বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৬ আগস্ট ১৯৯৩
গল্প/কবিতা: ৭টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

গোলাপের প্রেম

প্রেম ফেব্রুয়ারী ২০১৭

তুই কি আমার সেই

ফাল্গুন ফেব্রুয়ারী ২০১৬

আমায় একটু ছুঁয়ে দাও

অস্থিরতা জানুয়ারী ২০১৬

দুঃখ (অক্টোবর ২০১৫)

মোট ভোট আজন্ম দুঃখ অতঃপর নির্বাক কান্না

রিফাত বিন ছানাউল্লাহ্
comment ৪  favorite ২  import_contacts ৫০০
ক্ষমা করিস্ ...........
তোর নির্বাক কান্নার তাৎপর্য কারো হৃদয় অবদি পৌছায়নি।
জানিস্; আজ তোর জীবনের অন্তিম ক্ষণে বেঁচেথাকবার হেতু তোর শেষ প্রয়াস অবদি আমি তোকে পর্যবেক্ষণ করেছি। তোর চোখে যখন বাঁধাহীন অশ্রুধারা বইছিলো তখন আমি নিজেকে আর স্থির রাখতে পারিনি!
জানি; তোর সব অভিমানের কেন্দ্রস্থলে আমিই ছিলাম। কি করবো বল্; তোদের প্রতি আমাদের সকল যত্ন আর ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু হয়তো এই একটাই স্বার্থ। আমিতো আর সমাজ ব্যবস্থার বাইরে যেতে পারি না; বল্?
জানিস্; জগতে কেবল মানুষই সামাজিক জীব, বাকি সব অসামাজিক! আর তাই আজ তোর প্রতি আমার সব প্রেমের করুণ সমাপ্তি হয়ে গেলো।
অনেক দুঃখ পেয়েছি আজ, লোকচক্ষুর অন্তরালে নিরবে কেঁদেছি কারো চোখে পড়লে উপহাসের পাত্র হবো বলে। তোর ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন দেহের প্রতিটা অংশে আমার ক্ষত-বিক্ষত হৃদয়ের প্রতিবিম্ব দেখছিলাম আর ভাবছিলাম কত নির্মম্ এই সমাজ ব্যবস্থা যা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীবেরা নিজেদের ইচ্ছে মতন করে বানিয়েছে। খুব দুঃখ হচ্ছিল তোর করুণ অবস্থা দেখে। অনেক ইচ্ছে করছিল তোকে বাঁচিয়ে দিতে, চাইলে পারতামও, কিন্তু এ সমাজ কি তোকে বাঁচতে দিতো? - না, দিতো না, কেউনা-কেউ ঠিক একই ভাবে হত্যা করত তোকে। পাঁচ হাত লম্বা একটা দড়িই তোর পৃথিবী, আর মানুষের ছুরিকাঘাতে মৃত্যু হওয়াইযে তোর অদৃষ্ট!
মানুষের গোয়ালে জন্মনেয়াই যে তোর আজন্ম পাপ!
স্বাভাবিক মৃত্যুর অধিকার তোর নেই। মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব আর তুই বুদ্ধিহীন, এটিই তোর দণ্ড! বন-জঙ্গলে জন্মালে তোর এমন অপঘাত মরণ হতো না, কিন্তু দুঃখ একটাই আজ সৃষ্টিসেরা মানুষ নামের সম্প্রদায়টির হাতে তোকে নির্মম্ ভাবে মরতে হল।
গৃহে গৃহে আজ তোর মাংস নিয়ে উল্লাস চলছে!
কুকুর-বিড়ালেরো আজ তোর রক্তে হলি খেলায় কোন বাঁধা নেই, তারা নির্ভয়ে তোর পিণ্ডি গিলছে!
তোর প্রতিটা মাংস-কণা আজ সব গৃহে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু!
একে কোন যুক্তিতে আমরা ত্যাগ বলি আমি এখনো জানি না। আমার কিন্তু কিছু টাকা ছাড়া কিছুই ক্ষতি হয়নি, যে টাকার সম্পূর্ণ হিসেবও হয়ত আমি ঠিক ভাবে দিতে পারব না।
যাক বাবা; জানিনা তুই অবোধ বলে মহাবিচারের দিন সম্পর্কে কিছু জানিস বা বিশ্বাস করিস কিনা, যদি এমন দিন আদৌ কখনো আসে তবে আমি সয়ং সাক্ষী থাকলাম ঈশ্বরকে বলব-যে আমাদের হয়ে সবচেয়ে বড় ত্যাগটা তোরই ছিল।

আজ অবদি একটা পশুর দেহে আবদ্ধ থাকা তোর প্রাণটা এখন আত্মা হয়ে কোথায় গেছে কে জানে, আত্মা তো আর পশু নয়! তুই ভালো থাকিস্, নিশ্চই আমার সাথে তোর আবার দেখা হবে। দুঃখ করিসনা, তবে হ্যাঁ; আজকের দিনের জন্যে আমাকে ক্ষমা করে দিস্ ...
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন