বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ জুলাই ১৯৭৯
গল্প/কবিতা: ৩৫টি

আমার বাবা (জুন ২০১৫)

যারা বাবাকে দেখেনি

ডা: প্রবীর আচার্য্য নয়ন
comment ০  favorite ০  import_contacts ৭৪
যাদের বাবা ছিল না অর্থাৎ জন্মের পর বাবাকে দেখেননি অথবা বাবা কে সেটা জানেন না তাদের জীবনে যে সাফল্য তাতে বাবা না থাকার একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিষয়টা এমন যে তাদের প্রায় শুরু থেকেই কঠোর সংগ্রাম করতে হয়েছে যা পরবর্তীকালে বলিষ্ঠ অবদান রেখেছে। একজন মানুষপিতার পরিবর্তে তাঁরা পেয়েছেন বিশ্বপিতার অপার করুণা ও স্নেহ। পেয়েছেন জগৎপিতার সহযোগিতা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে। বাবা দিবসে পিতৃহীন শিশুদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলছিলেন সংগঠনের সভানেত্রী অনামিকা চৌধুরী। জগৎবরেণ্য কয়েকজনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন এঁরা প্রত্যেকে এক একটি জাতির কর্ণধার। কেউ দুই হাজার বছর, কেউ দেড় হাজার বছর পরেও জাতির নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। তাই আমাদের যাদের আব্বা জীবিত নেই তাদের শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে। মনে রাখতে হবে প্রত্যেকের পিতা কখনো না কখনো পৃথিবী থেকে বিদায় নেবে। ভেবে দেখ তোমাদের অনেক আত্মীয়েরও এমনই পিতৃবিয়োগ হয়েছে অথচ তাঁরা সুন্দরভাবে জীবনের সব কাজ সম্পাদন করে যাচ্ছে। বরং আমাদের ভালো কাজ আমাদের জন্মদাতার সুনাম বৃদ্ধি করবে। আমরা যদি বিখ্যাত হই লোকে বলবে অমুকের পুত্র বিখ্যাত হয়েছে কিংবা নিশ্চয় তার পিতা ভালো মানুষ ছিলেন। কেননা ফলেই বৃক্ষের পরিচয়। আমরা আম দেখে আমগাছ, কাঁঠাল দেখে কাঁঠালগাছ বলে থাকি। আবার সুস্বাদু হলে বলি এই গাছটার আম খুব মিষ্টি বা কাঁঠাল খুব ভালো। তাই নিজেদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যেন সবাই আমাদের নাম আনন্দের সাথে উচ্চারণ করে এবং দৃষ্টান্ত হিসেবে অন্যকে বলতে পারে।

সভানেত্রীর কথা খুব মন দিয়ে শুনছিল অনিমা। সে জানতো না তার বাবা কে? এজন্য তার মা-কে সমাজে অনেক নিন্দা সহ্য করতে হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অনেক জায়গার ফরম পূরণ করতে গেলে লজ্জা পেতে হয় যখন সে বাবার নাম বলতে পারে না। সে ভাবে একজন মানুষের বাবা নাম না জানাটা কি অপরাধ? যদি তার মা সেটা বলতে না পারে। যেমন যুদ্ধের সময় যাদের জন্ম হয়েছে, কোন দুর্ঘটনার ফলে যাদের জন্ম হয়েছে তাদের বাবার নাম লেখা বা না লেখার স্বাধীনতা কি থাকা উচিত নয়। এসব ভাবতে ভাবতে সে লক্ষ্য করলো আলোচনা সভা শেষ হয়েছে। এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনিমা গান গাইবে। সে বিখ্যাত গান আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, সেদিন থেকে গানই জীবন গানই আমার প্রাণ। অনিমার এই বাবা তার স্বপ্নের বাবা, বাস্তবে যাকে সে কোনদিন দেখেনি। তবু সে জানে মন্দ হোক ভালো হোক বাবা আমার বাবা। তার নাম ঘোষনা করা হয়েছে। সে গানের খাতা নিয়ে মঞ্চে চলে গেল। তাকে বিখ্যাত হতেই হবে। কিন্তু ...........
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন