বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
গল্প/কবিতা: ১টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

গল্প - কি যেন একটা (জানুয়ারী ২০১৭)

জোছনাকুমারী

নীল হিমু
comment ০  favorite ০  import_contacts ৬০
রুম লক করে বসে আছি প্রায় ২০ মিনিট হতে চললো
হঠাৎ তানজিনা বলে উঠলো নিন টিস্যু দিয়ে নাকের ঘাম টা মুছুন,আমি চমকে ওর দিকে তাকালাম,দেখি ও মিটিমিটি হাসছে,প্রায় ২০ মিনিট ধরে ওর এই অসহ্য হাসিটা সহ্য করতে হচ্ছে,
আমি কি বলবো বুঝতে পারছিনা,কারণ একটু আগে ও সবার সামনে প্রায় চিৎকার করে বলে উঠলো আমি ওনার সাথে কিছু কথা বলতে চাই!
ওর কথা শুনে সবাই যতোটা না চমকালো,তার চে বেশি আমি চমকে উঠলাম,কারণ আমি চায়ে বিস্কুট চুবিয়ে খাওয়া টাইপ ছেলে,
মানে খুবই সাদামাটা আর বোকা টাইপ একটা ছেলে যে কিনা বাবা মার পছন্দ করা মেয়েকে দেখতে এসে চুপচাপ বসে আছি,
সবাই থেমে গিয়ে বললো আচ্ছা তোমরা পাশের রুমে গিয়ে কথা বলো
সেই থেকে দুজন রুমে বসে আছি,কেউ কোন কথা বলছিনা,
ঠিক সেই মূহুর্তেই তানজিনা হাসতে হাসতে টিস্যু বাড়িয়ে দিচ্ছে,
আমি ওর হাত থেকে টিস্যু নিয়ে
আমি যাই,আপনি আসুন বলেই উঠে দাঁড়ালাম,
ঠিক তখনই তানজিনা বলে উঠলো
এ্যাই যে মিস্টার হিমু!!
আপনি কি সত্তিই এতো বোকা নাকি বোকার ভান করে আছেন?
আমি আবারো চমকে ওর দিকে তাকালাম
কারণ আমার ফেসবুক আইডির নাম যে হিমু সেটা আমি ছাড়া আর কেউ জানেনা,না ফ্যামিলির কেউ না ফ্রেন্ড সার্কেলের কেউ,তাহলে এই বদ মেয়েটা সেই কথা জানলো কিভাবে!??
আমি আবার ওর সামনে বসে পড়লাম
ও বললো আজকে পূর্ণিমা, চলুন ছাদে গিয়ে আপনার মায়াঘোর টাইপ জোছনা দেখি!!
আমি ওর দিকে তাকিয়ে বললাম ছাদে যাবার দরকার নেই,
ও অবাক হয়ে বললো এটা কি হিমুর কথা!??যার জোছনা দেখার কথা শুনে অবাক হয়ে চাদেঁর দিকে তাকিয়ে চাঁদ কে প্রশ্ন করতাম আচ্ছা চাদঁ তুমি কি সত্তিই এতো সুন্দর!!
তোমার জোছনায় কি সত্তিই এতো মায়া আছে? আর এখন সেই হিমু বলছে জোছনা দেখতে ছাদে যাবেনা!! এটা কিভাবে সম্ভব??
আমি আবারো একবার চমকালাম মানুষ তার ছোট্ট জীবনে সাত বার ভীষণ ভাবে চমকে উঠে,আমি সেই সাত বার থেকে তিন বার অজকেই চমকালাম,
কারণ হিমু আইডিতে আমি যথেষ্ট গোপনীয়তা বজায় রেখে লিখালিখি করি,আর সেখানে জোছনা নিয়ে লিখতে অনেক বেশিই ভালোবাসি,
এই মেয়ে দেখি আমার প্রায় সব কিছুই জানে!
আমি ওর দিকে তাকিয়ে চোখে চোখ রেখে আস্তে করে বললাম
জোছনাকুমারী আমার সামনেই বসে আছে,যার স্নিগ্ধ আলোতে সব কিছু ভেসে যাচ্ছে,আর সে আলো আমি গায়ে মেখে নিচ্ছি
কথাটা বলার পর দেখলাম তানজিনা উঠে আসছে সে সোজা আমার কাছে এসে বললো
এ্যাই শোন বিয়ের আগেই আমার সাথে কোন ফ্লাটিং করবানা,
কথাটা বলেই আমার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লো!!
ঝিরঝির একটা শীতল বাতাস বয়ে চলেছে,পূর্ণিমার চাঁদের স্নিগ্ধ আলো এসে পরছে তানজিনার মুখে,চোখেরজল ওর গাল স্পর্শ করছে,
মনে হচ্ছে বাচ্চা একটা মেয়ে তার জীবনের সবচেয়ে বড় একটা প্রাপ্তি পেয়ে গেছে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন