণ স্যারের কাছে জানতে চাইলাম। স্যার আমাদের উত্তরটাও ভালভাবে বুঝালেন যে, ফেসবুকে একটা মেয়ের পায়ের নিচে কুরআনের ছবি দেয়ায় ছবিটা অনেকের চোখে পড়েছে। আর তাই রামুতে বৌদ্ধ মন্দিরে এরকম কাজ করা হয়েছে। তবে কাজটা যে ঠিক হয়নাই সেটা তোমরা আমাদের চেয়ে আরো ভাল জানো!

এবার এই প্রসঙ্গ আসায় স্যার আবার কিছু বলা শুরম্ন করলেন।
তোমরা কি জানো পরবতর্ী প্রজন্মে একটা খুব বড়-সড় যুদ্ধ হবে যেটাকে ফেসবুক যুদ্ধ বা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বলা হবে। মনে কর যদি এখন একদিনের জন্য পুরো দেশ থেকে মোবাইল কানেক্শন বন্ধ করে দেয়া হয়। তোমার দূরে যেসব আত্মীয় বা কাছের মানুষ আছে তারা কয়েকবার হার্টফেল করবে। অথচ আমাদের হাতে মোবাইল এসেছে বেশিদিন হয় নাই। তোমরা ভবিষ্যতে যে যুগ কাটাবা সেটা হবে ডিজিটাল যুগ। পুরো কম্পিউটার নির্ভর। তুমি বাসা থেকে কখন বের হইছ, কোন দোকান থেকে কি বাজার কিনছ, তুমি কত কেনাকাটা করছ সবকিছু হিসাব করা হবে কম্পিউটারের মাধ্যমে। যদি এই সিস্টেমটা কেউ নষ্ট করে দিতে পারে তাহলে একটা দেশ মিনিটের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যাবে। দেশের সরকারের ৰমতাও কিছু করা সম্ভব হবে না।

দু এক দশক আগে তায়েবানের দুজন লোক একটা ভাইরাস বানিয়েছিলেন। নামটা আমার মনে পড়ছে না। তারা ভাইরাসটি বানিয়ে উইন্ডোস অপারেটিং সিস্টেমে ছিড়ে দিয়ে ছিলেন। এই ভাইরাসটি ছিল অস্থায়ী এবং কোনো এন্টি ভাইরাস দিয়ে ধরা পড়বে না। এই ভাইরাস বানিয়ে এটা কমান্ড দেয়া হয়েছিল যে এটা ২০০০ সালের কোনো বছর আসলে একটিভ হবে। যখন এই বছর আসল তখন মিনিটের মধ্যে প্রায় দশ লাখ কম্পিউটার ধ্বংস হয়ে গেল। যখন ইউজাররা কম্পিউটার অন করতে চাইলেন কারোই কম্পিউটার আর অন হয়নি। কারণ ভাইরাসটির কাজ ছিল এটা রমকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিবে এবং হার্ড ডিস্কের সব পার্টিশন এক সাথে মিশিয়ে দিবে।
চিনত্দা করে দেখ, আমেরিকার টুইন টাওয়ার। যেটা নাকি ওসামা বিন লাদেন ধ্বংস করে দিয়েছিল তাকে মারার জন্য আমেরিকা কত চেষ্টা কত টাকাই খরচ না করল তারা! এর জন্য কত শহর কত দেশই না ধ্বংস আর নিসত্দেজ করে দিল যুক্তরাষ্ট্র। এমনভাবে পরবতর্ী প্রজন্মের যে কম্পিউটার নির্ভর সিস্টেমটা চালু হবে সেটা যদি কোনোভাবে ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে তো পৃথিবীতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আরম্ভ হওয়া অনিবার্য। ভেবে দেখ যদি কেউ দেশের কম্পিউটার নির্ভর সিস্টেমটা ধ্বংস করে দেয় যে আমাদের ধরা- ছোয়াঁর বাহিরে তাহলে তখন কি হবে। এমনিতেই ইউটিউবে আর ফেসবুকে ইসলাম ধর্মকে নিয়ে যেসব কাজ করা হয় তাতেই পৃথিবীতে সম্প্রীতি বজায় থাকে না।
তোমার অবশ্য এই বিষয় নিয়ে তেমন চিনত্দা করার কোনো কারণ নেই। কারণ তুমি আমি কেউ এই যুদ্ধ দেখে যাব না। কিন্তু তোমাদের ছেলেমেয়েরা এই জিনিসগুলা অবশ্যই দেখে যাবে। তারা এসব সমস্যার সম্মুখীন হবে।

কথাগুলা মোটামুটি শেষ করতেই বেলটা দিয়ে দিল। জানি না কেন যেন কামরম্নজ্জামান স্যারের এই কথাগগুলো বেশ মনযোগ দিয়ে শুনছিলাম। আসলেই কথাগুলা সবই কারো মনযোগটা কেড়ে নেয়ার মত ছিল।
এখন টিফিন টাইম।
তাই বিষয়গুলো মাথা থেকে সড়িয়ে উঠে গেলাম পাচঁ তলায়। তাড়াতাড়ি না গেলে আবার টিফিন কাউন্টারে খাবারের মতো কিছুই পাবো না। চতুর্থ পিরিয়ডে আমাদের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরিৰা। একারণে এক হাতে সিঙ্গারা আরেক হাতে কিছু প্যারাগ্রাফের শিট নিয়ে টিফিন টাইমটা কাটাতে লাগলাম।
(দুপুর ২টা ৪৫ মিনিট)
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন