বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১০ আগস্ট ১৯৮২
গল্প/কবিতা: ২টি

সমন্বিত স্কোর

বিচারক স্কোরঃ ০ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২ / ৩.০

দেশপ্রেম (ডিসেম্বর ২০১৩)

মোট ভোট ১০ প্রাপ্ত পয়েন্ট দেশ

এ আর সিকদার
comment ৭  favorite ০  import_contacts ৩৫৪
আমরা যারা বাংলাদেশের বাইরে থাকি, তাদের দেশের প্রতি টান অন্যদের তুলনায় বারাবরই বেশি। পুরো ব্যাপারটাই মনস্তাত্ত্বিক, তার পরেও অবহেলা করার মতো নয়। পাঁচ ছয় মাস বাংলাদেশে না গেলেই মনে হয়, “আহারে, কত দিন হয়ে গেলো দেশে যাই না!” আবার বাংলাদেশে যাওয়ার দশ দিনের মাথায় মনে হয়, “ধুউর- বিরক্তিকর, ফিরতি টিকেটের তারিখটা এগিয়ে নিয়ে আসতে হবে”।
ফিরে আসার এক সপ্তাহ আগে থেকে মনে হয়, “আর কয়টা দিন থেকে গেলেও পারতাম”।
প্রতি বারই প্রতিজ্ঞা করি, এই বার দেশে গেলে মার সাথে আর ঝগড়া করবোনা, বিরক্ত হবোনা, লক্ষি ছেলে হয়ে থাকবো, বাবার সাথে অনেক গল্প করে আজন্ম অলিখিত দূরত্ব ঘুচাবো। দুঃখ জনক ভাবে সত্য যে, কোন বারই আমি আমার প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করতে পারিনি। মাটিতে পা ফেলার তিন দিনের মাথায় আমি আমার সেই পুরনো আমি হয়ে যাই। এইটুকু না হলে যেন দেশে আসার কোন প্রয়োজনই ছিলনা। যেন একটা পুরনো স্থির চিত্র আমার উপস্থিতিতে চলচিত্র হয়ে উঠলো। মা বলে- “তুই আবার আইছস আমারে জ্বালাইতে। তুই যা, তরে আমার দরকার নাই”।
চলে আসার চার পাঁচ দিন আগে থেকে মার চোখের পানি নাকের পানি এক হতে শুরু করে। “তুই আইছিলি মায়া লাগাইতে, লাগাইছস। অহন যাওয়ার আগে কাইজ্জা ঝগড়া কইরা মায়া কাটাইয়া দিয়া যা। আবার কবে আবি তার নাই ঠিক”।
কনিষ্ঠ সন্তানের প্রতি মার অতিরিক্ত ভালোবাসা থাকবে, এইটাই স্বাভাবিক।
ফিরে আসার পর মনে মনে বলি, “অনেক হয়েছে, বছর খানেকের মধ্যে আর দেশে যাবোনা। এইটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত”।
কিন্তু আবার ছয় মাসের মধ্যে যেই লাউ সেই কদু। দেশের কথা মনে হয়, মার কথা মনে হয়। আবার ব্যাগ গুছাও! শান্তি নাই।
দূরত্ব ব্যাপারটা যেকোনো বিষয়ের মূল্য অনুধাবন করানোর জন্য গুরুত্ব পূর্ণ ভুমিকা রাখে। যতই দিন যাচ্ছে, এই সব আবেগি মূল্যবোধের গুরুত্ব বারছে নিজের কাছে। আমার কাছে তেমন কারোই কোন বড় প্রত্যাশা নেই, তবু ঋণ শোধের দায়িত্ব অনুভব করি সব সময়। সামর্থের মধ্যে অথবা সামর্থের বাইরে প্রচেষ্টা একটা থাকেই। নিজেকেই বা আর কত বঞ্ছিত করবো? দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছে হয় একেবারে। একটু গুছিয়ে নিয়ে ফিরে যাবার চিন্তা অনেক দিন থেকেই করছি। কোন রকমেই গুছিয়ে উঠতে পারছিনা। গুছানো বলতে কি বুঝায় তাও বুঝতে পারছিনা! প্রতিনিয়ত একের পর এক ঝামেলায় জরিয়ে যাচ্ছি। না চাইতেও জীবন থেকে চাওয়ার মাত্রা বেরে যাচ্ছে দিনে দিনে। প্রতিটা ঝামেলাই আগের ঝামেলা থেকে বড়, প্রতিটা ঝামেলার সমাধান আরেকটা ঝামেলার জন্ম দিচ্ছে। পাথর দেয়ালে বন্দী সেই প্রাচীন রাক্ষসের রুপকথার মতো, যে প্রতি রাতে নখ দিয়ে আঁচড়ে আঁচড়ে দেয়াল পাতলা করে ফেলে শেষ রাতের দিকে, দেয়াল ভেঙে পড়ার আগমুহূর্তে ঘুমে ঢলে পরে সে, ঘুম থেকে উঠে দেখে আবার দেয়াল পূর্ণ হয়ে গেছে আগের মতো! ক্লান্তিকর ঘটনার পুনরাবৃতি প্রতি দিন ।
এই সভ্যতা থেকে নিজেকে মুক্ত করা কোন স্বাধীনতা যুদ্ধের চেয়ে কোন অংশেই কম নয়। এই ভ্রান্তির ইন্দ্রজাল খুব মায়াময়, গ্রাস করে নেয় পুরোটাই। তার পরেও বেশির ভাগ সময় আমি মানসিক ভাবে বাংলাদেশেই থাকি। আগাছার মতো শিকড় ছরাতে পারিনি অন্য যেকোনো দেশের মাটিতে। শুধু আকাশটাই পুরনো পরিচিত মানুষের মুখের মতো আপন মনে হয় এই দেশে। এইখানে সব অপরিচিতের মাঝে আমার বসবাস। এই দেশ এই প্রকৃতিকে আমি কখনো আপন করে নেই নাই, বিনিময়ে তারাও আমাকে আপন করেনি। অদ্ভুত সুন্দর সব ফুল, সারি সারি গাছ, কি ভয়াবহ সন্দর সেই সব পাতার রং! তার চেয়েও ভয়াবহ সুন্দর তাদের পত্র বিন্যাস! তবু আমি কখনো তাদের নাম জানার আগ্রহ বোধ করিনি। আমাবস্যা অথবা পূর্ণিমার হিসেব এইখানে কাজ করেনা। তবু যখন মাথার উপর পরিষ্কার আকাশে আচমকা বিশাল চাঁদ তার সব আলো ঢেলে দেয়, আমি কাঙ্গালের মতো তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি।
মনে প্রানে আমি এক জন বাঙ্গালী এবং বাংলাদেশী। ভালোবাসার কথা নির্লজ্জের মতো বলা যায়। আমি বাংলাদেশ কে নির্লজ্জের মতো ভালোবাসি। দেশ গোল্লায় গেছে, গোল্লায় যাচ্ছে, গোল্লায় যাবে সব জানি। তবু জন্ম সূত্রে জাতীয়তা বোধ খুব তীব্র। কোন ভাবেই মাটির টান কাটাতে পারিনি। কোথা থেকে একটা মাটির বাসন জোগাড় করে তাতেই ভাত খাঁই, আমার ভালো লাগে। বৃষ্টি হলে চোখ বন্ধ করে ভাবী আমি ঢাকার রাস্তায় দাড়িয়ে আছি, বৃষ্টিতে ভিজছি। জোছনা রাতে ঘাসের উপর চিৎ হয়ে শুয়ে শুয়ে ভাবী আমাদের বনগ্রামের বাড়ির ছাঁদে শুয়ে জোছনা দেখছি। ব্রিকলেইনে গিয়ে বাঙ্গালী রেস্টুরেন্টে টাকি মাছের ভর্তা, পোনা মাছের চড়চড়ি দিয়ে বিশেষ কোন উপলক্ষ উৎযাপন করি। ঘুম না আসলে শুয়ে শুয়ে ভাবী আমি আমার বিক্রমপুরের সেই ঘরটাতে শুয়ে আছি, যেই ঘরে আমার জন্ম। আমার এই সব অনুভব খুব তীব্র, শান্তির ঘুম আসে।
মাঝে মাঝে খালি বাড়িতে চিৎকার করি, মাআআ, মা…, প্রতি উত্তরের অপেক্ষায় থাকি, “ কিরে, কি চাস বাবা?”
কোন উত্তর পাইনা যথারীতি। জীবন কোথা থেকে কথায় নিয়ে এসেছে আমায়!
পহেলা বৈশাখে পাজামা পাঞ্জাবী পড়ে পান্তা ইলিশে ঝাঁপিয়ে পরি। ২১শে ফেব্রুয়ারীর মাতৃভাষা দিবসটা খুব গুরুত্ব দিয়ে পালন করি। ভাষা আন্দলনের ইতিহাস আমাকে খুব গর্বিত করে। ১৯৫২ সালের স্বপ্নিল যুবকেরা কি করে পারলো গুলীর মুখে বুক চেতিয়ে দাড়াতে! শুধু আমাদের মুখে বাংলা ভাষা দিবে বলে! কি মহান হতে পারে সেই ত্যাগ! সেই অর্জনের পথ ধরেই ৬৯ এর গন অভ্যুত্থান, ৭১ এর চেতনা, স্বাধীনতার সংগ্রাম, ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা!
আমি হলে কি পারতাম সেই সব সাহসী যুবকের মতো জীবন মৃত্যু নিয়ে খেলতে? শুধু পরবর্তী প্রজন্মের ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিজেকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে? আমার মায়ের বুক খালি করতে?
পরপারে বেশেস্ত নিশ্চিত থাকলেও আমি এই পৃথিবী ছেঁড়ে অন্য কথাও যেতে চাই না। আমি জীবনকে খুব ভালোবাসি। হয়তো স্বার্থপর হয়ে যেতাম। হয়তো পারতাম না। হয়তো পারতাম। দেশের জন্য, মায়ের জন্য সব পারা যায়।
প্রতি একুশে ফেব্রুয়ারীতে ফুল নিয়ে খালি পায়ে লন্ডনের আলতাফ আলী পার্কে শহীদ মিনারে যাই ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে। এই ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের ফলাফলেই আজ আমি বাঙ্গালী, আজ আমি বাংলাদেশী। রফিক জব্বার সালাম বরকত আমার ভাই, আত্মার যোগাযোগ অনুভব করি। ফুল দিতে আমার মতো অনেক বাঙ্গালীই আসে, কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল গুলুর দৌরাত্ম্য থাকে দুঃখ জনক। তার পরেও পুলিশের কড়া পাহারায় এবং স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় আমরা যথার্থ সম্মানের সাথেই প্রতি বার বেদীতে ফুল দেই।
“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি” সবাই গায়, আমিও গলা মিলাই। শরীরের সব পশম দাড়িয়ে যায়! মনে হয় ঢাকা জাতীয় শহীদ মিনারে ফুল দেবার জন্য মানুষের স্রোতে দাড়িয়ে আছি, হাত বাড়ালেই পাশে বন্ধুর হাত। এই ভ্রান্তি গুলো আমাকে আনন্দ দেয়, কিন্তু মূল তৃষ্ণা বাড়ে ছাড়া কমে না। প্রায় আঁট নয় বছর হয়ে গেলো, জাতীয় শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার সৌভাগ্য হয় নি। লন্ডনে বসে বসে শুধু দুধের স্বাদ ঘোলেই মিটিয়েছি।
এই সভ্যতা যা কিছু আমাকে দিল, তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু নিয়ে গেলো।
আরেকটা কথা না বললেই নয়, লন্ডনে অনেকে বাঙ্গালীই ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানীদের সাথে হিন্দি বা উর্দুতে কথা বলে নিজেদের কে জাহির করে। অনেকের ফেসবুকের স্ট্যাটাস হিন্দিতে থাকে ইদানিং কালে। ভারতীয় সভ্যতার অগ্রাসন থামানো মুস্কিল। রং বেরঙের ভারতীয় টিভি চ্যানেল গুলো তাদের উদ্দেস্য ভালোমতই হাসিল করেছে। তিব্র জাতীয়তা বোধের কারনেই আমি সেই পথ থেকে দুইশ মাইল দূরে থেকেছি সব সময়। এই ব্যাপার গুলো বন্ধু মহলে হাস্য রসের খোঁড়াক, তাতে আমার কিছু যায় আসে না।
আমার আবেগের মাত্রা একটু বেশি। আগে প্রশ্রয় দিতাম না, এখন খুব দেই। দুই একটা উদাহরন দেই। যেমন, বাংলাদেশ ভারতের সীমান্তে বি এস এফ গুলী করে পনেরো বছরের তরুণী ফেলানিকে মেরে ঝুলিয়ে রাখল কাঁটাতারের বেড়ায়, ফেসবুকে সেই ছবি দেখে আমার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি। বি এস এফ জওয়ানরা বাংলাদেশী এক তরুনকে নগ্ন করে বাঁশ দিয়ে বেঁধে নির্মম অত্যাচার করলো সীমান্তে। সেই ভিডিও ইউটিউবে দেখল পুরো পৃথিবী। লজ্জায় আমি নিঃশ্বাস নিতে পারলাম না। মনে হল আমার মার শাড়ি খুলে নিয়ে যাচ্ছে কেউ, দেখার কেউ নাই। এই স্বাধীনতার দাম দুই পয়সা, এই জাতীয়তার পরিচয় লজ্জা জনক। বাথরুমে গিয়ে হাউ মাউ করে কাঁদলাম। বুকে হাত দিয়ে প্রতিজ্ঞা করলাম- প্রতিশোধ নিবো, ভয়ঙ্কর প্রতিশোধ। জানি না তা কিভাবে নিবো, কিন্তু নিবো ঠিকই কোন এক দিন।
আবার যখন বাংলাদেশ দুর্নীতিতে পৃথিবীতে চ্যাম্পিয়ন হয়, ভারতীয় বা পাকিস্তানী অনেকের সামনেই লজ্জায় মাথা নত করতে হয়। আশায় বুক বাঁধি, এক দিন নিশ্চয় এই অন্ধকার কেটে যাবে, আমিও মাথা উঁচু করে জাতীয়তার অহংকার করবো। জানি না সেই দিন কবে, কিন্তু জানি সেই দিন অবশ্যই খুব দূরে নয়।
যখন শাহাবাগের গন জাগরনের সূত্রপাত হল , মনে হল এই সেই কাঙ্ক্ষিত মুক্তির সময়ের শুরু। পরিবর্তনের আগুন লেগে গেছে, এই আগুন থামবে না সহজে। হিস্যা হতে চেয়েছিলাম সেই মহেন্দ্রক্ষণের। ইচ্ছে হল যাই, যোগ দেই শাহাবাগে। এই রকম সময় আর হয়তো পাবোনা। বাংলাদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। তৎক্ষণাৎ টিকিট পেলাম না, টিকিট পেলাম এমন যে ২১শে ফেব্রুয়ারী সন্ধায় গিয়ে ঢাকা ল্যান্ড করবো। আমি প্রচণ্ড উদ্বেলিত। কত বছর পর জাতীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাবো! যদিও সন্ধায় গিয়ে ঢাকা নামবো, তবু প্রভাতফেরীর পুরনো মোহনীয় দৃশ্য চোখে ভেসে উঠছে বার বার। ফুলে ফুলে ভরা কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার। কি সুন্দর সেই দৃশ্য! সব আবেগ এসে কণ্ঠনালীতে জমা হচ্ছে।
সারা রাত না ঘুমিয়ে লাগেজ গুছালাম, দিনের অর্ধেক সময় অফিসের টুকিটাকি জরুরি কাজ সেরে বিকেলে ফ্লাইট ধরলাম। ফ্লাইটের ষোল ঘণ্টা সময়ও ঘুমাতে পারলাম না উত্তেজনায়। টানা লম্বা সময় জেগে থাকার বিশ্ব রেকর্ড করার কাছাকাছি একটা ঘটনা। সময়টা কাজে লাগানোর চেষ্টা করলাম। একটা লিখা শুরু করলাম। শিরনামঃ “ ভাষা আন্দলনের চেতনা এবং আমাদের স্বাধীনতা”।
এই বিষয়ে আরো অনেক লিখা হয়েছে, তার পরেও নিজের মতো করে একটা প্রচেষ্টা। অনেক স্পর্শকাতর একটি বিষয়, তাই আমার আবেগের মাত্রাও একটু বেশি।
অবশেষে ঢাকায় নামলাম বেলা পাঁচটায়। ওয়ারীর বাসায় যেতে যেতে বেলা সাতটা, প্রাথমিক কান্নাকাটির পর্ব শেষ হল সাড়ে সাতটায়। দীর্ঘ জাগরনের আর ভ্রমনের ক্লান্তি আমাকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে ততোক্ষণে। তবু আমি মেজ ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম-
- শহীদ মিনারে গেছ মেজো ভাই?
- ধুর, শহীদ মিনারে কোন ভদ্র লোক যায় নাকি আজকাল? কেন, তুই যাবি নাকি?
- হ্যাঁ, আমি যেতে চাই।
-বাদ দে। জামা কাপড় ছাড়, খাওয়া দাওয়া কর, রেস্ট নে। কোথাও যাওয়ার দরকার নাই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রের মুখে এই জাতীয় কথা শুনে আমি থতমত খেলাম। আমি বাদ দিলাম না। খাওয়া দাওয়াও করলাম না। তবে জামা কাপড় ছেঁড়ে পাজামা পাঞ্জাবী পড়লাম। বাসা থেকে একা ছাড়বে না, তাই বড় দুলাভাই সাথে আসলো। জ্বর জ্বর লাগছে, তবু রাত সাড়ে আঁটটা বাজে বাসা থেকে বের হলাম। এলাকার ফুলের দোকান গুলো সব বন্ধ হয়ে গেছে। খুঁজে খুঁজে তবু একটা ফুলের তোঁরা কিনলাম। রিক্সা নিয়ে দুজনে চললাম ঢাকা মেডিক্যাল। পথে ভাষা আন্দলনের মহত্তের কথা বর্ণনা করলাম দুলাভাইর কাছে। সে আগ্রহ নিয়ে শুনল, সে শোনা কথাও মনোযোগ দিয়ে শুনে এবং সব সময় মুখটাকে হাসি হাসি করে রাখে। কত অদ্ভুত ক্ষমতা থাকে মানুষের!
ঢাকা মেডিক্যালের সামনে রিক্সা থেকে নামলাম। অনুমান করার চেষ্টা করলাম ১৯৫২,র এই দিনে কোন জায়গা থেকে ১৪৪ ধাঁরা ভাঙ্গার জন্য মার্চ করেছিল আমার ভাইরা। কোন জায়গায় তাদের উপর গুলি করা হল, আর রাস্তার কোন জায়গাটায় তাদের গুলিবিদ্ধ শরীর লুটিয়ে পড়লো আর কোথায় তাদের বুকের রক্ত ফিনকী দিয়ে পড়লো। বাতাসে সেই আর্তনাদ কি এখনো ভাসে না? অনেকেই শুনেনা, কিন্তু আমি শুনতে পাই।
ইতিহাস কতোটা গৌরবময় হতে পারে! মায়ের ভাষা কেরে নিতে দেয়নি সেই সব সোনালী যুবকেরা। আজ আমার ভাষা বাংলা ভাষা, আমি বাঙ্গালী, আমি বাংলাদেশী, আমার মৌলিক পরিচয়।
যত দিন আমরা বাংলায় কথা বলবো, ততো দিন তাদের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবো।
দেখলাম মেজো ভাইর কথা ঠিক না। রাত নয়টা বাজে, তবুও হাজার হাজার বাঙ্গালী জমায়েত হয়েছে শহীদ মিনারের সামনে। বেশ ভীর। সবাই খুব আয়োজন করে এসেছে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে। প্রায় সব মেয়েরা শাড়ি পরেছে , ছেলারা পাঞ্জাবী। সবার মাথায় “বাংলাদেশ” অথবা “২১ ফেব্রুয়ারী” লিখা কাপড়ের পট্টি। বাংলাদেশের পতাকা তাতে। কেউ কেউ গালে রং করে বাংলাদেশের পতাকা এঁকেছে। সব মিলিয়ে ভালো আয়োজন।
আমরা ভীর ঠেলে কিছুটা সামনে আসলাম। রাত হয়ে গেছে তাই বোধ হয় লাইনের কোন ব্যাবস্থা নাই। যে যার মতো ঠেলাঠেলি করে সামনে এগুচ্ছে। আমরাও তাদেরকে অনুসরন করলাম। মিনারের বেদী এখনো অনেক দূরে। অন্যান্য সবার পায়ের দিকে তাকিয়ে অনুমান করার চেষ্টা করলাম ঠিক কোন জায়গা থেকে স্যান্ডেল খুলবো। প্রথম বেদীতে উঠে গেছি, তবুও সবার পায়ে স্যান্ডেল। দ্বিতীয় বেদীতেও একই অবস্থা! মাথায় ঢুকছে না কি করা উচিৎ। মূল বেদীতে উঠে গেলাম স্যান্ডেল সমেত। উঠে আহাম্মক হয়ে গেলাম। হায় আমি এ কি কারলাম! সম্বিৎ ফিরে পেতেই স্যান্ডেল খুলে হাতে নিলাম। দেখলাম ভয়ঙ্কর কুৎসিত এক দৃশ। সর্বত্র সবার পায়েই স্যান্ডেল! কারো হাতে কোন ফুল নেই। কোন ফুল নেই মূল বেদীতেও। আমি আমার ফুলের তোরাটা বেদীতে রাখলাম, আর একটি মেয়ে তা উঠিয়ে ছবি তোলার পোজ দিচ্ছে! মুখে অনাবিল হাসি। ছবি তোলা শেষে তা নিয়ে হাঁটা ধরলো! সবার দিকে ভালো মত তাকালাম। দেখতে পেলাম আরও সব হৃদয় বিদারক দৃশ্য। কারো মুখে শোকের কোন ছায়া নেই, সবাই খুব আনন্দিত। ছেলে মেয়েরা গ্রুপে গ্রুপে হাতে বিজয়ের “ভি” চিহ্ন তুলে ছবি তুলছে। সবার মুখেই হাসি। বেদীর বাম পাসে আর এক গ্রুপ গীটার নিয়ে ইংলিশ গান করছে। সবাই চা পানি খাচ্ছে, প্লাস্টিকের কাপ ফেলে নোংরা করছে বেদী। মিনারের পিছনে একটু অন্ধকার, সেখানে জোড়ায় জোড়ায় কপোত কপোতী বসে আছে। জরা জরি করে ঠোঁটে ঠোঁটে ভালোবাসা বিনিময় করছে। তার চেয়েও ভয়াবহ দৃশ্য, একটি ছেলে মিনারের রড ধরে ঝুলছে আর তার বন্ধু তার ছবি তুলে দিচ্ছে! ফেইসবুক প্রজন্ম! এই সব ছবি যাবে ফেইসবুকে, আজকের দিনের স্ট্যাটাস, আপডেটস, কুল পিক্স! ফেল ফেল করে তাকিয়ে থাকলাম। এ আমি কি দেখছি। বীভৎস! বীভৎস! কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না।
দুলাভাই বললো - চল, চলে যাই।
- না আমি যাবো না। যতক্ষণ পর্যন্ত এই নির্বোধ গাধা গুলকে এই খান থেকে না তাড়াবো, ততোক্ষণ পর্যন্ত আমি এই খান থেকে যাবো না।
- ভাই, পাগলামি করে না। বাসায় চলো।
- আমি যাবো না। অনুরধ করে লাভ নেই। আপনার ইচ্ছে হলে আপনি যেতে পারেন।
- এমনি দেশের অবস্থা ভালো না। এর মধ্যে আর কোন ঝামেলা করোনা।
- ঠিক আছে, ঝামেলা করবো না। কিন্তু এদের কে তাড়াবো। না তাড়ানো পর্যন্ত এক ফোঁটা পানিও খাবো না। সাথে থাকেন আমার।
আসে পাসে চোখ বুলালাম। দেখলাম আরও তিন চার জন তরুন হাতে স্যান্ডেল নিয়ে দাড়িয়ে আছে। কাছে ডাকলাম ওদেরকে।
- এই খানে কি কোন গার্ড নাই?
- না ভাইয়া, কোন গার্ড নাই।
- ফুল নাই কেন?
- ঠিক জানি না ভাই। আর সকালের অনুষ্ঠানের পরে তেমন কেউ ফুল দিতে আসে না। আসে এমনি ঘুরতে। ছুটির দিন তো, তাই একটু ফেমেলি নিয়া ঘুরা ঘুরি করে। কেও ফুল দিলেও কিছুক্ষণের মধ্যে নাই হয়ে যায়।
- আচ্ছা। আর এই যে সবাই স্যান্ডেল নিয়া বেদীতে উঠলো, সিক্যুরিটি গার্ড না থাকুক, তোমরা তো এদের কে থামাতে পার?
- কে শোনে কার কথা ভাই। কে সাইদ্ধা ঝামেলায় জড়াবে বলেন। সবাই আসছে মজা করতে। কেউ তো আর জানে না কি উপলক্ষে আজকের ছুটি।
- সর্বনাশ! টিভিতে কোন প্রোগ্রাম হয় না?
- কি কন! হয় না মানে? হয়। কিন্তু ঐ গুলি কেউ দেখে না।
- সবই বুঝলাম। কিন্তু এই ভাবে তো চলতে দেয়া যায় না। কিছু একটা করা দরকার।
- কি করতে চান?
- এদেরকে অবশ্যই স্যান্ডেল খুলতে হবে। নিয়ম মেনে বেদীতে আসতে হবে। শ্রদ্ধা নিবেদন শ্রদ্ধা নিবেদনের মতই হতে হবে।
- হাজার হাজার মানুষ ভাই। কেমনে কি করবেন?
- দাড়াও, একটু চিন্তা করি। যাই করি, পাশে থাকো।
চিন্তা করার ক্ষমতা লোপ পেয়েছে এতক্ষণে। তবু মস্তিষ্ক কাজ করলো। ওদের মধ্যে একজনকে কিছু টাকা দিয়ে বললাম সাত আঁট বোতল বড় পানির বোতল নিয়ে আসতে। দুই তিন জন চলে গেলো পানির বোতল আনতে। উৎসুক জনতার ক্ষুদ্র অংশ আমাকে ঘিরে মজা দেখার জন্য দাড়িয়ে গেছে ততোক্ষণে। আজব! এই জাতীর কি বিনোদনের অন্য আর কোন রাস্তা নেই? এর মধ্যে এক জন আবার বলে উঠলো, ভাই আপনের মতো মানুষই এখন দরকার। আমি বললাম, আপনার মতো মানুষও আমার দরকার। জুতা খোলেন, তার পর কথা বলেন।
কিছুক্ষণ পর পানির বোতল চলে আসলো। আর এক জন একটা ঝাড়ু জোগাড় করে আনলো কোথা থেকে। আমরা সংখায় পাঁচ ছয় জন। আমি মূল বেদীতে পানি ছিটাতে শুরু করলাম। বাকীদের বললাম ঝাড়ু দিতে আর ময়লা পরিষ্কার করতে।
সবাইকে বললাম -ভাই ধোয়া মোছার কাজ চলছে। একটু সরতে হবে। একটু নিচে নামেন।
সবাই তিব্র প্রতিবাদ করলো- ভাই এগুলি পরে করেন, আমরা ছবি তুলে নেই।
- ছবি পরে তোলেন। আগে নিচে নামেন।
এই জাতী এখন ভীতু জাতীতে পরিনত হয়েছে। কেউ কাউকে চিনেনা তবু সবাই সবাইকে ভয় পায়। অল্পতেই ভয় পায়। আমার উচ্চ কণ্ঠের জোরালো ধমকে তারা ভয় পেলো। একে একে নিচে নামা শুরু করলো। আমরা পানি ঢেলে প্রথম বেদীটা পরিষ্কার করলাম সবে মিলে। পাশের দুই মুড়ি ওয়ালাকে ভাড়া করলাম ধোয়া মোছার কাজে হাত দেওয়ার জন্য। তাদের কোমরের গামছা দিয়ে মূল বেদী মুছে দিলাম নিজের হাতেই। কিন্তু হায়, নতুন নতুন সব মানুষেরা ঘট ঘট করে বেদীতে উঠে যাচ্ছে স্যান্ডেল পরে! কয় জন কে বোঝাবো? কয় জন কে থামাবো? তখন আমরা আঁট নয় জন নির্দিষ্ট দুরুত্তে দুরুত্তে দাড়িয়ে মূল বেদিটাকে ঘেরাও করে ফেললাম। কেউ ফুল দিতে চাইলে আমরা তাদের হাত থেকে তা নিয়ে বেদীতে রেখে দিচ্ছিলাম, কিন্তু কাউকে মূল বেদীতে উঠতে দেই নি।
ততোক্ষণে মেজো ভাই এলাকার ছোট ভাইদের নিয়ে শহীদ মিনারে চলে এসেছে। নিশ্চয় দুলাভাই খবর দিয়েছে।
-বাসায় চল। অনেক হইছে। এতো ইমোশনাল হওয়ার কোন কারন নাই।
-আসছো, ভালো। আমার সাথে হাত দাও। আমি বাসায় যাবনা।
- তুই অসুস্থ! বিছানায় পরবি। ঝামেলা করিস না। চল।
- পরলে, পরবো। সেটা আমি বুঝবো।
আসলেও আমাকে বুঝতে হবে। ক্লান্ত শরীরে ধুলো ময়লা আর পানি নাড়াচাড়া করে জ্বর আরো বেরেছে। ঘোরের মতো লাগছে। বিশাল জন গুষ্টি আস্তে আস্তে পেছনে হাঁটতে শুরু করেছে। অনেকেই স্যান্ডেল খুলে হাতে নিয়েছে। আমাকে শত্রুর চোখে দেখছে অনেকেই। কিন্তু আমার কোন বিকল্প চিন্তা নেই। আবার আঁট দশ বোতল পানি নিয়ে আসলাম। দ্বিতীয় বেদীটা মূল বেদী থেকে অনেক বড়। দ্বিতীয় বেদীটাকেও দখল করে নিলাম। পরিষ্কার করলাম। ধুলাম, মুছলাম। অনেকই হাত দিল। ইতি মধ্যে শাহ্‌বাগী বিপ্লবীদের মধ্য থেকে তিন চার জন যুবক এসে অনেক খানি দায়িত্ব বুঝে নিলো। আমি মূল বেদীর পাশে গিয়ে বসলাম। আর পারছিনা। উদ্যমী তরুণেরা তৃতীয় বেদীটাও পরিষ্কার করার কাজে হাত দিল। আমি ঘোর লাগা চোখে তাকিয়ে আছি। দেখছি মানুষেরা খালি পায়ে ফুল নিয়ে মূল বেদীর দিকে আসছে একে একে। মূল বেদীতে অনেক গুলো ফুল জমা পরেছে। কেউ কেউ ছবি তুলছে। তার মধ্যে দুই জন সাদা চামড়ার বিদেশী ও আছে। কাছে এসে বললো-
- তোমাকে অনেক ধন্যবাদ।
- এটা আমার কর্তব্য। কিন্তু ধন্যবাদ কেন?
- আমরা একটা পত্রিকায় কাজ করি। আমরা দুপুরে ঢাকা নেমেছি। আসলে আমরা বিকেল থেকে অপেক্ষা করছিলাম। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার উপর একটা কলাম লিখতে হবে। কিন্তু যেমনটা ভেবে এসেছিলাম, তার কিছুই দেখতে পাই নি। সবাই বললো অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেছে। খুব আশাহত হয়েছিলাম কিন্তু আমরা আশা ছারিনি।
- তোমাদেরকে অনেক ধন্যবাদ। যেই দৃশ্য তোমরা দেখেছো, তা সত্যি নয়। তোমরা আগ্রহী থাকলে আমি তোমাদেরকে এর সোনালী অংশ টুকু বলতে পারি। তোমরা সুযোগ পেলেই আমাদের কালো অংশ মিডিয়ায় দেখাও। এটা ঠিক না। ভালো অংশের উপর আলোকপাত করো। পৃথিবীর মানুষ সত্যটা জানতে পারবে।
কত ভাবে আমরা আর পৃথিবীর মানুষের কাছে লজ্জিত হবো? আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রতি অসম্মান, পৃথিবীর সমস্ত মাতৃভাষার প্রতি অসম্মান। এই দিনটি শুধু আমাদের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। পুরো পৃথিবীর কাছে গুরুত্ব পূর্ণ। অনেকেরই চোখ এই দিনটির উপরে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, হেলা ফেলা করার মতো কোন বিষয় নয়।
আমি বাসায় ফিরলাম ধ্বংস প্রাপ্ত শরীর নিয়ে। ঘুমের ঔষধ খেয়ে ঘুম দিলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠেই অফিসের দিকে রওনা দিলাম। ঢাকার লালমাটিয়াতে আমার একটি অফিস আছে। পথে শহীদ মিনার হয়ে গেলাম।
এইবারকার দৃশ্য দেখে আমি বিস্মিত। শহীদ মিনারে ফুল আর ফুল! দেশের শিল্পীগুষ্টির বিশেষ অংশ বিশাল আয়োজন করেছে। গান হচ্ছে, আবৃতি হচ্ছে, বক্তৃতা হচ্ছে। ভাষা আন্দোলনের চেতনা, বাঙ্গালীর মূল্যবোধ সবই আলোচনা হচ্ছে। বুঝা গেলো এই বিষয়টি শিল্প চর্চার একটি বিষয় হয়েছে মাত্র। এটা হচ্ছে আমাদের অন্তঃসার শুন্য জাতীর ঝলমলে মুখোশ।
অফিস থেকে ফিরার পথে আবার গেলাম শহীদ মিনারে। অনুষ্ঠানের চিহ্নও নেই। একটা ফুলও নাই বেদীতে। পাশে ছোট ছোট দলে ছেলে মেয়েরা গল্প করছে। বেদীর পিছনে প্রেম চলছে সমানে। একটু খোঁজা খুঁজি করতেই পেয়ে গেলাম দুই জন সংরক্ষক। কথা বললাম এক জনের সাথে।
- গত কাল সন্ধায় আপনারা কথায় ছিলে?
- জী স্যার আছিলাম।
- তাহলে থামাওনি কেন যখন সবাই স্যান্ডেল নিয়ে বেদীতে উঠলো?
- স্যার, আমাদের কথা কেউ শোনে না। জোর করতে গেলে মাইর খাইতে হয়।
- তোমরা কয় জন?
- আমরা তিন জন। এক জনের পর এক জন ডিউটি। আঁট ঘণ্টা কইরা। এক জন অসুস্থ থাকলে কোন কভার থাকে না।
- ফুল ছিলোনা কেন?
- সকালের সব ফুল সিটি কর্পোরেশন ট্রাকে করে উঠিয়ে নিয়ে গেছে।
- যাই হোক, পরিষ্কার করনি কেন? অনেক ময়লা ছিল।
- পরিষ্কারের অংশটা সিটি করপরেসানের। আমরা তো শুধু গার্ড। তা ও কেও নিয়মিত বেতন পাই না।
- আচ্ছা। তাহলে চলো কি ভাবে?
- আল্লায় চালায় স্যার।
আরো জানতে পারলাম, শহীদ মিনারের গভীর রাতের চিত্রের কথা। ভাসমান পতিতাদের নিরাপদ বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিনত হয় আমাদের জাতীয় শহীদ মিনার। মূল বেদীর উপরেই শয্যা পাতেন সেই সব নিশিকন্যারা। স্থানীয় সন্ত্রাসীরা এসে চাঁদা নিয়ে যায় প্রতি রাতে। যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দল মাইক্রো বাস যোগে নিরাপত্তা টহলে থাকে সারা রাত!
শহরের প্রান কেন্দ্রে এতো গুরুত্ব পূর্ণ একটি জায়গার নিরাপত্তা ও পবিত্রতা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করতে পারেনি! সীমান্ত তো বহুদুর। ঘৃণায় কুঁকড়ে উঠলাম। এ জাতী কোন ধ্বংসের দিকে চলেছে?
আহত হলাম। ভীষণ আহত হলাম। আমার ভাইয়ের রক্ত অপবিত্র হচ্ছে প্রতি রাতে। এই দায়ভার এই সব ক্ষুধিতের বা নিশিকন্যাদের নয়। তবে এই দায় ভার কার? আমাদের সবার, আমাদের বিবেকের।
বুক ছুঁয়ে প্রতিজ্ঞা করলাম “ প্রতিশোধ নিবো, ভয়ঙ্কর প্রতিশোধ। কিভাবে নিবো জানি না, কিন্তু নিবো ঠিকই এক দিন নিশ্চই ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • মোঃ মহিউদ্দীন সান্‌তু
    মোঃ মহিউদ্দীন সান্‌তু চমৎকার লিখেছেন। আসলেই এই দায় ভার আমাদের সবার, কবে এই দায় ভার থেকে আমরা মুক্ত হতে পারব, তা আমরাই জানিনা।
    প্রত্যুত্তর . ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৩
  • কবি এবং হিমু
    কবি এবং হিমু আমরা যারা প্রবাসে আছি তাদের মনের কথাগুলো সুন্দর করে তুলে ধরার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ
    প্রত্যুত্তর . ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৩
  • মিলন  বনিক
    মিলন বনিক ওহ! চমৎকার লেখনী...বাস্তব প্রেক্ষাপটে আমাদের কলুষিত সমাজের ভেতরের মুখোশটা খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন....েএবার যেন প্রতিশোধ নেওয়ার সময় এসেছে...েএবং তাই হবে...শুধু সময়ের অপেক্ষা....আপনার মত সবারই প্রতিজ্ঞা করতে হবে...অসাধারন...
    প্রত্যুত্তর . ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৩