বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৫ জুন ১৯৮০
গল্প/কবিতা: ১২টি

সমন্বিত স্কোর

৫.২৭

বিচারক স্কোরঃ ৩.৩৮ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮৯ / ৩.০

ওপেনটি বায়াস্কোপ

প্রেম ফেব্রুয়ারী ২০১৭

বাতাসের ছুরি

ঘৃণা সেপ্টেম্বর ২০১৬

বৃষ্টি ঘ্রাণে ভেজা জোনাকি রাতের গল্প

ভৌতিক নভেম্বর ২০১৪

কৈশোর (মার্চ ২০১৪)

মোট ভোট ৪৪ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৫.২৭ 'ন' আকারে না

সাদিয়া সুলতানা
comment ৪২  favorite ৪  import_contacts ১,১৬৫
ক. দৌড় দৌড়

তুলি দৌড়াচ্ছে না তো যেন উড়ছে। ঝড়ো বাতাসের তান্ডবে যেমন ঝরা পাতা উড়ে উড়ে যায় তেমনই ভয়ের প্রচণ্ডতায় তুলি ওড়ার মতো করে দৌড়াচ্ছে। ওর দু'টো পা যেন দু'টো ডানা। এ যেন দৌড়ের রূপান্তর ওড়া। দৌড়ে পালানো যায়, কিন্তু পালিয়ে বাঁচা কঠিন তা কিশোরী তুলিও বুঝতে পারে। তবু ওর উপলব্ধির ধরণ এখন বদলে যায়। দু'পায়ের গতি বাড়িয়ে দিয়ে তুলি পাখির মতো উড়তে থাকে। তুলির গ্রামে অদ্ভুত এক পাখির ঝাঁক থাকে। দল বেঁধে চলা সেই পাখির নাম সাত ভাই চম্পা। তুলি সাত ভাই চম্পার ঝাঁকে নেই। তবু এখন উড্ডয়নপ্রিয় পাখির মতোই তুলির পায়ের গতি। ধীরে ধীরে সেই গতি বাড়ছে।
গতিময় তুলিকে এখন মাথার ঝুঁটির দুরন্তপনায় অদ্ভুত মায়াময় লাগছে। ও যেন কাকাতুয়া! দৌড়ের তোড়ে একসময় তুলির মাথার ঝুঁটি খুলে যায়। পিছনে ফিরে তাকায় তুলি। তুলির দুরন্ত পায়ের সাথে ছয়টি পায়ের দূরত্ব ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে। তবু তুলি নিশ্চিন্ত হতে পারে না। ও বুঝে গেছে আরও জোরে ছুটতে হবে নতুবা তীরন্দাজের তীর ওর বুক ফুঁড়ে বেরিয়ে যাবে। তারপর! কী হবে জানে না তুলি। শুধু জানে এই বিপদসীমা পার হতে হবে তবেই দৌড়ের পরিসমাপ্তি ঘটবে।
তুলির বুক ধড়ফড় করে। তবুও দৌড়েই চলে। তুলি থামবে না। তুলির দুরন্ত কৈশোরে থেমে থাকা নেই। বালুচরে ঘুরে বেড়ানো, কাদায় লুটোপুটি, গাছে চড়া, নৌকা বাওয়া, আট ঘাঁট বেঁধে দলে বলে পাড়া বেড়ানো যাতে বাঁধ সাথে শুধু মায়ের কারণ-অকারণ খবরদারি আর নজরদারি। এইবেলা যাইস না। ওইদিকে যাসই না। এত জোরে হাসিস না। গায়ে ওড়না নে। চুপ কইরা বস। এই কয়দিন দোরের বাইরে যাবি না। তুলির রোজনামচায় মায়ের 'ন' এ আকার এর ব্যাপক ব্যবহারও তুলিকে থামাতে পারেনি। সব ব্যাকরণ অমান্য করে তুলিও চলে সৃষ্টি ছাড়া এদিক ওদিক। ওর সেই অবাধ্য ঘোড়ায় সওয়ার হওয়াটা আজ কী করে যেন কাজে লেগে গেল! তাই বুঝি ক্লান্ত তুলিও পথ ভেঙে ছুটছেই...ছুটছেই।
তুলির গতিময়তা ওকে বিপদসীমা থেকে যোজন যোজন দূরত্বে এনে দাঁড় করিয়েছে। এখন এক কদম দূরেই তুলিদের বাড়ি। বড় ঘরের সামনে এসে তুলি লম্বা করে শ্বাস নেয়। খুব পানি পিপাসা পেয়েছে ওর। একটু আগে এত বড় বিপদেও ওর মৃত্যুর কথা মনে হয়নি অথচ এখন মনে হচ্ছে পানি খেতে না পেলে তুলি মরে যাবে। ঘামে ভিজে কামিজ গায়ের সাথে লেপটে আছে। মা দেখলে বকুনি অবধারিত। বাড়ির নিস্তব্ধতা ভেঙে অকস্মাৎ মায়ের কণ্ঠের চিন্তাযুক্ত প্রশ্ন ও না বোধক বাক্যসমূহের পুনরাবৃত্তি শোনা যায়, হুড়পাড় কইরা কোনখান থেইকা আইলি? ইস্কুলে না গেলি? কই যে, ধিঙ্গি মাইয়া দৌড়াইস না...শুনবি না...বিপদে পড়লে বুঝবি!!!
বিপদ! তুলি চট করে পিছনে তাকায়। বিপদকে ফাঁকি দিয়েছে দুরন্ত তুলি! তুলি হাসে। মায়ের বুক কাঁপিয়ে আবার সেই ঝলমলে হাসি। মা ছুটে এসে কান দু'টো টেনে দেয়, কই যে এমন হাসিস না...। তবু তুলি হাসে। ওর হাসির শব্দে দুপুরের কড়কড়ে রোদ ঝুপ করে ডুব দেয়। উঠোন জুড়ে যেন হাসির মোহময় ছায়া নামে। মাকে জড়িয়ে ধরে তুলি। এত হাসিস না মা...হাসিস না...। তুলি মায়ের মিনতি শোনে না। মায়ের স্থায়ী-অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করতে ওর বেশ লাগে।

খ. দৌড়ের আগে

ঘটনার আকস্মিকতায় তুলি বিমূঢ় হয়ে যায়। ওর পা চলে না। ওরা যেন তুলিকে অন্ধকার গহ্বরে নিক্ষেপ করবে। ওদের ইচ্ছা বুঝতে পেরে তুলির ইচ্ছাশক্তি ক্ষণিকের জন্য বিলুপ্ত হয়ে যায়। বিপর্যস্ত তুলিকে দেখে বাতাসে ধ্বনি ছড়িয়ে ওরা হাসতে থাকে। কী দুর্বিসহ সেই হাসির শব্দ! ওদের কুৎসিত চেহারা আর বীভৎস হাসি যেন তুলির কর্ণকুহরে গরম সীসা ঢেলে দেয়। তুলি কী করবে বুঝতে না পেরে পায়ের কাছে পড়ে থাকা আধখানা ইট তুলে নেয়। যেন কাছে এগোলেই ও থেঁতলে দিবে ওদের নখ, দাঁত, মুখ। ভালো করে সামনে তাকায় তুলি। এইবার ওদের হিংস্রতা আর ফোঁসফোঁসানিতে ওর মানসিক বোধই থেঁতলে যায়। বোধ-বুদ্ধিহীন জড়ের মত তুলি দাঁড়িয়ে থেকে শ্বাপদের পদচারণা দেখতে থাকে। ক্ষণিকের জন্য তুলি বিপণ্ন বোধ করে।
নৌকা করে জলাভূমি পার হয়ে সকালে যখন স্কুলে যাচ্ছিল তুলি তখনও ছেলে তিনটি কড়ই গাছের গায়ে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে সযতনে সিগারেট ফুঁকছিল। সিগারেটের ধোঁয়া তুলির শরীর ছুঁতেই ওর মনে হয়েছিল, শুঁয়োপোকা শরীর বেয়ে উঠে যাচ্ছে। সারা শরীর শিরশিরিয়ে উঠেছিল ওর। পারুল, জোছনার হাত ধরে তুলি সেই ধোঁয়া থেকে বের হয়ে গিয়েছিল। স্কুলের দপ্তরির ঘন্টার আওয়াজে বুঝে গিয়েছিল নিরাপদ মাটিতে পা ঠেকেছে। আবার ছুটি শেষে ঢং ঢং শব্দের তাড়নায় তুলি দৌড়াতে থাকে। তখনও বোঝেনি পেছনে সিগারেটের ধোঁয়া কুন্ডলি পাকিয়ে তুলির পিছু ধাওয়া করছে।
ফেরার সময় জলাভূমির ওই পাড়ে আবার ছেলে তিনটি। তুলি ঘাবড়ে যায়। ভয়ের ঢেউ ছোট্ট বুকে আছড়ে পড়ে। কিন্তু কিনারা পায় না। তুলি পা বাড়ায়। হঠাৎ ছেলেগুলোর পৌরুষের আড়ালে থাকা আদিম ক্ষীপ্রতা তুলির পথ আটকে দেয়। ওদের উদ্দেশ্যময় দৃষ্টিতে তুলি আহত হয়। আবার শরীরে শুঁয়োপোকার উপস্থিতি টের পায়। ছেলে তিনটি হাসছে। হাসির তোড়ের সাথে শরীরের অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি। যেন ধীরে ধীরে খোলস পাল্টায় কাল সাপ। একজন গোঙানির মতো করে বলে ওঠে, বহুত মজা হইবো রে...। তুলি হাতের ইট'টি ছুঁড়ে মারে। কিন্তু ওরা যেমন জানে ওদের নিশানা, তুলি তো জানে না। তাই ইটের ভাঙা টুকরোটি লক্ষ্যহীন ভাবে মাটিতে পড়ে যায়।
শীত শেষে গাছের বিবর্ণতায় পায়ের নিচে ঝরা পাতার সারি। পায়ের নিচের পাতার মর্মর তুলির লুপ্ত চেতনাকে ঝাঁকি মারতেই তুলি দৌড় শুরু করে। আচমকা উচ্চ হাসির রোল চাপা পড়ে যায়। এক সময় পায়ের নিচে ঝরা পাতা চাপা পড়তে থাকে। খাঁচায় বন্দি পাখির উড়ে চলার দৃশ্য ছেলে তিনটিকে বিহ্বল করে তোলে। তাই তুলির গতির সাথে ওরা পেরে ওঠে না। তুলি দৌড়ায়। ছেলে তিনটিও দৌড়ে চলে।
ঘাস, ঘাসফুল মাড়িয়ে ও ছুটেই চলে। সবুজ কামিজের উড়ন্ত অংশগুলো দেখে মহাসড়কে দাঁড়ানো কেউ বুঝি ভেবে বসে, দারুণ এক পাখি তো! সত্যি সত্যি এক সময় তুলির শরীর পাখির গতিময়তা পেয়ে যায়। ছুটন্ত তুলির কানে কানে না এসে মা বলে যায়, ধিঙ্গি মাইয়া এমন কইরা দৌড়াইস না...। মায়ের কণ্ঠ আবেগে থরথর করে। মায়ের নিষেধাজ্ঞা মানতে অভ্যস্ত তুলি দৌড়েই চলে। যে ঘাসের মধ্যে তুলির শিশুকাল বিছানো ছিল সেই ঘাস মাড়িয়ে তুলি ছুটে চলে। সবুজ ঘাসের সাথে পিষ্ট হয় ওর বাল্যকাল। পথ বদলে এক সময় শুরু হয় ফসলী মাঠ। এ তো গাঁয়ের এবড়ো খেবড়ো সড়ক না। এ হচ্ছে ফসলী মাঠ। যার আইল খোঁজার সময়ও পায় না পঞ্চদশী তুলি। বেকায়দা পড়ে যেতে যেতে তুলি সামলে নেয়।

(গ) শৈশব আর কৈশোরের দুরন্ত দূরত্ব

পোড়ামাটির ছাঁচে বাহারি নকশি পিঠা তৈরি করে মা, অথচ সেই ছাপচিত্র তুলির শরীরে দৃশ্যমান হয়। শরীরের বেয়াড়াপনায় তুলি যখন অস্থির, তখন মায়ের চোখ অন্যদের বেহায়াপনা সামাল দিতে ব্যস্ত। যখন থেকে তুলির অপরিণত দেহ সুনির্মল লাবণ্য ধারণ করা শুরু করেছে তখন থেকেই মায়ের ঘোরতর দৃষ্টিবন্দি সে। দিন যায়। তুলির শরীরে ঝলমল করে নব সুষমা। যেন কোনো অভিজ্ঞ শিল্পীর তুলির আঁচড় সেই সুষমাকে আরও মধুময় করে। তুলি টের পায় শৈশবের সাথে বিস্তর ফারাক এই নতুন বেড়ে ওঠার। তুলি ছটফট করে। কারণে-অকারণে তুলি খিলখিল করে হাসে। কখনো কাঁদে। কিন্তু সেই কান্না এত ক্ষণস্থায়ী যে মাকে বিচলিত করে না। ছলছল কান্না শেষ হতে না হতেই ঝলমল হাসি। সেই সাথে মায়ের মুখ ও খলবল করে ওঠে।
আয় তৈ তৈ...আয় তৈ তৈ। উঠোন জুড়ে হাঁটে মা আর মুরগির দলকে ডাকে। মাঝে মাঝে হাঁক পেড়ে তুলিকেও ডাকে। কিন্তু তুলিকে পাবে কোথায়! তৈ তৈ ছন্দময় ডাকের সাথে ও তখন থৈ থৈ নৃত্যে মশগুল। তুলিকে না পেয়ে মা বুঝে যায়, মেয়ে আবার দস্যিপনা করতে বের হয়েছে। মায়ের কাতর ডাক উপেক্ষা করে তুলি উপভোগ করে ওর বেড়ে ওঠা। উঠোনের গুমোট ভাব কেটে যায় তুলির অকারণ হাসির শব্দে। কী সব বলে বলে, জোছনার গায়ে ঢলে পড়ে আর হাসে। মা সেদিকে আড়ে আড়ে তাকায়। এই বয়সে এই হাসির ছলের পরিণতি ভাল না তা যেন মায়ের চেয়ে বেশি কেউ বোঝে না! তবু দিনভর তুলি হাসে। স্কুল থেকে ফিরে নিয়ম করে পাড়া বেড়িয়ে চুল বাঁধতে বসে আর ক্ষণে ক্ষণে মায়ের উদ্বেগে মজা পায়। মা যেন কিচ্ছুটি বোঝে না, তুলি বোঝে সব! চিরুনির শাসন ছাড়িয়ে খোলা চুল অন্ধকারের মতো তুলির সারা পিঠে ছড়িয়ে পড়ে। আর মেয়ের চুল বাঁধার আয়োজন দেখে সেই অন্ধকার মায়ের কপাল জুড়ে বসে।
তুলি সেই অন্ধকার দৃশ্য চোখে দেখে না। আয়নায় ও মুগ্ধ হয়ে নিজেকে দেখে। আর ভাবে কষে চুল বাঁধার পর কপালে একটি লাল টিপ পড়লে বেশ হয়। এক ছুটে ঘরে যায়। সাদা টিপের পাতা দেখে বুক জুড়ে অভিমান। ও বেলা ফেরিওয়ালা আসতেই দুপুরের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়। মাকে কব্জা করে বিশ-তিরিশ টাকা নিয়ে টিপের পাতা, চুড়ি, কাজল কিনে নিয়ে তুলির হাসি আরও বেড়ে যায়।
ফলস্বরূপ রাতে পাতে শোল মাছের ঝোলে গাদি খানেক ঝাল হলেও সেই ঝাল খেয়ে কান্নার বদলে হাসতে হাসতে তুলির চোখে পানি চলে আসে। সকালে গরম গরম ভাপা পিঠা খেতে গিয়ে ঠোঁট জিহবা লাল হয়ে যায়। সেই জ্বলন্ত মুখ নিয়েই আবার তুলির হাসির ঢেউ! মা রান্না ঘরে দরজা টেনে সেই হাসির শব্দ আড়াল করে। বারবার কই ধামড়ী ছেড়ি হাসিস না এত...। আবার সেই না এর পুনঃউচ্চারণ তুলির হাসির নতুন খোরাক জোগায়। উঠ ছেড়ি এভাবে শুবি না, পায়জামা উঠে আছে হাঁটু অবধি। পায়ে খ্যাতা চাপা দে। অবেলায় মাঠের ধারে যাইস না। না…না। মায়ের অভিধান জুড়ে যেন একটিই শব্দ!
কখনো কখনো মায়ের গলায় অনুনয়ের বদলে ঝাঁঝ। বাপে ফিরুক আইজ, তোর একদিন কী আমার একদিন। কোনো কথা কানে যায় না। সেই কখন গেলি বাইরে! এতক্ষণে আইলি। একা বাড়ির বাইর হইস না। এহন বড় হইতাছস না! তুলিও মনোযোগী ছাত্রীর মতো শব্দ পাঠ প্রতি উচ্চারণ করে, না...না...না। ওর বেশ লাগে। না...না...না। তুলির না শুনে মা কাঁদে।
আজকাল না এর সাথে নতুন উপসর্গ যোগ হয়েছে। কিছু হলেই মা ইনিয়ে-বিনিয়ে কাঁদে। আসলে তুলির উপর ন আকারে 'না' শব্দের প্রয়োগ ঘটাতে ব্যর্থ হয়ে মা কাঁদতে বসে। সে আরেক মজার বিষয়। শীত রাত্রিতে জমে ওঠা পুঁথির কেচ্ছার মতো সেই কান্নায় ছন্দময়তায় তুলি তুমুল হাসে। মায়ের বিলাপ আর কান্নার মিশ্রণে এক হাস্যকর সুরসঙ্গমের সৃষ্টি হয়। তুলির বড় অদ্ভুত লাগে সেই সুরের খেলা। মাকে খুশি করতে তুলি একসময় চুপ করে। কিন্তু কী অদ্ভুত! মায়ের কথামত শৈশব আর কৈশোরের দুরন্ত দূরত্ব মাপতে গিয়ে উলটো ফলাফল হয়! বেড়ে ওঠার নতুন আনন্দে তুলি ভেসে যায়। আহা…কী আনন্দময় সে ভেসে যাওয়া!

ঘ. দৌড়ের শেষ নেই, না এর ও শেষ নেই

সামনে তিন জোড়া পা। তুলি থমকে দাঁড়ায়। মায়ের কাছে শতবার শোনা একটি বর্ণে সৃষ্টি 'না' শব্দটি তুলির কাছে আজ প্রথমবারের মতো অর্থবোধক হয়। কিশোরী তুলি যেন আজ মুহূর্তেই বড় হয়ে যায়। একটি শব্দের গভীরতা ওকে বয়সের হিসেব বুঝিয়ে দেয়। সামনে তাকিয়ে তুলি ঠিক বুঝে যায়, দৌড়ের যেমন শেষ নেই, তেমনই না এর ও শেষ নেই।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন