বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩০ জুন ১৯৯০
গল্প/কবিতা: ৪টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৯৫

বিচারক স্কোরঃ ৩.৩১ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৬৪ / ৩.০

শাড়ী (সেপ্টেম্বর ২০১২)

মোট ভোট ৮২ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৯৫ মেন্দি রাঙা সেই শাড়ীটা

মাসরুর মুস্তাফি
comment ৩০  favorite ৫  import_contacts ৬৯২
ভাত খাচ্ছে নুরু। চিকন চিকন ফালি করা খেজুর পাতার পাটির উপর আয়েস করে বসেছে সে। গোলপাতায় ছাওয়া কঞ্চির বেড়ার দো-চালা ঘর। চালে কয়েকটি ফুটো। সেখান থেকে এক গুচ্ছ আলোর ছটা এসে পড়েছে ভাতের থাল আর নুরুর রোদ-পোড়া তামাটে মুখে। তাতে অখ্যাত দরিদ্র এই কুড়ে ঘরটা স্বর্গীয় এক আলোক সভায় ভরে উঠেছে। হালকা বাতাসে চালের উপর সিরিশ গাছটার সাথে সাথে ভেতরের আলোক রশ্মি গুলোও এলোমেলো দুলছে। আলো-অাঁধারী আর চিরচেনা সুখ-দুঃখ যেন এক বিষ্ময়কর খেলায় মেতেছে একই সমতলে।
- আর ইট্টু ঝোল দিত্ পারিস মজি, গলা যে আইটকে আইটকে আসে। পাতে একটা কাঁচা ঝাল ডলতে ডলতে বলে নুরু।
কাঁচা মেঝেতে একটু পানি পড়ে কিছুটা যায়গা পিচ্ছিল হয়ে উঠেছে নুরুর বা'পাশটায় ঠিক যেখানে পিড়ি পেতে বসে আছে মর্জিনা। হঠাৎ করে 'মাগো' বলে ঠিক ঐ জায়গাটাতে হাটুমুড়ে মুখ থুবড়ে পড়ে সে। এক চামস ঝোল আর কিছু বাগদা চিংড়ি ছড়িয়ে পড়ে সারা ঘরে। ফরাৎ শব্দ করে শাড়ীর কিছু অংশ ছিড়ে বেরিয়ে পড়ে কাচা হলুদ-রঙা মসৃণ হাটু। দৃষ্টিটা সেখানেই আটকে যায় নুরুর। সেলাইয়ের পর সেলাই দিতে দিতে শেষতক সেলাইয়ের ভারেই ছিড়ে হা হয়ে গেছে শাড়ীটা। ঝাপসা আলোয় আরো কয়েকটি ছেড়া-তালি নজরে আসে তার। অন্য কোন দিন যে দেখে না, তা নয়। কিন্তু আজকে কে যেন চোখে আঙুল দিয়ে দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে প্রতিটি তালি, সেলাইয়ের প্রতিটি ফোড় গুলোও। এভাবে ছিড়তে ছিড়তে যদি সমস্ত শাড়ীটাও নিঃশেষ হয়ে যায় তবুও কোন টু শব্দ করবেনা মর্জিনা, মুখ খুলে একটা শাড়ির আবদারও করবে না কোন দিন। হিমালয়ের মত বিশাল দেহী এক ধৈযর্্য লুকিয়ে আছে ওর সারা দেহ-মন জুড়ে।
বার বছর দাম্পত্য জীবনে এমন কি দিয়েছে সে। রূপোর সেই কানের দুল দু'টো ছাতা পড়ে কালচে হয়ে গেছে। সোনার নাক ফুলটাতো নৌকা বানাতে যেয়ে বেচতে হয়েছিল বছর তিনেক আগে। আবেগ তাড়িত হয়ে পড়ে নুরু। সদ্য ভেজা মাটির মত নরম হয়ে আসে তার মন । এবার মৌ বেচে নওয়াবেকির হাট থেকে একটা শাড়ী না কিনে বাড়ি ফিরবেনা সে, মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে ।
তড়িঘড়ি করে ভাতের থাল রেখে বা' হাত দিয়ে তুলতে যায় মর্জিনাকে। কিন্তু ততক্ষনে উঠে বসে কাপড়টা সামলে নেয়। ঘটনার আকস্মিকতায় বোকার মত ফ্যাল ফ্যাল করে তাকাতে থাকে নুরুর দিকে। রোদ-পোড়া এই হাড় জিরজিরে মানুষটাকে সে এমন বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলতে চায়না। মর্জিনা সব বোঝে। বাঘ-কুমিরের মুখ থেকে মৌ, গোলপাতা ছিনিয়ে আনার পর বনদস্যুদের হিস্সা মিটিয়ে বড়সড় একটা অংশ যায় দাদনদার-মহাজনদের ভুড়িওয়ালা পেটে। বাকি যা থাকে তা দিয়ে কিইবা করার আছে নুরুর, ভাবতেই চোখ ভিজে আসে মর্জিনার আবছা আলোতে তা হয়তো দেখতে পায়না নুরু তাতে কি যায় আসে মর্জিনার। একজন মানুষ তাকে বড় ভালোবাসে, সব সময় তার পাশেই থাকে, একে বারেই খুব পাশে। এতেই তার ঢের তৃপ্তি, এতেই তার আনন্দ। যখন কলাতলার চর কিংবা অন্য কোথাও থাকে তখনো তাকে খুব দূর দূর মনে হয় না। চোখের তারায় তারায় ভেসে ওঠে ওর রোদ-পোড়া মুখ। প্রতিটা শ্বাস-প্রশ্বাস এমনকি মৌচাক দেখে 'আল্লা' 'আল্লা' বলার আওয়াজটাও শুনে নিতে পারে দখিনা বাতাসে দু' কান পেতে। এসব নিয়ে বড় সুখেই থাকতে চায় মর্জিনা এই ভাঙা কুড়ে ঘরে।
প্রত্যন্ত এসব পর্ণকুটির যেন আদম-ইভের এক একটা স্বর্গনীড়। কংক্রিটের বেস্টনিতে বন্দী শহুরে জীবন-যন্ত্রনার কোন স্থান এখানে নেই। এ ঘর দুঃখ দেখেছে, ফোটা ফোট কান্নার জল দেখেছে কিন্তু হাত তিনিক লম্বা শপিং-এর লিস্ট কিংবা বিউটিপার্লার গামী কোন শহুরে ক্লিউপেট্রা দেখেনি। দুই টাকার বাজার থেকে কেনা ছোট্ট কানেরদুল এ ঘরে মহা মুল্যবান কহিনূর হয়ে ঢুকে পড়ে। সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার বিস্তর গা মাখামাখি চলে এখানে বারটা মাস ধরে। যেভাবে একাধিক রং গলাগলি করে থাকে হাসেম খানের ক্যানভাসে। গোলপাতার চাল আর কঞ্চির বেড়ার ভাজে ভাজে হয়তো অসংখ্যা ছিদ্র খুজে পাওয়া যাবে। কিন্তু সুখ-দুঃখ গুলো কেন যে বের হয়না এসব ফুটো-ফাটা দিয়ে, আমি জানিনা। পোষমানা প্রাণীর মত সারাটা ঘর জুড়ে কেমন যেন ঘুর ঘুর করে বেড়ায়।
-'দে গামছাটা দে বাতাস ভাল ঠিকতেছে নারে যত তাড়াতাড়ি ঘাটেত্তে লা ছাড়া যায় তত ভালো, বুইছিস।'
ব্যস্ত কন্ঠে বলে ওঠে নুরু। ছেড়া গামছাটা বের করে কি মনে করে রেখে দেয় মর্জিনা।
-এট্টা সেলাই দেবারও যাগা নেই এতে। সব ফুটো ফুটো হুয়ি গেছে। আমার পুন্নো শাড়ীর আজলাডা ছিড়ি দিতিছি এইডা মাজায় বাইন্দা ন্যাও। এবার মৌ বেচা টাকা দে' এট্টা নতুন গামছা কিনি নেবা, বুইছাও। একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে গড় গড় করে কথা গুলো বলে যায় মর্জিনা। নুরু হাতে নেয় শাড়ির টুকরোটা। ছোট ছোট গোটা কয়েক ছেড়া-ফাটা চোখে পড়ে 'ঠিক আছে' বলে কোমরে বেঁধে গোবরার ঘাটের দিকে দৌড়ায়, পিছনে ফিরে তাকাবার সময় টুকু আর হয়না। পিছন থেকে শুধু একটি সাবধানী আওয়াজ শুনতে পায়। 'বাদা-বনে দিকি শুনি উঠো কিন্তু...। দোয়া ইউনুচটা পুড়ি নেবা লা'য় উঠিপ্পার...। দৌড়ের গতি বেড়ে যায় নুরুর সাবধানী কন্ঠটাও ক্ষীন হতে হতে এক সময় আর শোনা যায় না।

-নে এট্টা কাড়ু ধরা নুরু, দেখি দু'এক্কান মৌচাক-টাক ভাঙা যায় কিনা। ডেরায় বসে নৌকার খোলে জমা হওয়া পানি সেচতে সেচতে বলে ওঠে মন্ট।ু নিস্তরঙ্গ নদীর বুকে সে পানি ঝপাত ঝপাত শব্দে এক সুরের মূর্ছনা তোলে নিসঙ্গ প্রকৃতির মায়াবি পর্দা জুড়ে। এই একটা ঝামেলা, ভাবে নুরু। চিকন লগি জোগাড় করো। তার মাথায় আধ-শুকনো খড় বান্দো, তাতে আগুন লাগাও। আগুন জ্বালালেই কি শেষ ধোঁয়া বের করতে হবে, কুচকুচে কালো ধোঁয়া। তার পর সেই কাড়ুু দাঁতে কামড়ে ধরে বানরের মত ডালে ঝুলে ঝুলে চাকের মৌপোকা খেদানো কি এত সহজ কাজ। ধোঁয়ার অতিষ্ঠ পোকারা আবার আল মারবে নির্বিচারে। এসবের মধ্যে নিচে ধামাপেতেই তবে মৌ সংগ্রহ করা। হালকা একটা হাসির রেখা ফুটে ওঠে রোদ-চকচকে মুখে। এসব ঝক্কি-ঝামেলায় নুরুদের আনন্দ, এসবের মধ্যে মৌয়াল-বাওয়ালীদের জীবন মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। আরো গোটা কয়েক টান মেরে পাতার বিড়িটা গোড়ালি দিয়ে পাড়া মেরে নিভিয়ে ফেলে নুরু। ধোঁয়া গুলো গোলার মত ছুড়ে মারে শূণ্যে। কাড়ুটাও প্রায় শেষ করে এনেছে সে। দা, ধামা আর ড্রাম নিয়ে প্রস্তুত অন্যান্যরা।
গ্রীষ্মের সূর্যটা আটঘাট বেধে নেমেছে নীল ছামিয়ানার নিচে। শান্ত প্রকৃতির সাথে এক মহা দন্দযুদ্ধে নেমেছে যেন। আগুনের হলকায় ঝলসে যাবার জোগাড় হয়েছে কলাতলার কচিকচি পত্র-পল্লোব। রোদের মধ্যে ফুলে ওঠা ঢেউয়ের চুড়ো গুলো স্বর্ণমুকুট পরে মাথা ঠুকছে চরের বুকে। সপাৎ সপাৎ শব্দে লাল কাকড়ার স্বপ্ন-সৌধ গুলো চুর্ণ করে দিচ্ছে একের পর এক।
দক্ষ মৌয়ালের মত বা' হাতে কাড়ু নিয়ে সতর্ক পায়ে আগাচ্ছে নুরু। ডান হাতের দা টা সমানে সাফ করে চলেছে লতা-গুল্মের ঝাড়। ধামা ও ড্রাম নিয়ে সাথে আছে মন্টু ও অন্যান্যরা। শুকনো পাতার মর্মর ধ্বনি তুলে ছুটছে তারা বনের সব চেয়ে উচু দিকটায়।

দক্ষিণা মাতাল করা হাওয়াটা এখনও বয়ে চলেছে। নাম না-জানা কত বুনো ফুলের গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে। কড়ই গাছের মগ ডালে কর্কশ ডেকে চলেছে এক জোড়া দাঁড় কাক। শেষ বিকেলের মিইয়ে পড়া রোদে মর্জিনার লম্বা লম্বা ছায়া শুকনো কলাপাতার মত দুলে দুলে উঠছে। ঘর ঝাড় দেওয়ায় মন দিতে পারে না সে। আর আজ কত দিন হলো ও গেছে। এখনো ফেরার নাম নেই। একটা চালও নেই ঘরে। ধার-কজ্জ করে আর ক'দিন বা চলা যায়। নিজে ঝাল-পানি খেয়ে থাকলেও অবুঝ তিনটি প্রাণীতো কোনো কথা শুনতে চায়না। মনটা খারাপ হয়ে আসে তার। ওর কোন বিপদ হলো না তো। হঠাৎ চোখ আটকে যায় সেই ছেড়াটায়। এবার ছেড়াটা আর সেলাই করার চেষ্টা করেনি, কি ভেবে রেখে দিয়েছে সেভাবে। সে দিন ছেড়াটার দিকে নুরুর নিঃষ্পলক চেয়ে থাকার মধ্যে হয়তো কোনো আশ্বাস খুজে পেয়ে ছিল ও। এ কয়দিনে ছেড়াটা বেশ বড়সড় হয়েছে। যেন ছোটখাট এক গোপন সুড়ঙ্গ। এর ভিতর দিয়ে সব দেখা যায়। নদী, খাল, বন-বাদাড় পেরিয়ে কলাতলার চর এমনকি একজন হাড় জিরজিরে মানুষও।
রাস্তার দিক থেকে একটা কোলাহল ভেসে আসে। উঠান ঝাড় দেওয়া রেখে কোমর সোজা করে মর্জিনা। মন্টু সদ্দারের গলা শোনা যায়। মনটা আশায় ভরে ওঠে। আনন্দে ক্ষুধার যন্ত্রনাও ভুলে যায় সে। ওরা তাহলে এসেই পড়েছে। দো-বেড়ার দিকে পা বাড়ায় ধিরে ধিরে। বেড়াটার শেষ মাথায় আকস্মাৎ মন্টুর মুখোমুখি হয়ে যায়। ঘোমটা টানতে টানতেও শেষ পর্যন্ত আর টানেনা। এমন তো হওয়ার কথা না। বাড়ি ঢোকার সময় ওইতো সবার আগে থাকে। এরকম পরিস্থিতির মোকাবেলার জন্য মন্টুরও পূর্ব প্রস্তুতি ছিল। তবুও কেমন যেন জিবটা আড়ষ্ট হয়ে আসে। রাজ্যের কৌতহল ভরা চোখের দিকে তাকিয়ে সব ভাষা হারিয়ে ফেলে সে।
-কিচ্ছু আনতি পারিনি ভাবি, কিচ্ছু আনতি পারিনি- এইডা ছাড়া। হাত দু'টো বাড়িয়ে দেয় মন্ট।ু নুরু ফিরে আসেনি, নওয়াবেকির হাট থেকে আসেনি নতুন কোন শাড়ীও। মন্টুর দু'হাতের উপর শুধু নুরুর ক্ষুণরাঙা সেই শতছিন্ন শাড়ীর আঁচলটা বৈধব্যের নিশান হয়ে দুলছে দক্ষিনা বাতাসে। বাঘে ধরা কত মানুষ তো ছাড়িয়ে এনেছে মন্টুরা, হোক মৃত কিংবা আধ-খাওয়া শরীর। কিন্তু এবার কিছুই করতে পারেনি তারা। দুই বাঘ বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে অল্প সময়ে সব সাবাড় করে দিয়েছে। এই রক্তাক্ত শাড়ীর আঁচল ছাড়া তেমন কিছু বাকি রাখেনি। লুঙ্গিটা টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল চারপাশে।
হঠাৎ সমস্ত আকাশ যেন হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে মর্জিনার মাথার উপর। পায়ের তলা থেকে সমস্ত পৃথিবী যেন ছুটে চলেছে ক্ষুধার্ত কোনো কৃষ্ণ গহবরের পেটে। আর বিশাল শুন্যে সে দাঁড়িয়ে থাকে একাকি। কোন কথা বলতে পারেনা। চোখের জলবাহী নালি গুলো যেন শুকিয়ে গেছে এই মুহুর্তে। যন্ত্রের মত রক্তাক্ত শাড়ীর আঁচলটা দু'হাতে নিয়ে কচলায় কয়েকবার। ছোপ ছোপ জামাট রক্তে ফর্সা হাত দ'ুটো হলি উৎসবে মেতেছে বিয়ের দিনের সেই মেন্দি রাঙা হাতের মত। বড় বু' খয়ের দিয়ে মেন্দি বেঁটেছিল সেদিন শিল-পাটায় ফেলে। 'দেখিস কি রঙ না হয় তোর সারা হাত-পা আর মন-পরান জুড়ে' বলেছিল ঠোটের কোনায় বাঁকা বাঁকা হাসি টেনে। মর্জিনা ঠোট কামড়াতে কামড়াতে ঢোলে পড়ে সদ্য ঝাড় দেওয়া উঠানে। মুছর্ার্ যায় সে।
সাদা বকের সারি গুলো কার্পাসের সুতোর মত চিকন হতে হতে দিগন্তে মিশে যাচ্চে। এক ঝাঁক গো-শালিক ডাকাডাকি শুরু করেছে তেতুল গাছটায়। ঝিঙে মাচায় উঠে ডেকে ডেকে দিয়ে সমাপ্তি ঘোষনা করে যাচ্ছে জরিনা দাদীর মোরগটা। শুধু সমাপ্তি নেই মর্জিনার নিরলস ঘুমের। গোধুলির লালচে আভা তার হাতের টুক টুকে লাল খুন যেন আরো গাঢ় করে তুলেছে- ঠিক খয়ের মিশানো মেন্দির মত। মোরগটা তখনও ডেকে চলেছে বিরতিহীন ভাবে গলা বাগিয়ে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন