বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ জুলাই ১৯৭৯
গল্প/কবিতা: ৩৫টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৭৩

বিচারক স্কোরঃ ১.৬৩ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.১ / ৩.০

কোমলতার পরম্পরা

কোমলতা জুলাই ২০১৫

স্বরের কোমলতা

কোমলতা জুলাই ২০১৫

বৈরী চিকিৎসা পদ্ধতি

বৈরিতা জুন ২০১৫

শ্রম (মে ২০১৫)

মোট ভোট ১৪ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৭৩ পণ্ডশ্রম

ডা: প্রবীর আচার্য্য নয়ন
comment ৭  favorite ০  import_contacts ৫০০
তপন দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে। কিন্তু তার উৎসাহ অনুপ্রেরণা দারিদ্র্যের যাতাকলে চাপা পড়েনি। তার মা বিভিন্ন ঝুটা কাজ করতো। সে যখন একটু হাঁটতে শিখেছে তখন থেকেই মায়ের সাথে কাজ করতো। বাসায় পানি নিয়ে যাওয়ার কাজ, দোকানে ভাত নিয়ে যাওয়ার কাজ, পরে একটা গ্যারেজে কাজ করার সুযোগ মিলে তার। তখন তাদের বস্তির কাছে একটা এনজিও স্কুলে নৈশকালীন অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করে স্বাক্ষর দিতে শিখে, বাংলা বানান করে পড়তে শিখে, দু-একটা যোগ বিয়োগ করতে শিখে। তার আগ্রহ দেখে এনজিও কর্মীরা তাকে উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের অন্তর্ভূক্ত করে। সেখানকার কর্মীদের সহায়তায় সে পঞ্চম শ্রেণীর সমমানের শিক্ষালাভ করে। পাশাপাশি গ্যারেজে তার দক্ষতায় সে একটা জায়গা করে নেয়। বেশ কিছু কাজ সে শিখে নেয়। গ্যারেজে কাজ করে মাঝে মাঝে সে যে বকশিশ পায় তা সঞ্চয় করে। এখন সে অল্প অল্প ইংরেজী পড়তে পারে। জীবন সংগ্রামে ক্রমাগত এগিয়ে যাওয়া তপন বুঝতে পারে তাকে আরো পড়ালেখা করতে হবে। জানতে হবে অনেক কিছু। যদিও এর মধ্যে অনেক অন্ধকার পথের হাতছানি সে পেয়েছে। মাদক পাচার, চোরাইমাল পৌঁছে দেয়ার কাজ, লোভনীয় অনেক প্রস্তাব তার কাছে এসেছে বারবার। এর কোনটাই তাকে ধ্বংসের পথে টেনে নিতে পারেনি। সে জানে এসব পথে সত্যিকারের মুক্তি আসে না। সে পারতপক্ষে কারো সাথে খুব একটা মেশে না। সারাদিন মন দিয়ে কাজ করে, কাজ না থাকলে বই পড়ে। নতুন নতুন বই পড়া তার নিয়মিত কাজে পরিণত হয়েছে। এই করতে করতে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসএসসি, এইসএসসি, ডিগ্রী শেষ করে তপন একজন স্বাধীন গাড়ী চালক। স্বাধীনভাবে সে ট্যাক্সি ক্যাব চালায়।

যত সহজে তার উন্নতির গল্প বলা হল বাস্তবে তার জীবন ততটা সহজ ছিল না। সে তার দুঃখের স্মৃতি আমাদের বলতে চায় না। অথবা ভুলে থাকতে চায়। গল্পের শুরুতে তার মায়ের কথা ছিল। কিন্তু পরে তা কোথাও নেই। এ থেকে আমরা বুঝতে পারি তার মাতৃবিয়োগ স্বাভাবিক নয়। অনুসন্ধান করে জানা যায় তপনদের বাড়ী ছিল গ্রামে। জমি ছিল, জায়গা ছিল। আদর্শ শিক্ষক ছিল তার বাবা। ভূমিদস্যুর কবলে পড়ে মৃত্যু হয় তার। মা করুণাময়ী তপনকে নিয়ে কোনক্রমে পালিয়ে আসেন শহরে। তার বয়েসও বেশী নয়। বিকৃতমস্তিষ্কের শরীরদস্যুদের নজর পড়ে তার উপর। শিকার হয় অত্যাচারের। সম্মানের সাথে প্রাণটাও হারাতে হয়। রয়ে যায় পিতৃমাতৃহীন অনাথ তপন। দীর্ঘদিন সে বঞ্চিত হয় তার শ্রমের মূল্য থেকে। অমানুষিক পরিশ্রমেও তার অস্তিত্ব বিলীন হয়নি। গ্যারেজের মালিক সামান্য কারণে তার উপর অত্যাচার করেছে। গ্যারেজের মধ্য‌ে ভাঙা গাড়িগুলোর সাথে ঘুমাতে হয়েছে তাকে। প্রচণ্ড মনোবল তাকে তিল তিল করে এগিয়ে নিয়ে গেছে। সম্ভাব্য সব ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করেছে। সে বলে অবস্থায় উন্নয়নের জন্য পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই। হোক তা শারীরীক কিংবা মানসিক, পরিশ্রম আপনাকে করতেই হবে। ড্রাইভিং এর পাশাপাশি একজন মোটিভেটর হিসেবে সে এনজিওতে কাজ করে এবং মানব সম্পদ উন্নয়নের উপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে।

দিনমজুরদের অবস্থার উন্নয়ন কেন ঘটে না এ প্রসঙ্গে তিনি(!) বলেন তাদের অধিকাংশই শুধু শারীরীক শ্রম দিয়ে থাকে সেই সাথে জ্ঞান অর্জন ও তার প্রয়োগের জন্য যে মানসিক শ্রম দরকার তা তারা করে না তাই তাদের অবস্থার উন্নতি হয় না। শ্রমিকের অধিকার, শ্রম আইন, শোষক, শোষিত সম্পর্কে তিনি বলেন প্রকৃতির দিকে যদি আমরা তাকাই তবে দেখতে পাই- অধিকার কেউ কাউকে দেয় না, সেটা অর্জন করতে হয়। আইন থাকা দরকার, তবে তার চেয়ে বেশি দরকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং তার সুষ্ঠু প্রয়োগ। আর শোষক ও শোষিত শ্রেণীর বিষয়ে বললেন এরকম কোন শ্রেণী নেই। শ্রমিক-মালিক বলে যে শ্রেণী দ্বন্দ্ব তার কোন ব্যবহারিক ভিত্তি নেই। বাস্তবে যা ঘটে তা হলো জ্ঞানী ও অজ্ঞানীর দ্বন্দ্ব। সমস্ত আঘাত এসেছে জ্ঞানীদের উপর অজ্ঞানীদের পক্ষ থেকে। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার জ্ঞান অর্জন না হচ্ছে ততক্ষণ কারো কোন অসুবিধা নেই। যেই আপনি জেনে যাবেন আপনার অধিকার সম্পর্কে, আইন সম্পর্কে, আপনার অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে, শক্তি সম্পর্কে, ওদের কৌশল সম্পর্কে তখনই আপনার উপর নেমে আসবে অত্যাচার, লাঞ্ছনা, গঞ্জনা ইত্যাদি। সে কথাই ভিন্নভাবে শোষক ও শোষিতের সংগ্রাম হিসেবে মানুষের সামনে তুলে ধরে একটা মহল মধ্যস্থতা করছে এবং নিজেদের সুবিধার সুব্যবস্থা করছে। দুটো পক্ষে মানুষকে বিভাজিত করতে পারলেই একটা মধ্যম পক্ষ সুবিধা নিতে পারে। অনেকটা বানরের পিঠা ভাগ করার মতো ব্যাপার। দুই পক্ষেরটাই ওরা খেয়ে নেয়। অতএব প্রকৃত জ্ঞান অর্জন না করা পর্যন্ত কোন সুবিধাবাদী মহলের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা যাবে না। তাঁর কথা শুনতে শুনতে মনে হল, শুধু তিনি নন, আমরা সবাই জানি কিভাবে আমাদেরকে ব্যবহার করে একটা মহল সুবিধা ভোগ করছে। তবু আমরা নিজেদেরকে ব্যবহার করতে দিই। আমাদের শ্রমের ফল ভোগ করছে অন্যদল আমাদের অজ্ঞানতার সুযোগ নিয়ে। তাই অজ্ঞানীর শ্রম আসলেই পণ্ডশ্রম।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন