বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৭ জুলাই ১৯৯২
গল্প/কবিতা: ২টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

পূর্ণতা (আগস্ট ২০১৩)

মোট ভোট অপূর্ণ পূর্ণতা

শেষের কবি
comment ৭  favorite ১  import_contacts ৫০৬
এলোমেলো চারিদিক হলদে অন্ধকার একটু ঠাণ্ডা বাতাস বইছে । ঠিক এই সময় তমাল তার ঘরে ফিরছিলো , “ তমাল ” ১৭-১৮ বৎসরের একটা যুবক , চোখ দুটো খোলা ,চুল গুলু যেন আকাশ ছুতে চায় । সারাদিন বন্ধুদের সাথে সময় কাটিয়ে ঘরে ফিরছিল ঠিক তখন সে পেছন থেকে একটা ডাক শুনলো “তমাল” সে খেয়াল করলোনা, পরোক্ষণে আবার সেই ডাক , এইবার আর মন মানলোনা । ফিরে তাকিয়ে দেখে একটা মেয়ে ডাকছে । মেয়েটাকে সে আগে কখনো দেখেনি । কি অপরূপ আর মায়াবি তার মুখখানি যেন ভোঁর বেলার ফুল । সে মেয়েটির দিকে এক পলকে তাকিয়ে ছিল ।

মেয়েটি বললো , “ভাইয়া আমি মিমি , আপনাদের বাসার নিচে ভাড়াটিয়া কল্পনা আনটির বাসায় বেড়াতে এসছি , ঢাকাতে পড়ালেখা করি মানবিক বিভাগে , আমার আপনার একটু সাহায্য প্রয়োজন” । পরক্ষনে তমাল বলল “বলুন কি সাহায্য ?” মিমি ; মনবিজ্ঞান বিদ্যা বইটা আমার খুব প্রয়োজন , আমি এখানে একটা কোচিং সেন্টার এ কোচিং করছি অনেক খুঁজেছি পাইনি , আমিতো এখানে নতুন । ভালো লাইব্রেরি ও চিনি না । আমাকে এনে দিবেন ? তমাল ; আচ্ছা কাল সকালে আমি শহরে গেলে এনে দিবো । মিমি ; আপনার কোন সমস্যা হবেনা তো ? তমাল ; আররে নাহ ।

মিমি ; থ্যাঙ্ক ইউ ভাইয়া , আপনাকে অযথা কষ্ট দিচ্ছি । তমাল ; এটা কোন বেপার না । মিমি ; আচ্ছা এখন তাহলে আমি যাই , রাত হয়ে গেলো বোধয় । তমাল ; আচ্ছা ।

রাত হয়ে গেলো । সকাল ৮ টা বাজে ঘুম থেকে উঠে কলেজে যাবার জন্য বের হচ্ছে তমাল । তমালের মা বলছে “ এতো সকালে কোথায় যাচ্ছিস বাবা ?” জবাবে তমাল বললো “এইতো একটু কাজ ছিল , এটা সেড়ে কলেজে যাব” তমালের মা ; কি এমন কাজ রে তোর ? তমাল ; আছে , কতো কাজ , তুমি বুঝবা না তমালের মা ; হা হা , আমি বুঝবো ক্যান ... তারাতারি ফিরিস কিন্তু তমাল ; আচ্ছা

তমাল শহরের লাইব্রেরি তে গিয়ে খুজতে শুরু করলো বইটা , শহরের সব লাইব্রেরি খুঁজে তন্ন তন্ন , তবুও বই পাওয়া গেলো না , ওর মনে শুধু একটা ই চিন্তা ও যে কথা দিয়েছে , এখন কি জবাব দিবে ?

বাড়ি ফিরতে দেখল মিমি দাড়িয়ে মিমি ; ভালো আছেন ভাইয়া ? এত দেরি করে ফিরেন ক্যান আপনি ? তমাল ; একটু বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে ফিরলাম , তাই একটু লেট । আমি সরি , তোমার বইটা কথাও পাইনি , কোন লাইব্রারি তে নাই । মিমি ; ব্যাপার না , বই না পেলে কি হইসে ।

তমাল পুরো অবাক !!!!! মনে মনে নিজেকে প্রশ্ন করছে “ কীরে ??? যার জন্য সকাল থেকে বই খুজছি সে বই ছাড়া ও সে খুশি ?”

যাই হক ওইদিন থেকে তাদের মাঝে একটা অন্যরকম সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেলো । একসাথে বসে কথা বলা , হাঁটতে হাঁটতে অনেক দূর চলে যাওয়া , অযথা হাশি , আর অদ্ভুত একটা ব্যাপার ছিল , যখন ওরা দুজন দুজনের চখের দিকে তাকাত , এক ধরনের নিরবতা কাজ করে ।

একদিন তমালের বাসায় আসলো মিমি , তমাল তখন কাপর পরছিল গোসলের পর । মিমি তমালের রুম ে এসে রুম টাকে দেখছে , হটাত করে চোখ পরে গেলো তমালের বুক শেলফ এর দিকে । বুক শেলফ ে অন্নেক বই , হরেক রকম লেখক এর কালেকশন ,

মিমি বল্ল ; তমাল তুমি তো অনেক বই পড় ।

তমাল ; হুম্ম

মিমি বুক শেলফ থেকে একটি বই হাতে নিয়ে বল্ল “আমি এই বইটা নেই ?” তমাল; নও

মিমি নিশব্দে বইটি নিয়ে বেরিয়ে গেলো ।

ইতিমধ্যে কল্পনা আনটি প্রতিদিন তমাল এর মার কাছে প্রতিদিন বলতো “আপনার ছেলে তো মিমির পেছনে ঘুর ঘহুর” কথা গুলু অনেকটা এমন ছিল , তমালের মা এসব কথা তেমন কানে দিত না , কারণ কল্পনা আনটি সব সময় বারিয়ে কথা বলতো । তমালের মা এমনিতে মাউসিক ভাবে ভীষণ চাপে , কিছুদিন আগে তমালের বোনের লাভ মারিজ হল । পরিবার ৬ মাস পর মেনে নেয় । এজন্য ছেলেকে নিয়েও ভীষণ চিন্তা ।

আস্তে আশ্তে তমাল আর মিমির মাঝে অদ্ভুত এক সম্পর্ক তৈরি হল । অনেকটা বন্ধু আবার অনেকটা প্রেমিকা , এই সম্পর্ক কে কি নাম দেয়া জায় আমি জানিনা । একদিন দুজন হাঁটতে হাঁটতে কথা বলছে ... মিমি বলছে ; আচ্ছা আমাদের মাঝে কিসের সম্পর্ক ? তমাল ; মানে ?

মিমি ; আমারা কি বন্ধু ? তমাল ; না মিমি ; তাহলে কি প্রেমিক – প্রেমিকা ? [হাঁসতে হাঁসতে বল্ল]

তমাল ; না মিমি ; তাহলে কি ? তমাল ; জানিনা হঠাৎ করে আবার দুজন চুপ হয়ে গেলো ।

১ দিন পর কল্পনা আনটির ছোট মেয়ে তমাল কে বলছে “ ভাইয়া মিমি আপু আপনাকে প্রপোস করবেনা,আপনাকে করতে হবে”

এভাবে প্রায় ২-৩ মাস চলছে । সেদিন ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারী , ভালোবাসা দিবস , সকাল বেলা তমালের এক বন্ধু দুশ্তমি করে গোলাপ ফুল দিয়েছে । তমাল ফুল টাকে বেল্ট এর মধ্যে আটকে রেখে নিচে ডাস্টবিন এ ময়লা ফেলতে যাচ্ছে । ঠিক এই সময় মিমি দেখতে পেলো তমালের কাছে গোলাপ । মিমি বলছে ; কীরে কেমন আছিস ? তমাল ; এইতো । মিমি ; কীরে ফুলটা নিশ্চয় আমার জন্য ????? তমাল ; {একটু ভেবে বললো } হ্যাঁ !!! মিমি ; তাহলে দাও। তমাল ; এইতো , [ মুচকি হেসে বললো ] শুধু তোমার জন্য ।

মিমি চুপ করে চলে গেলো ।

সেদিন তমাল ঘরথেকে বের হয়নি , বিকেলে মিমি তমালের ঘরে গেলো । হাত দুটো পেছনে গুটিয়ে ধিরে ধিরে তমালের দিকে আসছে ... তখন মিমি বললো ; তুইতো ফুলটা সময় মতো দিলি , বাট আমি দিতে পারলাম না । হাত দুটো সামনে এনে এক গুচ্ছু গোলাপ দিয়ে বললো “ নে ” তমাল পুরো অবাক দৃষ্টি তে তাকিয়ে ......... একটা সময় পর ফুল গুলু হাতে নিল ।

তাদের মধ্যে একটা নির্বাক ভালোবাসা কাজ করছে , সেটা অনেক আগে ই টের পেয়েছে দুজন , আজ ক্লিয়ার হল ।

রাত হয়ে গেলো তমাল মনে মনে ঠিক করলো সে এইবার মিমি কে বলে ই দিবে , তার ভালোবাসার কথা । মনে মনে ঠিক করলো কাল সকাল এ ই বলবে । ঠিক এই সময় তমালের মা তমালের মা তমাল কে জিজ্ঞেস করলো “তোর সাথে কি মিমির কোন সম্পর্ক আছে ?” তমাল ; [অবাক দৃষ্টয় দিয়ে তাকিয়ে তার মার দিকে] না তো !!!! তোমাকে কে বললো ???? তমালের মা ; যাই হউক , ওই মেয়েটা খুব খারাপ । তমাল ; ক্যান ? কি হইসে ? তমালের মা ; কিছুনা , তোর হাতটা দে তো ??? [তমাল হাত বারিয়ে দিল] আমার মাথা ধরে কসম কর , যেন ওই মেয়ের সাথে তোর মন সম্পর্ক না হয় কখনো । তমাল ; [ তমালের মনের মধ্যে যেন অভিলয় প্রচণ্ড চাপে বুক ফেটে যাচ্ছে ] ক্যান ???? এমন কি হল ? তমালের মা ; আমি তোর কোন কথা সুন্তে চাই না , তই কসম কর, নইলে আমার মরা মুখ দেখবি । [তমাল মিমি কে অনেক ভালবাসে , তার জীবন চেয়েও বেশী , কিন্তু মায়ের ভালবাসার কোন তুলনা নাই ] তমাল ; কসম করলাম [ তমালের জীবন যেন থমকে গেলো ]

তমাল ওই রাতে সারারাত কাঁদল , একটু ও ঘুমাতে পারলনা ।

পরদিন সকাল , যখন তমাল ভাবছিল যে ও মিমি কে প্রপোস করবে , ঠিক ওই সময় মিমি আর ওর বান্ধবি আসলো , মিমি তমাল কে ডাকল , তমাল যেন নিজেকে আটকাতে পারছে না , চলে গেলো মিমির কছে , মিমি হুট করে বলে দিলো “আমি তোমাকে ভালোবাসি তমাল” তমালের বুকে যেন অঝর কোমল হাওয়া হওয়ার কথা , সেখানে নিষচুপ পাথর । তমাল বললো ; এটা সম্ভব না । [ অনেকটা রেগে ] তুমি আমার সাথে আর কোন দিন কথা ও বলার চেষ্টা করবা না । বাই , ভালো থেকো । শোন “আমি কাও কে ভালবাসতে পারবোনা”

মিমি যেন অঝর কান্না তে ক্ষত ......... একটু আরালে যাওয়ার পর

মমির বান্ধবি বলছে “ভাইয়া ও কাদছে ক্যান” ? তমাল বলছে “আমি জানিনা” ।

তমালের জীবন যেন থমকে গেলো , তার হাসি বিলীন । কোমল ছেলেটি আজ মরুর বাক্য ।

কল্পনা আনটির ছোট মেয়েকে দিয়ে তমালের বই টুকু ফেরিয়ে দিলো তমাল কে ।

একদিন ভোরে তমাল শুনল মিমি তার বারিতে চলে গেছে । সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত দুজন দুজনের কোন দেখা নেই । এত ভালবাসা আজ অপূর্ণ । পৃথিবী যেন বাস্তবতা কে থেকে দেয় বেদনায় । আজ তমাল নিজেও জানেনা মিমি কোথায় । আজো ভালোবাসা অমৃত ।

বিধাতার এ কি অমায়িক খেলা ভালবাসায় কাটত তাদের বেলা । কতো সুখ আর কতো ছন্দ ভাবতে হয় দু চোখ বন্ধ । হটাত নেমে এলো অঝোরে আগুন জীবনটাকে শেষ করলো পুনঃ পুনঃ !!!
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন