বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৫ জানুয়ারী ১৯৮১
গল্প/কবিতা: ৩৩টি

সমন্বিত স্কোর

২.৮

বিচারক স্কোরঃ ১.৪ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৪ / ৩.০

প্রেম পণ্য

প্রেম ফেব্রুয়ারী ২০১৭

প্রতীক্ষায় থাকি

আমার আমি অক্টোবর ২০১৬

ভ্রান্ত ভোমর

ঘৃণা সেপ্টেম্বর ২০১৬

শিক্ষা / শিক্ষক (নভেম্বর ২০১৫)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.৮ একজন ফজু মাষ্টার

আল- আমিন সরকার
comment ৬  favorite ২  import_contacts ৩৭০
আযান দেওয়ার সাথে সাথে ঘুম থেকে উঠেন তিনি । রাত গভীর হওয়ার আগেই ঘুমোতে যান । তার এ নিয়মে কখনো পরিবর্তন হয়নি । ছাত্রদের ও সারা জীবন এই শিক্ষাই দেন- “তাড়াতাড়ি ঘুমোয় যারা, তাড়াতাড়ি যে ঘুম থেকে উঠে, অভাব হয় না তার - স্বাস্থ্য সম্পদে”। নিত্যদিনের সঙ্গী তার বাই – সাইকেল, পরিষ্কার করেন নিয়মিত । চাকুরীর প্রথম দিকে কেনা ফনিক্স ব্রান্ডের এই সাইকেল । অনেক জায়গায় বদলি হতে হয়েছে তাকে । যখন কাঁচা পথ ও ছিল না গ্রামে , তখন তাকে লজিং থাকতে হয়েছে - স্কুলের আশে পাশে কোন গ্রামের প্রধানের বাড়ীতে । সে সময়ের কথা মনে পড়ে যায় তার- শিক্ষার প্রতি গ্রামের মানুষের তেমন কোন ঝোঁক ছিলনা । সে সময় মেয়েতো দূরে থাক, ছেলেদের ও স্কুলে দেখা যেত কম । স্কুল গুলো ছিল অনেক দূরে দূরে । সে সব দিনে অভিভাবকদেরকে বুঝাতে হত শিক্ষকদের, ছেলে – মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে । একদিন বৈঠক খানায় সবাই বসে আছে , মাতব্বর সাহেব ও আছেন । একটি প্রস্তাব সাহস করেই রাখলেন ফজু মাষ্টার, মাতব্বর সাহেবের কাছে ।
“আপনার মেয়েটাকে স্কুলে পাঠান, এতো সুন্দর ফুটফুটে মেয়েটি” – বলে ফজু মাস্টার ।
“ কি বললেন মাস্টার সাহেব, শুনতে পাই নাই ?” –হুঁকা টানতে টানতে বলেন মাতব্বর বজলে প্রামাণিক ।
“ না বলছিলাম কি ? একজন মহা মানবের কথা আছে – একজন শিক্ষিত মা দাও, শিক্ষিত জাতি দিব । তাই বলছিলাম কি আনো মা মনিকে যদি স্কুলে পাঠাতেন” – বলে ফজু মাষ্টার ।
“ দেখো বাবা, আমরা তো কৃষক মানুষ মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে কি হবে ? ১২ – ১৩ বছর বয়স হলে ওকে বিয়ে দিয়ে দেব , আমাদের বংশের রীতি আছে যত তাড়াতাড়ি পার মেয়েকে সৎ পাত্রে পাত্রস্থ করতে হবে” – বলে বজলে প্রামাণিক ।
“এখন ও তো ওর বয়স কম আছে । অন্তত ৩ থেকে ৪ ক্লাস পড়তে পারবে আর আমি নিজে দায়িত্ব নিচ্ছি সকল লেখা পড়ার জন্য” – বলে ফজু মাষ্টার ।
আচ্ছা তুমি যদি দায়িত্ব লেও তা হলে আমি চিন্তা করে দেখতে পারি - বলে বজলে প্রামাণিক ।
এভাবেই আগের দিনে ছাত্র – ছাত্রী সংগ্রহ করতে হতো ফজু মাষ্টারের মত সকল শিক্ষককে । কারন তারা জানতেন- জ্ঞানের আলো না জালালে সত্যিকার মুক্তি আসবে না জাতীয় জীবনে । যদি ও তারা শিক্ষাদানকে নিয়েছিলেন মহান ব্রত হিসেবে। আজকে যারা দেশ পরিচালনা করছে । জাতীয় আর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদান রাখছে , তারা তো এই ত্যাগী, আত্ম-ভোলা মানুষ গুলোর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল । দিন বদলে গেছে- এখন লেখা – পড়ার বিষয়ে সবাই সচেতন । আজ ও ফজু মাষ্টারের দিন কাটে ছাত্রদের পড়িয়ে । আগে কাঁচা রাস্তা, পড়ে পিচ ঢালা পথে বাই- সাইকেলে চড়ে শিক্ষা দান জারি রেখেছেন তিনি । শুধু চোখে লাগিয়েছে পুরো – চশমা আর পায়ে প্যাডেল মাড়ার শক্তি কমে এসেছে । যখন কোন প্রতিষ্ঠিত ছাত্রের সাথে দেখা হয়, সালাম জানায় তারা - তখন গর্বে ভরে উঠে তার হৃদয় আর দু- চোখ বেয়ে আনন্দাশ্রু ঝরে পড়ে । মনে মনে ভাবে তার পরিশ্রম বৃথা যায় নাই । যদিও তার নিজের ঘরের খবর রাখার সময় হয়ে উঠেনি কখনও ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন