বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ ডিসেম্বর ১৯৭১
গল্প/কবিতা: ২৪টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৬৭

বিচারক স্কোরঃ ১.৮৭ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

মাঝ বয়সী শিশু

দুঃখ অক্টোবর ২০১৫

মুরগি

দুঃখ অক্টোবর ২০১৫

অকৃতজ্ঞ

ব্যথা জানুয়ারী ২০১৫

বাংলার রূপ (এপ্রিল ২০১৪)

মোট ভোট ৩৩ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৬৭ ইছামতি তারে বিস্মৃতই রেখো

ওয়াহিদ মামুন
comment ২৪  favorite ০  import_contacts ৭৪৭
(১)

ইছামতি নদীর উপর নির্মিত ব্রীজের নীচ থেকে নৌকায় উঠলেন ফরিদ মাষ্টার। সাথে আছে সহধর্মিণী, ছোট ছেলে বাদল এবং প্রতিবেশী নাতি আফজাল।

ফরিদ মাষ্টারের এক সময়ের বন্ধু ও সহকর্মী কামাল হোসেন সাহেব খুব অসুস্থ। তাই তাকে দেখতে তার গ্রামের বাড়ি গোপালপুরে যাচ্ছেন তিনি।

বেড়া থেকে সাঁথিয়া পর্যন্ত রিক্সায় এসে নৌকায় উঠেছেন।

স্ত্রী সঙ্গী হয়েছে প্রধানতঃ কামাল হোসেন সাহেবের স্ত্রীকে দেখতে। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি আবার বিয়ে করেছেন। স্ত্রীর প্রতি প্রথম পক্ষের ছেলেদের দুর্ব্যবহার, এমন কি মারধরের মত দুঃখজনক কথাও ফরিদ মাষ্টারের স্ত্রী শুনেছে। একজন স্ত্রী হওয়ায় আরেকজন স্ত্রীর প্রতি সহানুভূতি থাকা তার পক্ষে স্বাভাবিক।

নৌকা ছেড়ে দিল।

যন্ত্রচালিত নৌকা, বেশ দ্রুত গতিতেই চলছে। মেঘলা মেঘলা আকাশে কোনো রোদ নেই। ফরিদ মাষ্টার ছই-এর সামনে বসে, কখনো দাঁড়িয়ে দুই পারের দৃশ্য ও মন কাড়া গ্রাম্য রূপ আনমনে উপভোগ করছেন।

নদীর ঘাটে ছেলে-মেয়েরা গোসল করছে। গাঁয়ের বধূ নদীর বাঁধের ঢালে ঘুঁটে জড়ো করছে। ছাগল ও গরু ঘাস খাচ্ছে। এক লোক বড়শি পেতেছে। হাঁস ভেসে বেড়াচ্ছে।

কিছুদূর সোজা পশ্চিমে গিয়ে নৌকা ক্রমে উত্তর দিকে মোড় নিতে লাগলো। পশ্চিম পারের গ্রামটির দৃশ্য কেমন যেন চেনা চেনা মনে হলো ফরিদ মাষ্টারের কাছে; অতীতের কোনো এক হারিয়ে যাওয়া দৃশ্য যেন ক্রমশঃ স্পষ্ট হয়ে উঠতে লাগলো তার মনের পর্দায়, ঠিক যেমন টেলিভিশনের পর্দায় ক্রমশঃ স্পষ্টতর হয়ে উঠতে থাকে কোনো দৃশ্যের চিত্র। পূর্ব পারে উঁচু বাঁধের উপর দিয়ে দেখা গাছের মাথাগুলো সব যেন পরিচিত বলে মনে হতে লাগলো। বুকের মধ্যে একটা দ্রুত কম্পন ও শিহরণ অনুভুত হলো। পশ্চিম দিকের গ্রামটি দেখিয়ে মাঝিকে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এই বাবা, এ গ্রামটির নাম কি?’
মাঝি হাত দিয়ে দেখিয়ে বললো, ‘এ গ্রামটি নন্দনপুর, পরেরটা তেঁতুলিয়া। আর ওর পরেরটা, ঐ যে নদী যেখানে ক্রমে আবার পশ্চিম দিকে বাঁক নিয়েছে ওইখানে চরের উপর দিয়ে একটু দূরে যে গাছের মাথা দেখা যায় ও গ্রামটা দত্ত পাড়া।’
হৃৎকম্পন আরো দ্রুততর হতে লাগলো ফরিদ মাষ্টারের; বুকের ভিতর থেকে একটা উচ্ছাস ও একটা আবেগ উথলে উঠলো যেন। কম্পিত কন্ঠে আবার তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তাহলে পূর্ব পারের এটা কি শিমুলপুর?’
মাঝি জবাব দিল, ‘হ্যাঁ।’
সঙ্গে সঙ্গে খুলে গেল বিস্মৃত অতীতের একটি পৃষ্ঠা। মনের পর্দায় স্পষ্ট হয়ে উঠলো একটি দৃশ্য, শুনতে পেলেন একটি সুমধুর কণ্ঠস্বর, একটি নাম, বেগম মালিকা হাফিজ বুলবুল! কত জ্বলন্ত, কত উজ্জ্বল সে দৃশ্য, সে স্মৃতি, সেই নাম, সে কণ্ঠস্বর! কোথায় ছিল এতদিন, এতকাল তা চাপা পড়ে, মনের কোন মণিকোঠায়! আজ সুদীর্ঘ পঞ্চাশটি বছর!

(২)

পঞ্চাশ বছর আগের কথা। পূজার ছুটিতে বাড়ি এসেছে সে। তখন ঢাকা কলেজে ২য় বর্ষ আই. এস-সি.-তে পড়ে সে। এইরূপই সেপ্টেম্বর মাসের শেষ বা অক্টোবরের প্রথম দিকই হবে, নদীতে ঠিক এ রকমই পানি, এইরূপই এক মেঘলা শারদীয় সকাল।

সে বছর আগস্ট মাসের ৪ঠা তারিখে তার পিঠেপিঠি ছোট ভাই আফছার মারা গেছে মাত্র তিন দিনের জ্বরে, পার্নিশাস ম্যালেরিয়ায়, ক্লাস নাইনে থাকতে। মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়ি এসেছিল কিন্তু তাকে পায় নি, আগেই দাফন হয়ে গেছে।

তার মা পুত্রশোকে বেহুঁশ হয়ে এক গভীর রাতে একাকী মাইল দেড়েক দূরের গোরস্থানে চলে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে পাশের গ্রামের বিশাল তেঁতুল গাছটি দেখে তার হুঁস হয়েছিল।

ফরিদের বাবা ও বড় বোন পাগল হয়ে গিয়েছিলেন তাকে বিয়ে করানোর জন্য। এর আগেও তার একটি ভাই মারা যায় এই ১৪/১৫ বছর বয়সেই। তখন তাদের ধারণা হয়েছিল যে তাড়াতাড়ি বিয়ে না করালে, তাকে ‘এঁটো বা উচ্ছিষ্ট’ না করালে সেও বোধ হয় বাঁচবে না। তখনকার অশিক্ষিত সমাজে এরূপই সংস্কার ছিল যে পুত্র-কন্যাকে এঁটো করিয়ে না দিলে ‘যম’ তাদেরকে নিয়ে যায় ঐ বিশেষ বয়সটাতে। তাই তখনই তার বিয়ে প্রায় হয়ে যায়। কিন্তু পুরোদমে ক্লাস চলছে, এই অজুহাতে সে যাত্রা বিয়ের হাত থেকে রক্ষা পায়।

ভাই হারানো শোকে বিষণ্ণ মন নিয়ে নৌকায় সাধুগঞ্জ গিয়ে গোয়ালন্দের ষ্টীমারে উঠেছিল। নতুন ভারেঙ্গা, নগরবাড়ি, গজারিয়া প্রভৃতি ঘাটগুলো পার হয়ে বাড়ি থেকে আনা কলার পাতায় বাঁধা মুরগীর গোশত দিয়ে ভাত খেয়ে নিল।

বাতাসের প্রবাহ না থাকায় নদীতে একটা ছোট্ট ঢেউও ছিল না। ‘কাটাল’ অর্থাৎ সবচাইতে বেশী স্রোতের জায়গা দিয়ে ষ্টীমার চলছিল ভাটির দিকে। তলদেশ থেকে দু’একটা ‘ভলকা’ উঠে পানির উপরে এসে ভেঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছিল। ছোট্ট একটা ‘পাক’ও ছোট্ট একটা কচুরী পানাকে ঘুরপাক খাওয়াতে খাওয়াতে তার ‘পাক’ এর গর্তের মধ্যে ‘তল’ করে নিয়ে যাচ্ছিলো।

আরিচা ঘাটে ষ্টীমার ভিড়লো। দক্ষিণ দিকে ফরিদ দেখলো, ছোট পাল তুলে বহু ছোট ছোট নৌকা কূল বেয়ে উজান দিকে আসছে, আবার কতক পাল ছাড়াই ভাটিয়ে যাচ্ছে। এই সব নৌকার মধ্যেখানে হাল, আর তার পাশেই একজন লোক দুইটা রশি ধরে বসে আছে। হঠাৎ একটা নৌকার লোক রশিতে হেঁচকা টান দিয়ে দ্রুত রশি গুছিয়ে নীচে থেকে কি যেন টেনে তুলতে লাগলো। পরে দেখলো, ধনুকের মত বাঁকানো আকৃতির একটা জাল উঠে এলো আর তার মধ্যে ছটফট করছে একটা বড় ইলিশ মাছ। ‘সাংলে’ জালের নাম শুনেছিল, বুঝলো, এটাই সাংলে জাল। আর এ সমস্ত নৌকাই সাংলে জালের নৌকা; জাল ফেলে ভাটিয়ে চলে যায় আবার পাল টেনে উজিয়ে আসে। অনেক ক’টা নৌকা ষ্টীমারের গায়ে ভিড়িয়ে দিয়ে মাছ বিক্রি করলোও।

যমুনার পানি অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছ আর পদ্মার পানি একেবারে ঘোলা। দুই পানি বহু দূর পর্যন্ত এভাবে পৃথকভাবেই প্রবাহিত হয়েছে এবং তারপর ধীরে ধীরে একেবারে মিশে গেছে এবং যতটুকু পর্যন্ত তারা পৃথকভাবে প্রবাহিত হয়েছে ততদূর পর্যন্ত দুই স্রোত পরস্পরের সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি করে ভাঙ্গা ভাঙ্গা তরঙ্গের সৃষ্টি করে প্রবাহিত হয়েছে। ষ্টীমার তরঙ্গের সেই ‘দেওয়াল’ পার হয়ে পদ্মায় পড়লো এবং পদ্মার দক্ষিণ পারে পৌঁছালো। কিছুদূর যাওয়ার পর গোয়ালন্দে গেল। তারপর গোয়ালন্দ থেকে ঢাকা পৌঁছালো।

কিন্তু পূজার ছুটিতে বাড়ি এলে তার বাবা তাকে বিয়ের কথা বললেন। গ্রামের এক কাকা বাবর আলী একদিন ফরিদকে একটি মেয়ে দেখাতে রওয়ানা হলো তেঁতুলিয়ার উদ্দেশ্যে। তেঁতুলিয়াতেই বাবর আলীর শ্বশুর বাড়ি। সঙ্গে বন্ধু আব্দুর রহমান।

তাদের গ্রামের পশ্চিম অংশে উত্তর-দক্ষিণ লম্বা খুব বড় পুষ্করিণীর উত্তর পার দিয়ে তারা পশ্চিম দিকে যাওয়ার সময় পূর্ব পারের লম্বা লম্বা দেবদারু গাছের ছায়া পড়ে পানি খুব কালো ও ভয়াবহ দেখাচ্ছিল। চারদিকে গাছপালা ঘেরা পুকুরের পরিবেশও ছিল কেমন যেন গা ছম ছম করা থমথমে।

তখন সাঁথিয়া যাওয়ার রাস্তা ছিল কাঁচা। বর্ষার মধ্যে ছেঁচানিয়া ও গাগরাখালীর ওখানে লাইন ভেঙ্গে গিয়েছিল। কাপড় উঁচু করে কাপড় বাঁচিয়ে এবং গামছা পরে পার হয়েছিল।

তেঁতুলিয়া গিয়ে সে রাত্রিতে এই দত্তপাড়ারই এক হিন্দু বাড়িতে কিছুক্ষণ কবি গানও শুনেছিল; এক পক্ষে ছিল বিখ্যাত অন্ধ কবিয়াল শশধর ওরফে ‘শশ কানা’ আর অপর পক্ষে ছিল সিদ্দিক হোসেন ওরফে ‘মেঘা পাগলা’। তারা সকালে পাত্রী দেখতে যাবে নদীর ওপার, এই শিমুলপুরেই, যে শিমুলপুরের পাশ দিয়েই আজ যাচ্ছে পঞ্চাশ বছর পরের তেমনি এক মেঘলা মেঘলা শারদীয় সকালে।

সকালে তেঁতুলিয়ার ঘাটে ইছামতি নদীতে গোসল করলো ফরিদ। এক সময় নৌকায় পার হয়ে তারা ওপারে নামলো।

যে বাড়িতে গেল সেটা নদীর পারের উপরেই এবং গ্রামের একেবারে দক্ষিণ দিকে। বাড়ির দক্ষিণে একটা মসজিদ ছিল। বাড়িতে তিনটি ঘর ছিল। কাছারী ঘরে তাদেরকে বসানো হলো। ঘরটির পশ্চিমের একটা দরজা দিয়ে বাড়ির মধ্যের উঠানে নামতে হয়। তারা খাওয়া-দাওয়া করলো। তারপর মেয়ে দেখার পালা।

উঠানটির পূর্বদিকে ছিল অনেকটা খোলা। দক্ষিণ ও পূর্বদূয়ারী ঘরের সামনে ফরিদের এবং ‘তার’ বসার জন্য দুটো চেয়ার দেওয়া হয়েছিল সামনা সামনি। ফরিদের চেয়ারটা দেওয়া হয়েছিল দক্ষিণ দূয়ারী বড় ঘরের দিকে মুখ করে, যাতে ও ঘর থেকে মেয়েরা তাকে দেখতে পারে। তাদেরকে নিয়ে বসানো হলো। ফরিদের এমনিতে লাল চেহারা, লজ্জায় আরো লাল হয়ে আরো সুন্দর ও আকর্ষণীয় হলো।

বেশ কিছুক্ষণ প্রতীক্ষার পর উঠানের উত্তরে দক্ষিণ দূয়ারী ঘরের দরজায় তাকে দেখলো ফরিদ; ‘তার’ মা ‘তাকে’ পিছন দিক থেকে ধরে বের করে আনলেন আগে আগে করে। ধীর পদক্ষেপে সে এগিয়ে এলো, ঘর থেকে নামলো, তার মা ঘরের দরজার সামনেই দাঁড়িয়ে থাকলেন। তারপর তার চাচার সঙ্গে সে হেঁটে এলো এবং তার চেয়ারে তার সামনে মাত্র ছোট একটি টেবিলের ব্যবধানে সে বসলো মাথা নীচু করে। তাকে দেখলো, দেখতে লাগলো। অপূর্ব সুন্দরী, অবর্ণনীয়া! কী রং এর শাড়ী তার পরনে ছিল, কীভাবে সে সেজেছিল তা সেদিন ফরিদের চোখে পড়ে নি পৃথকভাবে; সেদিন সে যা দেখেছিল সবকিছু মিলিয়ে সে ছিল এক সামগ্রিক সত্ত্বা, সে ছিল রূপের এক মূর্ত প্রতীক, সুন্দরের এক বাস্তব প্রতিমূর্তি। তবে সেদিন সে যা ছিল, তা ছিল সম্পূর্ণ ফরিদের, একান্ত ফরিদেরই। আর সে যে তারই ছিল, আছে ও থাকবেও তা জানতে পারছে আজ এই সুদীর্ঘ পঞ্চাশ বছর পর তার স্মৃতিতে তার এই আকস্মিক আবির্ভাবের মাধ্যমে। সে তো তাকে চেষ্টা করে স্মরণে আনে নি কিংবা আজ যে হঠাৎ করে সে এভাবে স্মৃতিতে আবির্ভূত হবে তাও তো সে পূর্বাহ্নে জানতে পারে নি কিংবা এটাও ঠিক নয় যে একেবারে শুন্য থেকে সে এভাবে তার স্মরণে এসেছে। আজ বুঝতে পারছে, সেদিনের পর থেকেই সে তার মনের গহন গভীরে অধিষ্ঠিত ছিল তার নিজ আদলে, আজ এই অনুকুল পরিবেশ পেয়ে সে আবার মূর্ত হয়ে উঠেছে তার সেদিনের সেই স্বরূপে। তার সেই চোখ, সেই ভ্রুযুগল, সেই অপূর্ব রক্তিম গণ্ডদ্বয়, সেই অপূর্ব রাঙা দুটো ঠোঁট, সেই কাঁচা সোনার রং, সেই মাথা ভরা চুল, সেই ছোট্ট কপাল আর সেই অপূর্ব দেহ বল্লরী-নাতিদীর্ঘ! ফরিদ, ফরিদই যখন তার নাম জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘আপনার নাম কি?’
কী অনিন্দ্যসুন্দর কন্ঠেই না সে জবাব দিয়েছিল, ‘বেগম মালিকা হাফিজ।’
ডাক নাম যে বুলবুল তা ফরিদ জেনেছিল পরে। হ্যাঁ, বুলবুলই। তার প্রথম যৌবন বনের প্রথম বুলবুল! কতবার কতভাবেই যে তার উচ্চারিত সেই নামটি নিজে নিজেই উচ্চারণ করে নিজেকে শুনিয়েছে তার পরও বহুদিন ধরে সেই মধুর কণ্ঠটি আর একবার শোনার জন্য!
একজন ফরিদের নাম জিজ্ঞাসা করেছিল।
ফরিদ জবাব দিয়েছিল, ‘মোঃ আব্দুল ওয়াহাব, ডাক নাম ফরিদ।’
তাকে দেখেছিল অনেকক্ষণ ধরে, দু’একটা কথার মাধ্যমে শুধু দেখা আর দেখতে দেওয়া-এই উদ্দেশ্যেই। কে একজন উচ্ছসিত হয়ে মন্তব্যও করেছিল, ‘খুব মানাবে দু’জনে, একেবারে মানিকজোড়!’

শুনে তার ঠোঁটে হাসির রেখা ফুটে উঠেছিল। সবাই একরূপ নিশ্চিত হয়েছিল যে তাদের বিয়ে হবেই, শুধু সময়ের অপেক্ষা। কারণ একটা বিয়ের মূল শর্ত ভাবী বর-কনের পারস্পরিক পছন্দ, তা যে তাদের দু’জনেরই হয়ে গেছে সে বিষয়ে কারো সংশয় ছিল না। কিন্তু অলক্ষ্যে থেকে বিধাতা কি সেদিন হেসেছিলেন; সর্বপ্রকার বাহ্যদৃষ্ট সম্ভাবনা ও অনুকুলতা থাকা সত্ত্বেও সব কিছুর নিয়ামক ও সংঘটক তাঁর যে সর্বময় ইচ্ছা ও পরিকল্পনা তাতে সেদিনের সেই মানবীয় সম্ভাবনার পরিণতিতে যে কি আছে, তাঁর জ্ঞানের মধ্যে থাকা তকদীরের সেই অলংঘ্য বিধানের কথা ভেবে?

তারপর সে চলে গিয়েছিল ফরিদের সমস্ত হৃদয় হরণ করে নিয়েই। নইলে কখন সে উঠে গিয়েছিল, কীভাবে চলে গিয়েছিল, তারা কখন কীভাবে উঠে এসেছিল, কীভাবে নদী পার হয়েছিল এবং কীভাবে ও কখন বাড়ি এসেছিল, এসব তার কিছুই মনে নেই কেন? আসলে মন তার সঙ্গেই ছিল না; মন পড়ে ছিল সেই তার কাছেই। আজও সে জলন্তভাবে দেখতে পায় অপূর্ব সেই দৃশ্য-তাদের দক্ষিণ দুয়ারী ঘরের দরজায় দাঁড়ানো তাদের মা-মেয়ের সেই যুগল মূর্তি, মেয়ে যেন মায়ের একেবারে নবতর সংস্করণ, দক্ষিণ দিকে, ফরিদদের দিকে মুখ করে দাঁড়ানো তার মায়ের সামনে একটু ডানদিকে সে, সে তখন দেখা শেষে ঘরের বারান্দায় উঠে গেছে, ফরিদরা তখনো উঠানে বসেই, দরজার সামনে গিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে সে ফরিদের দিকে তাকিয়েছিল, তাকিয়ে থাকা তার মার সাথে সাথে। ঠোঁটে তার একটু হাসির আভাও দেখেছিল ফরিদ? আজও শরৎকাল এবং দুর্গাপূজা ও লক্ষী পূজার মধ্যবর্তী সময় এলেই সদ্য ধোয়া পাট ও ভিজে সোলার গন্ধে মন তার উন্মনা হয়ে ওঠে, চলে যায় সেদিনের সেই শরৎ সকালের দৃশ্যে-সেই কবি গান শোনা, সকালের সেই গোসল করা, নদী পার হওয়া ও তাকে দেখা এবং দরজায় দাঁড়ানো সেই দৃশ্য!

তারপর বাড়ি এসেছিল, বরং সঠিক অর্থে বলা যায় দেহ তার বাড়ি এসেছিল কিন্তু মন থেকে গিয়েছিল সেই তার কাছেই। তার বাবা সব শুনলেন, জানলেন। কিন্তু কেবলমাত্র পিতৃহীন, এই একটিমাত্র কারণে বিয়েতে মত দিলেন না। আর দিলেন না বড় বোন। ও বিয়ে করালে ‘পরদিনই আলাদা ঘর দিতে হবে।’ যে মেয়ে পূর্ণ যুবতী, মাত্র আঠার বছর বয়সী ফরিদের পক্ষে সে নাকি বড়। বড় বোন চেয়েছিলেন, তার ‘গেদা’ ভাইয়ের এমন বউ আনবেন যাকে দু’চার বছর ‘কোলে করে মানুষ করা যায়’-যে যুবতী বা ‘লায়েক’ নয়।

কিছুদিন পরও ফরিদদের দিক থেকে কোনোরূপ সাড়াশব্দ না পেয়ে ও পক্ষ থেকে তেঁতুলিয়ার চেয়ারম্যান হোসেন মাষ্টার সাহেব তাদের বাড়িতে এসেছিলেন খবর নিতে। তার বাবা একজন নাম করা ও বিচক্ষণ গ্রাম্য প্রধান হওয়া সত্ত্বেও উনার সঙ্গে ভালোভাবে কথা পর্যন্ত তিনি বলেন নি; এমনকি খেতে পর্যন্তও বলা হয় নি।

কয়েকদিন পর আবারো এসেছিলেন কিন্তু এবারেও তার বাবা অভ্যর্থনা বা আপ্যায়ন করেন নি!

তৃতীয়বারের মত ঢাকা পর্যন্তও উনারা গিয়েছিলেন। উনারা ধারণা করেছিলেন যে সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করেই তারা তাকে বিয়েতে রাজী করাবেন বাবার মতামত ছাড়াই। ফরিদ বলেছিল যে বাবাকে রাজী করাতে পারলে সে জানাবে। ফরিদ বাড়ি এসেছিল।

তখন অগ্রহায়ণ মাস। আমন ধান কাটার জন্য কামলা এসেছে প্রায় দেড়শো জন। যথারীতি গরু জবাই করা হয়েছে। একটু একটু শিশির পড়ে বলে উঠান জুড়ে বাদাম টানানো হয়েছে, দুটো হ্যাজাক জ্বালানো হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে গাঁধী পোকা পড়তে শুরু করলো। পরে ক্রমশঃ পোকার সংখ্যা বাড়তে বাড়তে এমন হলো যে ঝাড়ু দিয়ে জড়ো করে ঝাঁকায় তুলে পোকা মাঠ্যালের পানিতে ফেলে দিয়ে আসা হতে লাগলো। এগারটার দিকে পোকা আসা বন্ধ হলে সকলকে খেতে দেওয়া হলো।

তখন নগদ টাকা দিয়ে কামলা না নিয়ে খুব সৌখিন লোকেরা শখ করে কুটুম কামলা নিত। অনেক লোকজন নিয়ে আমোদ-ফুর্তি করে কাজ করা এবং তাদের সঙ্গে খাওয়ার মধ্যে যে কি আনন্দ তা ব্যক্তিস্বার্থকেন্দ্রিক মানুষ বুঝতে পারবে না।

মনে পড়ে ফরিদ মাষ্টারের, এস. এস. সি. পরীক্ষার বছর খেসারী কালাই, ছোলা, মসুর, গমের মওসুম শেষে পেঁয়াজ, রসুন তোলা হলো। বৃষ্টি হলে খালি পড়ে থাকা ক্ষেতে লাঙ্গল দিয়ে চাষ করা হলো।

তখন আমন ধান ও পাট বোনার মওসুম। জমির ভাই তাদের বড় হাইলা। অতি উৎসাহে তার সাথে নিজেই একখানা লাঙ্গল বাইলো এবং সমস্ত জমি-জমাই বুনলো। স্বাস্থ্যবান, সুদর্শন ও পাতলা অর্থাৎ চালচলনে চটপটে এক জোড়া বলদ দিয়ে হাল বাওয়া যে কি আনন্দের-বৈশাখ মাসের সেই প্রখর রোদের মধ্যেও তা এ কাজ যে না করেছে সে বুঝতে পারবে না। আর কচি কচি অংকুর বের হওয়া এবং বৃষ্টিতে সমতল হয়ে যাওয়া জমির ‘চটা’ ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য মই দিয়ে ‘জাওই’ দেওয়া? বৈশাখের পড়ন্ত বিকালে ঝিরঝিরে দক্ষিণা বাতাসে মই-এর উপর দাঁড়িয়ে বলদের কোমরের ও পিঠের উপর হাত রেখে ‘জাওই’ দেওয়া? দু’জোড়া গরু সামনে মই টেনে নিয়ে যাচ্ছে-সামান্য ধূলা উড়ছে! কী যে মধুর ও সুন্দর সে অনুভূতি! আনন্দে জমির ভাই ‘বারাসে’ গান ধরতো, ‘‘ও বনের বাওই রে - - -।’’ জমিতে ‘নাংলে’ দেওয়া; কামলাদের সাথে নিড়ানো, সকালে একসাথে ক্ষেতের আইলে বসে ‘নাস্তা’ খাওয়া, কত আনন্দের যে ছিল সেই দিনগুলি!

বাবাকে বোঝানোর পরও তিনি রাজী হলেন না। বাবার বক্তব্য ছিল, ‘‘আমি বুড়ো হয়েছি, কখন মরে যাবো তার ঠিক নেই। কাজেই ছেলেকে পিতাওয়ালা এমন মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়ে যাবো যাতে আমার মৃত্যুর পর ছেলে তার পিতার মধ্যে একটা অবলম্বন পাবে এবং তাকে অবলম্বন করেই সে মানুষ হতে পারবে।’’ দুর্বল ফরিদ! সে পারে নি নিজের ভালোবাসাকে বাবার কাছে বলিষ্ঠভাবে প্রকাশ করতে। বাবার ভয়েই তার ‘ভীরু সে মনের কলি’টি ফুটতে পারলো না, ঝরে গেল সে অকালেই। অবশ্য যদিও সে বিদ্রোহী হয়েছিল এবং ‘‘বাবা বেঁচে থাকা পর্যন্ত বিয়ে করবো না’’ বলে প্রতিজ্ঞাও করেছিল।

কিন্তু আজ তার বলতে ইচ্ছা করে, ‘‘বাবা, আপনার হিসাব ভুল ছিল। আপনি সর্বশক্তিমান খোদার উপর ভরসা না করে মেয়ের বাবার উপর ভরসা করেছিলেন। আপনি তো পিতাওয়ালা মেয়ের সঙ্গেই আমার বিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন কিন্তু সে আপনি যখন মারা গেলেন তখন আপনার সেই বিয়াই সাহেব আমার কোনো অবলম্বন হওয়া তো দূরের কথা, আমাকে এবং কার্যতঃ তার মেয়েকে পর্যন্তও সম্পূর্ণ পর করে দিয়েছিলেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজে আমার ২য় বর্ষের পরীক্ষার পূর্বে তার কাছে শুধু পরীক্ষার ফি বাবদ সোয়া শো টাকা চাইলে আমার মুখের উপর তিনি বলে দিয়েছিলেন, ‘আমার তো তোমাকে পড়ার খরচ দেওয়ার কোনো কথা ছিল না।’ অবশেষে মেডিকেল কলেজ ছেড়ে দিয়ে আমাকে পরবর্তীতে বি. এস-সি.-তে ভর্তি হতে হয়েছিল।’’

‘তার’ মা ফরিদকে আর একবার দেখতে চেয়েছিলেন। ফরিদের বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত বেগম মালিকা হাফিজ অন্যত্র বিবাহিতা হতে রাজী হয় নি।

দীর্ঘ দু’বছর ফরিদ তার প্রতিজ্ঞায় অটলই ছিল। তারপর বাবার কান্নাকাটিতেই শেষ পর্যন্ত বিয়েতে রাজী হয় এবং তারই পছন্দ করা পাত্রীকেই বিয়ে করে, যদিও সেও তার অপছন্দনীয়া ছিল না, সেও ছিল এক বুলবুলই, বুলবুল আকলিমা খাতুন।

ফরিদের বিয়ের পর মালিকা হাফিজ বিয়ে করেছিল। বহুদিন আগেই সে চলে গেছে না ফেরার দেশে। তার মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ (Mitral Stenosis), যা দিনে দিনে ধীরে ধীরে বিকশিত হয় এবং একদিন মৃত্যুতে সমাপ্ত হয়।

(৩)

প্রথম বুলবুলকে সে যে ভোলে নি তার প্রমাণ তার স্মৃতিতে আজকে তার এই হঠাৎ আবির্ভাব। সে গানে শুনেছে-
‘‘না ফুটিতে মোর
প্রথম মনের মুকুল
ঝরে গেল হায় মনে
মিলনের ক্ষণে
মোর প্রথম প্রেমের মুকুল।’’

আশ্চর্য! এ যেন তারই মনের কথা! তারও প্রথম যৌবন বৃক্ষের প্রথম প্রেমের মুকুলটি ওভাবেই ঝরে গিয়েছিল তাদের মিলনের ঠিক পূর্বক্ষণেই-বৈষয়িক স্বার্থবুদ্ধির তপ্ত নিঃশ্বাসে-যা থেকে তাকে সে রক্ষা করতে পারে নি। কিন্তু অকালে ঝরে গেলেও সে কি হারিয়ে গিয়েছিল একেবারে চিরতরে-সেই না ফোটা প্রেমের ফুলটি? কবি বলেন,
‘‘যে ফুল না ফুটিতে ঝরিলো ধরণীতে,
যে নদী মরু পথে হারালো ধারা
জানি হে জানি তাও হয় নি হারা।’’

হ্যাঁ, সত্যিই। সেই যে প্রথম প্রেমের ফুলটি সেদিন কুঁড়ি হয়ে জন্মলাভ করেছিল জীবনের প্রথম বসন্তে সেই প্রথম বুলবুলের আগমনে, যে কুঁড়িটি ফুল হয়ে ফোটার আগেই ঝরে গিয়েছিল সে কুঁড়িটি সত্যিই হারিয়ে যায় নি।

নৌকা ভিড়লে বাঁধ পার হয়ে আরেকটি নৌকায় উঠলো তারা। আমন ধানের ভিতর দিয়ে লগি ঠেলে মাঝি নৌকা এগিয়ে নিয়ে চললো। এক সময় কামাল হোসেন সাহেবের বাড়ির ঘাটে পৌঁছালো।

এখন তিনি কিছুটা সুস্থ।

তার স্ত্রীর সাথে ফরিদ মাষ্টারের স্ত্রীর খুব ভাব হয়ে গেল যেন দুই বোন। মিলেমিশে দুপুরের রান্না করলো।

ফেরার সময় বিচ্ছিন্ন হতে মন চায় না। অবশেষে তাদেরকেও আসার নিমন্ত্রণ জানিয়ে বিদায় নিল।

শিমুলপুর গ্রামের পাশ দিয়ে আসার সময় তার কথা আবার মনে পড়লো ফরিদ মাষ্টারের। সুদীর্ঘ পঞ্চাশ বছর পর এরূপ মনে হওয়া কি পাপ যখন সে অপরের গৃহলক্ষ্মী এবং বর্তমানে সে পরলোকগতাও? কিন্তু সে তা মনে করে না। কারণ অন্যের সঙ্গে যার বিয়ে হয়েছিল সে তো সেই ‘সে’ নয় যাকে সে দেখেছিল সেই শারদ সকালে। সেদিন সে যাকে দেখেছিল সে এখনো তার অন্তরেই আছে। সেই যে পঞ্চদশী বা ষোড়শী অনন্যা, অপরূপা ও ভুবনমোহিনী সে এখনো একান্তভাবে তারই আছে, তার হৃদয় মাঝে। সে বড় হয় নি, তার কখনো বিয়ে হয় নি, হতে পারে না। তার মৃত্যু হবে না কখনো যতদিন সে বেঁচে আছে, তার এই মন বেঁচে আছে, যদিও বা দৃশ্য নয় অন্যের কাছে। একমাত্র সেইদিন সে থাকবে না যেদিন তার এই মন থাকবে না, থাকবে না সেও। তাছাড়া এই যে সে, যে আজ এসব কথা ভাবছে সেও তো সেই আঠার বছর বয়সী সেই সে যে কিনা বড় হয় নি, বুড়ো হয় নি, সেও রয়েছে আঠার বছর বয়সী চির নবীনই। সেদিনের সেই ‘মালিকা’ ও সেদিনের সেই ‘সে’ একে অপরের চিরন্তন।

তাহলে কি পরবর্তীকালের প্রাপ্তি দ্বারা তার সেই ‘তাকে’ না পাওয়ার ক্ষতি পূরণ হয় নি? তাকে না পাওয়ার পর যে তার জীবনে এসেছে ও সন্তান-সন্ততি হয়েছে তাদেরকে পেয়ে সে কি সুখী হয় নি? এরূপ প্রশ্ন অর্থহীন। কারণ জীবনের এই ধরণের সব পাওয়া না পাওয়া নিছক বণিকের লাভ-ক্ষতির হিসেব নয় যে এখানে যোগ-বিয়োগের মাধ্যমে একটা ‘নীট’ ফল হিসেব করা হয়। এখানে না পাওয়ার ক্ষতি পাওয়ার লাভ দ্বারা পূরণ হয় না; এখানে কোনো যোগ-বিয়োগ নেই। যা পাওয়া হয় নি তা যেমন না পাওয়াই থাকে তেমনি যা পাওয়া গেছে তাও আর না পাওয়া থাকে না। একের শুন্যতা অপরের দ্বারা পূরণ হয় না। ‘তাকে’ না পেয়ে সে ঠিক সেই পরিমাণই দুঃখী যে পরিমাণ সুখী সে হতো ‘তাকে’ পেলে, আবার পরবর্তীতে যাকে পেয়েছে তাকে পেয়েও সে ঠিক সেই পরিমাণই সুখী, যে পরিমাণ দুঃখী সে হতো তাকে না পেলে। তার আজকের আমি’র মধ্যে দুই-এরই অবদান সমান।

ইছামতির উপরকার ব্রিজের কাছে নৌকা থেকে নামার সময় হু হু করে উঠলো মন। আফজাল রিক্সা ভাড়া করলো। রিক্সায় উঠার পর বিষণ্ণ বিকেলে পিছনে পড়ে রইলো স্মৃতি জাগানিয়া ইছামতি নদী।

হঠাৎ একটা চিন্তা উদয় হলো ফরিদ মাষ্টারের মনে। সেই ‘তার’ কি বিবাহযোগ্যা মেয়ে আছে? থাকলে তার যে ছেলে এম. এস-সি. পাশ করে চাকরিতে ঢুকেছে তার জন্য বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো যেতে পারে। বিষয়টা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকলো।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন