বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৮ জুলাই ১৯৯৩
গল্প/কবিতা: ১টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

গল্প - কি যেন একটা (জানুয়ারী ২০১৭)

মোট ভোট "কি যেন একটা"

সাইদুর রহমান
comment ১  favorite ০  import_contacts ৬৫
রহিম আজ অনেকদিনের একটা চিঠি হাতে পেয়েছে, ডাক অফিসের রুমের ভিতরের গোডাউন ঘর থেকে। চিঠিটা অনেক বছর আগেই ডাক অফিসে চলে এসেছিল। কিন্তুু কারো অবহেলায় চিঠিটা আর প্রাপক এর কাছে না গিয়ে গোটা ৬ টি বছর একটি হলুদ ফাইলের ভিতর লুকিয়ে ছিল। আজ রুম পরিস্কার করতে গিয়ে ছয় বছর আগের দেওয়া চিঠিটা রহিম খুলে পড়তে আরাম্ভ শুরু করে দিলঃ-
.
..... প্রিয় বাবা, আমার ছালাম নিবেন, আমি জানি তুমি খুশি নেই। প্রতিটি পদে পদে তিলে তিলে তুমি আমাকে অভিশাপ দিতেছো, প্রতিটি মহূর্তে তুমি আমাকে অনেক স্বরন করতেছো। মাকে হারিয়ে আমি যখন মাকে কাছে পাওয়ার জন্য অনেক কান্না করতাম তখন তুমি অনেক অভিনয় করতে।
.
আকাশের চাদকে দেখিয়ে দিয়ে বলতে মা অনু ঐ আকাশের চাদটির বাড়ী গিয়েছে তোমার মা, সেখান থেকে তোমার জন্য একটি পুতুল একটি হাড়ি আর দুটি কলস নিয়ে আসবে, তুমি সেটা দিয়ে অনেক অনেক খেলা করবে। আমি চুপটি করে চাদের দিকে চেয়ে থাকতাম আর চেষ্টা করতাম চাদের গায়ে মাকে দেখা যায় কিনা।
:
তুমি নীরবে চোঁখের জল ফেলতে আর আমি তোমাকে বলতাম বাবা তুমি কাদছো কেন..??? তুমি উত্তর দিয়ে দিতে তোমার মা আকাশের চাদের গা থেকে আমার চোঁখে পানি ছিটিয়ে দিয়েছে, সেই কারনে আমার চোঁখে পানি, আমি সব সময় তোমার কথা বিশ্বাস করতাম।
.
যখন আমি একটু একটু বুঝতে শিখেছি তখন তুমি আমাকে কোন কাজেই করতে দাও নি, এমন কি রান্নাটাও করতে দাও নি, যখন রান্না করতে রান্না ঘরে যেতাম তখন তুমি বলতে অনু মা তোমার নরম হাতে রান্না করা ঠিক হবে না। কালি ধরবে হাতে, পুড়ে যাবে হাত সহ অনেক কথা বলে আমাকে রান্না করতে দিতে না।
.
........... আজ আমি বহুদুরে তোমায় থেকে বাবা, আমি তোমাকে না বলেই চলে এসেছি অপূর্বের কাছে। যখন এর সাথে আমার স্টেশনে প্রথম দেখা হয় তখন থেকে আমরা দুজনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলাম। তুমি আমাকে বলতে অপরিচিত একটা ছেলের সাথে সম্পর্ক তৈরী করে নিজেকে আর আমাকে কষ্টের সাগরে ভাসিয়ে দিলিরে মা। আমি কোন ভাবেই এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারবো না। আমি চাই তোকে আমার বাড়ীর কাছে একজন সুন্দর ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে মরার আগ পর্যন্ত তোর হাসি মাথা মুখ দেখে মরে যাবো বলে।
.
বাবা আমি তখনও তোমার সব কথা বিশ্বাস করতাম না, আমি ভেবেছিলাম হয়তো বা আমাকে শান্তনা দেওয়ার বন্য ছোট কালে মায়ের চাদের বাড়ী যাওয়ার গল্প এখনও আমাকে বলে থাকো, কিন্তুু আজ আমি তোমার মিথ্যার অনুভূতিগুলো সব হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।
:
বাবা আমাকে তুমি ক্ষমা করে দিও, আজ আমি নরকের আগুনে প্রতিনিয়ত জ্বলে যাচ্ছি। আমার সংসারে প্রতিনিয়ত ঝগড়া চলছে, আমি অপূর্বের ঘরে আজ পিষ্ট একজন মেয়ে, অপূর্বের একটা বউ ছিলো আমাকে সে জানায় নি, আমাকে ওরা সব সময় মারে, কান্না করতেও পারি না। শুধু নীরবে সহ্য করে যাচ্ছি বাবা। বাবা ওরা আমার গায়ে থেকে কাপড় খুলে নেয়, আমাকে ঠিকমত খাবার দেয় না, বাসার সব কাজ করে নেয়। আর সব সময় বলে তোর বাবাকে আমাদের কাছে নিয়ে আয়। কিন্তুু আমি উত্তর দিতে পারি না...... কারন তুমি বলেছিলে আমাকে ছেড়ে চলে গেলে আমার মুখ আর কখনও দেখতে পারবি না। আর দেখারও চেষ্টা করবি না। তাই সিন্ধান্ত নিয়েছি আমার আত্নহত্যার পথ ছাড়া আর কিছু করার নেই, আমি তোমাকে আমার শেষ অবস্থান বলে দিলাম চিঠির মাধ্যমে শুধু একটাই অনুরোধ আমার লাশটা নিয়ে যেয়ে তোমার কাছাকাছি কবর দিয়ে দিও
.
- ইতি তোমার আদরের
অনু
.
........... রহিম সাহেব চিঠিটা পড়ে আর সহ্য করতে পারলো না। মনের মধ্যে কড়া নাড়া দিল তার পাশের গ্রামের আলীর কথা। আলীর একটি মেয়ে ছিল, মেয়েটি জন্ম হওয়ার কিছুদিনের মধ্যে আলীর স্ত্রী মারা গিয়েছিল। নিজের মেয়েকে বড় করে গড়ে তোলার জন্য আলী আর পরবর্তী জীবনে বিয়ে পর্যন্ত করে নি। সব সময় আলী মেয়েকে বাবা ও মায়ের কোন রকম অভাব বোধ করতে দেয় নি। কখনও হয়েছিল অনুর মা আবার কখনও হয়েছে অনুর বাবা। তার অনু নামের মেয়েটা দেখতে দেখতে অনেক বড় হয়ে গেছে, সব কিছু বুঝতে শিখেছে, স্কুল জীবন থেকে আজ কলেজ জীবন এ পা দিয়েছে, সেই কারনে আলীও আজ অনেক সুখি।
.
আলী গ্রামের সবাইকে খুশির সংবাদ দিয়ে বেড়িয়েছিল আমার মত ভাগ্যবান আর গ্রামে কেউ নাই রে..... মা মরা মেয়েটা আজ অনেক বড় হয়ে গেছে। হতভাগী মেয়েটার যেদিন ভালো একটা চাকুরি নিয়ে দিয়ে বিয়ে দিয়ে পরলোক গমন করবো সেদিন আমার সব কিছু শান্তি পেয়ে যাবে।
:
.......... রহিম চিঠিটা খুলে পড়ে অনেক বেশি ভুল করে ফেলেছে, তার আজ অনেক বড় একটা দায়িত্ব হাতের মধ্যে চলে এসেছে। আলী ভাইকে খুজে বের করে চিঠিটার সব শব্দগুলো পড়ায়ে শুনাতে হবে যে ____ কিন্তুু আলী ভাইকে খুজে পাওয়া বড় মুশকিল। সে তো অনেক আগে একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে পাগল হয়ে গেছে। সব সময় শুধু অনু আর অনু ছাড়া কিছুই বুঝে না।
.
সেদিন তার সাথে দেখা হয়েছিল পাশের গ্রামে, দেখলাম চিৎকার করে ডাকতেছে "মা অনু তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যেতে পারলা..??? তুমি চলে এসো অনু" " ও অনু মা আমার " তার অনু অনু ডাকে পাড়ার অনেকেই অতিষ্ট ছিল...... তাই একদল ছেলে আলীকে ফুলের অনু হাতে দিয়ে বলতেছে ঐ পাগল এই নে তোর অনুকে।
.
আলী তখন ফুলের অনুটি হাতে নিয়ে আরো জোড়ে জোড়ে চিৎকার করে বলতেছে..... " আমার অনুও এমন নিস্পাপ ফুলে অনুর মতই ছিলো " " নিষ্পাপ ছিলো" বলতে বলতে মাঠিতে লুটিয়ে পড়েলো।
.
কিন্তুু আজ আলীকে কোথায় পাই, আলী হয়তো টিঠিটা পড়ে না হলেও মেয়ের কবর টা একবার দেখে এসে একটু শান্তি অনুভব করতে পারবে। যাই আগে হতভাগা আলীকে খুজে বের করে নিয়ে আসি।
:
আলীকে খুজতে বের হলো, অনেক খোজার পর একটি জায়গায় অনেক লোক দেখতে পেল, রহিম লোকের ভিরের মধ্যে চলে গিয়ে দেখলো একটা লোক মাঠিতে পড়ে আছে, লোকটির মাথা থেকে এখনও তরতাজা রক্ত বের হচ্ছে। সবাই বলাবলি করতেছে যে লোকটা অনেক ভালো ছিলো রে.... কিন্তুু একটা বেয়াদব মেয়েকে জন্ম দিয়ে আজ লোকটার দুর্গতি এমন হয়ে গেল।
.
পাশে থেকে একজন বলে উঠলো আমি সব দেখেছি মেয়ে অনুর বাড়ী খুজতে যাওয়ার কথা বলতে বলতে একটা গাড়ীতে উঠতে চেয়েছিল, গাড়ীর হেলপার পাগল বলে ধাক্কা দেওয়ায় পড়ে যায়, তার পর পিছন থেকে একটি বাস এসে পিষ্ট করে যায় অনু পাগলাকে। লাশ দেখে আর বা কি লাভ দাফন কাফনের ব্যবস্হা করো, তার তো কেউ নেই সবাই মিলে দাফন করতে হবে।
:
......... রহিম সাহেব আস্তে করে চিঠিটা পকেটে গুজে দিয়ে দু ফোঁটা অশ্রু ফেলে সেখান থেকে অনেক দুরে আড়াল হয়ে গেল।।
.
আজ আমার "কি যেন একটা" বুকের মধ্য দিয়ে ধুক করে চলে গেল।।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • কাজী জাহাঙ্গীর
    কাজী জাহাঙ্গীর বেশ ভালো লিখেছেন, কিছু বানান এদিক ওদিক আছে এই যা। গল্প কবিতায় স্বাগতম। আপনার লেখার হাত ভাল আছে, তবে আর একটু পড়তে হবে ভাই। অন্য লেখকদের পাতায় এসে গল্পগুলো পড়লে অনেক সমৃদ্ধ হবেন আর লেখকদের সাথে মতামত বিনিময়ও কাজে আসবে। আপনার জন্য অনেক শুভকামনা, ভোট আর আমার ...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ৮ জানুয়ারী, ২০১৭