বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ জুলাই ১৯৭৯
গল্প/কবিতা: ৩৫টি

বৈশাখ (এপ্রিল ২০১৫)

বৈশাখী ঢেউ

ডা: প্রবীর আচার্য্য নয়ন
comment ২  favorite ০  import_contacts ১৩১
অনুষ্ঠানটা ভালোই ভালোই শেষ করতে পেরে নিজেকে খুব হাল্কা মনে হচ্ছে- বিশাখা বলল। আমিতো সাংঘাতিক ভয় পেয়েছিলাম, যখন ঐ ছেলেগুলো হঠাৎ মেয়েদের ড্রেসিং রুমে ঢুকে পড়লো। মেয়েরা চিৎকার করে উঠলে আমি দৌঁড়ে গেলাম। বললাম- ভাইয়া এটা মেয়েদের ড্রেসিং রুম। আপনারা বাইরে যান। ওদের একজন বলল- ম্যাডাম আমরা দলের ছেলে। কোথাও যেতে আমাদের বাধা নেই। বাইরে খুব গরম। আমরা কিছুক্ষণ এখানে ফ‌্যানের নীচে বসে তারপর চলে যাবো। -কিন্তু এখানে অনুষ্ঠানের শিল্পীরা তাদের ড্রেস চেইঞ্জ করছে। আপনাদের জন‌্য ওদের দেরী হয়ে যাবে। আরেকজন বলল- ভাই আপনি এইখানেই বসেন। বললাম- আমি কিন্তু কমিটির লোক ডাকবো। এসময় দলের আরেকজন বলল-আপামণি বোধহয় ভাইকে চিনেনি। ভাইয়ের পোষ্টার দেখে নাই এমন কেউ অঞ্চলে আছে নাকি। যার টাকায় অনুষ্ঠান হয়, তারে দেখায় কমিটির ভয়। -উনার কথা শুনে আমি কিছুটা লজ্জিত হলাম। প্রচণ্ড চাপে আমি লক্ষ্যই করিনি উনি আমাদের প্রধান অতিথি। আমি বললাম আমাকে ক্ষমা করবেন। আপনারা বসুন। আমি ওদের বাইরে যেতে বলছি। এই বলে মেয়েদের বললাম- তোমরা কিছুক্ষণের জন্য বাইরে যাও। উনি মঞ্চে উঠলে তারপর চেইঞ্জ করো।- উফ! অনুষ্ঠান করার ঝামেলা কম না।

অনুরাধা বললো- আমারোতো একই সমস্যা। মেয়েদের জন্য সংরক্ষিত আসনগুলোর বেশিরভাগই খালি দেখে কয়েকটা ছেলে ওদিকে গিয়ে বসলো। কিছুক্ষণ পর একটা মেয়ে এসে আমাকে বললো- আপা ছেলেগুলো আমাদেরকে ডিসটার্ব করছে। আমি এগিয়ে গেলাম। পাশে দাঁড়িয়ে খেয়াল রাখলাম। দেখি একজন একটা কাগজে মোবাইল নাম্বার লিখে সামনে ছুঁড়ে দিচ্ছে। আমি সাথে সাথেই বললাম-আপনারা ঐদিকে গিয়ে বসুন। ওদের একজন বলল- আপনিতো দেখতে সুন্দর। কণ্ঠ এত কর্কশ কেন? বললাম- আপনারা কিন্তু ইভটিজিং করছেন। এটা এক ধরণের অপরাধ। ঐ সময় হিমেল, পল্লব, অশেষ দৌঁড়ে এল। বলল-কি হয়েছে অনুরাধা। আমি কিছু বলার আগেই দেখলাম ছেলেগুলো উঠে চলে যাচ্ছে। দিন দিন আমরা সভ্য না অসভ‌্য হচ্ছি বুঝতে পারছি না।

তোদের এবার বৈশাখের অভিজ্ঞতা মোটেই ভালো নয় দেখছি। মনে হয় রাশি নক্ষত্র খারাপ। আমার অবশ্য একটা মিশ্র অভিজ্ঞতা হয়েছে- বলল শ্রাবণ। দুজনেই কৌতুহল নিয়ে তাকাল।- আরে সেরকম কিছু না। ঐ যে ঐ ছেলেটা। ঐ সংগঠনের পরিচালক। ডোরাকাটা পাঞ্জাবী পড়ে এসেছিল। মনে নেই? আমরা বললাম- হ‌্যাঁ, হ‌্যাঁ, অনুষ্ঠানের শেষে আমাদের চা খাওয়ালো যে, ওর কথা বলছিস? - হ‌্যাঁ, ও কালকে আমার শাড়িটার খুব প্রশংসা করেছে। আমি বললাম- শুধু শাড়ি। নাকি শাড়ি পড়া মানুষটারও। শ্রাবণ বলল- যা! তুই একটা কি। অনুরাধা আরেকটু বাড়িয়ে বলল – ও, তাহলে তোর মনে বৈশাখী ঢেউ লেগেছে। দেখিস যেন আবার ভাসিয়ে না নিয়ে যায়.....
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন