বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১০ অক্টোবর ১৯৮০
গল্প/কবিতা: ২৮টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

রজব বৃওান্ত

প্রেম ফেব্রুয়ারী ২০১৭

আলোর আশ্রয়

ঘৃণা সেপ্টেম্বর ২০১৬

কাকতাড়ুয়া

প্রায়শ্চিত্ত জুন ২০১৬

রাত (মে ২০১৪)

নক্ষত্র ঝরা রাত্রে

আশরাফ উদ্ দীন আহমদ
comment ৩  favorite ০  import_contacts ৫৪৭
বদ্ধ জানালা খুলে দিলো পরিতোষ, রাত্রি অনেক হলেও বোঝা যাচ্ছিলো না, বাইরের পৃথিবী আরো যে সুন্দর সে চোখও তো রাখতে হবে, জ্যোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছে চরাচর। এতো আলো এতো লাবণ্য কোথায় ছিলো, সত্যিই তো মানুষ কবি হয় জ্যোৎস্নার স্নিগ্ধতা গায়ে মেখে, আকাশ জুড়ে চাঁদের বাসর, আরো লাবণ্য চুঁয়ে-চুঁয়ে পড়ছে লক্ষ-কোটি তারকার বন্যায়, চাঁদের আলো-রূপ-রস গায়ে নিতে কার না লোভ হয়, শীতল এই জ্যোৎস্নায় মনটা বাঁধন মানে না। পরিতোষ নিজেকে আটকে রাখতে পারে না, অনেকক্ষণ জানালার শার্শি ধরে দাঁড়িয়ে থেকে বিচিত্র আনন্দকে উপভোগ করে নিজের বিছানায় ফিরে আসে, শরীরটাকে এলিয়ে দেয় তারপর, চোখ আধোঁ বোঁজা রেখে কি যেন ভাবতে থাকে আকাশ-পাতাল। ভাবনাটার রেশ যেন যায় না, অনেক-অনেক ভাবনায় ডুবতে থাকে, ডুবতে-ডুবতে নিজেকে নিয়ে কোথায় হারিয়ে যায়, কিছুই জানে না।
টুলটুল বউদি এখন আর তেমন ভাবে পরিতোষের খবর রাখে না। কেমন একটা গা ছাড়া ভাব, সর্বদা কি যেন ভাবে, ওর ভাবনারও শেষ নেই। পরিতোষ জানে, টুলটুল বউদি নিজেকে বড় বেশি গুটিয়ে রাখে আজকাল, এটা কি বয়সের কারণে নাকি লোকচক্ষু বা বিবেকের দর্শনের কারণে, অতো খোঁজ রাখা হয়নি।
পরিতোষ অনেকগুলো কোম্পানি বা সংস্থায় চাকুরী করেছে, অথচ কোনোটাতেই মন বসাতে পারেনি, জীবনে অনেক মেয়ের সান্নিধ্যে গেছে নিবিড় করে কাছে পেয়েছে, কিন্তু চিরস্থায়ী করতে পারেনি, অর্থাৎ সিঁথিতে সিঁদুর দিয়ে একমাত্র নিজের করে পেতে পারেনি, একটা ইনস্যুরেন্সের প্রথম কিস্তির কিছু টাকা রেখেছিলো, তারপরের বছর কিস্তি আর দেয়নি অর্থাৎ তার পরের বছরও খোঁজ খবর নেয়নি, জীবনটা তার এলোমেলো কবির কবিতার মতো, পৈত্তিকসূত্রে পাওয়া বাড়িটা তার একমাত্র নিজের এখন, বন্ধু বলতে টুলটুল বউদি ছিলো, এখন সেও দূরে-দূরে থাকে, কেমন চোখে তাকায়, সমবয়সী হলেও টুলটুল বউদির মেয়ে রোকসানার গতবছরের বিয়ের সময় পর্যন্ত বউদিকে কেমন তম্বী-তনয়া মনে হতো, মাঝে শরীরখানা ভেঙে যায় এবং অস্থি-মজ্জায় কেমন জং ধরা ভাব বিরাজ করে।
রোকসানার বিয়ে হলো আচমকা, পরিতোষ দেশের বাইরে ছিলো কয়েক মাস, ছেলেপক্ষ দেখতে এসে একেবারে পছন্দ করে তারপর কলেমা। ছেলেও মন্দ নয়, যে কারো পছন্দের, ব্যাংকের জুনিয়র কর্মকর্তা, ভালো রোজগার,কার না ভালো লাগে, টুলটুল বউদির বরাবরই ইচ্ছে ছিলো রোকসানার বিয়ে মুসলমান পরিবারেই দেবে, একসময় পরিতোষের ইচ্ছে ছিলো রোকসানাকে নিজের করে নিজের কাছে রাখার, সিঁথির সিঁদুর পরিয়ে যেভাবে রাখলে কেউ আর টু শব্দটি করবে না। একেবারে সাতপাঁকে ঘুরিয়ে যাকে বলে বিয়ে, ঢাকঢোল পিটিয়ে বামুন-ঠাকুর এনে লোকজন নিমন্ত্রণ করে যাকে বলে সত্যিই বিয়ে আর কি। সেভাবেই করতে চেয়েছিলো কিন্তু টুলটুল বউদি রাজী হয়নি, মুখে তেমন কিছু না বললেও কেমন একটা হাব-ভাবে বুঝিয়ে দিতো সব কিছু তারপর। বন্ধুর সাথে বিয়েটা বড় কোনো ব্যাপার ছিলো না, ব্যাপার হলো ওই একটা ধর্ম, ধর্মই মানুষকে আসলে স্বতন্ত্র করে রেখেছে, পরিতোষ যা চেয়েছিলো ওই ধর্মের কারণেই সব কিছু ভেস্তে গেলো, কিন্তু পরিতোষ এমনও বলেছিলো, প্রয়োজন হলে সেও মুসলমান হতে রাজী, তখন তো কোনো আর ঝামেলা থাকবে না। তারপরও টুলটুল বউদি কোনোরকম সাড়া দেয়নি। রোকসানার সঙ্গে পরিতোষের একটা সম্পর্ক হউক বউদি তা চায়নি তাই বিড়ালের ভাগ্যে মাছের শিকেটি ছেঁড়েনি, এতে পরিতোষ সত্যসত্যিই মনেপ্রাণে ভেঙে যায়, একটা মেয়ে মানুষের কাঁচা মাংসের জন্য নয়, একটা বিয়ের জন্য নয়, সে তো ইচ্ছে করলে শহরের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েকে বিয়ে করে বউ সাজিয়ে আনতে পারে, তাতে কেউ কোনো আপত্তি করবে না, অথচ তাকে পুরোপুরি বুঝেও বুঝলো না টুলটুল। ওর আশ্রয়ে দু’ দুজন মানুষ থাকলো, ভালোভাবে জীবনটাকে অতিবাহিত করলো কিন্তু উপেক্ষাও কম করলো না, এটা কি একটা জীবন হলো, জীবন কেনো এমন ভাবে সাজানো হলো তার জন্য।
পরিতোষ কিছুই পায়নি বললে যেমন ভুল হবে আবার অনেক পেয়েছে বললেও নেহাৎ ঠিক বলা হবে না। একটা লেজে- গোবরে জীবন তার, বিলকুল খাপছাড়া, মাটির নাগাল পায় না যেন। সুখ কি তার তো হদিশই পেলো না আজো। একটা মাতালের মতো শুধু পৃথিবীটাকে দেখেই গেলো, পৃথিবীর রঙ-গন্ধ-রস নেওয়াটা আর হলো না। হয়তো হয়েছে কিন্তু সবটা চেখে দেখার স্বাদ মেটেনি, আরো বাকি, আরো অনেক কিছু করার ছিলো অথচ করেনি।
টুলটুল বউদি স্কুলের শেষ সিঁড়িতে উঠেই পালিয়ে যায় পাশের বাড়ির ছেলে শাকিলের সঙ্গে, সেও তখন ইউনিভারসিটির ছাত্র, টুলটুলের বাবা-মা-দাদা আত্মীয়-স্বজনরা মানতে পারেনি, শাকিলের পরিবার অবস্থাপন্ন,খানিকটা উদার প্রকৃতির, হিন্দু ঘরের মেয়েকে মানতে কোনো সংকোচ করেনি, বছর ছয়েকের মাথায় শাকিলের মরণব্যাধি আঘাত হানে এবং ক্রমে-ক্রমে নিঃশেষ করে দেয়।
শাকিল মারা যাওয়ার পরও শাকিলের পরিবার ধরে রাখতে চেয়েছিলো টুলটুলকে, কিন্তু সে পরের গলগ্রহ হয়ে থাকতে চায়নি, এমন কি অন্যের পয়সার দিকে না তাকিয়ে নিজেই জীবন সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়। উচ্চমাধ্যমিক পাশটুকুকে সম্বল করে একটা চাকুরী জুটিয়ে নেয়। সাড়ে চার বছরের রোকসানাকে বুকে নিয়ে গন্তব্যহীন পথে পাড়ি দেয়,তার চলা নিজের সাথে, নিজের সঙ্গেই আজীবন যুদ্ধ, কারো ঘাড়ে চেপে থাকতে না চাওয়ার প্রত্যয় নিয়েই পথের অন্সেসান। চলতে পথে অনেকের সঙ্গে দেখা হয়, অনেক-অনেক মানুষ হাত বাড়িয়ে কাছে টানতে চায়, কিন্তু টুলটুল কারো ডাকে নিজেকে বিলিয়ে দেয়নি। কিন্তু একদিন চলার পথের বাঁকে একটা নদী এসে দাঁড়ায় সামনাসামনি, সে নদী হলো উঠতি যৌবনকালের আরেক বাল্যবন্ধু পরিতোষ, পরিতোষ কিছু একটা বলতে চেয়েছিলো, কিন্তু বলতে পারেনি, বলবার জন্য বারবার ওর ঠোঁট দুটো কেঁপে-কেঁপে ওঠে, একটা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তার মধ্যে প্রবলভাবে মাথা তুলে দাঁড়ায়, শাকিলের স্মৃতি মুছে ফেলতে পারেনি আর তাই নতুন করে ঘর বাঁধার স্বপ্নটাকে মনের কোণে বাসা বাঁধতে দেয়নি।
শাকিলের পরিবারও চেয়েছিলো,ওদের পরিবারের অন্য কারো সঙ্গে নতুন করে বিয়ে দিয়ে টুলটুলকে ওই পরিবারেই রেখে দেবে, টুলটুল মানতে পারেনি, একটা বিয়েই কি সম¯— কিছুর সমাধান, ভালোবাসার কি কোনো মূল্য নেই এই সমাজে, শাকিল যে তার জীবনে এসেছিলো এক ধূমকেতুর মতো, সেই ধূমকেতুকে ভুলতে পারাটা কি অতোই সহজ? অনেক যুদ্ধ করেছে নিজের সঙ্গে, তারপর তো পথে নামা, পথ মানে জীবনটাকে স্পর্শ করে দেখা, আরো ভালো করে পৃথিবীকে চেনা।
শাকিল আর পরিতোষ দুজনই খুব ভালো বন্ধু,বাল্যকালের সখা বলা যায়, অথচ ওভাবে শাকিলের চলে যাওয়াটাও পরিতোষেরও মানতে কষ্ট হয়েছে, বিধির লিখন শেষ অবধি সবাইকেই মানতে হয়, আর না মেনেই বা যাবে কোথায়। তাই বলে একজন মানুষ ওভাবে লুকিয়ে যাবে রাত্রের আকাশে নক্ষত্ররাজির মধ্যে, টুলটুলের মতো পরিতোষও মানতে পারেনি বিধির ওমন করুণ আচরণ, কিন্তু তারপরও মানতে হয়, এটাই প্রকৃতি এবং বাস্তব। বাস্তব যে কি কঠিন এবং নির্মম তারই ফল শাকিলের এই একেবারে কাকতালীয় ভাবে চলে যাওয়া, পরিতোষ তারপরও চেয়েছিলো টুলটুলের ঠোঁটে হাসিটুকু অম্লান রাখতে, কোনোদিন যেন এই ফুল ঝরে না যায়, টবের ওই রজনীগন্ধার ঝাঁড় নয়, বাগানের মাধবীলতার মতো আনন্দ আর রক্তিমাভা হাসি লেগে থাকুক ওর অধরে। কিন্তু টুলটুল সরাসরি তা নাকচ করে দেয়। শাকিলের স্মৃতি নিয়ে বাকি জীবন দুঃখে সুখে অথবা নিরানন্দে কাটিয়ে দেবে, এতেই তার পরম তৃপ্তি।
শাকিলের স্ত্রী হলেও টুলটুল যে পরিতোষেরও বন্ধু, সেকথা ভুললে তো চলে না। ভুলেনি পরিতোষও, নিজের বাড়ির নীচ তলায় একটা ঘর ছেড়ে দেয়, টুলটুলের জন্য প্রথম-প্রথম দ্বিধা-দ্ব›দ্ব ছিলো, তারপর মাসকাবারে ভাড়াটা বুঝিয়ে দেয় পরিতোষকে, পরিতোষ বরাবরই অপারগ ছিলো ভাড়ার ব্যাপারে, কোনোভাবে বুঝিয়েও যখন কোনোভাবেই আর শুনতে চাইলো না, তখন থেকে নিতে হয় মানে বাধ্য হয়েছে বলা যায়। একটা সংকোচ, হয়তো ভাড়ার টাকা নিতে, একজন অসহায় মানুষের জন্য সে কি কিছুই করতে পারে না, সময় কি এতোটাই নিষ্ঠুর, অনেক ভেবেছে যারপরনাই, কিন্তু মন কোনো উত্তর দিতে পারেনি। বুক ভেঙে গেছে অথচ তারপরও পরাজিত সৈনিকের মতো বারংবার আপন ডেরায় ফিরে আসা।
টুলটুলের চোখ দেখলে পরিতোষের মন আজো হু-হু করে কেঁদে ওঠে। সত্যিই মেয়েটা এই বয়সে সবই হারালো, জীবনটা একটা গোলকধাঁধা বৈ তো কি! শাকিলের স্মৃতিকে মুছে ফেলতে দেবে না বলেই বৈধব্য সাজ তার, দেখতে বড় কষ্ট হয়। কতভাবে আর বোঝাবে, যে বোঝে না তাকে বোঝানো আর না বোঝানো। কিন্তু নিজের কাছে সর্বদা অপরাধী হয়ে থাকে পরিতোষ।
জানালার কাছে আকাশ, দূরে ওই নক্ষত্র, যেমন দূরে টুলটুল, যেমন দূরে দ্বীপ হয়ে গেছে রোকসানা। আরো দূরে আকাশ থেকে অনেক অনেক দূরে শাকিল, সবাই দূরে চলে যাচ্ছে, কেউ কাছে নেই, জীবনটা কি নক্ষত্রখচিত আকাশ। ওই নীলের মাঝে পরিতোষ হারিয়ে যায়, যেমন চোরাবালিতে পা পড়লে আর সাধ্য নেই উঠে আসার। পরিতোষের সামনে আকাশ, যোজন-যোজন দূরে নক্ষত্র, জ্যোৎস্না স্নাত চাঁদ, চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পায়ের চিহৃ, মানুষ জয় করে চলেছে মঙ্গল, আরো গ্রহ-নক্ষত্র জয় করার প্রত্যয় নিয়ে মানুষ ছুটছে, বিরামহীন মানুষ ছুটে চলছে উল্কার মতো, কালো অন্ধকার তাবৎ শরীর জুড়ে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখলেও মানুষ তো ছুটবে আলোর সম্পানে। টুলটুল বউদির ঘরে দরোজায় প্রথম শব্দ, বৃষ্টির মতো মৃদু হলেও একটা কম্প ছিলো যেন বা, সে কাঁপনে মন কেমন নড়ে উঠলেও শরীর সাঁই দেয় না। কপাট খুলে দেখে একজন পরিতোষ, কিছু বলবার আগেই উল্কা বৃষ্টির পতন লক্ষ্য করে। কিছু বলার আগেই টুলটুল জানাই, পরিতোষদা আমি তোমাকে ডেকেছিলাম।
পরিতোষের ঠোঁট কেঁপে ওঠে, শরীর আরো শাণিত করে তারপর বলে, তুমি কেমন আছো?
আড়মোড়া ভেঙে টুলটুল উত্তর দেয়, ভালো, তবে একটা ব্যাপার ঘটেছে,আমাকে বদলি করে দিয়েছে...
পরিতোষ আর কথা বলতে পারে না। কথারা যেন পাখি হয়ে উড়ে যায়। উড়ে যায় অনেক-অনেক দূরে, অনেক-অনেক পাখি যেমন আকাশের বুকে খেলা করে,ভালোবেসে নিজেদের মধ্যে হারিয়ে যায়। পরিতোষও মেঘের সীমা ভেদ করে হারিয়ে যায়। কিছু আর বলা হয়ে ওঠে না, তারপরও একটা কথা মুখের সামনে এসে আবার ভেতরে সেঁধিয়ে যায়।
টুলটুল সেভাবেই আবার বললো, কাজটা তো আসলে বদলির, অনেকদিন তো থাকলাম তোমার আশ্রয়ে, এবার যাই...
কথা না বললেও পরিতোষ নিজের মধ্যে দ্বব্ধ হতে থাকে, পাখি উড়ে যাওয়ার বেদনা অনেক কষ্টের, পরক্ষণে জানালো, যাবে, হ্যাঁ-হ্যাঁ যাবেই তো, চাকুরী যখন করছো বদলি তো আছেই, তা কোথায় যাবে?
টুলটুলের কথা তারপর আর শোনা হয়নি। অনেক-অনেক কথা বলে যায়, পাখি উড়ে যাওয়া কষ্টের গল্প আর শুনতে ইচ্ছে হয় না। কি হবে এভাবে একটা কষ্ট পুষে ঝুঁকে-ঝুঁকে মরার, কেউই যখন বোঝে না, তাহলে চাঁদের বুকেই থাকুক কষ্টের চিহৃ। টুলটুল একসময় দরোজার কপাট বন্ধ করে দেয়। পরিতোষ নিজের বিছানায় ফিরে আসে, বিছানা যেন বিছানা নয় মৃত প্রজাপতির ডানার মতো ঠান্ডা এক আবরণ। জীবন বুঝি এমনই। কেউ কারো জন্য নয়, শুধুই মরীচিকা, সবাই যে যার মতো নিজেকে খুঁজে নেয়, নিজের মতো করে। তারপর একদিন আকাশে রঙের প্রলেপে সেজে ওঠে, সিঁদুরে মেঘ আকাশগঙ্গায় খেলা করে, বালিহাঁসেরা উড়ে যায় আকাশের খুব কাছ দিয়ে, মেঘের ভেতর মেঘ...তারপর আকাশ, নদীর ভালোবাসা গায়ে মেখে উন্মাতাল স্রোতরাশি হারিয়ে যায় দিগন্তে। পরিতোষ নিজেকে হারিয়ে ফেলে তারপর অনেক-অনেক দূরের এক মেঠো সড়কে। যেখানে যেতে কতোগুলো ভাঙা সাঁকো, কতোগুলো নদী, কতোগুলো খাল-বিল খানা-খন্দর-হাওড় পার হয়ে যেতে হবে। অথচ তারপরও কি নাগালে পাবে। নাগাল পাওয়া না পাওয়ার কষ্ট নিয়ে পরিতোষ তৃষ্ণার্ত আবাবিল পাখির মতো আকাশের নীচে ঘুরে বেড়ায়, ঘুরে-ঘুরে সমস্ত দেশ দেখে, সময়ের স্রোতে হারিয়েও স্থির থাকে নিজের কাছে, নিজের জন্য...
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন