বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৪ মার্চ ১৯৮৮
গল্প/কবিতা: ১টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

২৮

মুক্তির চেতনা (মার্চ ২০১২)

মোট ভোট ২৮ ফিরে আসা অথবা চলে যাওয়া

Tahasin Ahmed
comment ১৩  favorite ০  import_contacts ৩৫৫
আজকেও জানালার পর্দা সরানো হয়নি। এভাবেই কেটে যাচ্ছে জীবন; ঠিক কবে থেকে তাও মনে নেই। সন্ধ্যা প্রায় হয়ে এলো, আমার বের হতে হবে এখনি। দীর্ঘদিন বেকার থাকার একটাই সমস্যা; মানুষকে এড়িয়ে চলা লাগে। বেকারজীবন আমাকে গ্রাস করছে প্রতিদিন। রাতে বের হই বাসা থেকে।
আজকে রাতের পরিকল্পনা কারওয়ান বাজারের দিকে কিছুক্ষণ মানুষের জীবনযাপনের চিত্র দেখা তারপর হোটেল আল ছালাদিয়াতে পরোটা খাওয়া।
হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়ল ছোট একটা মেয়েকে ফুটপাথের এককোণে বাচ্চা কোলে, পাশেই জ্বলছে কুপির আলো। আত্মমগ্ন বাচ্চা মেয়েটি বই পড়ছে। কাছে গিয়েই জানলাম ক্লাস ফোরে পড়ে সে, মা বাড়িতে কাজে গেলে তাঁকে আর ভাইটিকে রেখে যায়।
আমি আবার হাঁটতে থাকি রাতের ঢাকায়। ভালবাসাবঞ্চিত মানুষ আমি। বারবার ফিরে আসছে এই মেয়েটির সংগ্রামী মুখ। আমার আবার নতুন করে জীবনটাকে সাজাতে হবে যেখানে এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য কিছু করতে হবে।
আবার ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে সেই সংগ্রামী মেয়ের প্রতি স্নেহের টানে। ভালোবাসাকে জমিয়ে রাখতে নেই বাতাসের মত উড়িয়ে দিতে হয়। আমার হাঁটা এখন থেকে আর উদ্দেশ্যহীন নয়, রাতের ঢাকায় আমার কষ্ট এখন আর আমার মাঝে বন্দী নয়।
ফিরে এলাম আবার জানলাম মেয়েটার নাম রানী। বাবা বেঁচে নেই। ততক্ষণে রানীর মা চলে এসেছে । সামান্য খাবার কত আনন্দ নিয়ে খাচ্ছে ওরা।
আগামিকাল থেকে আমার ভালবাসিহীন জীবন আর হারতে পারবে না। কখনও না। ফিরে যাচ্ছি আমার গন্তব্যে , নতুন অনেক আশা আর স্বপ্নকে সাথে নিয়ে। এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আমাকে কাজ করতে হবে। অন্ধকারে আলো জ্বালাবে রানীর মত অনেকে সেই আশার আলো আমার মত অন্ধকারের স্বপ্নহারা মানুষ দেখতে শুরু করেছে। এখন কেবল বাস্তবায়নের কাজ। অনেক কাজ বাকি।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন