বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৭ এপ্রিল ১৯৮৬
গল্প/কবিতা: ৩৮টি

সমন্বিত স্কোর

৩.০৭

বিচারক স্কোরঃ ১.৫২ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৫৫ / ৩.০

বাংলার রূপ

বাংলার রূপ এপ্রিল ২০১৪

কৈশোর এর রঙ

কৈশোর মার্চ ২০১৪

ক্ষোভের শহর

ক্ষোভ জানুয়ারী ২০১৪

মুক্তির চেতনা (মার্চ ২০১২)

মোট ভোট ৪৪ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.০৭ মুক্তি- আঁধার থেকে আলোয়

নিলাঞ্জনা নীল
comment ২২  favorite ০  import_contacts ৪৯৫
"শ্রেয়া এই শ্রেয়া ওঠ কলেজ যাবি না?"

সকালের ঘুম টা বরাবরই খুব প্রিয় শ্রেয়ার৷ রাত জেগে পড়াশোনা করতে অভ্যস্ত শ্রেয়া সকালে একটু দেরিতেই ঘুম থেকে ওঠে ৷ তাই খালা মনির ডাকে কিছুটা বিরক্তি নিয়েই উঠলো শ্রেয়া ৷ তবে ঘুম থেকে উঠে ঘড়ি দেখে বিরক্তি টা আর রইলোনা ৷ কারণ আজ একটু সকাল সকাল ই কলেজে যাওয়ার কথা ৷ আজ কলেজে জরুরি মিটিং ৷

শ্রেয়া কলেজে যে দলটির সাথে সময় কাটায় সেখানে ওরা সব মিলিয়ে ৭ জন বন্ধু বান্ধব, শ্রেয়া, যুথী, রনি রাতুল, চৈতি, সৌরভ ও মিথুন ৷ কলেজে ঢুকেই অল্প ক'দিনেই তারা খুব ভালো বন্ধু হয়ে গেছে৷

তাদের এ দলটি কলেজের আর পাঁচটা দল থেকে একদম আলাদা ৷ বাকিরা যখন পড়াশোনার ফাঁকে অবসর সময়টা হই হুল্লোড় এর মাঝে কাটায় তখন তারা এ সময়টা কিছু কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করতে বেশি আগ্রহী ৷ এই আইডিয়াটা প্রথম আসে সৌরভের মাথায় ৷ আজ পরীক্ষা শেষে মিলিত হবার কারণ এটাই ৷ তাদের প্রথম প্রচেষ্টাকে সফল করার উদ্দেশ্যেই আজ তাদের মিলিত হওয়া৷

শ্রেয়া কলেজে এসে দেখল প্রায় সবাই উপস্থিত ৷ প্রথমেই শ্রেয়াকে দেরী করে আসার জন্য কিছু বকা হজম করতে হলো৷ তারপর সৌরভ বলতে শুরু করলো. "আমরা সবাই শিক্ষার কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে আজকে এই পর্যায়ে এসেছি। শিক্ষা গ্রহণের জন্য আজ আমাদের অনেক সুযোগ সুবিধা ৷ কিন্তু আমাদের দেশে এখনো বেশির ভাগ মানুষ নিরক্ষর ৷ শিক্ষার আলোটুকু তাদের কাছে পৌঁছেনি দেখে তাদের বিভিন্ন রকম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ৷ তাই আমাদের কাজ হবে যতটুকু সম্ভব এ কাজে এগিয়ে আসা ৷ সবাই সৌরভের কথার সাথে একমত পোষণ করলো ৷ মিথুন বলল "চল আজ থেকেই কাজে লেগে পড়ি"৷ সবাই সানন্দে রাজি হল ৷

ঠিক হল ক্লাস হবে চৈতিদের খোলা বারান্দায় ৷ প্রয়োজনীয় বই পত্র ও আনুষঙ্গিক জিনিস কেনার জন্য চাঁদা তোলা হবে ৷ ছাত্র ছাত্রী যোগাড়ের দায়িত্ব সবাই নিল যার যার এলাকায়৷

প্রথম দিকে কোনো বাবা মাই তাদের ছেলে মেয়েদের এ কাজে অংশ নিতে দিতে রাজি হচ্ছিলেন না কারণ সবাই ছোটখাটো কাজ করে সংসারের কাজে লাগছে ৷ কিন্তু বোঝানোর ফলে সবাই প্রভাবিত হল এবং রাজি হল ৷

আস্তে আস্তে শুরু হয়ে গেল তাদের সাক্ষরতা অভিযান ৷ ছাত্র ছাত্রীরাও অল্প দিনেই পড়াশুনায় বেশ মজা পেয়ে গেল ৷

শ্রেয়া আজকাল প্রায়ই বাইরে একটি মেয়েকে উঁকি দিতে দেখে ৷ একদিন শ্রেয়া মেয়েটাকে কাছে ডেকে নিল ৷ দেখল মেয়েটি একটু খুড়িয়ে হাঁটছে। নাম জিজ্ঞেস করাতে বলল মিনা ৷ খোড়ানোর কারণ জিজ্ঞেস করাতে বলল ফুল বিক্রি করার সময় ধাক্কা লেগে এই অবস্থা হয় ৷ চৈতি বলল "লেখা পড়া শিখতে চাও" ? মিনা বলল "চাই" ৷ "তাহলে এস আমার সাথে, আজ তুমিও সাক্ষরতার দিকে পা বাড়ালে ৷

এত অল্প দিনের মাঝে তাদের চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে পেরে সবাই খুব আনন্দিত ৷ সৌরভ মনে মনে বলল একমাত্র শিক্ষাই পারে সবাইকে বন্দী জীবনের আঁধার থেকে মুক্তি দিতে ৷ তাদের এই ছোট্ট উদ্যোগটাকে সফল হতে দেখে সবাই সমস্বরে বলে উঠলো "আমরাও পারি" ৷
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন