বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৭ জানুয়ারী ১৯৮৪
গল্প/কবিতা: ১টি

গল্প - প্রেম (ফেব্রুয়ারী ২০১৭)

আমি কেমন করে চাইব

পল্লব শাহরিয়ার
comment ০  favorite ০  import_contacts ৫১
কান্ডটা কেন ঘটছে জানি না। কিন্তু ঘটছে। আমার ঘরের দরজার আড়ালে লুকানো আছে যে আয়নাটা, তার সামনে আমি দাড়ালে কখনও কখনও ছায়া পড়ছে তোমার। আয়না থেকে তুমি সরাসরি তাকিয়ে থাকো আমার দিকে। এক-একবার এক-এক ছায়া-ভিন্ন-ভিন্ন তোমার চুলের বিন্যাস, তোমার পোশাকের বিচ্ছুরণ, তোমার স্টাইলিং, তোমার চোখ, তোমার ঠোঁট, তোমার গ্রীবার ভঙ্গি, তোমার হাসি, তোমার বিষন্নতা-ওই আয়নার ছায়া থেকেই এইসব কিছু কথা বলে আমার সঙ্গে। তোমার শব্দহীন সংলাপ বুঝতে এতটুকু হোঁচট নেই আমার। তোমার ছায়ার সঙ্গেই ক্রমে সাবলীল হয়ে উঠছি- তোমাকে কি ছায়াতে দেখতেই বেশি অভ্যস্ত নই আমি! তোমার ছায়ার মায়াতেই কি পড়ে নেই আমি কত বছর হল? সেই ছায়াসঙ্গিনীই কি আমার ‘আসল’ তুমি? কী অবাক কান্ড দেখ-ওই ছায়া তুমির মধ্যেই আমি পাই অনেক অলীক সম্ভবনা, যা তোমার প্রতি আমার প্রেমের ইন্ধন। তুমি হয়ে ওঠো আমার বাড়ি ফেরার সেই বাড়ি, যে বাড়ি প্রাত্যহিক গদ্যেও চেয়ে, চেনা উচ্চারণের চেয়ে অনেক সুন্দর! আমাদেও পরিচিত কোনও ঠিকানায় এত জানালা নেই ত, যত জানালা পাই আমি, তুমি নিজেই যখন হয়ে ওঠো আমার বাড়ি। তুমি যখন আমার বাড়ি- সে বাড়ির দরজাই দিগন্ত। ত, ক’দিন আগেই তুমি এসছিলে আমার আয়নায়। বসেছিলে আমার দিকে কিছুটা পিছন ফিরে। তোমার পিঠের ছায়াকে অনেকখানি মুক্তি দিয়েছিলে আবরণের ক্রান্তি থেকে। সেই ছায়াবাগানের দিকে তাকিয়ে আমার মনে এল কমলকুমার মজুমদারের একটি লাইন- পৃথিবীতে এখনও এত মায়া!
তেপান্তরের মাঠে সেদিন বৃষ্টি এল। আমি বসেছিলাম মাঠের পাশে ঝিলের ধারে ছাউনির তলায়। তুমি এলে রঙিন ছাতাটি মাথায় দিয়ে-বসলে এস আমার পাশে। আমার নীরব হৃদয়ে মৃদু সঞ্চারে এল রুমি-ও কবিতা যেই তাকালাম তেমার দিকে :Give me your mouth, Your grace
Is as beautiful as a sleep
তোমার ঠোঁট দাও আমার ঠোঁটে। তোমার লাবণ্য নিদ্রার মতো সুন্দর। বলতে চেয়েছিলাম আমি। বলিনি। বলিনি, তারও কারণ রুমি-ও প্রেমের কবিতা :You move against me like a wave
That moves in sleep.
Your body spreads across my brain
Like a bird-filled summer;
Not like a body, not like a separate thing,
But like a nimbus that hovers
Over every other thing in the world.
সেই মেয়ের কাছে আমি কেমন করে চাইব শুধুমাত্র তার ঠোঁট- যে মেয়ের শরীর, বিহঙ্গচকিত বসন্তকালের মতো বিছিয়ে আছে আমার সমস্ত চেতনায়? যে মেয়ের শরীর কিন্তু বিছিয়ে নেই শরীর হয়ে- সেই শরীর যেন এক রহস্যময় আলোকবৃত্তের মতো, ভুবনের প্রতিটি কণার ওপর ভ্রমরের মতো ঘুরছে। আমি কেমন করে সেই অনন্তিকার কাছে চাইব শুধুমাত্র দু’টি ঠোঁট?
তুমি সেদিন বললে, যে কথাটা এতদিন বলতে পারোনি আমাকে। তোমার মুখের খাাঁচাটিকে দিলে খুলে- রুমি-ও ভাষায়, আর কথাগুলো উড়ে এল আমার দিকে- ‘আমি তোমায় ভালবাসি না, কিন্তু ভালবাসি অন্য কাউকে, ঠিক যেভাবে তুমি ভালবাস আমাকে!’ এই কথাগুলো তোমার মুখ থেকে উড়ে এল। আমি বাবলাম রুমি-রই একটি কবিতার ছেঁড়া লাইন:No more questions now
As to what it is we’re doing here.
কেমন লেগেছিলো আমার তোমার এই কথাটি শুনতে? বলব না। বলতে পারব না বলেই বলব না। কষ্ট হয়েছিলো কি বুকের মধ্যে? মনে পড়ছে না। মনে পড়ছে তোমার পিঠ- আত্নার মতো সুন্দর, পবিত্র, অনন্ত- যেন হাজার হাজার দীপশিখা জ্বলছে দিগন্তের মতো ওই পিঠে।
ত, ধরো তুমি ভালোবাস এমন একজনকে- সেই একজন হতে পাওে পুরুষ, হতে পারে নারী- কিন্তু সে সমুদ্র! তুমি তো তারই কাছে নতজানু হয়ে বসবে ত। সেই সমুদ্র তার প্রাণের সমস্ত প্রাবাল্য-উৎসব নিয়ে তোমাকে টেনে নিয়ে যাবেই। প্রেমের সেই গৌরব শুধু সমুদ্রই পারে তোমাকে দিতে। রুমি বলেছেন, সমুদ্র যদি তার ভালোবাসা নিয়ে তোমার কাছে আসে, তুমি তাকে ‘না’ বলতে পারো না: When the ocean comes to you as a lover,
marry, at once, and quickly,
for god’s sake!
ভগবানের দোহাই, সমুদ্রকেই বিয়ে করো তুমি অবিলম্বে সেই সমুদ্র পুরুষ বা নারী, যেই হোক। আমার পক্ষে এইটুকু জানাই যথেষ্ট তুমি কাছেই তো আছ! I know you are close by’.
ত, আমি তোমার জীবনের কিছুই জানি না। প্রায় সবটুকুই আমার কাছে ছায়া। তোমার ছায়ারুপকেই তো ভালোবেসেছি আমি। ঠিক এইখানে রুমির একটি লাইন মনে এলো- When love itself comes to kiss you, don’t hold back.প্রেম যদি নিজে আসে তোমাকে চুমু খেতে কী এসে যায় প্রেম নারী না পুরুষ সরিয়ে নিও না মুখ। হঠাৎ কওে মনের মধ্যে একটি প্রশ্নও চলে এসেছিলো তোমার-আমার সর্ম্পক নিয়ে কে তুমি আমার? বন্ধু? সখা? প্রেমিকা? আজকে শুধু এইটুক জানাই, বন্ধুর অন্বেষ, বন্ধুত্ব পাওয়া, বন্ধুর সঙ্গে মিলন আর বিচ্ছেদেও স্বাদ, এইসব কিছুর প্রতিভাস ধরা পড়েছে জালালউদ্দিন রুমির কবিতায়। তুমি যে কখনও আমার বন্ধু, কখনও আমার সখা, কখনও বা প্রেমিকা, কখনও নিছক অন্তরতমাএসব বুঝতে পারি রুমি-ও সৌজন্যে
Love is the way messengers
from the mystery tell us things.
Love is the mother. We are her children,
she shines inside us, visible-invisible,
as we lost trust or feel it start to grow again.

রহস্যের দূতেরা জানায় তাদেও বার্তা প্রেমের পথে। অর্থাৎ প্রেমইে যেন রহস্যদূতের বার্তাবাহক যুগে-যুগে। প্রেমই আদি মাতা। আমরা প্রেমের সন্তান। কখনও অদৃশ্য, কখনও দৃশ্য, প্রেম আমাদের অন্তরের আলো। আমরা কখনও বিশ্বাস হারাই প্রেমে। কখনও অনুভব করি সেই বিশ্বাস আবার ফিরে আসছে।
Love is not condescension, nevar
That, nor books, nor any marking
On paper, nor what people say of each other.
Love is a tree with branches reaching into eternity
and roots set deep in eternity,
and no trunk!

ত, প্রেম দয়া নয়, করুনা নয়, নয প্রসন্ন হওয়া, ওপর থেকে নিচু হয়ে দেখা নয় অকিঞ্চনের প্রতি, কক্ষনো নয়। প্রেম গ্রন্থ থেকে আহৃত ধারণা নয়। প্রেম নয় কাগজের ওপর মননের চিহ্নÑনয় সাহিত্য, নয় কবিতা, নয় প্রেমপত্র! আমরা পরস্পরের বিষয়ে যা বলি তার মধ্যেও ধরা দেয় না প্রেম। প্রেম হল এক মহান বৃক্ষ, যার ডালপালাগুলো প্রসারিত হতে-হতে প্রবিষ্ট হয়েছে মহাকালে। প্রেম এমন এক বৃক্ষ যার শিকড় গভীর হতে-হতে পৌছেছে চিরন্তনতায়। অথচ প্রেম এমন এক বৃক্ষ যার কোনও কান্ড নেই। এই হল প্রেম সর্ম্পকে সুফি-দর্শনের নির্যাস, যা ধরা পড়েছে রুমি-ও কবিতায়। তুমি কি কখনও দেখেছ প্রেমের প্রসারিত রুপ? জন্ম-জন্মান্তওে কখনও অনুভব করেছ প্রেমের অন্তরসুরভি? ত, আমাদের মন প্রেমের সবটুকু কিছুতেই বুঝতে পারে না। আমাদের বাসনা কিছুতেই নাগাল পায় না প্রেমের।

Have you see it!
The mind cannot. You desiring cannot.
The longing you feel for this love comes from inside
you.
এমন প্রেমই কিন্তু যুগ-যুগান্তর ধরে আমরা চাইছে। প্রেমের জন্য সেই তীব্র ইচ্ছে উৎসারিত হচ্ছে আমাদেও ভিতর থেকে। তবু মন তাকে স্পর্শ করতে পারে না। তবু শরীর তার ভাষা বোঝে না। ত, আমি তোমার কাছে নতজানু হয়ে, ক্ষমাপ্রার্থী হয়ে, রুমি-ও একটি ছোট্ট লাইন বলতে পারি? তোমার তীব্র বাসনার কনাটুকু আমাকে দাও। আমিও যেন তোমারই মতো কোনওদিন ছুঁতে পারি প্রেমের অন্তর!
ত, রুমি-র কবিতায় হঠাৎ প্রেমের পাগলামি থেকে তীব্র রীরংসার বাঁধনছেড়া ওলোটপালোট-সব আছে। আছে নতি, সমর্পণ, বিষাদ। আছে কান্না এবং আনন্দ। আর আছে নিজেই প্রেম হয়ে ওঠার বার্তা। রুমি-ও কবিতা প্রসঙ্গে কোলম্যান বার্কস লিখেছেন ‘Fall in love in such a way that it frees you from any connecting. That’s very defferent from the lonely wail of: She left me: he left me: she came back: She left again.’প্রেমে পড়ো, কিন্তু সর্ম্পকে পোড়ো না। প্রেম তো আটকে থাকা নয়। প্রেম তো মুক্তি। প্রেমের মধ্যে যেন না থাকে সেই একঘেয়ে কান্না-সে চলে গিয়েছে, সে ফিওে এসেছে, সে আবার চলে গিয়েছে।

রুমি: দ্য বুক অফ লাভ : অনুবাদ কোলম্যান বার্কস



আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন