বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৪ জানুয়ারী ২০১৯
গল্প/কবিতা: ৩৩টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

ফালতু

অস্থিরতা জানুয়ারী ২০১৬

শত্রু বনাম শত্রুতা

বৈরিতা জুন ২০১৫

ভয়...এক অসংজ্ঞাত জিনিস

ভয় এপ্রিল ২০১৫

প্রত্যয় (অক্টোবর ২০১৪)

দ্বাররুদ্ধ চতুষ্কোণ

ছন্দদীপ বেরা
comment ৬  favorite ০  import_contacts ৪৫১
কিছুদিন আগে আমি একটা ডাইরি খুঁজে পেয়েছিলাম । কালিকট বন্দরে বেড়াতে গিয়ে পেয়েছিলাম । ভাস্কর নামের এক ব্যাক্তির ডাইরি ।
ডাইরিটা আমার পুরো পড়া হয়ে গেছে । এই ডাইরিতে এমন কিছু বর্ণনা আছে যা আমাদের মন-প্রাণ উত্তাল করতে যথেষ্ট ।
ভাস্কর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা অর্থাৎ বাঙালি । তিনি কাজের জন্য আমেরিকা গিয়েছিলেন প্রায় একশ বছর আগে । সেখান থেকে ভারতে ফেরার সময় তাঁর এক দূর্ধর্ষ অভিজ্ঞতা হয়েছিল ।
“২২ শে জুন,
আমরা সবে কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জ ছাড়িয়ে এলাম দু-দিন হল । এখানে প্রচণ্ড বর্ষা শুরু হয়েছে । মাঝে মাঝেই এমন অবস্থা হচ্ছে যে পাল সামলে রাখা যাচ্ছে না । সমুদ্র গর্জন শুরু করছে । এখন সময় পেয়েছি তাই ডাইরি লিখছি । সমুদ্র আমাকে ছুটি দিয়েছে ।
২৭ শে জুন,
এখন তুমুল উত্তাল চলছে । বাঁচার আশঙ্কা নেই প্রায় । তাই শেষবারের মতো ডাইরিটা লিখে নিচ্ছি । আর হয়তো এ কলম আমি আর ধরতে পারব না । আমরা আর একটু গেলে অ্যাসেনসন আইল্যান্ডে পৌঁছতে পারব । কিন্তু তার বোধ হয় আর আশা নাই ।
২ রা জুলাই,
এতদিন যা যা ঘটেছে , তার বর্ণনা করাড় মতো আমার ভাষা নেই । এক চরম প্রত্যয় আমাকে এখনও পর্যন্ত বাঁচিয়ে রেখেছে । আমাদের ক্যাপটেন যখন আমাদের সবাইকে একটা একটা লাইফবোটেকরে পাঠিয়ে দিলেন, কিন্তু শেষে নিজে বাঁচতে পারলেন না । কিন্তু প্রচণ্ড খারাপ আবহাওয়ার জন্য আমাদের লাইফবোট একে অপরের থেকে আলাদা হয়েও যায়। কিন্তু আশা ছাড়িনি । আমি প্রথমে ভেবেছিলাম যে বাঁচা যাবে না, কিন্তু পরে এক চরম প্রত্যয় আমাকে জাগ্রত করে তোলে । তাই আমি আবার আমার কলম ধরতে পারলাম ।
৪ ঠা জুলাই,
সামনে একটা দ্বীপ দেখা যাচ্ছে । আমি নিশ্চিত নই, তবুও এটা মাদাগাস্কার হতে পারে । আমার উল্লাস আমি আর ধরে রাখতে পারছি না । আনন্দে আমার মন ভরে যাচ্ছে ।
২৬ শে জুলাই,
মাদাগাস্কার থেকে জাহাজ করে কালিকটে পৌঁছলাম আজকে । আমার এখনও গা শিওরে উঠছে , সেই সাত দিনের কথা ভেবে । এখবন ওসব কথা থাক । ঘরে ফেরার আনন্দ উপভোগ করি । ”
চরম প্রত্যয় থাকলে কত না কি করা যায় । এ তো সে তুলনায় অতি সামান্য ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন