বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৮ মে ১৯৮৫
গল্প/কবিতা: ২৯টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

৩১

পথে পথে হিমু পরিবহণ

ভালবাসি তোমায় ফেব্রুয়ারী ২০১৪

শুধু একা ভাবি তুমি কেমন আছ

ভালবাসি তোমায় ফেব্রুয়ারী ২০১৪

নিঃশব্দচারিনীর মুখ

ক্ষোভ জানুয়ারী ২০১৪

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী (নভেম্বর ২০১২)

মোট ভোট ৩১ দানব সাইবর্গ

জাজাফী
comment ১৬  favorite ০  import_contacts ৬৩৯
দানব সাইবর্গ
(১ অক্টোবর ২০০৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী)
নুহাকের মাথার কপোট্রনটা ঠিক করতে করতে রুহান মুখে এক রাশ হাসি টেনে বললো শুভ জন্মদিন নুহাক। আজ তোমার জন্ম দিনে আমার অভিবাদন গ্রহণ কর। নুহাক অবাক হলো। আজকে তার জন্ম দিন সেটা তার একদমই খেয়াল নেই। এই নিয়ে পর পর পাঁচবার সে তার জন্ম দিনের কথা ভুলে গেছে। সে আশ্চর্য হয়ে ভাবল কিভাবে দেখতে দেখতে তার বয়স তিন হাজার চারশো বছর পার হয়ে গেল তা সে টেরই পায়নি। আলবার্ট আইনস্টাইন তার বিখ্যাত সমীকরণ E=McP2 প্রমান করার জন্য তার সহযোগিতার প্রয়োজনে তাকে তৈরি করেছিলেন। গাড়ি এক্সিডেন্টে মারা যাওয়া এরিকের বডিটাকে কাজে লাগিয়েছিলেন। এই এরিক ছিলো আইনস্টাইনের বাল্য শত্রু। তারপরও তিনি তার মৃত দেহটাকেই সাইবর্গ তৈরিতে ব্যবহার করেছিলেন। শুধু তাই নয় তিনি নুহাক নামক সাইবর্গের মস্তিষ্কে ট্রাকিওশান করে নিজের মেমরির একটা অংশ প্রোগ্রাম আকারে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। যাতে করে সাইবর্গটি তার অনুভূতি পুরোপুরি বুঝতে পারে। এতে করে তার কাজে অনেক সুবিধা হবে। সেই অনুভূতি শক্তি পেয়েই সাইবর্গটি আজ এই পর্যায়ে পৌছেছে। নুহাক পৃথিবীর প্রথম সাইবর্গ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলো বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের গবেষণাগারে। আর সেটাই ছিল আইনস্টাইনের সবচেয়ে বড় ভুল। যদিও ব্যাপারটি আইনস্টাইন জীবিত থাকতে ধরতে পারেননি। তার মৃত্যুর অনেক বছর পর বিখ্যাত সায়েন্টিস্ট স্টিফেন হকিং ব্যাপারটি ধরে ফেললেন। পৃথিবীর প্রথম সাইবর্গ নুহাকের কপোট্রনে আইনস্টাইনের ব্রেনের একাংশ প্রোগ্রাম আকারে সক্রিয় থাকায় সে হয়ে ওঠে অসাধারণ ক্ষমতার অধিকারী। কিছু দিনের মধ্যেই সে মানুষকে হিপনোটাইজ করার কৌশল আয়ত্ত করে। আর এরই কারণে ৬ আগস্ট হিরোশিমাতে এবং ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে লিটল বয় ও ফ্যাটম্যান নামক দুটি পারমাণবিক বোমা ফাটানো হয়। যা ডেকে আনে চরম ধ্বংস। এসব দেখে নুহাক মনের আনন্দে হাসে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নুহাক আল কায়দাকে বশীভূত করে টুইন টাওয়ারে হামলা চালায়। সে হয়ে ওঠে এক দানব সাইবর্গ। ২০০৫ সালে স্টিফেন হকিং সহ নাসার বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যায়। এর পর বিজ্ঞানীরা নুহাক নামক এই দানব সাইবর্গটিকে শেষ করে দেওয়ার অভিযান চালায়। নুহাক সেটা আগেই টের পেয়ে যায় এবং আফগানিস্তানের তোরাবোরা পাহাড়ের দুর্গম অঞ্চলে লুকিয়ে পড়ে। সেই থেকে সে পৃথিবী বাসীর উপর চরম অত্যাচার শুরু করে। পৃথিবীকে সে করায়ত্ত করার জন্য পৃথিবীর কর্তৃত্ব দখলের জন্য নানা প্রচেষ্টা চালায়। নিজে নিজে সুপার কম্পিউটার বিটা সিক্সিটিন তৈরি করে। একে একে তৈরি করে সপ্তম মাত্রার কয়েক হাজার রোবট। যারা সব কিছু করতে পারদর্শী। তারা বিভিন্ন সময় পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে নানা অঘটন ঘটিয়ে এক সময় পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ছয় হাজার একুশ সালের ১৭ মার্চ। নুহাক নামক সাইবর্গটি তার জন্ম দিনের কথা ভুলে গেছে। তাকে পরাস্ত করতে পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা দিন রাত গবেষণা করে যাচ্ছে। সেই দানব সাইবর্গ পরপর পাঁচ বার তার জন্ম দিনের কথা ভুলে গেছে এটা অকল্পনীয়। রুহান নামক সপ্তম মাত্রার রোবট তার এই ভুলে বিস্মিত হয়েছে। সে এখন প্রায়ই তার সৈনিক রোবটদের ভুল নির্দেশ দিচ্ছে। ড.ফাহিম তার গবেষণাগারে বসে এই ব্যাপারটি অনুভব করেছেন। আর বিড়বিড় করে বলছেন দানব সাইবর্গ নুহাক এবার তোমার ইতিহাস আমি সমাপ্ত করবো। ড.ফাহিম হনুলুলু থেকে এগারটি লম্বা লেজ ওয়ালা বানর এনে দীর্ঘ দুই বছর ধরে সবার অজান্তে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। ড.ফাহিমের শক্ত হাতিয়ার এখন এই লেজ লম্বা বানর গুলি। তিনি বানর গুলিকে দানব সাইবর্গের বিরুদ্ধে কাজে লাগিয়ে দিলেন। লম্বা লেজ ওয়ালা বানর গুলি আস্তে আস্তে করে নুহাক ও তার রোবট বাহিনীর আস্তানায় পৌছে গেল। নুহাক উন্নত মানের সাইবর্গ হলেও ব্যাপারটা ধরতে পারলোনা। কিন্তু বানর গুলি পরিকল্পনা মাফিক ক্রমান্বয়ে রোবট গুলির মস্তিষ্কে ট্রাকিওশান করে একটি করে মেটালিক ইনকুলেটর লাগিয়ে দিলো। ফলে রোবট গুলি তাদের কার্যকারিতা দিন দিন হারিয়ে ফেললো এবং এক সময় তারা শুধু ধাতব দেহে অষাঢ় হয়ে পড়ে থাকলো। নুহাক নামক দানব সাইবর্গ বুঝতে পারলো তার বিপদ ঘনিয়ে আসছে এবং এর জন্য যে লম্বা লেজ ওয়ালা বানর গুলিই দায়ী তা বুঝতে পেরে বানর গুলিকে বন্দি করে ফেললো। কিন্তু বানর গুলি ছিলো প্রশিক্ষিত তাই তারা সাথে করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অথচ ভীষণ শক্তিশালী বেনাফেটিনাম বোমা নিয়ে গিয়েছিলো। তারা এক যোগে নুহাক নামক দানব সাইবর্গটিকে লক্ষ্য করে বোমা গুলি ছুড়ে মারলো। সাথে সাথে বিকট আওয়াজে গোটা অঞ্চল প্রকম্পিত হল এবং আগুনের শিখা উঠলো ঊর্ধ্ব আকাশে। হনুলুলু থেকে আনা বানর গুলি সেই বোমার আঘাতেই মারা পড়লো। ড.ফাহিম ভেবেছিলেন নুহাক নামক দানবটি এরই মাঝে শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু দেখা গেল সে দিব্যি ভালো ভাবেই আগুনের হল্কার ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছে। সামরিক বাহিনী গোটা এলাকাকে ঘিরে ফেললো। যেন কোন ভাবেই সাইবর্গটি পালিয়ে যেতে না পারে। মর্টার ,কামান সহ ভারি ভারি অস্ত্র এনে সাইবর্গটির দিকে তাক করে রাখা হল। কিন্তু কোন গোলা বারুদেই সাইবর্গটির কোন ক্ষতি হলোনা। তার দিকে যে গোলা ছুড়ে মারা হচ্ছিলো সে সেগুলির সামনে হাত দিতেই সব তুলোর মত উড়ে যাচ্ছিলো। ব্যাপারটা নাসার বিজ্ঞানীরা ধরতে পারছিলোনা। বিজ্ঞান একাডেমীর মহাপরিচালক ড. লিবিওরা নির্দেশ দিলেন যে করেই হোক দানব সাইবর্গটিকে থামাতেই হবে। তার হাত থেকে এই পৃথিবীকে বাঁচাতেই হবে। সুতরাং আরও অস্ত্র গোলাবারুদ আনা হলো। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছিলোনা। ড.ফাহিমের ছোট ভাই এগার বছর বয়স্ক জাহিন পেট্্েরানাস টুইন টাওয়ারের ৯৮ নম্বর ফ্লোরে বসে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মানুষ আর সাইবর্গের এই যুদ্ধের সরাসরি সমপ্রচার দেখছিলো। পাশাপাশি ইন্টারনেটে আইনস্টাইনের বিভিন্ন বিষয় ঘেটে দেখছিলো। তার কাছে একটা ব্যাপার খুবই খটকা লাগলো আর তা হলো সাইবর্গটির বাম কানের নিচেয় একটা হলুদ বাতি জ্বলছে আর নিভছে। নুহাক মাঝে মাঝেই সেখানে একটি কালো পাথর ছোয়াচ্ছে। অর্থাৎ ওটাই নুহাক নামক দানব সাইবর্গটির শক্তির উৎস হতে পারে। কথাটা জাহিন তার বিজ্ঞানী ভাইকে জানাবে বলে ভাবছে এমন সময় কম্পিউটারের পদর্ায় দেখলো আইনস্টাইনের পুরোনো ডাইরীটার পাতা খুলে আছে। ছোট্ট জাহিনের মনে হলো এই ডায়রিতে কিছু লেখা থাকলেও থাকতে পারে। তাই সে একে একে পাতা উল্টাতে লাগলো। এক সময় একটি পাতায় তার চোখ আটকে গেল। আইনস্টাইন সেখানে লিখেছেন "যদি কখনো আমার তৈরী সাইবর্গ নুহাক বিগড়ে যায় তবে তার বাম কানের নিচের নিবুলাইকলাসটি খুলে দিলেই সে নিস্তেজ হয়ে পড়বে। এ কথা পড়ার সাথে সাথেই জাহিন তার ভাই ড.ফাহিমকে ফোনে জানালো। ড.ফাহিমও দেরী না করে বিজ্ঞান একাডেমীর মহামান্য মহা পরিচালককে ফোনে ব্যাপারটি জানালেন। মহাপরিচালক তখন নিজেও ব্যাপারটি বুঝতে পারলেন। এরই মধ্যে নুহাক নামক দানব সাইবর্গটি পাল্টা আক্রমন করতে শুরু করেছে। ধ্বংস করে দিয়েছে কয়েক প্লাটুন সৈন্য এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ। নুহাকের একটা দুর্বল দিক হলো সে মানুষের মত ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনের বা পাশের কোন কিছু দেখতে পারেনা। কিছু দেখতে হলে পুরো বডিটাকে সেদিকে ঘুরিয়ে নিয়ে তবেই দেখতে হয়। এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে কিছু একটা করতে হবে। বিজ্ঞান একাডেমীর মাহাপরিচালক সামরিক সচিবকে আক্রমন থামাতে নির্দেশ দিলেন। তিনি নির্দেশ দিলেন সাইবর্গটির বাম কানের নিচের নিবুলাইকলাস নামক ঐ ক্ষুদ্র যন্ত্রটি খুলে ফেল। কিন্তু কেউ ঝুকি নিয়ে কাছে যেতে রাজি হলোনা। অথচ কাউকে না কাউকে ঝুকি নিতেই হবে। তা না হলে পৃথিবীটাকে এই ভয়ংকর দানবের হাত থেকে বাঁচানো যাবেনা। ঝুকিটা নিলো পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারের আটানব্বই নাম্বার ফ্লোরে অবস্থানরত এগার বছরের ছোট্ট ছেলে জাহিন। স্পেস সু্যটটা পরে মাথায় হেলমেট চাপিয়ে ভাইয়ের গবেষনাগারে তৈরী দ্রুতগামী যান বিজুবান পিটারিওতে চেপে বসলো। ঘন্টায় যানটির গতিবেগ ছিলো ৮৯ হাজার মাইল। এক আসন বিশিষ্ট দ্রুতগামী যানটি কয়েক মিনিটের মধ্যেই আফগানস্তানের সেই স্থানে যেখানে মানুষ এবং সাইবর্গের এক আমরন যুদ্ধ লেগেছে সেখানে উপস্থিত হলো। মাত্র ১০ মিটার দুরে তার যানটি থামিয়ে মাটিতে নেমে পড়লো। বিজ্ঞানীরা দেখলো দানব সাইবর্গের পাশেই ছোট্ট একজন মানুষ অথবা অন্য কোন প্রানী নেমেছে। জাহিনের হাতে কারাকিবাস ইলেক্ট্রিক্যাল গ্লাভস পরা ছিলো। নুহাক তার উপস্থিতি টের পায়নি। কারণ ঐ সময় তার সেন্সরটি অফ ছিলো। ফলে জাহিনের উপস্থিতি তার মস্তিস্কে কোন কিছুতেই সতর্ক সংকেত পাঠাতে পারেনি। ব্যাপারটা জাহিনের জন্য সুবিধের হলো। দ্রুত হাইপার জাম্প দেওয়ার মত করে সে এক মিনিটেরও কম সময় নিয়ে নুহাকের কাঁধে চেপে বসলো। এবং হ্যাচকা টানে নিবুলাইকলাসটি খুলে ফেললো। সাথে সাথে নুহাক নামক অসম্ভব ক্ষমতাধর সাইবর্গটি গগণ বিদারী চিৎকার করে মাটিতে আছড়ে পড়লো। ততক্ষনে ছোট্ট জাহিন লাফিয়ে অনেক খানি সরে গেছে। মাত্র তেত্রিশ সেকেন্ডের ব্যাবধানে নুহাক নামক শক্তিধর সাইবর্গটি একেবারে নিস্তেজ হয়ে গেল। জাহিন তখন হেলমেট খুলে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছোট্ট একটি হাই তুললো। তখন সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে। আকাশে একটি মাত্র তারা ধীরে ধীরে পৃথিবীর আরও নিকটে এসে তার আলো ছড়িয়ে দিলো। বিজ্ঞানীরা দেখলেন সেই তারকার মধ্যে আইনস্টাইনের হাসি ভরা মুখ ভেসে উঠেছে। সেই মুখে অন্যরকম তৃপ্তির হাসি জড়ানো। তার হাসিটা সমগ্র মানুষের জন্য । বিশেষ করে এগারো বছরের ছোট্ট জাহিনের জন্য। আর একুশ হাজার মাইল দুরে বসে আরও একজন খুশিতে আত্মহারা তিনি হলেন জাহিনের বড় ভাই বিজ্ঞানী ড.ফাহিম। যিনি সাইবর্গটিকে প্রথম আঘাত হেনেছিলেন তার বানর বাহিনী দিয়ে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • মিলন  বনিক
    মিলন বনিক খুব সুন্দর আর ভালোলাগার মত কাহিনী...অনেক অনেক শুভেচ্ছা.....
    প্রত্যুত্তর . ১৮ নভেম্বর, ২০১২
  • আহমেদ সাবের
    আহমেদ সাবের "আর এরই কারণে ৬ আগস্ট হিরোশিমাতে এবং ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে লিটল বয় ও ফ্যাটম্যান নামক দুটি পারমাণবিক বোমা ফাটানো হয়। " এবং "২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নুহাক আল কায়দাকে বশীভূত করে টুইন টাওয়ারে হামলা চালায়।" - বাস্তব পটভূমিতে সাইবর্গ নুহা...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ২৪ নভেম্বর, ২০১২
  • ঐশী
    ঐশী ভাইয়া খুবই ভাল লিখেছেন ; তবে প্যারা থাকলে হয়ত বিন্যাসটা আরও বেশি ভাল হতো ! শুভ কামনা ।
    প্রত্যুত্তর . ২৮ নভেম্বর, ২০১২