বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ ডিসেম্বর ১৯৭১
গল্প/কবিতা: ২৪টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৪৯

বিচারক স্কোরঃ ২.২৯ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.২ / ৩.০

মাঝ বয়সী শিশু

দুঃখ অক্টোবর ২০১৫

অকৃতজ্ঞ

ব্যথা জানুয়ারী ২০১৫

বিয়ে পড়ায়ে নিলো

ভৌতিক নভেম্বর ২০১৪

দুঃখ (অক্টোবর ২০১৫)

মোট ভোট ২২ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৪৯ মুরগি

ওয়াহিদ মামুন
comment ৯  favorite ১  import_contacts ৪৭৯
মাংস ঠিকঠাক করতে গিয়ে ঘেমে যাওয়ার কারণে তামান্নার কানের সামনে অবাধ্য কিছু চুল ভিজে লেপ্টে আছে। ওর এরূপ ব্যস্ততা ওর এমন এক ধরণের সৌন্দর্য উন্মোচন করে দিয়েছে যা ছিল আমার সম্পূর্ণ অগোচরে। ও আমাকে দোকান থেকে কোক কিনে আনতে বললো। তাই আমি বাইরে গেলাম।

জিগাতলা গাবতলা মসজিদের পশ্চিমে তিন তলায় একটা বাসায় আমারা থাকি। একটি গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজ-এ চাকরি করি। তামান্না ইডেন কলেজে ইকনমিকস-এ থার্ড ইয়ারে পড়ে।

একবার আমাদের বাড়ি পাবনায় যাওয়ার জন্য গাবতলিতে গাড়িতে বসে ছিলাম। লম্বা, ফর্শা, স্লিম ফিগারের তামান্নাও গাড়িতে উঠেছিল। আমার দুই সিট আগে বসেছিল সে। তার সঙ্গে কথা বলার তাগিদ অনুভব করলাম।

এলেঙ্গায় গিয়ে গাড়ি যাত্রা বিরতি দিলে সে নীচে নামার সময় সিটের পাশে রাখা তার ব্যাগ দেখিয়ে আমাকে বললো, “ভাইয়া, আমার ব্যাগটা একটু দেখবেন প্লিজ।”
তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ আসায় খুশী হয়ে বললাম, “ঠিক আছে। আপনি একদম দুশ্চিন্তা করবেন না।”

সে ফিরে এসে ব্যাগটা ঠিকমতো আছে দেখে বললো, “থ্যাঙ্ক ইউ।”

আমার গন্তব্যস্থানের মাইল তিনেক পূর্বে এক জায়গায় সে নেমে যাচ্ছিল দেখে আগ বাড়িয়ে তার ব্যাগ নিয়ে তার সঙ্গে নেমে পড়লাম। তাকে রিক্সায় তুলে দিতে দিতে তার নাম, বাবার নাম এবং বাড়ির লোকেশন জানানোর অনুরোধ করলাম। সে সব জানালো।

বাড়িতে যাওয়ার পর তার ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য লোক লাগিয়ে দিলাম। এক সময় প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী পেয়ে গেলাম। সেগুলো গ্রহণযোগ্য হওয়ায় বাবাকে দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব পাঠালাম। আমার প্রস্তাব গৃহীত হলো, আর আমি পেলাম তামান্নার মতো ভালো একজন জীবনসঙ্গী।

সামনে ওর পরীক্ষা থাকায় ঈদে বাড়িতে গেলাম না। ঈদের নামাজ পড়ে এসে কোরবানির মাংস বানানোর ওখানে গিয়েছিলাম। মাংস নিয়ে বাসায় আসার পর কোমড়ে ওড়না বেঁধে তামান্না মাংস নিয়ে ব্যস্ত হয়েছিল।

দোকান থেকে কোক কিনে বাসায় ফেরার সময় দু’জন লোকের কথাবার্তা কানে এলো। একজন আরেকজনকে জিজ্ঞাসা করলো, “কোথায় গিয়েছিলেন ভাই?”
অন্যজন বললো, “বাসায় জামাই এসেছে। কোরবানি দিতে পারি নি। তাই ট্যানারির মোড়ে গিয়েছিলাম মাংস কিনতে। কিন্তু পেলাম না। তাই ভাবছি, একটা মুরগি কিনবো।”
আমি দাঁড়াতে বাধ্য হলাম। লোকটার দিকে তাকালাম। বয়স পঞ্চান্ন বছরের মতো হবে। তার চোখ দু’টো ছল ছল করছে।
প্রথম লোকটা বললো, “ও, আচ্ছা।”
এ কথা বলার পর তার মুখ দিয়ে আর কোন কথা বের হলো না। একটা বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। দ্বিতীয় লোকটা বললো, “আচ্ছা, আসি ভাই।”
এই বলে সে আর দেরী করলো না। আমি লোকটাকে অনুসরণ করলাম।

ঢাকায় বসবাসকারী বিত্তহীন মানুষ কোরবানির ঈদের দিন যে মাংস পায় তা থেকে কিছু মাংস বিক্রি করে। আর দেশের সবচেয়ে উন্নত এই শহরের যেসব বাসিন্দা কোরবানি দিতে পারে না এবং লজ্জার কারণে কারো কাছে মাংস চাইতেও পারে না তারাই ঈদের দিনেও মাংস কেনে।

পূর্বদিকে গিয়ে লোকটি দোকান থেকে মুরগি কিনলো। তারপর উত্তরদিকের একটা গলির মধ্যে এক বাড়ির নিচতলায় একটা বাসায় ঢুকলো। আমি খুব দুঃখ পেলাম। বাসার দিকে পা বাড়ালাম। তামান্না দরজা খুলে দিয়েই কাজে ব্যস্ত হয়ে গেল।

আমি বিছানায় শুয়ে পড়লাম। যার কোরবানি দেওয়ার সামর্থ নেই সে দেবে না। এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু ঈদের দিন জামাই বাসায় এসেছে অথচ তাকে একজন শ্বশুর কোরবানির মাংস দিয়ে আপ্যায়ন করতে পারবেন না, মেয়ের স্বামীর কাছে লজ্জা পাবেন, বাবার অপারগতায় মেয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলবে-এ রকম কত অপারগ বাবার আর কত অসহায় মেয়ের দুঃখ যে আমাদের কাছে অপ্রকাশিত থেকে যায় তার খবর আমরা কখনও নেয়ার চেষ্টা করি না।

তামান্না এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করলো, “টেলিভিশন দেখছো না, কোনো কথাবার্তাও নেই, কি হয়েছে তোমার?”
আমি বললাম, “কিছু হয় নি।”
সে আমাকে ধরে তার দিকে ঘুরিয়ে বললো, “তোমাকে এক বছর হলো দেখছি। ভেবেছ তোমাকে আমি চিনি না? প্লিজ, কি হয়েছে বল আমাকে।”
আমি বললাম, “তোমাকে বলে কোনো লাভ হবে না।”
তামান্না বললো, “এবার আমি কিন্তু সত্যিই রাগ করবো।”
আমি ঘটনাটা খুলে বললাম। সে আমার কথা শুনে স্তম্ভিত হয়ে গেল। সে আমার মন খারাপ করে শুয়ে থাকার কারণটা অনুধাবন করতে পারলো। কয়েক মুহূর্ত চিন্তা করে আমাকে সে জিজ্ঞাসা করলো, “কোন বাসায় লোকটাকে তুমি ঢুকতে দেখেছ?”
আমি জানতে চাইলাম, “কি করবে তুমি?”
সে বললো, “আমি ওই বাসায় মাংস দিতে যাবো।”
আমি অবাক হয়ে বললাম, “তারা কি মাংস নিবে? অপমান বোধ করবে না? তুমি কি কাজটা পারবে?”
সে বললো, “পারতে হবে।”
আমি বাসার বর্ণনা দিলাম।
তামান্না শাড়ি পরে মাথায় ওড়না দিয়ে মাংস নিয়ে বের হলো।
মিনিট বিশেক পর সে ফিরে এলো। তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, “কোনো সমস্যা হয় নি তো?”
সে বললো, “একটু হয়েছিল। কিন্তু আমি সামাল দিয়েছি।”

তামান্না ওড়না খুলে রেখে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়ালো। শাড়ি পরা এবং খোঁপা করা অবস্থায় ওকে খুব সুন্দর লাগছিল। তাই পিছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরলাম। সে ঝড়ে উপড়ানো গাছের মত শরীরের ভার আমার শরীরে দিল। দেখলাম, তার চোখ বোঁজা। মুখটা লালচে হয়ে উঠেছে। ঢোক গিলছে সে।

লোকটার বাসায় মাংস পৌঁছে দেওয়ার মধ্য দিয়ে তামান্না আমার কষ্টটা কমিয়ে দিয়েছিল। ওর স্পর্শ আমার মন থেকে কষ্টের কথা পুরোপুরি উধাও করে দিল।

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • পারভীন
    পারভীন সুন্দর গল্প।
    প্রত্যুত্তর . ২৭ অক্টোবর, ২০১৫
  • মোঃ  আব্দুর রউফ
    মোঃ আব্দুর রউফ ভালো লাগলো
    প্রত্যুত্তর . ২৭ অক্টোবর, ২০১৫
  • এস, এম, ইমদাদুল  ইসলাম
    এস, এম, ইমদাদুল ইসলাম গল্পটা পড়ে আবেগে চোখের পানি এসে গেল । এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা না পারেন হাত পাততে, না পারেন সামাজিকভাবে নিজের অপমানজনক অবস্থানকে সহ্য করতে । ছোট গল্পে পাঠকদের কেৌতুহলী রেখেই শেষ করলেন, তামান্না অপরিচিতা, কেমন করে পেরেছিলেন মাংস উপহার দিতে ? নিকটতম প্রত...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ২৭ নভেম্বর, ২০১৫
    • ওয়াহিদ মামুন আপনার সুচিন্তিত ও মূল্যবান মন্তব্যে খুব অনুপ্রানিত হলাম। মনে করুন যে এক এলাকায় বসবাসকারী হিসেবেই মাংস উপহার দিয়েছে। আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।
      প্রত্যুত্তর . ২৯ নভেম্বর, ২০১৫