বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১০ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৯
গল্প/কবিতা: ৩৭টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

৩১

স্বাধীনতার ডাক

বিজয় ডিসেম্বর ২০১৪

বিজয় দিবস

বিজয় ডিসেম্বর ২০১৪

রক্তপান

ভৌতিক নভেম্বর ২০১৪

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী (নভেম্বর ২০১২)

মোট ভোট ৩১ আমেরিকার নোযান নিক্কজ

কামরুল হাছান মাসুক
comment ১৬  favorite ০  import_contacts ৫৬৯
আমেরিকার নৌবহর গুলো সবসময়ই পাহারায় থাকে। কারণ তাদের মাথায় চিন্তা বেশি। তাদের কখন আক্রমণ করে বসে। যদিও কেউ তাদের আক্রমণ করবে না। তবুও তাদের চিন্তা একটু বেশিই।

মেরিন সেনাদের সাহায্য আমেরিকার মেরিন সেনারা তাদের নিয়মিত টহল দিচ্ছেন। একসাথে অনেক সামরিক যান। প্রত্যেকটা যানের সাথে প্রত্যেকটা যান যোগাযোগ থাকে। কোন নৌযান যদি সমস্যায় পতিত হয় তাহলে সাথে সাথেই অন্য নৌযান গুলো সংকেত পেয়ে যায়।

টহল দেওয়ার কোন এক সময়ে বহর থেকে একটি নৌযান বিছিন্ন হয়ে যায়। বিছিন্ন নৌযানের মেরিন সেনারা বুঝতে পারে তারা ভয়ংকর কোন বিপদে পরেছে। কারণ তারা কারো সাথেই যোগাযোগ করতে পারছে না। এমনকি নৌবাহিনীর কন্টোল রুমেও যোগাযোগ করতে পারছে না। প্রথমে সবাই ভেবেছিল, এটা ইরানের কোন একটা কারসাজি হবে। তারা সবসময় আমেরিকার নৌযানের উপর সর্ববস্থায় টহল রাখে। তারা যদি তৎক্ষণাত কোন হামলার শিকার হয়। সব মেরিন সেনারা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে রাখে। চবি্বশ ঘন্টা যখন পার হয়ে যায় তখন মেরিন সেনারা বুঝতে পারে এটা পৃথিবীর কোন দেশের কারসাজি নয়। তারা ভয়ংকর কোন অপ্রিয় ঘটনার সম্মুখিন হয়েছে। পৃথিবীর ভিতরে থেকেই পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়া আজব রহস্য। মহাকাশ হলে একটা কথা ছিল।

এত সাহসী মেরিন সেনারা ভিতুর ডিম হয়ে যায়। তারা বেতনভুক্ত কর্মচারি। বেতন পায় জীবনযাপন করে। তাদের এ্যাডভ্যন্সার বা ভূতিক কাহিনী ভাল লাগে না। এখন হঠাৎ এরকম ভূতরি পরিবেশে পরে ভয় পেয়ে যায়। মানুষদের একটি ধর্ম হচ্ছে যে যতই ভয় পায় না কেন, সে ভয়ের উৎপত্তিস্থল খোঁজতে পছন্দ করে।

ইরাক যুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর কমান্ডার ছিলেন স্টস। তিনি সবাইকে বললেন, সতর্ক থাকার জন্য। সাধারণ মেরিন সেনাদের মধ্য থেকে গুঞ্জন উঠল আমরা কাদের জন্য সতর্ক থাকব। এখানে কাউকে দেখছি না। ছত্রিশ ঘন্টা পার হয়ে গেছে। আমরা কোথায় আছি এটাই আমরা জানি না।

স্টস বললেন, আপনাদের কি বলব বুঝতে পারছি না। আপনাদের বলা ঠিক হবে কিনা তাও জানি না। তবুও আপনাদের বলি, আপনারা মনে সাহস সঞ্চয় করে রাখেন। আমরা আসলে কোথায় আছি তা কেউ জানি না। এখানের সব কিছুই ব্যতিক্রম। পৃথিবীর সাথে এখানের কোন কিছুরই মিল নেই। এখন এটাও ভাবতে পারছি না, আমরা নতুন কোন গ্রহে হারিয়ে গেছি। পৃথিবীর প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রে ছিলাম। এখন নিশ্চই বলতে পারি না, মঙ্গলের সমুদ্রে চলে গেছি। এখন কিছুই বলা যাচ্ছে না। তাই আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে। অদৃশ্য বস্তুর বিরুদ্ধে লড়াই করতেও হতে পারে। আমরা আমাদের চেষ্টা, সামর্থ্য দিয়ে চেষ্টা করছি রহস্য উদঘাটনের।

স্যার। আমার মনে হয় আমরা কোন নতুন গ্রহে এসে গেছি। এখানের সবকিছুই অন্য গ্রহের মত। এখানের পানি লাল। লাল রঙ্গের পানি আমি কখনো দেখি নি। রক্তের চেয়েও লাল। দেখে মনে হয়। পৃথিবীর সব মানুষদের মেরে তাদের রক্ত দিয়ে সমুদ্র বানানো হয়েছে। কত গভীর তাও বুঝা যাচ্ছে না। সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ের জন্য আমরা যে প্রতিধ্বনি ব্যবহার করি তা এখানে কাজ করছে না। আমার কাছে একটু এ্যাডভ্যন্সার এ্যাডভ্যন্সার লাগছে। আমরা কোন ভ্যাম্পেয়ার নগরে এসে পরলাম নাত। আসলে ভালই হয়। ভ্যাম্পেয়ার বাস্তবে দেখি নি। এখন দেখতে পারব।

অফিসার, আপনি আমার সাথে রসিকতা করছেন। আমার সাথে রসিকতা করার সম্পর্ক আপনার না। আপনি আমার সাথে রসিকতা করতে পারেন না। আপনাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আপনি তা পালন করুন।

স্যার, পালন করছি। যা বলেছি সব সত্য। এখানে স্যার কোন বাতাস নেই। পাখির নাম গন্ধও নেই। সমুদ্রে মনে হয় কোন মাছ, তিমি, ডলফিন ইত্যাদিও নেই। আমাদের কথা ছাড়া অন্য কোন শব্দও নেই।

আপনি মনে হয় মনে হয় করছেন কেন। নিশ্চিত হয়ে তারপর বলেন।

স্যার আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় প্রখর। গবেষণার জন্য লোক কর্মরত আছে। গবেষণা করুক আর যাই করুক আমার কথা গুলো ১০০% মিলবে।

ঠিক আছে। দেখা যাবে। আপনি আপনার কাজ করুন।

এই যে পলিন ম্যাডাম কি করছেন?

ক্লিনটন সাব, আপনি সবসময় সবার সাথে রসিকতা করার চেষ্টা করেন। এখন দয়া করে আমার সাথে রসিকতা করে সময় নষ্ট করবেন না। আমি কাজে ব্যস্ত আছি।

ম্যাডাম, আমি রসিকতা করলেও আড়ালে সত্যটা লুকিয়ে থাকে। সুতরাং আমার রসিকতা রসিকতা না, ঘটনার সত্য বর্ণনা।

ম্যাডাম ম্যাডাম ডাকবেন না। আমার একটা নাম আছে নাম ধরে ডাকবেন। এখন যান। আমাকে বিরক্ত করবেন না।

অবশ্যই বিরক্ত করব। এত কাজ আমার ভাল লাগে না। আস গল্প করি।

আপনার কি মাথা খারাপ গল্প করব। এই অবস্থায় গল্পের কথা কেউ চিন্তা করে। মৃতু্যর কথাই চিন্তা করে কোন কূল পাচ্ছি না। উনি গল্প করবেন।

এই যে পলিন তোমাকে একটি কথা বলা হয়নি। আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালবাসি। এখন আমার ভালবাসা গ্রহন করো।

ক্লিনটন আপনাকে বললাম না, রসিকতা করবেন না।

পলিন, এই জন্যই আমি তোমাকে আমার মনের কথাগুলি এতদিন বলিনি। তুমি আমার মনের কথাগুলিকে হেসে উড়িয়ে দিবে। আমি সত্য করেই বলছি।

এখন বলে লাভ কি? আমাদের মৃতু্য আসন্ন।

পলিন, কে বলেছে তোমাকে আমাদের মৃতু্য আসন্ন। আমরা অচিরেই আমাদের ভূবনে ফিরে যাব।

পলিন এবার নিজের কাজ ছেড়ে ঘুরে বসল। ক্লিনটন, আমি জানি আপনি রসিকতার আড়ালে সত্য কথা বলেন। সুতরাং এটাও আমার মনে হয় সত্য হবে। আপনি কিভাবে বুঝলেন আমরা আমাদের পৃথিবীতে চলে যাব। এখানের একজন মানুষকে বললেও, তারা কেউ বলবে না তারা পৃথিবীতে ফিরে যাবে। আপনি কিভাবে এতটা নিশ্চিত হলেন।

আমাকে তুমি করে বললে বলব। নয়ত বলব না।

ঠিক আছে। তুমি করেই বললাম। ভালও বাসলাম। এখন বল।

ঘটনাটা আমিই ঘটিয়েছি। নৌযানের সবাইকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সবাইকেই কল্পনার সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছি। এত বড় এঙ্পেরিমেন্ট করতাম না তোমার জন্য করেছি। তোমাকে ভালবাসব বলে করেছি।

ক্লিনটন, তোমার কথা শুনে আমি অবাক হচ্ছি। আমাদের সবাইকে তুমি তোমার নিয়ন্ত্রণে কিভাবে নিয়ে নিলে।

পলিন, তুমি এটা নিশ্চই জান আমি সবার মাথার ভিতরে ঢুকতে পারি। এটা আমি অনেকদিন ধরে অনুশীলন করে আসছিলাম। সবার মাথার ভিতর সবসময় ঢোকা যায় না। মানুষ যখন কোনকিছু চিন্তা করে না তখন তার মাথায় ভিতর ঢোকা সবচেয়ে সহজ। অনেকদিন ধরেই চেষ্টা করে আসছিলাম। ঢোকতে পারছিলাম না। আজ সবাই যখন অলস সময় পার করছিল। কারো মাথায় কোন চিন্তা ছিল না। তখন ঢোকে গেলাম। কাজ হয়ে গেল। তোমাদের অন্য জগতে নিয়ে গেলাম।

তুমি আমার জন্য এরকম একটা কাজ করতে পারলা। আমি তোমাকে গ্রহণ করতে পারছি না। আমি তোমাকে ঘৃণা করি। তুমি আমার সামনে থেকে চলে যাও।

পলিন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যিনি বাংলার শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি বলেছিলেন, প্রেম এবং যুদ্ধে মিথ্যা বলা জায়েজ।

রবী বাবু কি বলেছেন জানি না। তবে তোমার আশা পূরণ হবে না। কারণ আমি বিবাহিত। আরেকজনকে গ্রহণ করতে পারি না। আমার স্বামী এবং দুই সন্তান আছে।

ক্লিনটন এখন নিজেই কল্পবিজ্ঞানে চলে গেলেন। সবাই বাস্তবে ফিরে এসেছে। তারা তাদের নৌযানগুলো দেখতে পেল। অন্য নৌযানের সাথে যোগাযোগ করে ঘটনা বলার পর তারা হাসতে হাসতে শেষ। তাদের কোনভাবেই বোঝানো যাচ্ছে না, তারা অন্য একটা জগতে চলে গিয়েছিল।

অন্য নৌযানের মেরিন সেনারা বলতে লাগল, তারা একমুহূর্তের জন্যও হারিয়ে যায় নি। তাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ছিল এবং এখনও আছে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • এশরার লতিফ
    এশরার লতিফ মানুষের মাথায় ঢোকা নিয়ে আমার পঠিত এই সংখ্যার দ্বিতীয় গল্প এটি, বেশ ভালো লাগলো...
    প্রত্যুত্তর . ১৯ নভেম্বর, ২০১২
  • মাহবুব খান
    মাহবুব খান ভালো একটা থিম ছিল কিন্তু মনে হয় জমেনি /তারপর ভালো
    প্রত্যুত্তর . ২৩ নভেম্বর, ২০১২
  • খন্দকার আনিসুর রহমান জ্যোতি
    খন্দকার আনিসুর রহমান জ্যোতি গল্প মোটামুটি ভালই লাগল....আমার মনে হয় লেখক ব্যক্তিগত ভাবে খুব ব্যাস্ততার মধ্যে থাকেন....যার কারণে লেখায় কিছু অমনোযোগের ছাপ পরিলক্ষিত হয়....এ ব্যাপারে লেখক দৃস্টি দেবেন এটাই আশা করতে চাই.....ধন্যবাদ মাশুক আপনাকে...................
    প্রত্যুত্তর . ৩০ নভেম্বর, ২০১২