বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ সেপ্টেম্বর ১৯৮৫
গল্প/কবিতা: ১৫টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৭৯

বিচারক স্কোরঃ ১.৬৩ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.১৬ / ৩.০

একটি ভালবাসার চিঠি-২

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নভেম্বর ২০১৬

কথোপকথন

আমার আমি অক্টোবর ২০১৬

এক কিশোরের জ্বলসে যাওয়া হৃদয়

ঘৃণা সেপ্টেম্বর ২০১৬

শৈশব (সেপ্টেম্বর ২০১৩)

মোট ভোট ১৮ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৭৯ ভালবাসা,যুদ্ধ ও শৈশবের একটি প্রশ্ন

কবি এবং হিমু
comment ৬  favorite ০  import_contacts ৮০৫
অনেক দিন হল মিতু কলেজে যায় না।অবিরাম এই মুষলধারার বৃষ্টির মাঝে যাবেই বা কি ভাবে। আজ সকাল থেকে সূর্যি মামা কিছু টা মুঁচকি হাঁসছেন।আর তাই মিতু ঠিক করলো আজ সে কলেজে যাবে।
সব কাজ শেষ করে নিজেকে তৈরি করে যখনি বের হবে তখনি চাঁরদিক অন্ধকার করে বৃষ্টির আগমন।আকাশ দেবতার উপর রাগে কাঁপতে লাগল মিতু।দূর ছাই ২ মাস আর কলেজেই যাব না বলে ব্যাগ ছুঁড়ে মারল বিছানায়।
হালকা ভলিউমে মিতু রবী ঠাকুরের গান শুনছে।বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি। এখন আর তার মন খারাপ নেই।যখনি তার মন খারাপ হয় রবী ঠাকুর তার মন ভাল করে দেন।মিতু মাঝেমাঝে ভাবে রবীন্দ্র সংঙ্গিত না হলে তার কি অবস্হা হত।যদি রবি ঠাকুর বেঁচে থাকতো তা হলে সে ঠাকুরের প্রেমে পড়ত।
কলিংবেল টা অনবরত বেজেই চলছে।কলিং বেলের শব্দে মিতু বাস্তবে ফিরে এল।কেউ মনে হয় দরজা ও খুলছে না আর যে বেল টিপছে সেও ভদ্র মানুষ নয় কারন আর যাই হোক ভদ্র মানুষ এ রকম অনবরত বেল টিপে না।একরাশ বিরক্তি নিয়ে মিতু চলল দরজা খুলতে।
দরজা খোলার সাথে সাথে এক লোক তাকে প্রায় ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করলো।মিতু কিছু বলার আগেই লোকটি বলল,বাইরে অনেক বৃষ্টি।আমি হাসান।খালিদ সাহেব বাড়ীতে আছেন?খালিদ সাহেব মিতুর বাবা।সরকারী চাকুরীর পাশাপাশি ব্যবসা ও করেন।মিতু অভদ্র লোকটি কে কিছু না বলে ভিতরে চলে গেল।লোকটি যে আসলেই অভদ্র এ বিষয়ে তার মনে আর কোন সন্দেহ রইল না।

হাসান।এক এতিম খানায় তার শৈশব কেটেছে।মা-বাবা কেউ নেই।এতিম খানা থেকে লেখাপড়া করেছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে কিছু দিন আগে।খুব যে ভাল ছাএ তা নয়। পরীক্ষার ফলাফল ও আহামরি কিছু নয় ।তবে গনিত বিষয়টা সে ভালই বুঝে।সে খালিদ সাবের ছোট মেয়ে তিশাকে পড়াবে এবং খালিদ সাহেবের বাড়ীতেই থাকবে।প্রথমে আর সব মায়েদের মতো মিতুর মার ও অমত ছিল কিন্তু পরে স্বামীর কথা বরাবরের মতো মেনে নিয়েছেন।মনকে যুক্তি দিয়ে বুঝাতে চেষ্টা করেছেন তার স্বামী কখনও ভূল করেননি।
মিতুদের দোঁতালায় হাসানের থাকার ঘর।আজ ৩ মাস হতে চলল এক বারের জন্য ও সে দোঁতালায় যায়নি।তার মানে এই নয় যে সে হাসানকে আর দেখেনি।মিতু যখন জাঁনালায় দাঁড়িয়ে গান শুনে তখন অনেক বার দেঁখেছে বৃষ্টিতে কাকভেজার মতো ভিজে একটি লোক তাদের বাড়ির দিকে আসতে।তখন আর তার বুঝতে অসুবিধা হয় না এই লোকটিই অভদ্র হাসান। সে একটা জিনিস ভেবে অবাক হয় লোকটি প্রতিদিন ভিজে আসে অথচ তার হাতে একদিন ও ছাতা দেখেনি।
আচ্ছা আপু তুই জানিস পৃথিবীর সব থেকে বড় কবির নাম কি?ছোট বোনের প্রশ্ন শুনে বইয়ের পাতা থেকে চোঁখ না সরিয়ে মিতু বলল জানি তো রবী ঠাকুর।মিতুর কথা শুনে তিশা হেঁসে বলল আপু হয়নি।সবার থেকে বড় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।এ কথা শুনে তো মিতুর ভীষন রাগ উঠল।ছোট বোনকে সে দমকে উঠল।তিশা ভয়ে ভয়ে বলল আমার কি দোষ হাসান স্যারই তো আমাকে বলল।হাসানের কথা শুনতেই মিতুর সারা দেহ রাগে কাপতে লাগল।অভদ্রটা বুঝি এই শিখাছে তার ছোট বোনকে।সব কিছু মানা যায় রবি ঠাকুরের অপমান।আজ এর একটা ব্যবস্তা করতেই হবে।
রেগে আগুন হয়ে মিতু ছুটল দোঁতালায়।হাসানের ঘরের দরজায় টোকা দিল।কোন সারা নেই।দরজায় হাত রাখতেই কপাট খুলে গেল।প্রথমে অন্যর ঘরে অনুমুতি ছাড়া ডুকতে না চাইলে ও রাগের কারনে ডুকে গেল।রুমে কিছু নেই।কাজী নজরুলের কিছু বই,গনিতের কিছু বই আর দেয়ালে লাগানো মুক্তিযুদ্ধের সময়কার একটি মানচিএ।
বিকেলে সে আবার গেল।এবার হাসান ঘরেই ছিল।আসতে পারি?আসুন।
আপনি নাকি আমার বোনকে বলছেন কাজী নজরুল সেরা কবি।
জ্বি বলেছি।আপনি মানুষকে কেন ভূল শিখাবেন।মিতু রাগে কাঁপছে।
আপনি ভূল বুঝবেন না।আর রাগ ও করবেন না ।আমার চোঁখে নজরুল সেরা আপনার চোঁখে না ও হতে পারে।আমি নিজেকে নজরুল মনে করি।কারন আমার মতো সে ও এতিম।যুদ্ধের ময়দানে,জেলখানায় অভাবের আর অন্যায়ের সাথে লড়াই করে সে নিজেকে তৈরি করছে।
আর রবি ঠাকুর!বৃষ্টির দিনে জানালায় বসে খাবারের প্লেট হাতে গান লিখেছে,কবিতা লিখেছে আর ও কত কি।সে তো আপনার মতো সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মেছে আর তাই আপনার ভাল লাগতেই পারে।আর এটা প্রতিটি মানুষের নিজের ব্যপার তাই বলে আমি বলছি না রবি ঠাকুর সেরা নন।তবে আমার কাছে নন।আপনার মনে যদি কষ্ট দিয়ে থাকি ক্ষমা করবেন।

মিতু নীরবে চলে আসল।আসলে তারই ভূল।প্রতিটা মানুষের ভালা লাগা যে এক হবে তা তো না।এমনি করে কেটে গেল অনেকটা দিন।একদিন মিতু আবিস্কার করলো হাসান কে আর আগের মতো খারাপ লাগে না। নিজের অজান্তে মনের মাঝে কখন যে অভদ্রটা একটা জায়গা করে নিয়েছে তা মিতু নিজে ও বলতে পারে না । অযথা সে লোকটার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে।মনে মনে অনেক গালি দিয়েছে।একদিন সে রবি ঠাকুরের একটি বই,একটি ছাতা আর কিছু ফুল রেখে আসলো।যদি ও এসব করতে তার লজ্জ্বা লাগছিল ।তারপর ও সে রেখে আসলো।
মিতু এই মিতু কত আর ঘুমাবি।অনেক বেলা হল এবার উঠ।মায়ের চেচামিতে মিতুর ঘুম ভাঙ্গলো।ঘুম ভাঙ্গতেই মনে পড়ে গেল গতকালকের বিকেলের কথা।হাসান কি মনে করবে তাকে।এমনটা করা মনে হয় তার উচিত হয়নি।
কাল থেকে তিশাকে একটু পড়াস তো মা।দুদিন পর তার পরীক্ষা।
মিতু অবাক হয়।আমি পড়াব মানে!তার টিচার কোথায়!
আর বলিস না।সকালে তিশা তার ঘরে গিয়ে দেখে ছেলেটা নাই।তার ব্যবহারের কোন কিছু নাই।হয়ত রাতে চলে গেছে।ছেলেটা পাগল টাইপের।এতদিন বাড়িতে ছিল আমার একবার ও মনে হয়নি যে বাড়িতে অতিরিক্ত একজন মানুষ আছে।যাবার সময় বলে যাবার ও প্রয়োজন মনে করেনি।পাগল হলে ও ছেলেটা ভাল ছিলরে।
মিতুর চোঁখে নোনা জল।ছেলেটা মিতুকে কিছু না বলে পালিয়ে গেল।অভদ্র ছেলেটা একবার ও তার কথা ভাবলো না।মিতুর চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে।
কয়েক বছর পর।স্বামীর সাথে মিতু এখন লন্ডন বাস করে।লন্ডনের আবহাওয়া নাকি পাগল টাইপের।বৃষ্টি কখন আসবে তার ঠিক নেই।এই বৃষ্টি তো এই রোদ।আর তাই সে ছাতা সবসময় সাথে রাখে।
আজ কিছু কিনবে বলে সে বেরিয়েছে।আগাম সতর্ক বার্তা না জানিয়ে বৃষ্টি নামলো।বাংলাদেশের মতো সেখানে ও যারা সাথে ছাতা আনেনি তারা এদিক ও দিক দৌড়ে আশ্রয় নিল।পুরো রাস্তা ফাঁকা।হঠাৎ সে দেখতে পেল একটি লোক তার সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে।বৃষ্টিতে ভিজে।তার বুক কাপতে লাগলো।অজানা এক শিহরন।এই তো সেই লোক।যেই অভদ্রটা কে সে ভালবেসে ছিল।ধীরে ধীরে সে এগিয়ে যায়।লোকটার মাথার উপড় ছাতা ধরে।ছেলেটি তার দিকে চোঁখ তুলে তাকায়।সেই আগের মত কোন পরিবর্তন নেই।
আমরা কি কফি শপে বসতে পারি?উত্তুরে সে কিছু বলল না।কপি শপের দিকে এগিয়ে চলল।বসার পর কিছুটা সময় শব্দহীন।
পালিয়ে আসলেন কেন?ভাল না লাগলে বলতে পারতেন।এ রকম রাঁতের আঁড়ালে পালিয়ে আসা অভদ্রতা । ভদ্রতা টুকু ও জানতেন না?
আমি এতিম খানায় বড় হয়েছি।আমি আমার বাবাকে দেখিনি।মা ছোট বেলায় মারা গেলেন।মানুষ যখন আমায় শৈশবে বেজন্মা বল গালি দিত আমি বুঝতাম না বেজন্মা কাকে বলে।বড় হবার পর শুনলাম যুদ্ধের সময় নাকি আমার মা কে পাক বাহিনি তুলে নিয়ে গিয়েছিল।পরে আমার জন্ম।
জানেন সরকার নাকি তাদের বীরঙ্গনা বলে ডাকে।কই কেউ তো আমায় কোনদিন বীরঙ্গনার ছেলে বলে ডাকেনি।আমার ঘরে ছেড়া মানচিএ টা দেখেছিলেন এটা কে আমি ঘৃনা করি।এটার কারনেই লোক আমাকে বেজন্মা বলে ডাকে।যদি এর জন্ম না হতো তাহলে আমি ও বেজন্মা হতাম না।আর আমি ছাতা ব্যবহার করিনা কারন আমি চাই আমার কষ্টগুলো ধুয়ে যাক,মুছে যাক বেজন্মার পরিচয়।আপনার দেওয়া উপহার গুলো গ্রহন করার মতো সাহস এই বেজন্মা ছেলেটার হয়নি আর তাই পালিয়ে এসেছি।
হাসান বৃষ্টির ভেতর পথ ধরে।মিতু ঝাপসা চোঁখে তাকিয়ে থাকে।এক সময় বেজন্মা ছেলেটি হারিয়ে যায় দৃষ্টির আড়ালে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • সূর্য
    সূর্য গল্পটা ভালো হয়েছে। শেষ প্যারাটায় এসে মনটা ভারী হলো একটু খানি। হাসান হয়তো ভুক্তভোগী বলেই এভাবে ভেবেছে। তবে তার ঘৃণার জায়গাটা থাকা দরকার ছিল যারা এ হীন কাজটা করেছে, যারা এদেশের লক্ষ মা-বোনকে তুলে নিয়ে ভোগের বিষয় বানিয়েছে তাদের প্রতি।
    প্রত্যুত্তর . ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
    • কবি এবং হিমু ধন্যবাদ,মন্তব্য করার জন্য।ভাই পাকিস্তানীরা ছিল দুশমন।কিন্তু বেজন্মা বলে গালি দেয় স্বাধীন দেশের আপন মানুষগুলো তখন তো ভাই কষ্টটা বেশি হয়।
      প্রত্যুত্তর . ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • জায়েদ  রশীদ
    জায়েদ রশীদ গল্পের চরিত্র এবং তার নিজস্ব বিশ্বাস... সব মিলিয়ে ভাল জমেছিল।
    প্রত্যুত্তর . ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • হিমেল চৌধুরী
    হিমেল চৌধুরী ভালো লাগলো গল্প ।
    প্রত্যুত্তর . ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৩