বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৬ নভেম্বর ১৯৯৫
গল্প/কবিতা: ১৬টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

স্বপ্নে আসা সেই মেয়েটি

আমার স্বপ্ন ডিসেম্বর ২০১৬

প্রতীক্ষিত ভালোবাসা

আমার আমি অক্টোবর ২০১৬

দ্বিধাপূর্ণ দৃষ্টি

ঘৃণা সেপ্টেম্বর ২০১৬

গল্প - ঘৃণা (সেপ্টেম্বর ২০১৬)

মোট ভোট মিষ্টি মিষ্টি স্বপ্নের ঘৃণ্য পরিণতি

ফাহিম আজমল রেম
comment ২  favorite ০  import_contacts ১৩২
অনেক আক্ষেপ আর জমাট বাধা কান্নার পর জমতে থাকে সেই পুরনো প্রিয় মানুষটির উপর চরম ঘৃণা।কিন্ত কারণগুলো থাকে অনেকের কাছে অজানা।থাক রহস্যজট খুলে দিতে চাই আজ পাঠকের কাছে।
নওশিন নামের এক পাগলী মেয়েকে মন থেকে বেসেছিলাম তখন ভালো।সে অনলাইনের জগতে যেন রাজপরীর মত ঘুরে বেড়াত।আর তার শত অভিযোগ, আবদার শুনার দায়ভার পড়ত এই পাগল প্রেমিকের উপর।কোন দিন দেখা হয়নি আমাদের।তবুও মন আর হৃদয়ের টান আমাদের মাঝের দূরত্বটুকু যে বুঝতেই দেয়নি।মনে হত দিনের নির্দিষ্ট একটা সময় তাকে অনুভবে হারিয়ে যেতে হাজারো কথার রাজ্যে।আর সেও যে নাছোড়বান্দা।ছাড়তেই চায়না আমায়।কথার উপর কথার ক্ষীর ঢেলে সাজিয়ে এই রেলগাড়ি চলতে থাকতো মধ্যরাত অব্দি।টেরই পেতাম না আমরা যে কত নিঝুম রাত হয়ে গেল।ঢুলু ঢুলু চোখেও মেসেজ বাটন টিপেছি মনের আনন্দ আর পাগলামিকে প্রশ্রয় দিতে।এটা সত্য যে বিবেক খাটিয়ে কখনো প্রেম মহব্বত করা যায়না।এভাবে চলছিল আমাদের দিনকাল।নওশিন এর কোন সমস্যা হলেই সে নক দিত আমায়,আর অপরপাশ থেকে আমি মুহূর্তের মাঝে সেটার সমাধান করার চেষ্টা করতাম।কখনো সফল হতাম আবার কখনো বা পারতাম না।সে আমার কাজের প্রশংসা করত লাইক ইমো দিয়ে বা thanks বলে মাঝে মাঝে।কখনো কখনো আমরা এমনই কথার ঘোরে পড়ে যেতাম যে ওয়াশরুমে গেলেও থামতনা কথার গাড়ি।বলতে বলতে একদিন তাকে মজা করে ভালোবাসি বলে ফেলেছিলাম।যদিও সে সেটা পাত্তা দেয়নি।কিন্তু মন সেদিন কিভাবে যেন ঘন্টা বাজিয়ে দিয়েছিল।
যাহোক এত উত্তেজনা আর আনন্দ বেশিদিন সইলনা আমার।শীঘ্রও সেটা চরম অবসাদ ও একাকীত্বে রূপ নিতে লাগল।নওশিন ক্যারিয়ার নিয়ে অনেক সচেতন হতে লাগল ও তার নিজের বিয়ের জন্য উঠেপড়ে পাত্র বাছতে লাগল।আর পার্শ্বদৃশ্যে আমার বন্ধুত্ব ক্রমশ বিলীন হতে শুরু করল তার জীবন থেকে।আমাকে একদিন হঠাৎ সে বলল, 'আমার হাত ধরে হাটবি ফাহিম!'আমি বললাম নওশিনকে, 'দোস্ত সীমালংঘনে টানছেনা মন।আর তুই তো দেখা করবি করবি বলে এতদিন কাটিয়ে দিলি।তোর কোন পাত্তাই তো নাই।খালি এড়িয়ে যাস এসব কথা।'এটা শুনে মেয়েটি বলল যে তার বিয়েতে নাকি নিমন্ত্রণ করবে আমায়।এটা বলে এক মুহূর্তের মাঝে আগন্তুক বানিয়ে দিল সে আমায়।যার সাথে রাতের পর রাত, দুপুরের পর দুপুর, সুখ দুঃখের নানা হিসাব নিকাশ নিয়ে কত খুনশুটি,মিষ্টি ঝগড়া করার পরেও কখনো মনে হয়নি সে আমায় ছেড়ে যাবে বাস্তবতার কঠিন জালে আটকা পড়ে।কিন্তু সে আশঙ্কা সত্যি হতে হলনা দেরী।আস্তে আস্তে মিলিয়ে যেতে লাগল নওশিনীয় মায়ার বাধনের ছাপ। আর তার জায়গা নিল চরম ঘৃণা,দ্বিধাদ্বন্দ আর ক্ষোভ।কারণ নওশিন আমাকে এড়িয়ে চলছিল খুব খারাপ অজুহাত দেখিয়ে,আমার যোগ্যতা কে প্রশ্নবানে বিদ্ধ করে দিনদিন মজা বা ক্ষেপাবার নামে আমার আত্মসম্মানে কুঠারাঘাগ করছিল সে।তার উপর একদিন আমাকে বলল সে যে তার নাকি নামকরা ইন্জিনিয়ার যাদের ভাল জব আছে তাদের প্রোফাইল চাই।সে নাকি ঘেটে ঘুটে এদের মাঝে একটা কে জীবনসঙ্গী বানাতে চায়।হয়ত প্রথমে বয়ফ্রেন্ড হিসেবে এদের কাউকে পটাতে চাইবে সে।আরো শেষ না,এই হিজাব পড়া সংরক্ষণশীল মেয়েটি মিডিয়ার জৌলুশ এর লোভে নাটক করতে চাইল হঠাৎ।ততদিনে আমি বুঝে গেছি নওশিন কেমন টাইপের মেয়ে,তার অতিরিক্ত উচ্চাশা, ছেলেদের যোগ্যতা,সুদর্শন চেহারার প্রতি মারাত্মক আসক্তি আমার অন্তরচক্ষুটাকে খুলে দিল ভাল করে।বুঝে গেলাম নওশিন কখনো আমার হওয়ার ছিলনা।তার আমার পথ ১৮০ ডিগ্রী কোণে বেকে গেছে।এত স্ট্যাটাস সামলিয়ে বন্ধুত্ব ও সম্পর্কের লাগাম টেনে ধরতে হিমশিম খাওয়ার অবস্থা হচ্ছিল আমার।আর মনের আড়ালে নওশিনের প্রতি সব মায়া পরিণত হল জঘন্য বাস্তবতার মিশ্রণ ভরা ঘৃণায়।আজ ভয় লাগে তার সাথে বার্তার আদানপ্রদান করতে।সব ভালোবাসা হয়ে গেছে নিঃশেষ। নেই কোন মায়ার টান,খালি রয়ে গেছে পুরনো কিছু নস্টালজিক আনন্দময় স্মৃতি যা আজ খালি দুঃখের বোঝাই বাড়িয়ে যায় আমার।I hate you nowshin বলাটা আজ কেন জানি খুব কঠিন লাগছেনা আমার।ভালোবাসার সব রাস্তা পিছনে ফেলে বাস্তবতার চাপ আমাদেরকে এসব পরিণতির সাথে মানিয়ে নিতে কি কুৎসিত সুন্দরভাবেই না বাধ্য করে যায়।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • পন্ডিত মাহী
    পন্ডিত মাহী নওশিন যে খুব ভুল কিছু করেছে তা কিন্তু মনে হলো না। দু'জন দু'রকম করে সময়কে বুঝেছে। অনলাইনের লেখা গুলো এমনি। যে পড়ে সে তার মত করে আবেগ দিয়ে নেয়। "কেমন আছো"... এই সাধারণ জিজ্ঞাসাই, যে খুব অধীর হয়ে কারো আগ্রহে আছে তার কাছে একটু আলাদাই লাগবে। ভালোলাগা রইল।
    প্রত্যুত্তর . ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
  • মোঃ জাকির হোসেন জোদ্দার
    মোঃ জাকির হোসেন জোদ্দার নওশীনকে আর কি বলবো ভাইয়া , এখানে আমরা সবাই নিজের ভাবনাটাকে নিয়ে পথচলতে পছন্দ করি আর তাই এ রকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় , যাইহোক ভালো লাগলো শুভ কামনা রইলো , আর আমার পাতায় আমন্ত্রণ।
    প্রত্যুত্তর . ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬