বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৬ নভেম্বর ১৯৬৭
গল্প/কবিতা: ৩০টি

সমন্বিত স্কোর

৮.৪৫

বিচারক স্কোরঃ ৫.৮৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.৬ / ৩.০

অতি-নাটকীয়

ভালোবাসা / ফাল্গুন ফেব্রুয়ারী ২০১৫

লেজ

অসহায়ত্ব আগস্ট ২০১৪

দিনের আঁধার

রাত মে ২০১৪

বর্ষা (আগস্ট ২০১১)

মোট ভোট ৬৫ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৮.৪৫ অন্ত:সার শূন্য জীবনের গল্প

মোঃ আক্তারুজ্জামান
comment ৫৫  favorite ৭  import_contacts ১,৩৫৬
দেখতে দেখতে রাস্তাটা পানিতে ডুবে যায়- আমি একটা স্কুল ঘরের রাস্তার দিকে মুখ করা খোলা বারান্দায় দাড়িয়ে ছিলাম| বৃষ্টি থেকে শরীর বাচাতে পারলেও নতুন এক বিড়ম্বনা দেখা দেয়- ক্রমেই স্কুলের বারান্দাটাও পানিতে ডুবে যেতে থাকে| আস্তে আস্তে ময়লা কাগজ, তরকারীর খোসা এই জাতীয় নানা জিনিস আমার পা স্পর্শ করতে লাগলো আর অস্বস্তিতে আমারও যেন গা গুলিয়ে উঠতে লাগলো|
আমি অন্ধকারে দাড়িয়ে প্রাণ পণে আল্লাকে ডাকতে থাকলাম যাতে বৃষ্টিটা থেমে যায়| কিন্তু থামা তো দুরের কথা, ক্রমেই বৃষ্টির তেজ বেড়ে চলল আর দুনিয়া থেকে সবটুকু আলো যেন মুছে যেতে লাগলো|
নিজের নির্বুদ্ধিতার জন্যে নিজেকে গালাগাল করতে লাগলাম| রাতটুকু নয়নের বাসায় থেকে গেলে এমন কোনো মহাভারত অশুদ্ধ হত না| আকাশের অবস্থার কথা বলে ও বারবার আমাকে নিষেধ করেছিল| আমি শুনিনি| কি যে একটা বাজে অভ্যাস- নিজের বিছানা ছাড়া ঘুমই হয় না আমার!
সন্ধ্যা থেকেই বেশ বৃষ্টি হচ্ছিল| নয়ন আর ওর বউ এর সাথে খাওয়া দাওয়া গল্প গুজবে মেতে থাকলেও আমি বৃষ্টির দিকেও খুব খেয়াল রাখছিলাম| একটা যুতসই 'ফাক' পেলেই কেটে পড়ার মতলবে ছিলাম| রাত এগারটার দিকে একটা ছোট 'ফাক' পেলাম| তখনই 'চলিরে নয়ন, ভাবী আমি গেলাম' বলে গুলির মত বেরিয়ে পড়লাম| পেছন থেকে ওরা স্বামী স্ত্রী হই হই করতে থাকলো|
নযনদের বাসা থেকে আট দশটা বাসাও পেরুতে পারিনি, বৃষ্টি আমাকে খুব করে চেপে ধরল| আধ ভেজা হয়ে কোনো মতে দৌড়ে গিয়ে স্কুলের বারান্দায় আশ্রয় নিতে পারলেও বুঝতে পারলাম পরিণাম খুব একটা শুভো হবে না|
পানি হাটু অতিক্রম করে উপরের দিকে ক্রমেই উঠতে লাগলো| বুঝতে পারলাম আর দাড়িয়ে থাকা যাবে না| বৃষ্টিতে ভিজে নয়নের ওখানে চলে যাব- এরকম ভাবতে আমার খুব সংকোচ হতে লাগলো| আমার বাসার দিকে যে এগুবো তাতেও গুরুতর সমস্যা| আমি যেখানটায় দাড়িয়ে ছিলাম তার একটু দুরেই রাস্তাটা বেশ ঢালু| অনেকটা নৌকার তলার মত হয়ে রাস্তার বিপরীত দিকটা বড় রাস্তায় উঠে গেছে| ঐ নৌকার তলার মত জায়গাটায় এক কোমড় বা এক বুক পানি হবে তাতে আমি নিশ্চিন্ত ছিলাম|
রাত বেড়ে চলে, সাথে বৃষ্টিও| আমি বুঝতে পারি আর দাড়িয়ে থাকার কোনো অর্থ হয় না| বিধ্বস্ত হয়ে আমি এই নোংরা পানি দিয়ে বাসায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেই| বারান্দা থেকে রাস্তায় পা বাড়াতে গিয়ে আমি কান খাড়া করি| কিছু একটা ধাতব শব্দ বৃষ্টির ঝম ঝম আওয়াজ ভেদ করে আমার কানের পর্দা স্পর্শ করছিল|
আমি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে যে দিক থেকে টুং টাং আওয়াজটা আসছিল সে দিকে তাকিয়ে রইলাম| এক সময় জন মানব শুন্য রাস্তায় একটা ছায়া আন্দাজ করে আনন্দে হাত পা ছুড়ে চিত্কার করতে লাগলাম- এই রিক্সা!
আমার হই চৈ চিত্কার চেচামেচি উপেক্ষা করে রিক্সাটা আমাকে অতিক্রম করে যেতে লাগলো| ব্যর্থ মনোরথে আমি গলার আওয়াজ সপ্তমে চড়িয়ে এই রিক্সা এই রিক্সা করতে থাকলাম| মনে হলো রিক্সাটা গজ বিশেক সামনে গিয়ে দাড়িয়ে পড়েছে|
অনেকটা তাড়া খাওয়া হাসের মত আমি প্রায় উড়ে গিয়ে রিক্সায় আছড়ে পড়লাম| তারপর এক মুহুর্তেই আমার ঠান্ডা শরীর যেন হিম শীতল বরফ হয়ে গেল| অন্ধকারেই আমি চোখ বন্ধ করে মনে মনে বললাম- হে আল্লাহ, এ আমি কি করলাম!
হায় কপাল! পানি থেকে বাচতে গিয়ে শেষে একটা পেত্নীর সহযাত্রী হয়ে গেলাম| ফুট তিনেক রিক্সার সিটে আমি যতদুর সম্ভব দূরত্ব রেখে বসতে চেষ্টা করি তো পেত্নী আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে| ঘাড়ের উপর থেকে হাত নামাই তো সে আমার কাধে মাথা রাখে| কি যে জ্বালা! ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে তার দু'হাত আমার দুহাতে চেপে ধরে বসে থাকি| কুটুস- করে স্বশব্দে পেত্নী আমার গালে চুমু খায়| বৃষ্টি ধোয়া প্রসাধনীর গন্ধ তার শরীর থেকে তখনও নিঃশেষ হয়নি| আমার মাথা ঘুরতে থাকে শরীরটা যেন গুলিয়ে উঠে| রিক্সা থেকে লাফিয়ে পড়ব নাকি ভেবে পাই না আমি|
বড় রাস্তা পর্যন্ত মিনিট দশেকের রাস্তা যেন মহাকালের পথ পরিক্রমা- যার কোনো শেষ নেই| মনে মনে স্থির করি বড় রাস্তায় রিক্সা উঠলেই যেভাবেই হোক নেমে পড়ব|
এক সময় রিক্সাটা বড় রাস্তায় উঠে পড়ে| আমিও অস্থির চঞ্চল হয়ে উঠি তাই আমার মতি গতি বুঝে ফেলে পেত্নীটা| সে স্পষ্ট স্বরে কথা বলে উঠে- বেশি চালাকী করলে চিত্কার করব কিন্তু|
আমি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলি, চিত্কার করে বলি- হারামজাদী মেয়েমানুষ, আমি তোর নাক ফাটিয়ে ফেলবো|
- এরকম মেলা দেখা আছে! শান্ত নির্লিপ্ত উত্তর দেয় পেত্নীটা|
আমি গুটিয়ে যাই, কি করা দরকার- আমি কোনো পথ খুঁজে পাই না| অজানা একটা ভয় আমাকে পাগলা কুকুরের মত তাড়া করে| কি ঘটতে যাচ্ছে, আমি কোন বিপদে পড়ছি- এরকম দুশ্চিন্তায় আমার ঠান্ডা শরীর অচিরেই ঘামতে শুরু করে|
এক সময় দেখি জন মানব শূন্য রাস্তায় আমাদের বিপরীত দিক থেকে একটা ট্রাক হু হু শব্দ তুলে ছুটে আসছে| ট্রাকের হেড লাইটের বৃষ্টি আক্রান্ত আলোতে আমি পেত্নীটার চেহারা বেশ স্পষ্ট দেখতে পাই| আমার ভিতরটা সামান্য আন্দোলিত হয়- এই মুখটা আমি কোথায় যেন দেখেছি!
কোথায় দেখেছি, কোথায় দেখেছি- মনে মনে খুব করে হাতড়াতে থাকি, কিন্তু কিছু খুঁজে পাই না| এই চিন্তার রেশ ধরে মাথায় একটা বুদ্ধি আসে| আমি পেত্নীটার মনোরঞ্জনের জন্য স্বচেষ্ট হই|
আমি কন্ঠ বেশ মোলায়েম করার চেষ্টা করে বলি- তা আমাকে এখন কি করতে হবে?
- হয়েছে, হয়েছে, আর বিড়াল তাপস সাজতে হবে না! অনেক হলো, কোথাও নিয়ে যাওয়ার হলে নিয়ে চল আর নয়তো আমার সাথে চল এমন জায়গায় নিয়ে যাব কোনো ঝামেলা তো দুরের কথা কাক পক্ষীতেও টের পাবে না|
বুকের ভেতর আমি হাতুড়ী পেটানোর ঠন ঠন শব্দ শুনতে পাই| আমার কি যেন হয়ে যায়| পকেট থেকে মানি ব্যাগটা এক ঝটকায় টেনে বের করে ফেলি| ভেতরে যা ছিল কিছু বুঝে উঠার আগেই পেত্নীটার হাতে গুঁজে দিয়ে ওর রিক্সাওয়ালা স্যাঙ্গাতটিকে রিক্সা থামাতে বলি|
ঘটনার আকস্মিকতায় পেত্নীটা হয়ত ভেবচেকা খেয়ে যায়| আমি এবার রিক্সা থেকে এক রকম লাফিয়ে পড়ি| পেত্নীটাও এক লাফে আমার পাশে এসে দাড়ায়| আমার মুখের কাছে তার মুখটি এনে ফিস ফিস করে বলে- একটু না ছুএ দেখেও অতগুলি টাকা দিয়ে দিলে?
আমি সহজ করে হাসার চেষ্টা করলাম- এই তোমাদের এক দোষ! পুরুষ মানুষ যেন মেয়েদের চেটে খাওয়ার জন্য অষ্ট প্রহর হা করে থাকে| পরে না হয় একদিন কিছু একটা হবে! আমি তো আর তোমার অপরিচিত নই!
অন্ধকারেও বুঝতে পারি আমার তীর ঠিক নিশানায় আঘাত করেছে| মনটা মুহুর্তেই মুক্তির এক খুশির বন্যায় ভেসে যায়- একটা প্রস্তর মূর্তির সামনে থেকে আমি খুব সহজেই দ্রুত সড়ে পড়ি|
জুম বৃষ্টির রাতে দেখা পেত্নীটাকে একসময় আমি মনে করতে পারি| না, সে আমার পূর্ব পরিচিতা কেউ নয়| আমাদের বাস স্ট্যান্ড এ বেশ কিছু দিন আগে একটা দুর্ঘটনা ঘটেছিল| সামান্য ফাক রেখে দাড়িয়ে থাকা দুটো বাসের মাঝখান দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় হঠাতই সামনের বাসটি পিছনে চলে আসে| মাঝখানে পড়ে চাপা খায় বছর বারো বয়সের একটা মেয়ে| প্রাণে বেচে গেলেও, সবার ধারণা মেয়েটার কোমড় ভেঙ্গে গেছে|
ঘটনাস্থলে রাজ্যের লোক জমে যায়| আমিও গিয়ে সবার মাঝে মেয়েটাকে একটু দেখার চেষ্টা করি| চারিদিকে আফসোসের শব্দ| হঠাতই একটা ব্যতিক্রমী কথা কানে ভেসে আসে- আহারে মেয়েটার 'লাইফের জীবন'টা এক্কেবারে শেষ!
অমন উদ্ভট মন্তব্যকারীকে দেখার চেষ্টা করি, দেখি ১৬/১৭ বছরের একটা মেয়ে| বেশভূষায় মনে হয় কোনো গরীব ঘরের কলেজ ছাত্রী| গায়ের রং কালো, হালকা পাতলা গড়ন, চোখ দুটি খুব উজ্জল| বুকে গোটা কয়েক বই চেপে রেখে গভীর ভাবে সে আহত মেয়েটাকে দেখছিল|
আমরা 'আসছে আগামী' দোষে দুষ্ট কথা নিত্য দিনই শুনে থাকি| কেন জানি 'লাইফের জীবন' কথাটি আমার মনে দাগ কেটে গেল| কথাটি মনে পড়লেই সেই কালো চেহারার মেয়েটাকে মনে পড়ে যায়| ফলে তার চেহারাটা মোটামুটি মনে থেকে যায় আমার|
আমার দেখা পেত্নীটা আসলে কলেজ ছাত্রী না ওরা নানা বেশে ঘুরে বেড়ায় সুযোগ পেলেই পুরুষ মানুষের ঘাড় মটকায়| তবে নিজে ইচ্ছে করে ওদের কাছে গিয়ে ঘাড়টা মটকে আসে এমন পুরুষ মানুষও আমাদের সমাজে কম নয়|
ও ঘটনার পরে কবিতার সাথে আমার মাঝে মধেই দেখা হত| আমি আর ওকে সে রাতের কথা মনে করিয়ে দেইনি ওরা কত লোকের কাছে যায় হয়ত আমাকে ও ভুলে গেছে| আমাকে বলেছিল ওর নাম- কবিতা| এ লাইনের মেয়েরা নাকি ওদের আসল নামটা বলে না| এ নিয়ে আমার মাথা ব্যথার কিছু ছিল না- ও একটা মানুষ তাই ওর নাম কবিতা ববিতা একটা কিছু হতেই পারে|
নয়নের কাপড়ের দোকানটায় আমার আস্তানা ছিল| নয়ন প্রায় অশিক্ষিত কিন্তু ধর্ম প্রাণ| ব্যাবসায় খুব পটু| আমি শিক্ষিত বলে আমায় ও খুব সমীহ করত| অকর্মন্য আমার ওর দোকান ছাড়া সময় কাটানোর কোনো উপায় ছিল না| আমার শিক্ষিত বন্ধুরা সব দুরে সড়ে গেছে, কেন গেছে তা পরে বলছি|
কবিতা কালো একটা মেয়ে- চেহারা বলতে এক মাত্র চোখ দুটিই সুন্দর| সব পুরুষ তো আর চোখ বুঝে না| তাদের চাই হৃষ্ট পুস্ট সুন্দর শরীর| টাকা দিয়ে কেউ অসুন্দর শরীর ভোগ করতে চায়? যত বেশি সুন্দর শরীর তত বেশি টাকা দিতে ব্যস্ত পুরুষরা!
আমি বুঝতে পারতাম কবিতা প্রায়ই অর্থ কষ্টে পড়ত| ওর ঘরে হয়ত খাবারও থাকত না| আমি যতদুর পারতাম ওকে সাহায্য করতে চেষ্টা করতাম| নিজের না থাকলে কখনো সখনো নয়নের কাছ থেকে নিয়ে দিতাম|
কবিতাকে আমি পারলে কিছু দিতাম কিন্তু কোনো শোধ নিতাম না দেখেই হয়ত ওর মনে আমার জন্যে একটু সম্মানবোধ জন্মেছিল| খুব সমীহ করে জরসরও হয়ে সামনে আসতো| কষ্ট, ক্ষুধা বড় খারাপ জিনিস মানুষকে নির্লজ্জ করে ফেলে| আমি নিশ্চিত জানতাম ওর অর্থ কষ্ট না থাকলে ও কোনো দিন আমার সামনে দাড়াত না| মানুষ হিসেবে একটা পরীক্ষা তত দিনে আমি ওর কাছে পাশ করে ফেলেছি|
এভাবেই দিন মাস যাচ্ছিল| একদিন কবিতা এসে আমার কাছে এক হাজার টাকা চাইল| সেদিন আমার কাছে কোনো টাকা নেই| নয়নের হাতও খালি ও মালের জন্য মোকামে সব টাকা পাঠিয়েছে| কবিতা খুব লজ্জা পেল- ও বলল টাকাটা পরের দিন হলেও চলবে|
কিন্তু পরের দিন আমার বাসা ছেড়ে কথাও যাওয়ার উপায় ছিল না| কারণ ওই দিন আমার ছোট বোনের বিয়ের কথা হবে| কি মনে করে আমি কবিতাকে বলি- তোমারও দাওয়াত| কাল বাসায় এসো, ওখানেই তোমাকে টাকাটাও দিতে পারব|
সে বিস্ফারিত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো| আমি ওকে অভয় দিয়ে কিভাবে আমাদের বাসায় যাবে, কখন যাবে তা বুঝিয়ে দিলাম|
টাকার প্রয়োজনেই হয়ত কবিতা পরের দিন খুব গুটিসুটি মেরে আমাদের বাসায় আসে| আমি মাকে বলে দিলাম- আমার বন্ধু| এ ছাড়া বলার মত কোনো সত্য মিথ্যা কিছুই আর আমি খুঁজে পাইনি| কবিতা সারা দিন আমাদের বাসায় থাকলো| নিজেই যেচে যেচে এটা সেটা করতে করতে একসময় সবার সাথে স্বাভাবিক হয়ে গেল| একটা বিপত্তিও ঘটিয়ে ফেলেছিল প্রায়| সালাদের কিছু শসা চিকন করে কেটে ফেলেছিল| আমার ছোট বোন তো রেগে আগুন- ছি: এরকম সেকেলে চটকানো সালাদ আজকাল কেউ খায়? গোল গোল করে বড় বড় টুকরা করতে হবে|
মা এসে কবিতার পক্ষ নিল, বলল- আমার কাছে চিকন করে কাটা শসার ধনে পাতা পিয়াজ, মরিচ এক সাথে কচলে বানানো সালাদই ভালো লাগে| এটুকু বরং তুমি আমার জন্য আলাদা করে বানাও, মা|
এক ফাকে কবিতাকে এক হাজার টাকা ওর হাতে দিয়ে দিলাম| চলে যাওয়ার সময় তার চোখের জল আড়াল করার চেষ্টাটা আমার নজর এড়ায়নি| আমি খেয়াল করলাম কবিতার চলে যাওয়াটা যেন আমার মায়ের মনেও একটু খানি হলেও রেখাপাত করেছে|
তিন চার দিন পর রাতে সবে শুয়েছি মা আমার ঘরে এলেন| আমার মাথার কাছটায় বসলেন, অনেক দিন পর| এক পর্যায়ে কবিতার প্রসঙ্গ তুলে বললেন- হা রে মেয়েটা তো বেশ ভালই মনে হলো|
আমি খুব অবাক হলাম| মা কোন পথে হেটে যাচ্ছেন তা আমার বোঝার বাকী রইলো না| বছর দু'এক আগেও মা আমার জন্য রাজ কুমারীর মত মেয়ের তালাশ করতেন|
বাবা আমার জন্য একটা সরকারী চাকুরী ম্যানেজ করেছিলেন| আমার চাকুরীটা হওয়ার পর আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী, বন্ধু বান্ধব সবার মাঝে একটা সাড়া পড়ে যায়- এবার উঠতে আর সময় লাগবে না!
আমি উঠতে পারিনি| চাকুরীটা করার যথেষ্ট যোগ্যতাও আমার ছিল| সরকারের বেতন নিয়ে লোভনীয় চাকুরীর 'লোভ' আমাকে কাছে টানলো না| আমার চার পাশের কেতা দুরস্ত মানুষগুলির লালায়িত মুখ দেখে আমার খুব ঘৃনা হত| এক সময় মনে হলো আমি দম বন্ধ হয়ে মরে যাব| একদিন কাউকে কিছু না বলে ওই লোভনীয় চাকুরীতে থু থু ছিটিয়ে আমি চলে আসি|
আমার চেনা পৃথিবীটা অচেনা হয়ে যায়| যারা একদিন বাণী দিয়েছিল উপরে উঠতে আমার সময় লাগবে না| এক লহমায় তাদের চোখে আমি একটা অপদার্থ, অথর্ব হয়ে যাই| আমার মাও আর রাজ কন্যার মত মেয়ে খোজেন না|
সে সব কথা মনে পড়তেই আমার মাঝেও জানি কি একটা ঘটে যায়| মায়ের চোখের দিকে স্থির তাকিয়ে থেকে আমি স্বাভাবিক গলায় বলি- শেষ পর্যন্ত একটা নষ্ট মেয়ের সাথে আমার বিয়ের কথা ভাবতে পারলে?
ভেবেছিলাম আমার অবস্থানটা কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে তা জানা যাবে| তা হলো না| আমার কথাটা শোনার সাথে সাথে মা এক লাফে উঠে দাড়ালেন| অবিরাম ওয়াক ওয়াক করতে করতে শুওরের বাচ্চা বলে আমাকে একটা গালি দিয়ে বাথ রুমের দিকে চলে গেলেন|
মা কখনো আমাকে গালি দেননি| জীবনের প্রথম এরকম একটা গালি মায়ের মুখ থেকে শুনেও আমার কোনো রকম লাগলো না| আমি শুধু ভাবছিলাম- কবিতা একটা নষ্ট মেয়ে শোনার পর মা অমন বমি করতে চাইছিলেন কেন? সংস্কার বিচ্যুতি ঘটেছে ভেবে মা কি তিন চার দিন আগে খাওয়া ধনে পাতা কাচা মরিচ কচলানো সালাদ উগরে দিতে চাইছিলেন? হায়রে সংস্কার!
আমার ছোট বোনের বিয়ে হয়ে যায়| কবিতাকে আমি সে কথা বলিনি, বলার সুযোগটা ছিল না| সেও আর কোনো দিন জানতে চায়নি- হয়ত নিজের অবস্থান সম্পর্কে তার সমক্য ধারণা ছিল|
দিন যায় মাস যায়| মাঝে মধ্যে কবিতার সাথে দেখা হয়| একদিন ওকে দেখে আমার জানি কেমন মনে হয়| সেটা বুঝতে পেরে কবিতা মাথা নীচু করে| আমি ওর কি হবে ভেবে ভয় পেয়ে যাই- কত দিন?
- ৪/৫ মাস| মাথা নীচু করেই ও উত্তর দেয়|
- কার? আমি ব্যাকুল হয়ে জানতে চাই|
কবিতা উত্তর দিতে পারে না, মাথা নিচু করেই দাড়িয়ে থাকে| আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে| এখন কি হবে ওর?
কবিতাকে অনেক করে বুঝাই এখনো সময় আছে| শুধু আমার সাথে একদিন ক্লিনিকে গেলেই মুক্তি| ও কিছু মানে না| আমি রাগ করি- আরে পাগলী কার না কার পাপ নিয়ে তুই কি করবি?
- আমার বাচ্চা! ওর সুন্দর দু চোখ পানিতে ভরে যায়| সে চোখের দিকে তাকিয়ে আমি আর কিছু বলতে পারি না| আমার কি যে মায়া হয়!
স্বজনহীন, সামাজিক স্বীকৃতি, নিরাপত্তাহীন একজন মেয়ের পেটে যদি অবৈধ বাচ্চা এসে যায়| আমাদের দেশে কোনো মেয়ে মানুষের এর চেয়ে আর বড় বিপদ কি হতে পারে? দিনের সাথে পাল্লা দিয়ে কবিতারও সমস্যা বেড়ে চলে| আজ শরীরের তো কাল মহল্লার| ওর আয়ের পথটা স্বাভাবিক ভাবেই বন্ধ হয়ে যায়| নয়নের কাছে আমার বেশ দেনা জমে, এ নিয়ে সে কখনো সখনো বেশ বিরক্ত হয় আমি বুঝতে পারি|
কবিতার এক একটা দিন যেন এক একটা কষ্টের পাহাড় হয়ে যায়| আমার খুব ঝামেলা বেড়ে যায়| তবু আমি ওকে ছাড়তে পারি না| কারণ তত দিনে আমি অর জীবনের অনেক কিছু জেনে গেছি| ওর অনেক কষ্টের দাগ আমার মনের জমিনে লেগে গেছে|
আমাদের বাসা থেকে প্রায় কিলোমিটার খানেক দুরে একটা বড় দীঘি আছে এক সময় খুব ভুতুড়ে এলাকা ছিল| লোকজন সহজে ওখানে যেত না| ক্রমেই এলাকাটা অপরাধীদের বিচরণ ভূমি হয়ে যায়| কবিতা ওই এলাকায় একটা ঝুপড়ি ঘরে একাই থাকত| ওর পেটে বাচ্চা আসার পর হুলস্থল পড়ে যায়| ভদ্র লোকেরা নাকে রুমাল দিয়ে দুরে থাকে, এলাকার নেশাখোর বখাটেরা 'কিছু'র জন্য রাত দিন তাড়িয়ে বেড়ায়|
এক এক বার ভাবতাম ওকে দুরে কোথাও পাঠিয়ে দেই| কিন্তু পরেই আবার মনে হত তাতে লাভের সম্ভাবনা নেই| কবিতা যেখানেই যাক আমাদের সমাজ ঠিকই ওর 'অপকর্মটি' জেনে ফেলবে খুটিয়ে খুটিয়ে তিরস্কার করবে, রসিয়ে রসিয়ে অপমান করবে|
অবশেষে সেই দিনটা আসে| সরকারী হাসপাতালের আয়া বুয়াদের রাজ্যের ঘৃণা মাথায় নিয়ে কবিতা একটা মরা ছেলে প্রসব করে| ত্রিভুবনে কবিতার আপনজন বলতে কেউ নেই| ওর আপনজন পাওয়ার স্বপ্ন বাতাসে মিলিয়ে যায়|
আশ্চর্য কবিতা একটুও কাদে না| ওর দু'চোখে কোনো পানি নেই, রাগ, ঘৃণা, দু:খ কষ্টের বিন্দু মাত্র লেশ নেই| কবিতার সুন্দর চোখ দুটি যেন মাটির তৈরী কোনো প্রতিমার চোখের মত- স্থির দুর্বোধ!
ওর মরা বাচ্চাটা নিয়ে আরেক মছিবতে পড়ে যাই| কি করা যায় কি করা যায়- ভাবতে ভাবতে আমার মাথা খারাপ হওয়ার যোগাড়| অবশেষে মাত্র পাচশ টাকার বিনিময়ে হাসপাতালের সেই পুত পবিত্রা, সচ্চরিত্রা গুণবতী মহানুভব আয়া বুয়ারা আমাকে মুক্তি দেয়|
কবিতাকে নিয়ে আমি হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসি| হাসপাতালের এক কোণে একটা ময়লা পলিথিনে মোড়ানো পড়ে থাকে কবিতার- 'আমার বাচ্চা'|
ওকে ওর ঝুপড়িতে পৌছে দিয়ে আসি| কিছু টাকাও রেখে আসি| নিজেকে বেশ হালকা মনে হয়| কযেকটা মাস আমার উপর দিয়ে যে কি ধকল গেছে কাউকে বুঝানো দুঃসাধ্য|
অনেক দিন পরে রাতে চিন্তা মুক্ত ঘুম হয় আমার| সকালেও অনেকক্ষণ বিছানায় শুধু শুধু পড়ে থাকি| এলোমেলো বিছিন্ন কথা ভাবি| বেলা এগারটার দিকে নয়নের দোকানের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ি|
নয়নের দোকানে ঢুকে অবাক হই, ওকে কেমন নি:স্প্রাণ ফ্যাকাশে দেখায়| ওর মুখ থেকে যা শুনি তাতে আমি মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ি- কবিতা রাতে কোনো এক সময় গলায় ফাস দিয়েছে| সকালে খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ নিয়ে গেছে|
কবিতার সুন্দর দুটি চোখের কথা আমার মনে পড়ে| প্রচন্ড রাগ, দুঃখ, ক্ষোভে আমার ভিতরটা দুমড়ে মুচড়ে যায়| আমি হাত পা ছুড়ি- ও কেন এমন করলো? কেন?
লাইফের জীবন- এক সময় কবিতার কথা থেকেই আমি কেনর উত্তরটা পেয়ে যাই| নাকের ডগায় শ্বাস কিংবা হৃতপিন্ডের ধুক ধুকানির জীবনকে ঘিরে মানুষের আরও একটা জীবন থাকে| সে জীবনটা মানুষের ভালবাসা, মান ইজ্জত, সমাজে নিজের সুন্দর একটা অবস্থানকে ঘিরে গড়ে উঠে|
সৃষ্টিকর্তা কবিতার হৃতপিন্ডে স্পন্দন, নাকে শ্বাস দিয়েছিল কিন্তু ওর জীবনে মানুষের ভালবাসা ছিল না, ছিল না কোনো সম্মান| শ্বাস নেয়ার মত মুক্ত একটু বাতাস ওর কপালে জোটেনি| তাই ও দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে বেচেছে|
নয়নকে বললাম- কবিতার বাচ্চাটিকে দাফন করা হয়নি, কাজটা ঠিক হয়নি| কবিতার লাশটা আনতে হবে, ওকে দাফন করতে হবে|
তড়াক করে লাফ মেরে নয়ন দু'পা পিছে গিয়ে দাড়ায়- মাথা খারাপ, যার জাত পাতের ঠিক ঠিকানা নেই| নষ্টা একটা মেয়ে মানুষ তার লাশ নিয়ে টানা হেচড়া করব? সমাজের লোকেরাই ছেড়ে দেবে?
আমি নয়নকে বুঝাই- নষ্ট বলে একটা মানুষের লাশ শিয়াল কুকুরে খাবে আর মানুষ হয়ে আমরা তা দেখব এটা তো কোনো ধর্মের কথা হতে পারে না| একটা মৃত মানুষকে অপমান করা সাজা দেয়া- খুব অন্যায়| নষ্টামীর সাজা দেয়ার জন্য যে সমাজ হৈ চৈ করে সে সমাজ নষ্টদেরকে শুদ্ধ পরিশুদ্ধ করতে কতটুকু করে? ওর জাতের কথা- আমি জানি ও একজন মুসলমান! কতদিন দেখেছি কোনো মসজিদ থেকে যখন আজানের শব্দ ভেসে আসতো কবিতা আনমনে ওর মাথায় কাপড় তুলে দিত| এটা কি ইসলামের প্রতি ওর আনুগত্য প্রমান করে না?
এক সময় নয়ন আমার কথায় সায় দেয়| আমদের এলাকায় বিশাল আকার দুটো কবর স্থান আছে| একটা এলাকার স্থায়ী বসবাসকারীরা তাদের নিজেদের লোকজনের দাফনাদি করে| হাই ওয়ের ধারে খাস জমিতে ভাসমান, হত দরিদ্রদের একটা কবর গড়ে উঠেছে| কখনো সেখানে খুন হওয়া বেওয়ারিশ লাশও পড়ে থাকতে দেখা যায়, শিয়াল কুকুরে খায়| ঝোপঝাড় আগাছায় ভরা- রক্ষনাবেক্ষণ তো দুরের কথা পারত পক্ষে ওখানে লোকজন যায় না| আমরা ঠিক করি রাতের বেলায় ঐ কবরস্তানে কবিতাকে কবর দিবো| নয়ন পরহেজগার মানুষ অনেক কিছু জানে ও নিজেই জানাজার নামাজ পড়াবে|
অসময়ে নয়ন দোকানে তালা মারে, আমাকে বলে- তুমি কষ্ট করে লাশটা নিয়ে এসো আমি দেখি কোনভাবে কবর খূড়ানোর ব্যবস্থাটা করতে পারি কি-না|
এসব করতে তো টাকার দরকার| নয়নের কাছ থেকে আমি অনেক টাকা নিয়েছি, আর চাওয়া সম্ভব না| মাথায় চট করে একটা বুদ্ধি আসে| আমি দ্রুত বাসায় চলে যাই| সরাসরি মাকে গিয়ে বলে- একটা বেওয়ারিশ লাশ দাফন করতে কিছু টাকা দেওয়া যাবে?
মায়ের স্বাভাবিক চেহারায় মৃত্যু ভয় নেমে আসে| আহারে আহারে করতে করতে সে দোওয়া দরুদ পড়তে থাকে| কত দিন থেকে সে এরকম একটা কাজের সুযোগ চেয়ে বসে আছে, বেশ কিছু দিন ধরে সে তার জান্নাত বাসী বাবা মাকে স্বপ্নে দেখছে এই সব বক বক করতে চাবির গোছা নিয়ে গিয়ে আলমারী খোলে| দুহাত ভরে টাকা নিয়ে এসে আমার সামনে দাড়ায়- তা হ্যারে, কত দিব?
আমার মুখ ফসকে বেরিয়ে যায়- দাও, যত বেশি দিবে তত বেশি ছওয়াব হবে|
মা দুহাতে যা ছিল তার সব আমার হাতে তুলে দিয়ে তৃপ্তির হাসি হাসে| যেমনটা লোকে হাসে নিজ নামে জমি রেজিস্ট্রি করতে পেরে| দানে অন্যের উপকার বা মঙ্গলই কাম্য- কিন্তু প্রাপ্তির প্রত্যাশায় দান আমার কেন জানি ভালো লাগে না| আমি দ্রত মায়ের সামনে থেকে চলে যাই|
থানা পুলিশের নাকানি চুবানী খেয়ে মর্গে যাই| কৃশকায় একটা নিথর দেহ- ওর সুন্দর চোখ দু'টি আর আমার দেখা হয় না| ভেবেছিলাম কবিতার লাশ দেখে বোধ হয় খুব কষ্ট পাব| আশ্চর্য হই আমার কোনো কষ্ট হয় না| আমার ভিতরটা নরম হয় না, কঠিন হয়, চোখ দুটো জ্বালা করে- বেশ ভালই হলো! সমাজের সবাইকে ও মুক্তি দিয়ে গেল ওর পাপের ছায়া আর কারো উপর পড়বে না| তোমরা সোনারা ভালো থেকো, তোমরা কোনদিন যেন কাউকে পাপী বানিও না|
মর্গ থেকে কবিতার লাশ নিতে বেশ রাত হয়ে যায়| মায়ের দেয়া টাকার পরিমান বেশি থাকায় সমস্যা হয় না সবখানেই পরিমানের চেয়ে বেশি বেশি দেই| এমন কি মর্গের লোক দিয়ে কবিতার লাশ গোসল দিয়ে একেবারে কাফন পরিয়ে নেই|
ছোট একটা ট্রাক ভাড়া করে তাতে কবিতার লাশ তুলি| ট্রাকের চৌদ্দ পনের বছর বয়সী হেলপার ছেলেটা দৌড়ে গিয়ে হাসপাতালের কোথা থেকে যেন অজু করে আসে| আসার সময় আগর বাতি গোলাপ জল কিনে আনে| আমি ওকে টাকা দিতে চাই ও নেয় না| ময়লা গামছা খানা টুপির মত করে মাথায় তুলে দেয়| ট্রাকে গোলাপজল ছিটায়, আগর জ্বালায় আমি চুপ করে বসে থাকি|
জেলা হাসপাতালের মর্গ থেকে কবিতার লাশটা নিয়ে যখন আমি বড় রাস্তার পাশের কবরস্থানের কাছে আসি তখন মাঝ রাত| অবাক করা একটা কান্ড ঘটে যায়| বলা নেই কওয়া নেই আকাশ ভেঙ্গে জুম বৃষ্টি নামে| দ্রুত যেন আধারে ডুবে যায় পৃথিবীটা|
আধার ঠেলে নয়ন ট্রাকটার কাছে আসে| ওর সাথে তিন চার জন শ্রমিক গোছের লোক| নয়ন বৃষ্টি দেখে খুব খুশি হয়- ভালই হলো, ঝামেলা হওয়ার আর কোনো সুযোগ রইলো না|
খুব দ্রুত আমরা কবিতার জানাজা শেষ করে কবর দিয়ে দেই| কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকার পর নয়ন আমার কাধে হাত রাখে, একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে অনেকটা সান্তনা দেয়ার মতই বলে- চল এবার বাসায় যাওয়া যাক|
আমি নিশ্চুপ দাড়িয়ে থাকি| নয়ন কি ভেবে ওর লোকজন নিয়ে চলে যায়| ততক্ষণে বৃষ্টিটাও থেমে গেছে| পৃথিবীটা অদ্ভুত একটা নীল আলোয় ভেসে যায়| কবিতার কবরের একটু দুরে একটা কদম গাছ মন খারাপ করে দাড়িয়ে থাকে|
বুকের বাম পাশটায় চিন চিন করে| আমি আমার বুকের উপর হাত রাখি| হৃপিন্ড থেকে একটা নিগুড় সত্যি বেরিয়ে আসে, পোড়ার দুচোখ আমার বর্ষার প্লাবনে ভেসে যায়| হাটু গেড়ে মাটিতে বসে পড়তে পড়তে আমি অনুভব করি- পেত্নীটাকে আমি খুব ভালবাসতাম!



[লেখাটি গুগল ট্রান্সলিটারেসন - এ টাইপ করা| অনেক চেষ্টা করেও খন্ডত, হসন্ত, চন্দ্রবিন্দু, বিসর্গর মত ছোট ছোট অক্ষর পর্যন্ত ঠিক করতে পারিনি| তাই ভুল বানানের জন্য পাঠকের কাছে হাতজোড় ক্ষমাপ্রার্থী হয়ে রইলাম]
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • রওশন জাহান
    রওশন জাহান আমার ভালো লাগা তাহলে কানা কড়ির দরে বিকিয়ে যায়নি ! আমি আনন্দিত, অভিভূত অসাধারণ এই লেখাটির বিজয়ে!
    প্রত্যুত্তর . ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১১
  • খন্দকার নাহিদ হোসেন
    খন্দকার নাহিদ হোসেন Akhteruzzaman ভাই, গল্পটা পড়ে কি বলবো ঠিক বুজতে পারছি না......আপনি ফোন এ যাই বলুন সময় কিন্তু ফুরিয়ে যায়নি... আপনার গল্পের একটা বই সামনে পাবো এই আশা নিয়ে শেষ করছি।
    প্রত্যুত্তর . ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১১
  • শামীম খান
    শামীম খান প্রিয় আখতার ভাই । সালাম । আপনার প্রতিটি লেখা আমাকে অভিভূত করেছে । কথাটা একটি বার্তায় পাঠাতে পারলে ভাল হতো । কেন যেন আমার কম্পুটার থেকে বার্তা লিখতে পারছি না । আপনার কাছ থেকে আরও অনেক কিছু পাবার আছে । দীর্ঘায়ু আর সুস্বাস্থ্য কামনা করছি । শুভ কামনা ।
    প্রত্যুত্তর . ৪ জানুয়ারী, ২০১৫