বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৩১ জুলাই ১৯৮৭
গল্প/কবিতা: ৩২টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৭৮

বিচারক স্কোরঃ ২.৩৮ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.৪ / ৩.০

কিতাব

ভোর মে ২০১৩

পাঁচ চাঁদের এক গ্রহে

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নভেম্বর ২০১২

মানুষ হতে হতে

সরলতা অক্টোবর ২০১২

ভোর (মে ২০১৩)

মোট ভোট ৩২ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৭৮ কাঁচ গুড়ো যেন কালো ঝড়, চারপাশে ইটের বৃষ্টি...

খন্দকার নাহিদ হোসেন
comment ১৪  favorite ২  import_contacts ৬৩১
কাঁচ গুড়ো যেন কালো ঝড়, চারপাশে ইটের বৃষ্টি...একটা ব্যাংক...সেনাকল্যাণ ভবনের গার্মেন্টসগুলো...হঠাৎই মিছিলের সামনের বাসগুলো ঘুরতে না পেরে ব্রিজের উপর দিয়েই উল্টো দিকে যাচ্ছে একদম ঠিক সিনেমার মতো...নিচে তুরাগের কালো পানি...চারপাশে শাটার ফেলবার পরিচিত শব্দ, কে যেন কাউকে বলছে দৌড়া দৌড়া...লাল পতাকা...মিছিল...চিৎকার...ঠিক এমন এক মুহূর্তে আমার পরশের সাথে দেখা। বড় বড় চোখের জেদি টাইপের এক ছেলে। সেই কলেজ জীবনে পরিচয়। তারপর আর তেমন দেখা নেই। যোগাযোগও না...মাঝে মাঝে এই হঠাৎ দেখার হাই হ্যালোটুকু ছাড়া। অথচ আজ হুট করেই কেমন কাছের মানুষের মতো বলে বসলো-আচ্ছা, অপেক্ষা শব্দটাকে তোমার কেমন লাগে? কিছু না বলেই আশ্রয় নিলাম পলওয়েল নামের এক বাণিজ্য বিপণীতে। আগে মাথা তো বাঁচাই তারপর না হয় ভেবে দেখা যাবে কি মানে এই অপেক্ষা শব্দের...।

দু’জনের সামনেই কোমল পানীয়। পরশ ঝাঁঝটুকু গলায় ঢালতে ঢালতে বললো-যদি কখনো কাউকে ভালবাসতে তবে হয়তো উত্তরটা সহজেই দিতে পারতে! আমি কিছু না বলে মুখ কালো করে বোতলের গায়ের বিন্দু বিন্দু ঘামের নকশা দেখতে লাগলাম। ও হেসে ফেলে বললো-কাউকে ভালোবেসে কতো সহজে ভুলে যাওয়া যায় বলে তুমি ভাবো? এবার প্রশ্নটা আমার কাছে একটু সহজ লাগলো। আমি গলা শক্ত করেই বললাম-খুব বেশি হলে মাসখানেক...কে জানে সাত দিনও হতে পারে! কারণ আমি তো জানি টিভিতে এখনো লাশের সংখ্যা বাড়ছে। আমার ভাবনা বুঝতে পেরেই হয়তো পরশ চোখে চোখে রেখে বললো-সে তো সাধারণ মানুষের জন্য কিন্তু যাদের কাছের কেউ মারা গিয়েছে তারাও কি ভাবো বড় সহজেই সব ভুলে যাবে? আমরা তো আর কুকুর-বিড়াল নই যে সকালে তুমি একটা বাচ্চা মেরে ফেলে বিকেলেই যদি মা কুকুরকে কিছু খাবার দাও তো সে বাচ্চার শোক ভুলে গিয়ে তোমার দেওয়া খাবার চাটবে। নাকি মানুষের আবেগের মূল্য এর চেয়েও সস্তা? প্রশ্নটা কেমন যেন ধাক্কা মারলো বুকে। এখন যেন আমি ছয় বা দশ কিংবা এক জনম অপেক্ষার মানে বুঝতে পারছি! অথচ তারপরও মানুষের বড্ড তাড়াহুড়োই আপন। কেউ কারো হাত ছেড়ে অপেক্ষা করতে নারাজ...তার অন্য হাত চাই...কেউ পাঁচতলার জাগায় আটতলা বানিয়ে বসে...তার আরো টাকা চাই... আর শেষমেশ সবাই সুখি হতে চায় মৃত্যুর উপর দাঁড়িয়ে...দাঁড়িয়ে ভালোবাসার উপর! হ্যাঁ, বড় শক্ত এক যুক্তি আছে-সুখ চাওয়া তো আর অপরাধ নয়। সেই সাথে বিজ্ঞানও নাকি বলছে-আইন বাধা হয়না অর্থ উপার্জনে যদি একটু গুছিয়ে দুর্নীতি করা যায়। আজকাল প্রায়ই ভাবি-তবে কেন এ মানব জন্ম?

বিল মিটিয়ে দু’জন উঠছি...পরশ বললো-আচ্ছা নাহিদ, তুমি তো কবিতা লেখো...তো বলতে পারবে মানুষ কখন কাছের মানুষকে দেখে মুখ লুকায়? আমি হেসে ফেলেই বললাম-সাইকোলজি শুধু ফ্রয়েড সাহেবের একার সম্পত্তি নয় আর আমাদের সবারই নিজস্ব কিছু ভান থাকে-তো আমার ভানটা কি জানো? আমি বড্ড বোকা মানুষের ভান ধরি...তারপর নরম গলায় বললাম...পরশ, এতোদিন পরও কি ভালোবাসার দাবি থাকতে হয় আর তুমি কি চাওনা তোমার ভালোবাসার মানুষটা সুখী হোক? ও কেমন যেন একটু চমকে গেলো, তারপর বললো-তুমি হয়তো জানোই না ভালোবাসা আমাদের মৃত্যুতেও পিছু ছাড়ে না। সে তুমি যে জন্মেই পালাও-যেখানেই থাকো। আর আমায় কি তবে তুমি হেরে যেতে বলো? আমি হাত মিলাতে মিলাতে শুধু বললাম-এক জীবনে যত সুখীই তুমি হও...ভালোবাসার মানুষটা সুখী নয় জানলে দেখবে সে সুখটা ঠিকঠাক বুকে ধরে রাখতে পারছো না। কারণ মনটা অন্য কাউকে দিয়েছো বলেই তো এর নাম ভালোবাসা...নাকি? তারপরও দেখবে লোকে মনটা নিজের কাছে আছে ভেবে এক মন কত জনকেই না দেয়! আনমনেই ভাবি-ভালোবাসা শেষমেশ মেলে কি? হ্যাঁ, ভালোবাসার দাবিগুলো হয়তো বড্ড নাছোড়বান্দা তাই বলে ভালোবাসায় কিন্তু কোন সুখ-দুঃখের হারজিৎ নেই। ভালোবাসা সে তো শুধুই ভালোবাসা। তবে ভালোবেসে যদি পারো তো কাউকে হারিয়ে দিয়ো...তাতে দেখবে হঠাৎ ভালোবাসার মানুষের সামনে উল্টো ঘোরা কিংবা মুখ লুকাতে হবে না। কাছে যেয়েই হয়তো বলতে পারবে-মেয়ে কেমন আছো? পরশ যেতে যেতে শুধু বললো-হ্যাঁ, ফেসবুকে তোমার কবিতা আমি পড়েছি-
“পালিয়ে যাওয়া মানে আয়নায় শুধু অপরাধী মুখ......”
আমি এক বুক ঈর্ষা নিয়েই পরশের চলে যাওয়া দেখলাম। হঠাৎই মন চাইলো-না পাওয়ার আশা নিয়ে পরশের মতোই মানব জন্মে কোন এক মানবীকে ভালোবাসি। তারপর পথে যেতে যেতে কোন একদিন কাউকে জিগ্যেস করি-আচ্ছা অপেক্ষা শব্দটার মানে কি?

অফিসের জন্য পাক্কা দেড় ঘন্টা লেট। ভাবছি স্যারকে যেয়ে বলবো, মারফি সাহেবের সূত্র একদম ঠিক-“যেদিন দেরি করে বের হবে সেদিন আরো দেরি হয়ে যাবে-তুমি রিক্সাই পাবে না!” কে জানে কান্ট্রি ডিরেক্টর শ্রীলঙ্কান ভদ্রলোক তার কতোটা বুঝবে! পৃথিবীর বসবাস অযোগ্য শহরের মাঝে নাকি এক নম্বরে আছে-ঢাকা নামের ছোট্ট এক শহর। তো বন্ধুদের আগ্রহ নিয়েই বলি-ভাগ্যবান বলেই হয়তো আমরা পৃথিবীতে বসেই নরকের একটু হল্লা পেয়ে যাচ্ছি! অন্তত আগুন শব্দটার মানে কী জানতে পৃথিবী গ্রহের মানুষদের ঢাকা নামের এ শহরে যে আসতে হবে...এ ভাবনা কিন্তু যথার্থই! অথচ সুখী মানুষের দেশগুলোর মাঝে আমরা নাকি দশের মধ্যেই আছি। চোখ কপালে তুলেই ভাবি-মানে কী-এইসবের কী মানে? হ্যাঁ, পরিসংখ্যান বলছে এখনো এ দেশে ভালো মানুষের সংখ্যা বেশি আর পাঠকরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন-যে কোন চিন্তাতেই বিদায়বেলা আমি বড় আশাবাদী। কিন্তু বিদায় শব্দটার বেলায় কেন যে ভীষণ আনাড়ি হয়ে যাই বুঝি না। কিছুতেই না! কেমন যেন অগোছালো লাগে সব-যেভাবে করতে চাই ঠিক সেভাবে কিছু...কিছুতেই হয় না। আর দিন শেষে শুধু ভাবি-জীবন কি আর একটা সুযোগ আমায় দেবে? সেই ২০১১ সালে গল্প ছাপানোর জন্য নিজের সম্পর্কে দুই লাইনে কিছু লিখে সম্পাদক পাঠাতে বললেন। যতদূর মনে পড়ে আমি লিখেছিলাম-“জন্ম ফরিদপুর। কর্ম ঢাকায়। পথ চলা হাতে সুখ নামের এক গোলাপ নিয়ে। এক একদিন সে গোলাপের কাঁটা ছুয়েও ভাবি জীবনটা এতো মধুর কেন?” তো দু’রাত আগে প্রথম আবিষ্কার করলাম বিদায় শব্দটা এখন বড্ড সহজেই আমার হাতে রাখে হাত। সে সময় যা করতে চাই তা এখন ঠিকঠাক করতে পারি! আর দ্বিতীয় সুযোগের ঘাড়ে চড়েই বিষণ্ণ সুরে বুঝলাম-এ আমি বড় হয়ে গেছি! সেই সাথে ঝরেও গেলো আমার সুখ গোলাপের একমাত্র কাঁটা। এ কথা আজ পরশকে বলতে কেন যে ভুলে গেলাম সেটা ভেবেই কেমন যেন এখন একটু আফসোস হচ্ছে। যদিও কাঁটা ছাড়া গোলাপ দেখতে কেমন লাগবে সে ভাবনায় আমি কিঞ্চিত বিব্রত!

ফ্যাক্টরি ভিজিট করে ঘরে ফিরছি। আমার উল্টো দিকে এই শেষ বিকেলেও মানুষের ভিড়। সবাই সাভার যাচ্ছে। কেউ বিচার চাইতে, কেউ সাহায্য করতে, কারো মোহের নেত্রি আসছে...এর মাঝেও প্রিয়জন ফিরে পাবার আকুলতা নিয়ে যারা যাচ্ছে তাদের দেখেই কেমন করে জানি চিনতে পারছি। মুখে কোন রঙ মাখা থাকলে মানুষ টের পায় এ যাত্রা আশার...এ যাত্রা এক ভোরের...কে জানে...। আমি মানুষ থেকে চোখ সরিয়ে রাস্তার পাশে তাকালাম। যতদূর চোখ যায় ধানক্ষেত। হঠাৎ দেখায় মনে হয় মৃদু মৃদু ঝিমাচ্ছে এই সন্ধ্যার আলোয়। কিছু ক্ষেত কাটা হয়েছে আর কিছু কাটার অপেক্ষায় আছে। অথচ আর ক’দিন পরেই এখানে সমুদ্রের মতো ঢেউ উঠবে। লোকে বেড়িবাঁধে আসবে কাছের মানুষদের নিয়ে ঢেউ দেখতে...আসবে রঙিন করতে খুব কাছের একলা মুহূর্ত! এই যে বৈপরীত্য...মানব জীবনও কি ঠিক তাই নয়? হঠাৎই ঘরের প্রতি তীব্র এক টান অনুভব করলাম আর ভীষণ সুখেও এতোদিন যে কথাটা বলতে পারি নাই আজ দরজায় পা রেখেই কেন জানি তা মুখ থেকে বের হয়ে গেলো-
“Life is now perfect.”
তারপর থেকেই কেমন যেন লজ্জা লজ্জা করতে লাগলো। আর টিভিতে এখনো লাশের সংখ্যা বাড়ছেই......

*গল্পটা জানোয়ারদের জন্য লেখা হয়নি। আর আমার মনেও হয়না গল্পে তাদের কিছু যায় এসে যায়। তবে মৃত্যুর যাতনার কথা গল্পে আর একটু আনতে পারলাম না বলে আমি দুঃখিত। কিছু কিছু ব্যাপার সহ্য করার মতো ক্ষমতা সৃষ্টিকর্তা আমায় এখনো দেয়নি বলে আমি খুব লজ্জিত। তো সে ভার না হয় অন্য কারো জন্যই তোলা থাকলো। শেষমেশ সবার অনুভবে লেখাটা একটু ছুঁতে পারলেই ভেবে নেবো-এ কষ্ট স্বার্থক।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • তানি হক
    তানি হক গল্পের প্রতিটি লাইন ই অনেক গভীর ভাবে মনের গহিনে আঘাত হেনেছে ..নাহিদ ভাই .. ঝিম হয়ে বসে আছি কিছুক্ষণ ..সত্যি ..আমাদের জীবন ..আমাদের মরণ ..আমাদের হৃদয় ..আমদের সমাজ ..সব কিছুই এই মুহুর্তে ..ধোয়া ..ধোয়া ..অস্পস্ট .. বুজতে পারছিনা ..আদৌ কি নিজে কে ..বা এই জীবন...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ১৮ মে, ২০১৩
  • এশরার লতিফ
    এশরার লতিফ লেখকের দার্শনিকতাময় আত্মকথন আমাদেরকেও শোনানোর জন্য ধন্যবাদ।
    প্রত্যুত্তর . ১৮ মে, ২০১৩
  • এফ, আই , জুয়েল
    এফ, আই , জুয়েল # সুন্দর ভাবনা । বেশ গতিময় ।
    প্রত্যুত্তর . ১ জুন, ২০১৩