বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯
গল্প/কবিতা: ৪টি

সমন্বিত স্কোর

২.৮৯

বিচারক স্কোরঃ ১.৫২ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৩৭ / ৩.০

বৈরিতা (জুন ২০১৫)

মোট ভোট ১৬ প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.৮৯ আক্ষেপ

আল মুনাফ রাজু
comment ১১  favorite ০  import_contacts ৫৫৯
মানুষের ভিড়ে লুকিয়ে আছে হাজারো চরিত্রের মানুষ। কেউ রশিক, কেউবা ভাবুক, কেউ শান্ত আবার কেউ চঞ্চল, কেউ নরম মানুশিকতা হয়তোবা কেউ গরম প্রকৃতির। তেমনি হাজার প্রকৃতি নিয়ে একটি সমাজ গড়ে উঠে হাজারো মানুষের আনাগোনায়। আর তেমনি একটি সমাজে বসবাস মিরাজের।
মিরাজ হলো বাবা মায়ের একমাত্র অবাধ্য সন্তান, তারমানে এই নয় সে বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। তার আর দুটি বড় ভাই ছিল যারমধ্যে একজন মারা গেছেন, একটা বড় বোনও আছে যার বিয়ে হয়ে গেছে। মিরাজের বাবা একজকন মুক্তি যোদ্ধা ছিলেন আর মা হলেন গৃহিণী। তবে বাদর ছেলেটি পড়াশোনায় খারাপ নয়, ক্লাস অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় সে বৃত্তি পেয়েছে, দশম শ্রেণী পর্যন্ত রোল নাম্বার ১ ছিল। মিরাজ তার দুষ্টামির মাঝে যদি কোন সময় পেতো তখন গিয়ে পড়াশোনা করতো, আর শিক্ষকের মারের ভয়ে যতখানি হত। তবে পরিবেশ মেধা দুটো একসাথে খাপ না খেলে যা হয়, আর সেই কারনেই মিরাজ বাবা মায়ের একমাত্র অবাধ্য সন্তান।
প্রত্যেকটা মানুষের একটা বন্ধু মহল থাকে তেমনটি মিরাজেরও ছিল, তবে সবার মতো মহল নয় একটু আলাদা। মিরাজের মহলে ছিল নাইম, সাকিব, সৈকত, আলামিন, দুর্জয়, বিপ্লব এরা সবাই। এরা সবাই বাবা মায়ের অতি আদরের অবাদ্ধগত সন্তান। পড়াশোনায় সবাই খারাপনা চালিয়ে জাবার মতো, তবে পাড়ায় অঘটন ঘটাতে এক নাম্বার।
একবার নাইম এলাকার রহিম চাচার কাছথেকে কিছু ধানের খড় চেয়েছিল শীতের রাতে আগুন জ্বালাবে বলে। তিনি তাকে নিষেধ করে দিলেন বল্লেন-“তগ কোন কাম কাইজ নাইরে হুনি? রাইতের বেলা ঘর থুইয়া বাইরে বইসা থাকস তার লাইগা আমি খের দিমু আগুন জ্বালাইতে”। নাইম এসে বলল “বন্ধু রহিম্মা হালায় আমারে খের দেয়নাই আর বহুত কথা হুনাইল”। সাকিব তখন উঠে বলে “কস কি হালায় তোরে ঘার ধইরা বাইর কইরা দিলো? এই বলে সবাই হেঁসে উঠলো”। কিছুখন পর সাকিব বলতেছে “হালারে দেহামু চল” এই বলে সবাই মিলে গিয়ে তার খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যার যার মতো বাসায়।
মিরাজ যখন নবম শ্রেণীতে পড়ে, সে তার পাশের বাড়ীর একটা মেয়েকে পছন্দ করতো মেয়েটির নাম রাহেলা। রাহেলা মিরাজকে তেমন একটা পছন্দ করতোনা, আর এমন ছেলেকে কে বা পছন্দ করবে বলেন যে ছেলে তার বাবাকে স্ট্যাম্প দিয়ে মারতে আসে। একবার খেলতে গিয়েছিল মিরাজরা রাহেলাদের জমিতে আর সেখানে খলতে বাধা দেয় রাহেলার বাবা, তাই এক কথা দুই কথার মাথায় স্ট্যাম্প দিয়ে দিলো বারি মাথায়। যদিও খুব লাগেনি তবুও কাজটাতোহ খারাপ। এমন ছেলেকে কেনইবা রাহেলা পছন্দ করতে যাবে। তবুও মিরাজ রাহেলাকে পছন্দ করে, তাকে দূর থেকে দেখে খজ খবর রাখে।

একদিন রাহেলা ভর্তা খাবে বলে কাঁচা বীচিকলা পাড়তে গিয়েছিলো, কিন্তু সঞ্জাম না থাকায় সে কিছুখন লাফিয়ে চেষ্টা করলো আর ব্যর্থ হল। তার ব্যর্থ হওয়াটা মেনেনিতে পারলনা মিরাজ। মিরাজ এসে তার মহলের সবাইকে বলল “তোদের ভাবি বীচিকলা খাইতে চাইছে কিন্তু পাড়তে পারে নাই”। এই শুনে সবাই বলে “কেন তুই পাড়তে পারলিনা?” মিরাজ বলে অই তহ আমারে দেখতে পারেনা তাই আর সাহস পাইলামনা। বন্ধুর মনের দুঃখ দেখে ওরা সবাই মিলে সেদিন রাতে এলাকার যত বীচিকলা গাছে কলা ছিল সব কেতে রাহেলাদের বাড়ীর সামনে নিয়ে রেখে দিয়েছে। পরদিন সকালে সবাই রাহেলাদের বাড়ীতে হাজির, পুরো গ্রাম জুড়ে একটা হইচই পরেগেল। এমনটাই হল মিরাজদের একটু আলাদা মহল।
মিরাজ তার মেজো ভাইয়ের খুব আদুরে ছিল। সে কিছু না চাইতে তার ভাই সেটা তার সামনে এনে দিতো। একদিন মেজো ভাই মিরাজকে বাইক চালাতে দেখেছে রাস্তায়, বাসায় আসার পর তাকে জিজ্ঞেস করলো ওটা কার বাইক ছিল? মিরাজ ভয় পেয়ে গেলো, বলল সাকিবের ভাইয়ের। মেজো ভাই তখন বলল আমি যেন আর না দেখি কার বাইক চালাতে, এই বলে চলে গেলো। পরদিন বিকালে খেলার মাঠে মেজো ভাই একটা নতুন বাইক নিয়ে হাজির, আর মিরাজকে ডেকে বলল এটা আজ থেকে তোর। এতখানি আদুরে ছিল মিরাজ। এর বছর দুয়েক পর রোড দুর্ঘটনায় মেজো ভাই মারাজান। তারপর থেকে মিরাজ আর অবাধ্য হয়ে যায়। এমনটা নয় যে অন্য কেউ তাকে আদর করেনা। তার বাবা সারাক্ষণ তার খোঁজ খবর রাখে, তবুও মিরাজ নেশার পাল্লায় পরেযায়।
তার ভাই যখন মারা যায় সে তখন উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে মাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেও প্রথমে ভালো ছেলেদের সাথে মিশেনি, পরে সময়ের সাথে বন্ধু মহল পরিবর্তন হল। সে কিছুটা বুঝতে শিখল যে সে ভাল পথে নেই, কিন্তু নেশা এত সহজে কি ছাড়া সম্ভব হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় সে একদিন জানতে পারলো, তার মেজো ভাই মারা যায়নি তাকে মেরেফেলা হায়েছে।
মেজো ভাই গার্মেন্টস স্টক-লট মালের ব্যবসা করতো। ব্যবসা করতো মেজো ভাই ও তার বন্ধু দুইজন মিলে, খুব ভালো আয় ছিল তাতে। ব্যবসা ঢাকা চট্টগ্রাম দুই জায়গায় ছিল এবং দুই জায়গায় তাদের গোডাউন ছিল। ঢাকার কথা সবাই জানত, তবে চট্টগ্রামের কথা মেজো ভাইয়ের বন্ধু ছাড়া পরিবারের কেউ জানতোনা। মেজো ভাই বাইকে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়, সে বাইকে তার বন্ধু ছিল। দুর্ঘটনায় সবাই পারন নাও হারাতে পারে সেটা স্বাভাবিক, কিন্তু একি বাইকের একজন হাসপাতালে আসতে পারে অন্য জন রাস্তায় পরেথেকে মারা যায় তা হতে পারেনা। এটা একটা পরিকল্পিত দুর্ঘটনা ছিল যে পরিকল্পনার স্বীকার মেজো ভাই হয়েছেন। আর সে দুর্ঘটনার পর ঢাকার গোডাউন হিসেব দেখিয়ে কিছু টাকা দিয়ে পুরো ব্যবসা নিজের করে নিয়েছে।


আর সে ঘটনা জানার পর থেকে তার এক্তাই ইচ্ছা সে পুলিশ হবে এবং মিরাজ নিজে আইনের মানুষ হয়ে তাকে বেয়াইনি ভাবে মারবে তার জন্য যদি জেল বা মরতে হয় তাতেও কোন দুঃখ নেই। তাই বলে সে পড়াশোনায় মন দিয়েছে তা নয় বাস্তবতা বড়ই কঠিন নেশা কাউকে ছারেনা, আর নেশা কাউকে ভালমতো পড়তেও দেয়না।
এই নেশা থেকে তার চাচা তাকে ছাড়াতে চেয়েছে অনেক। তার চাচা তাকে একটা চাকরি দিলো তার নিজের অফিসে, তার ডিউটি হল ফ্রন্ট ডেস্কে বসে থাকবে আর পড়াশোনা করবে। বাবার কথার অবাধ্য হওয়া সম্ভব কিন্তু চাচার না তাই রাজি হল। কিন্তু যেদিন থেকে অফিসে বসবে তার আগের দিন তার চাচাকে গিয়ে বলল চাকরি তহ করবো আগে অগ্রিম কিছু বেতন দেন, চাচা কথা না বাড়িয়ে টাকা দিয়ে দিলো। সে ঐ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেলো বেড়াতে ঢাকার বাহিরে ফিরল ৫দিন পর। তারপর এসে সুযোগ বুঝে চাচা যখন অফিসে ছিলোনা তখন গিয়ে বসে পরল। ক্যাম্পাসের বন্ধু মিরাজের পরিবারের মানুষ ওর চাচা সবাই মিলে তাকে বঝায় এখন কিছুটা ভালর দিকে
পড়াশোনা যখন প্রায় শেষের দিকে তখন সে জানতে পারলো যে সে যাদের কাছে এতদিন বড় হয়েছে তার বাবা মা তার মেজো ভাই তার চাচশ এরা তার কেউনা, সে তাদের কাছে পালিত হয়েছে। সে যাকে মা বলে জানে তিনি তার গরভধারিত মা নয়। তার মা বাবা অন্য কেউ, সে জানেনা তারা কোথায় আছে দেখতে কেমন বেচে আছে কিনা। তবে সে একথা জেনেছে তা আর কাউকে জানতে দেয়নি, কষ্টটা বুকের মাঝে চেপে ধরে রেখেছে।
একটা সময় এসব ভেবে নিজের প্রতি একটা আক্ষেপ তৈরি হল, যে “সব কিছুর জন্য আমি কেন, যে ভাই আমাকে বাবার চাইতেও বেসি আদর করতো সে ভাই মরেগেল, সর্বোপরি এখন জানতে পারলাম আমার কিছু নেই”। ভাগ্যের প্রতি বিরধিতা করতে করতে সে নিজেই নিজের বড় শত্রু হয়েগেছে, যার জীবনের প্রতি কোন মায়া নেই ভালবাসা নেই।.........
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন