বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৮ মার্চ ১৯৮৯
গল্প/কবিতা: ১২টি

সমন্বিত স্কোর

২.৯

বিচারক স্কোরঃ ১.৪ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৫ / ৩.০

আর কতদূর...

শ্রম মে ২০১৫

সে কেন এমন করল

ভয় এপ্রিল ২০১৫

আমাকে ভালবাসা পাপ!

দিগন্ত মার্চ ২০১৫

বৈরিতা (জুন ২০১৫)

মোট ভোট ২০ প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.৯ ভালোবাসা ভালো থাকিস!

এমএআর শায়েল
comment ৩৮  favorite ২  import_contacts ১,২১৪
(এক)
‘হ্যাপী’ ভালোবাসার দাবী নিয়ে কখনো তর সামনে দাঁড়াবোনা। এমন কথা বলে, গেলো ৯ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে এলাম। ভালোবেসে তাকে হ্যাপী ম্যাডাম বলে ডাকতাম। সে শত কষ্ট দিলেও আমার রাগ হত না। বরং ভালবাসা জাগত।
আমাকে পছন্দ নয় হ্যাপীর। তার ধারণা আমি খুব বিশ্বাসযোগ্য বন্ধু নই। মানা করি, আমার সর্ম্পকে ভুলেও যেন এমন ধারণা পোষন না করে। সে আমার সামনে এক কথা বলে, আড়ালে আরেক কথা। এমনটা করে বলে, চোখের কোণে জল আসে।
সেদিন আমি যেমন তাকে কথা দিয়েছিলাম, সেও দিয়েছিল। বলেছিলো, বাংলাদেশে থাকলে, আমি ছাড়া রাম, সাম, যদু, মধু কারো সাথেই সর্ম্পকে জড়াবে না। বিশ্বাস করেছিলাম। বলেছিলাম, যখন খুশি তার সাথে কথা বলতে চাইবো, যেন অসম্মান না করে।
সম্মান ঠিকই করেছিলো সে। কিন্তু যদু সব কিছু তছনছ করে দিলো। সুযোগ পেলেই হ্যাপীকে বলতো আমি নাকি তার যোগ্য নই। তাই হ্যাপী আমাকে অবজ্ঞার চোখে দেখতো।
হ্যাপীকে পাওয়ার জন্য তৃষ্ণার্থ ছিলাম। সাহারা মরুভূমিতে এক ফোঁটা পানির জন্যে মানুষ যেমন হাহাকার করে তেমনি, হয়তোবা তার চেয়েও বেশি।
হ্যাপীর অবজ্ঞা দেখে সব রাগ গিয়ে পড়ত যদুর ওপর। একদিন হ্যাপীর উপরই রাগ হয়। হ্যাপীকে নিয়ে সংসার গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, রাম, সাম, যদু, মধুদের কারণে তা আর সম্ভব নয়। কলেজে থাকাকালীন, রামকে ছেড়ে আমার কাছে এসেছিল হ্যাপী। তারপর আমাকে ছেড়ে গিয়েছিল সামের কাছে। আজ হ্যাপীর পাশে আমি নেই, রাম-সাম কেউই নেই। যদু এসেছে তার জীবনে, মধু আসছে।
ঢাকায় আসার পর ১৫ মে আমাকে এনাম নামে এক জুনিয়র ভাই, একটি ভিডিও ফুটেজ পাঠিয়েছিল। ফুটেজটিতে হ্যাপী আর যদুকে খুব অন্তরঙ্গ দৃশ্যে দেখতে পেলাম! আমার অনুপুস্থিতিতে যদু হ্যাপীর সাথে ল্যাপ্টে থাকে। মন সায় না দিলেও আমি জানি, হ্যাপী যদুকে কেন এমন সুযোগ দেয়। কতবার তাকে নিয়ে পার্ক, রেষ্টুরেন্ট ও সিনেমা দেখতে চেয়েছি। ঠিক মনে নেই।
একটা সময় ছিলো,-হ্যাপী বিহীন হবিগঞ্জ শহর আমার কাছে, জলহীন সাহারা মরুভূমির মতো মনে হত। হ্যাপী সেদিন তার ভালবাসার পরশে আমাকে সিক্ত করেনি। আচঁল মেলে একটু ছোঁয়া দেয়নি। তাকে এতটা ভালোবাসতাম, যতটা ভালোবাসা, রাম, সাম, যদু মনে হয় বাসেনি।
আমার শরীরের প্রতিটি রক্ত কনিকায় মিশে ছিল হ্যাপী। সেদিন ইচ্ছে করেই আঘাত দিয়েছিল সে। কোনো মানুষ এত সহজে তার প্রিয় মানুষটিকে ভুলে যেতে পারে হ্যাপীকে না দেখলে কেউই বিশ্বাস করবে না!
যদি কেউ কোনদিন আমাকে প্রশ্ন করে,-এত ঘাটের পানি খাওয়া মেয়েকে কেন ভালোবেসেছিলাম?
উত্তর কি জানা নেই আমার কাছে?
রাম, সাম, যদু কিসের জন্য হ্যাপীকে চেয়েছে আমি জানতাম! হ্যাপীকে কথা দেয়ার কারণে, মুখে কুলোপ দিয়েছি।

(দুই)
নারীরা নাকি মায়াবতী হয় শুনেছি। কিন্তু হ্যাপীর মুখে মায়ার লেশমাত্র দেখেনি সেদিন! হ্যাপীকে ছেড়ে চলে আসার পর মনের ভেতর যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল, আগের মতোই রয়ে গেছে। কেবল সে আগের মতো রইলো না।
হ্যাপী চলে যাবার পর বারবার মনে হতো, বেঁচে থেকে কি লাভ?
-আমি পারিনি!
রাম, সাম ও যদুর মতো করে হ্যাপীকে ভালোবাসতে পারিনি!
আমার পৃথিবীকে হতাশার কুয়াশার চাঁদরে ঢেকে দিয়েছিল হ্যাপী। এ মাসের ১১ মে ওয়ার্টসআপে হ্যাপীকে দেখেছিলাম। পড়নে নীল শাড়ী, কপালে লাল টিপ, মুখে মিষ্টি হাসি। বয়স বাড়লেও চেহারায় সে ছাপ পড়েনি! আগে যেমনটা ছিল তেমনটাই আছে। জুনিয়র এনাম বলেছিল, গেল পহেলা বৈশাখে হ্যাপী ম্যাডাম ছবিটা কলেজে তুলেছিল। ছবিটা দেখার পর আমার বুকের ভেতর ৪ মাত্রার নেপালী ভূমিকম্প শুরু হয়ে গিয়েছিল। মনে হয়েছিল, ব্যস্ত ঢাকা শহরের কোলাহল যেন থেমে গেছে কিছু সময়ের জন্য।
কি অভিযোগ ছিল? আমাকে ছেড়ে যদুকে বেঁচে নিতে হল? হাজার বার জিজ্ঞাসা করেও উত্তর মিললনা?
নিজের প্রতি খুব অভিমান হয়। অভিমানগুলো জমাট হতে হতে হিমালয়ে রূপ নেয়।
হ্যাপী আমার কাছ থেকে যে ধরণের ভালোবাসা চেয়েছিলো, সে ধরণের ভালোবাসা আমি তাকে দিতে পারিনি। আমার জীবনে সে, যে মরুভূমি সৃষ্টি করেছিলো, তা থেকে সবুজ ভূমি সৃষ্টি আর সম্ভব নয়!
একবার কলেজ থেকে সিলেটের লালাখালে স্টাডিটোরে গিয়েছিলাম। সাথে যদুও ছিল। অন্য কোন উদ্দেশ্যে আমার যাওয়া ছিল না, হ্যাপীর পাশে থাকার জন্য ছিল। সেদিন নৌকায় সে আমার পাশে বসেছিল। তাকে আমার চিন্তা-চেতনা, জগত বানিয়েছিলাম।
আজ মনে হচ্ছে, আমার মন নদী শুকিয়ে গেছে। ওই নদীতে এখন আর নৌকা চলে না। কেউ নৌকা চালাতেও আসে না!
প্রতিদিন রাতের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে ভাবি, কে বেশি কালো, অন্ধকার নাকি হ্যাপীর হৃদয়?
বন্ধুদের শত নিষেধ সত্ত্বেও তাকে পেতে চেয়েছিলাম। তার রহস্যময়ী আচরন আমার সাজানো পৃথিবীটাকে নরক বানিয়ে দিয়েছিল। চারপাশের মানুষ, প্রকৃতি সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। কেবল হ্যাপী একাই বদলে গিয়েছিল! অপমানের যন্ত্রনায় আমাকে সাপের বিষের মতো নীল করে তোলেছিল। শুকনো পাতার মতো ওর জীবন থেকে ঝরে পড়েছিলাম আমি।
ভিডিও ফুটেজে হ্যাপীর হাত ধরতে যদুকে দেখে খুব আহত হয়েছিলাম। ভাগ্যিস সেদিন জুনিয়র এনাম ছিলো। বুদ্ধিমতি হ্যাপী বুঝে গিয়েছিলো বলে রক্ষা। তাড়াতাড়ি যদুর হাত থেকে তার হাত সরিয়ে নিয়েছিলো। আল্লাই মালুম জানিনা, আমার অলক্ষ্যে, যদুর সাথে হ্যাপী কি সব করে বেড়াত?
এসব আমার কাছে কোনো কারণ ছিল না, হ্যাপীকে সন্দেহ করার। যদু যে অমানুষ, আগে জানা ছিল না। ব্যক্তিগত ব্যাপার লুকোতেই পারে, কিন্তু বন্ধুর সাথে, বন্ধুর মন নিয়ে প্রতারণা করবে, ভাবতেই পারিনি। হ্যাপীর সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক ছিলো, কম বেশি হবিগঞ্জের সবাই জানতো। মিডিয়া পাড়া থেকে শুরু করে বন্ধু মহলে কানাঘুষা ছিলো নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার। এখানে আমার কোনো শত্রু ছিল না। বান্ধবী হিসেবে ভালোবেসে গ্রহণ করেছিলাম হ্যাপীকে, কিন্তু যদুর গুপ্তচর হিসেবে কাছে আসবে ভাবতেই পারিনি।
বন্ধুরা বলতো,অজানা অচেনা কাউকে ভালোবাসতে যাবি না। তাদের ধমকাতাম। হ্যাপীতো আমার কাছে অজানা-অচেনা নয়। আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি হ্যাপীকে ঘৃণা করার। বলেছি, যেদিন আমাকে প্রয়োজন হবে, চলে আসিস। আমার মনের দরজা তোর জন্য চিরদিন খোলা। সে হিংসুটে ছিল।
আমি ভগবান বা ইশ্বর নই। এতো কষ্ট আমার সহ্য হয়না। ইচ্ছে করেই আমার স্বপ্নগুলোকে ভেঙ্গে দিচ্ছিল হ্যাপী। আমাকে ছেড়ে যদুর হাত ধরা তার ভুল ছিল না। আমি যখন ঢাকায়, যদু তখন হবিগঞ্জে। আমাকে না পেয়ে যদুকে বিকল্প হিসেবে বেচেঁ নিয়েছিল।
হ্যাপীর ভরণ-পোষণের ভার নিতে চেয়েছিল রাম ও সাম। যদু, মাঝে মাঝে হ্যাপীর যাতায়াতের খরচ দিতো। সাম হ্যাপীর অন্যান্য চাওয়া পাওয়ার দিকে নজর দিতো। আমি ভাবতাম, প্রথম থেকেইতো হ্যাপী আমার ছিলোনা। এসব করে কি লাভ? নিজের প্রতি খুব বেশি আস্থা ছিল, ভালোবাসার তাজমহল গড়তে পারবো।
হ্যাপী আমাকে ছেড়ে, রাম, সাম, যদুকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছিল। বন্ধু হিসেবে সে পারপেক্ট ছিলো, প্রেমিকা হিসেবে নয়? সময়ের ভুলে বন্ধুত্বের বাঁধনও ভুলে গিয়েছিল।

(তিন)
আমাকে ছেড়ে আমারই বন্ধুর সাথে হ্যাপীর মেলামেশাতে আমার আপত্তি ছিলো। একদিন আমার এক বন্ধুকে নিয়ে যদুর বাড়িতে যেতে দেখেছি হ্যাপীকে, সাথে একটা মোটা মেয়েও ছিল।
ছি! হ্যাপী!
বিয়ের আগেই!
আমার স্বাধীনতায় হ্যাপী কোন সময় বাধাঁ দিতো না। কেবল আমার প্রতি তার অবহেলা আমাকে কাঁদাতো। তার প্রতি বরাবরই আমার ভালোবাসা ছিল, আছে, থাকবে। যতই সে নিষ্ঠুর হউক না কেন? আমি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। ভাবছি যখনই স্বাচ্ছন্দ্য আসবে, তখনই হ্যাপীকে আমার কাছে নিয়ে আসবো। আমার ভাগ্য, হ্যাপীর হীনমন্যতা, আমার কষ্ট, হ্যাপীর ধোঁকাবাজি, নিবুদ্ধিতা, আমার বোকামো, আমাকেই কষ্ট দিতো।
দিনের পর দিন, মাসের পর মাস হ্যাপীকে হারানোর ভয় বুকে পুষে রাখতে রাখতে এখন আমার অসহ্য লাগে। কোথায় যাই?
শুনেছি, মেয়েরা যাকে ভালোবাসে তার কাছ থেকেই সন্তান নিতে চায়!
অবাক হই!
হ্যাপীর মনেও কি এমন চিন্তা ছিল?
আমি যা দিতে পারেনি, যদু তাকে কি সেই জিনিসটিই দিতে চেয়েছিল?
হ্যাপী মিথ্যা কথা বলতো জানতাম। এতটা গুছিয়ে বলতে পারে কল্পনার বাইরে ছিল। ভালবাসাকে কখনো শারিরীক সর্ম্পকের সাথে তুলনা করলে চলে না। যারা এরকম করে তারা কোনদিনও বুঝতে পারে না, সত্যিকারের ভালবাসা কি?
প্রাণপন চেষ্টা করেছিলাম, ভালোবাসার আসল মানে কি হ্যাপীকে বুঝাতে? বুঝাতে চেয়েছিলাম,শরীর দিয়ে কখনো ভালবাসা হয় না, প্রমাণও করা যায় না।
সব মানুষই চায় মন-প্রাণ উজার করে তাদের মনের মানুষকে ভালোবাসতে। কেউই ভালোবাসায় কমতি রাখতে চায় না। সকলেই মনে করে,-সম্পর্ক ধরে রাখা এবং সুস্থ রাখার মূলমন্ত্র হচ্ছে অনেক বেশি ভালোবাসা। আসলে অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়। অতিরিক্ত ভালোবাসা সম্পর্ক সুস্থ রাখতে পারে না। উদাহরণসরূপ হ্যাপী আর আমার সর্ম্পকের কথা বলা যেতে পারে।
তার মতে,-আমি যাকে ভালবাসা বলি, সেটা নাকি ভালবাসা নয়। শারিরীক চাহিদা।
আমি শরীরী ভালোবাসা চাই না রে হ্যাপী। কারণ,-নিম্নগামী ভালোবাসা, নিম্নগামীই হয়ে থাকে।
আমি শুধু, প্রেমের মাধ্যমে নিজের অস্থিত্বকে খোঁজতে চাই। ভালোবাসা দিয়ে আমার মাঝে তোর অস্থিত্বকে, তোর মাঝে আমার অস্থিত্বকে অনুভব করতে চাই। আমি শুধু চাই, কেউ একজন আমাকে ভালোবাসুক!
শুনেছি,-কৃষ্ণ, রাধাকে ভালোবেসে ছিল। তার ভালবাসার প্রতিদান দিতে গিয়ে,-রাধা, স্বামীর সংসার ছাড়তেও দ্বিধা করেনি।
কিন্তু এ যুগের প্রেমিকা হ্যাপী! সে কি করলো?
আমার কাছে শরীরী চাহিদার চেয়ে মনের চাহিদাই বড় ছিল। আমার কাছে,-ভালবাসা হল, কারো প্রতি বিশ্বস্থ থাকা, কাউকে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করা, তার প্রতি মনটা ব্যাকুল হয়ে উঠা, তার ভাবনা জেগে থাকা, নিজের সুখটাকে তার মাঝেই বিলিয়ে দেয়া। এক কথায়, ভালবাসা হল, সারাটা জীবন সঙ্গীনির পাশে থাকা।
হ্যাপী যখনি যদুর সাথে একটু হেসে কথা বলত, ঈর্ষায় জ্বলে উঠতাম। যদু আমার সাবেক বন্ধু ছিলো। ইদানিং হ্যাপী তার সাথে প্রেম করছে। হ্যাপী যত শিক্ষিত হচ্ছে, যত সভ্য হচ্ছে, প্রেমের পুরোনো নিয়মগুলো আর মানছেনা! আমার প্রেম নাকি পুরোনো ছিলো। তাই আমার মন ভেঙ্গে দিয়ে নতুন করে প্রেমে পড়েছে সে। তার কাছে প্রেম আর প্রেম থাকছে না।
সে এখন আর রাস্তার পাশে, কলেজের মাঠে, পার্ক, রেস্তোরায় বসে প্রেম করে না। হ্যাপীর স্বভাব আর বিড়ালের স্বভাবের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই!

(চার)
বলা হয়ে থাকে প্রেম অন্ধ। প্রত্যেক নারী-পুরুষ সর্ম্পকে জড়িয়ে স্বপ্নের জাল বুনতে থাকেন একে অপরকে নিয়ে। কিন্তু কেউই বাস্তব জীবনের সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামান না। প্রেমিক মনে করেন, তিনি প্রেমিকার হাতে আকাশের চাঁদ তুলে দেবেন এবং প্রেমিকাকে তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ হিসেবে কল্পনা করতে থাকেন। হ্যাপীকে কতটুকু ভালোবাসতাম, তা পরিমাপ করে দেখাতে পারবো না। তাকে একদিন না দেখলে, আমার হৃদয় লিফট প্রায় বন্ধ হয়ে যেতো। বুকে হাঁপানির টান এসে যেতো।
ভালোবাসায় এত যন্ত্রণা, দুঃখ, কষ্ট, জানতাম না। হ্যাপীর প্রেম ফাঁদে পা দিয়ে বুঝলাম। সে বার-বার আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছে। তাকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেটা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবুও আমি সেই ছাই খুজেঁ দেখতে চেয়েছি, বুকের কোন কোণায়, আমার জন্য ভালবাসা লুকিয়ে রেখেছে হ্যাপী। কেন সে লুকিয়ে রাখা ভালোবাসাটাকে বাহিরে আনতে পারিনি।
আমি তাকে জিজ্ঞেস করি কেন সে এমন করে? এমন প্রশ্ন শুনে শ্রাবনের আকাশের মতো মুখ কালো করে সে?
আমি বুঝতেই পারিনা একটা মেয়ে এতোটা সহজে নতুন পুরুষের প্রতি কিভাবে আসক্ত হয়ে পড়ে। আমি এক বিন্দুও বুঝতে পারিনি হ্যাপী আমাকে নিয়ে মজা করছে। আমাকে বোকা বানিয়ে আনন্দ পাচ্ছে। অনেক কষ্ট হয় যখন তাকে ভোলার চেষ্টা করি।
দিন-রাত প্রতি মুহুর্তে নিজের সাথে অভিনয় করে যাওয়া, লুকোচুরি খেলা, কি যে কষ্টের তা হ্যাপী কোনোদিনও বুঝবেনা। কেন যে এমন করে হ্যাপী, আমি বুঝিনা। খুব বেশি হলে দুদিন কথা না বলে, ফোন না দিয়ে থাকতে পারবে জানতাম। কিন্তু এমন করবে, ভাবতেই পারিনি। যেখানে থাকিস ভালোবাসার হ্যাপী, তুই ভালো থাকিস।আমি ভালো থাকবো তকে ছাড়া।
আমার কথা সে শোনে না। আমি তাকে যেভাবে বুঝি, কেও তাকে সেভাবে বুঝেনা। ভাবতাম, আমার উপস্থিতি তার জীবনে খুব বেশি প্রয়োজন। তাই হয়তো এমন করে। এতদিন পর বুঝলাম সবই ছিল, ছলনা, মন ভোলানো বুলি। তাইতো আমাকে বাদ দিয়ে নিজের জীবনটা ভাবতে চেষ্টা করছে সে?
আচ্ছা মানুষ যাকে ভালবাসে সব ক্ষেত্রে তাকে কি পায়? কাউকে না পেলে কি ভালবাসা যায়না? বিয়ে হয়ে গেলে কি ভালোবাসা যায় না?
বিয়ে ঠিক হয়ে গেলেও কি, ভালোবাসাটাকে জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরনা হিসেবে নেয়া যায় না? কেন ভালবাসাটাকে শুধু ভালবাসার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে পারেনা হ্যাপী।
ভালবাসাটা কেন চাওয়া পাওয়ার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে তার কাছে ? শারিরীকভাবে কাউকে না পেলে কি মন থেকে তাকে মুছে ফেলা যায়? হ্যাপী কেন এত সেলফিশভাবে চিন্তা করে আমাকে নিয়ে? আমি আগেই তাকে কথা দিয়েছে, তার সুখের পথে আমি বাঁধা হব না।সন্দেহে ভরা তার মন।
প্রত্যেক মানুষের জীবনেই একটা সময় আসে, যে সময় চোখের জল ফেলতে হয়। আরো একটা সময় আসে, সে সময়টা আরো বেশী কঠিন হয়। যে সময় চোখের পানি লুকিয়ে হাঁসতে হয়।ভাগ্য দেবী, সময়ের দেবী আমার প্রতি সহায় নন। যদি হতেন, তবে আমার সাথে এমনটা হতো না।হয়তো এটাই আমার শেষ লেখা। হ্যাপীকে নিয়ে আর লেখা হবে না। আমার সাথে হওয়া সকল অবিচারের বিচার ইশ্বরের কাছে দিলাম। ইহকালে না পেলেও পরকালে পাবো বিশ্বাস করি।
আমার প্রতি হ্যাপীর অবহেলায় মনে প্রতিদিনই অদ্ভুত-অদ্ভুত ইচ্ছা জাগে। ইস! আমি যদি হ্যাপীকে ভালো না বেসে একটা পতিতা মেয়ে কে ভালবাসতাম। কতভাবেই না আমাকে ভালোবাসতো মেয়েটি! হ্যাপীর মত অন্তত ভালোবাসার অপমান করত না! কিন্তু নিয়তির ছকে আমি বাঁধা। ভদ্র ঘরের মেয়েই হোক, আর পতিতাই হোক, কারো সাথেই প্রেম করতে পারিনা!
আমার জীবনের গল্প শেষ হয় না।
রাত ক্রমেই ঘনিয়ে আসে। মনে হয়, হ্যাপী কাছে এসেও হারিয়ে যায় কিছু না বলে!
মেয়েদের শরীর আমার কাছে এখনো বিশাল রহস্য। ঢাকায় এসেও আমিই পারিনা, হ্যাপীকে ছাড়া বিকল্প কোনো স্থানে ভালোবাসার খোঁজ করতে। জীবন কতটা বিভীষিকাময়! এখন বুঝতে পারছি। ভাবি একদিন সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। সকল তিক্ততা ভুলে গিয়ে হ্যাপী সর্ম্পকে স্থিরতা আনবে। যেখানে থাকবেনা কোন দুঃখ-কষ্ট। যেখানে থাকবেনা কোনো রাগ, হিংসা, বিদ্বেষ। কামনা সেখানে সীমিত থাকবে, ভালবাসা থাকবে অফুরন্ত।
মন বড়ই অবুঝ জিনিষ। বাস্তবতা বুঝে না। বাস্তবতা গল্পের মত সোজা রাস্তায় চলে না। শুধু স্বপ্নই দেখে। হয়তো একেই নিয়তি বলে। যে নিয়তির হাতে অসহায় আমি এক বুক বেদনা নিয়ে সমাধানের প্রহর গুণি। আর বলি, ভালোবাসার হ্যাপী যেখানেই থাকিস ভালো থাকিস, আমি ভালো থাকবো তকে ছাড়া।

(বিঃ দ্রঃ-এই লেখাটি সম্পূর্ণ আমার জীবন কাহিনী অবলম্বণে লেখা। এর স্থান-কাল, চরিত্র সবকিছুই কাল্পনিক ও মনগড়া। যদি কারো জীবনের সাথে মিলে যায়, তা কাকতালীয় ছাড়া কিছুই নয়)

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন