বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৫ জানুয়ারী ১৯৮১
গল্প/কবিতা: ৩৩টি

সমন্বিত স্কোর

২.৫

বিচারক স্কোরঃ ০.৭ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

প্রেম পণ্য

প্রেম ফেব্রুয়ারী ২০১৭

প্রতীক্ষায় থাকি

আমার আমি অক্টোবর ২০১৬

ভ্রান্ত ভোমর

ঘৃণা সেপ্টেম্বর ২০১৬

কোমলতা (জুলাই ২০১৫)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.৫ অপেক্ষা

আল- আমিন সরকার
comment ৪  favorite ০  import_contacts ৫৬৩
জীবনের শেষ সময়ে এসে বড়ই অসহায় লাগে নাজিম প্রামানিকের । স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে থেকে একেবারে চুপ করে পরে থাকে । অন্ধকার একাকি কবরের মত ঘরে যেন শুধুর মৃত্যুর প্রহর গোনা । খুব ছোট বয়সে বিয়ে করেছিল, মরজিনা খাতুনকে । মরজিনা খাতুনের বয়স সাত কি আট আর নাজিম প্রামানিকের বয়স পনের অথবা ষোল । মরজিনা খাতুনের সেই বয়সে, বিবাহ নামক বিষয়টা সম্পর্কে খূব একটা ধারণা ছিল না । এই জন্য নাজিম প্রামানিক কতই না রাগারাগি করত, পরে মান-অভিমান পরে গেলে, বাজার থেকে আলতা, স্নো , লাল শাড়ি নিয়ে আসত বউয়ের জন্য । আর এতেই বড় খুশি হত মরজিনা খাতুন, কিন্তু স্বামীর সাথে দেখা করার সময় তার দাদীকে সাথে নিয়ে আসতো । সময়ের সাথে সাথে তাদের ঘর আলো করে সন্তানদের জন্ম হল । সবই মনে পরতে থাকে নাজিম প্রামানিকের - বড় সন্তান পেটে আসলে, ও তেমন কিছু খেতে পারত না । আমাশয় হয়ে মরার মত অবস্থা । কবিরাজ আমির কাজি তো বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়ে ছিল । অনেক কষ্টে সে যাত্রায় বেচে গিয়েছিল মরজিনা খাতুন।

সন্তানেরা বড় হলে তারা রাতে আলাদা থাকতে শুরু করে। সকল সন্তানের বিয়ে হয় । মেয়েরা স্বামীর ঘরে চলে যায় । ছেলেরা ও তাদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যায় । নাতি – নাতনি নিয়ে মরজিনা খাতুন রাতে থাকে ঘরে । হারিকেন জালিয়ে জানালা অল্প খোলা রাখে, বাইরে বারান্দায় চৌকিতে ঘুমান স্বামীর দিকে নজর রাখে সে । ঈদ, পারিবারিক ও সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সকল মেয়ে, ছেলে, নাতি – নাতনি যখন সকলে এক সাথে আসত । তখন বাড়িটা যেন চাঁদের হাঁটে পরিণত হত । মরজিনা খাতুন সব কিছু সামলাতে ব্যস্ত থাকত আর নাজিম প্রামানিক নামাজ কালাম আর মসজিদে ধর্মীয় কাজে অধিকাংশ সময় দিত । এক সময় নাতি – নাতনীদের সংসার হয় । ছেলেরা ও পৃথক হয়ে যায় । সাথে সাথে তারা দুজনও দুই সংসারে ভাগ হয়ে যায় । এই প্রথম তারা বুঝতে পারে- পৃথিবী চলে অন্য নিয়মে মনের নিয়মে নয় । দুই সন্তানের সংসার হতে দুই জনের জন্য দু-রকম তরকারী আসে ।বড় হিসেবী হয়ে যায় সন্তানেরা । ভাল – মন্দ খাবার হলেও একজনের জন্যই শুধু খাবার আসে তাতে দুজনের হয় না। বাড়ির পাশের কানা ফকিরের চেয়ে নিজেরদের বেশি অসহায় ভাবে তারা। তবুও তো দুজন আছে ।

এক সময় হটাত করেই যেন মরজিনা খাতুন মারা যায়, একেবারে একা হয়ে পরে নাজিম প্রামানিক । সন্তানরা বড় হবার পর সেই যে আলাদা করে নিয়েছিল নিজেদের, তার পর ও মরজিনা খাতুন যে ছায়ার মত ছিল, এই প্রথম সে বুঝতে পারে । সকালে পড়ার জন্য কোরআন শরিফ জায়গা মত গুছিয়ে রাখা, শরবত, খাবার দেওয়া সব যেন আগের মত হয় না । যে ঘরে নাতি- নাতনীদের কোলাহলে ভরে থাকতো, সে ঘর আজ বড়ই বোঝা হয়ে চেপে বসেছে তার মনে । যে বাড়িকে সব চেয়ে আপন মনে করত, সে বাড়ীতে তার মন টেকে না । এখন শুধু স্ত্রীর কবরের পাশে বসে থাকে সে ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন