বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৮ অক্টোবর ১৯৬৫
গল্প/কবিতা: ৩৭টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বালুকায় পদচিহ্ন

শ্রমিক মে ২০১৬

ফারাক

শ্রমিক মে ২০১৬

আছমাদের কাব্য

ফাল্গুন ফেব্রুয়ারী ২০১৬

প্রত্যয় (অক্টোবর ২০১৪)

বিড়ম্বিত ভালোবাসা

মোঃ মোজাহারুল ইসলাম শাওন
comment ৮  favorite ০  import_contacts ৬২৫
রংপুর মেডিকেল কলেজে নতুন বর্ষের শিক্ষার্থীরা ক্লাস শুরু করেছে। কলেজ ক্যাম্পাস গমগম করছে নতুনদের পদচারনায়। আজকাল ৭০% মেডিকেল শিক্ষার্থী মেয়ে। ফলে ছেলেদের চেহারায় এক ম্রিয়মান অবস্থা বিদ্যমান। একমাত্র ব্যতিক্রম শেষ বর্ষের বরুন কুমার। ওর খুব সখ প্রেম করে বিয়ে করার। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার বৈরাগ্য নজরের কারনে সে এই সুযোগ লাভ করে নাই। তার জীবনে কোন কিছুরই অভাব নাই। অনেক সামাজিকভাবে দুর্বল পরিবারের ছেলে হয়েও সে নিজ মেধা আর শ্রমে নিজেকে বেশ উচ্চতায় নিয়ে এসেছে। শুধু প্রেম করার এই ইচ্ছাতেই সে নিজেকে পরাজিত ভেবে কষ্ট পায়।

কলেজের রাজনীতি, সামাজিক সংগঠন সব কিছুতেই তার উপস্থিতি নজরে পড়ার মত। গরীবের সন্তান হওয়ায় তার কাজ করার উদ্যম অনেকের চেয়ে এত বেশি যে সে একাধারে কোচিং, টিউশনি, ক্লাস, সামাজিক, সাংগঠনিক সর্বক্ষেত্রে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছে। তার এই সর্বজন ব্যস্ততায় সকলের চোখে বরুন কুমার এক হিংসের পাত্রও বটে ! নিজে কলেজের যে সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত সেটি আসলেই এক্কেবারে নির্ভেজাল রাজনীতি মুক্ত সংগঠন। আর নিজে তখন সেই সংগঠনের সাধারন সম্পাদক। ফলে নবীনদের মাঝে সদস্য সংগ্রহে তার ভুমিকা মুখ্য। তার সুন্দর ব্যবহারে কয়েকদিনেই নতুন ব্যাচের অনেক ছেলে মেয়েকে নিজেদের সাথে জড়িত করে ফেলে। এই সংগঠনের সদস্য হতে কোন টাকা দেয়া লাগে না। শুধু যে কেউ ২ টি গল্পের বা কবিতার বই জমা দিলেই সদস্য হতে পারে। নবীনদের প্রায় ২৫ জন সদস্য যোগাড় হয়ে যায়। এর মধ্যে কর্মচঞ্চল বরুন কুমারের নজরে আসে তার চেয়ে সামান্য লম্বা জুহি চাওলার মত মুখাশ্রির লাজুক মেয়ে কবিতা রানীর। কবিতার মুখ দেখলেই সুকান্ত কেন আজকালের কবি ওর বন্ধু আনন্দও দুই চার লাইন কবিতা লিখে ফেলতে পারবে বলেই বরুনের বিশ্বাস। তবে সে অনেক আবেগ বুকে ধারণ করলেও কবিতা লিখতে পারেনা। বুক ধরপর করে ওঠে। মাঝে মাঝে মনে হয় উচ্চতার স্বল্পতার কারনে নারীদের ‘বুক ফুটে তো মুখ ফোটে না’ স্বভাব তার ভিতরে বিদ্যমান কিনা?

প্রায় ৩ মাসের মধ্যেই জুলাই মাসের ২২ তারিখে সে কবিতার নেক নজরে নিজেকে আনতে পারে। ৫ বৎসরের
ছোট এই মেয়েটি তাকে দিওয়ানা করে ফেলে! মানুষ প্রেমে পড়লে এত উদ্যম কোথা থেকে পায় সে নিজেও
বোঝে না। সারাদিন কবিতার কথা মনে করে সে নিজেকে উৎফুল্লতার চরমে নেয়। সারাদিন কাজ করে আর
সাঝের বেলায় তার সামনে দেবেন্দ্রর মত নিজেকে হাজির করে। কত কথা, কত হরেক রকমের কথা যে মনে
আসে তার ইয়তা নাই। প্রেমে পরলে কথার দেবী সকলের মনে ভর করে, সে বোঝে। বরুন কুমার বলে যায়
তার অতীত, বর্তমান এমন কি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সব কিছু খুটে খুটে ! কবিতাও হর হর করে বলে যায় তার
পরিবারের কথা ! তার বাবা মায়ের মধ্যে গরমিলের কথা ! কবিতা বলে যায় তাদের ধর্মের এই বিভশ্যতার
কথা। তাদের ধর্মে বিবাহ বিচ্ছেদের বিষয়টি নাই বলেই তার মায়ের জীবনে এমন কষ্ট। তার বাবা অন্য মেয়ের
প্রতি আসক্ত, অথচ ধর্মীয় কারনে তার মাকে ত্যাগ করে না। কবিতা ছাড়াও তার আরও এক ছোট ভাইরয়েছে,
সেই সন্তান্দের জন্য কবিতার মা কৃষ্ণা রানী স্বামির সকল ব্যাভিচার সজ্য করে যায়। কবিতাও বাবার এই
নষ্টামির কথা জেনে যায়। সে আজ থেকে ৫ বৎসর আগে যখন সে ১০ম শ্রেনিতে পড়ে। বাবা আসলেই বিয়ে
করেছে কিনা জানে না, তবে নিজের চোখে বাবাকে রিক্সায় মেয়েটিকে নিয়ে ঘুরতে দেখেছে।

কবিতাদের বাড়ি মাদারিপুরের মোস্তফাপুরে। ছোট বেলা থেকেই বাবার আদরে মানুষ। সেই বাবা কৃষিব্যাংকের
ক্যাশিয়ার। সহজ সরল সাধারন জীবন যাপনে অভ্যাস্ত। কিন্তু সেই বাবার কি হয় কে জানে, পদন্নোতি পেয়ে
বদলি হয় ফরিদপুরে, থাকে প্রায় ৪ বৎসর। সেই থেকে আবারো নিজ এলাকায় ফিরে গেলেও তার আচার
আচরণে অনেক পরিবর্তন দেখা যায়। কৃষ্ণা রানী লোক মুখে খবর পায় স্বামীর অন্য দার গ্রহনের কথা, কিন্তু
নিজে কিছুই বেড় করতে পারেনা। একসময় নিজের সন্তানদের দিকে চেয়ে স্বামীকে জিজ্ঞাসা করলে স্বামীর উগ্র
ব্যবহারে সে চুপ মেরে যায়। উঠতি বয়সের মেয়ের দিকে তাকিয়ে দেখে স্বামীর এই ব্যবহারে সেও চুপ মেরে
যায়। মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে তার নিরুদ্বিগ্ন ব্যবহার দেখে প্রতিবেশিরাও একসময় বিষয়টি ভুলে
যায়।

কৃষ্ণা রানীর মনে খুব আনন্দ দেখা যায় যখন তার মেয়ে মেডিকেল কলেজে চান্স পায়। যদিও রংপুর মেডিকেল
কলেজের দুরের কথা চিন্তা করে তার গলা শুকিয়ে যায়, কিন্তু মেয়ের উচ্চ শিক্ষার দিকে তাকিয়ে সে আবার
ভুলে যায় তার দুঃখ। প্রথম দিন যেদিন মেয়েকে নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজে যায়, সেদিন নিজের চোখ কে
সাম্লাইয়ে রাখতে তার ভীষণ কষ্ট হয়। কিন্তু মানুষের দুর্দশা স্রষ্টা সহ্য করতে পারেন না। বরুন কুমারের সাথে
প্রথম দিনেই দেখা হলে তার অমায়িক ব্যবহারে এবং মেয়েকে দেখে রাখার দায়িত্ব নিতে দেখে গ্রামের এই
সহজ নির্যাতিতা মহিলার মনে বেশ উতফুল্যতা দেখা যায়।

বরুন কুমারের বাড়ি চিলমারি। রংপুরের শেষ সীমায় এক নিভৃত পল্লিতে। গ্রামে বাবার তেমন কোন আয় নাই,
পরের বাড়িতে কাজ করে করে বিরাট এক সংসার চালায়। বরুনের বাবা নৃপেন কুমার একজন সহজম সরল
মানুষ। ৩ ছেলে ৩ মেয়ে মা ও এক পঙ্গু বোনকে নিয়ে তার সংসার। সেই সংসারের ঘানি টানতে গিয়ে তাকে
অমানুষিক পরিশ্রম করতে হয়। অনেক কষ্টে যদি বড় ছেলে বরুন একটু সাহাজ্য করত তো খুব ভাল হত।
কিন্তু তার এই বড় ছেলে লম্বায় তেমন বেড়ে না উঠায় নৃপেন কুমারের মনে দুশ্চিন্তার শেষ নাই। তাকে দিয়ে
তেমন ভারী কাজ করান সম্ভব না। কিন্তু ভগবান তার এই ছেলেকে খুব মেধা দিয়ে পাঠিয়েছে। স্কুলের সকল
পরীক্ষায় সে প্রথম হয়। ৫ম ৮ম শ্রেণীর বৃত্তি পেয়ে সে একসময় গোল্ডেন জিপিএ পেয়ে চিলমারি এলাকার
মধ্যে সবচেয়ে ভাল ফল করে। ফলে ছেলেকে আর তার সহযোগী না বানিয়ে উচ্চ ক্লাশেই ভর্তি করে দেয়।
রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে আবারো গোল্ডেন জিপিএ নিয়ে পাশ দিয়ে সে রংপুর মেডিকেল কলেজে চান্সপায়। এই ছেলে রংপুর শহরে টিউশনি, কোচিং ইত্যাদি করে নিজের খরচ চালিয়ে তাকেও সাহাজ্য করতে শুরু করে। ছেলের সাহাজ্যে একসময় সে দুই বিঘা জমিতে ধান চাশ করে, এরপর আলু, গম সরিষার আবাদ
করতে করতে ছেলের সাহাজ্যে এক সময় সে ১২ বিঘার চাষি হয়ে যায়। এখন তার মেঝ ছেলে স্থানিয় কলেজে
চাকুরি নিয়েছে। নৃপেন কুমারের আর মানুষের বাড়ি কাজ করতে হয় না, উল্টো সারা বৎসর নিজেই ৩ -৪
জন মানুষের কাজ দেয়। তার বড় ইচ্ছা বড় ছেলে বরুন কুমার ডাঃ হয়ে সম্মান এবং সমৃদ্ধি এনে দেবে।

বরুন ডাঃ হবার আগেই কবিতার সাথে তার ভীষণ হৃদতা শুরু হয়। মেয়েটির বাড়ির অবস্থা জেনে আরও বেশি
ভালবাসতে শুরু করে। মেডিকেল কলেজের পড়াশুনায় সাহাজ্য করার সাথে সাথে মেয়েটির এত দূরে পরিবার
ছেড়ে থাকার বিষয়টি বরুন কে খুব ভাবিয়ে তোলে। নিজের অজান্তেই কবিতার অবিভাবক ভাবতে শুরু করে
নিজেকে। কবিতা এতে সামান্যই বাঁধা দেয়। কারণ এই ছোট্ট খাট বড় ভাইয়ের মনের অতি আবেগে সে
নিজেকে জরিয়ে ফেলে। বড় ভাইকে একসময় নিজের বাড়ির না না নিজের বুকের ধন ভাবতেও ইচ্ছা করে।
বরুনের সাথে শহরের নিজ্জন এলাকা ঘুরে বেড়িয়ে খুব আনন্দ পায়। একদিন সাঁঝ বেলায় কারমাইকেল
কলেজের দক্ষিন পাশের পুকুর ঘাটে বসে বরুন আর সে দীর্ঘ ১ ঘণ্টা চোখে চোখ রাখা খেলা খেলে । এরপর
থেকে খুব মজা পেয়ে যায় দুজনে ... সেই দেখা ঘুরে বেড়ানো আর খেলার মাত্রা একসময় বেড়ে যায়।
দুইজনের মিলিত ইচ্ছায় এই মনের চাওয়া পাওয়ার তীব্রতায় কেউ কাউকে বাঁধা দেয় না...

বরুনের বড় ভাই শুলভ আচরনের কারনে দায়িত্ববোধ মাথা চারা দেয়। কবিতা কেন যেন এই আচরণ কে খুব
উপভোগ করতে চায়। বাড়িতে মাকে সব জানায়... মা নীরব থাকে। বরুন নিজে তার মায়ের সাথে কথা বলে
প্রায় প্রতিদিন। এমন কি একসময় নিজের মায়ের চেয়েও আপন ভেবে নেয় সে। সারাদিন কবিতাকে নিয়ে কি
করছে কথায় ঘুরছে কি মজা করছে, সেসব বলতেও দিধা করে না। বরুনের এই সহজ সরল আচরণে মুগ্ধ হয়ে
যায় কৃষ্ণা রানী। নিজের স্বামিকে কিছুই জানায় না। প্রায় প্রতি মাসে একবার কবিতা বাড়ি যায়, সাথে বরুন
কুমার। জার্নি হয় রাতের বাসে। সারারাত পাশাপাশি বসে বাড়ি আসার মজা নিতে কবিতা একটু ঘুন ঘন
বাড়িতে আসে ! বরুনের আজকাল আর বাড়িতে বাবাদের টাকা পাঠাতে হয়না। মাসে বরুন প্রায় ২৫ হাজার
টাকা আয় করে, কিন্তু মাস শেষে হাত শূন্য ! আজকাল নিজেই সব দায়িত্ব নেয় বরুন। রংপুর কালীবাড়ি
মন্দিরে এক সন্ধ্যায় কবিতার প্রচণ্ড আগ্রহে বরুন কবিতাকে সিঁদুর পরায়, কিন্তু শাখা পরতে চায় না। কবিতার
কথা মণ্ডির ছুঁয়ে আর সিঁথিতে সিঁদুর দিয়েই আপাতত বিয়ে সম্পন্ন হোক। বাবার সম্মতিতে শাখা পড়ে আবার
লোক দেখানো বিয়ে করবে। বরুন কুমার এই ছোট মেয়ের এই চপলতায় মুগ্ধ বলে কোন চালাকি বুঝে উঠতে
পারে না, চায়ও না। বাবার দেখা এক দায়িত্বশীল স্বামীর মত সকল দায়িত্ব বয়ে চলে। খাওয়ানো, বেড়ানো, বই
কেনা, পোশাক কেনা এমন কি মাসিক বাড়ি যাওয়ার খরচও বরুন বহন করে যায় আনন্দ চিত্তে। এমন করতে
করতে বরুন ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়ে। প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা ঋণ করে সে নিজেকে ও কবিতাকে চালিয়ে নেয়। ইতিমধ্যে বরুন পাশ করে ইন্টার্নশিপে যোগ দেয়। কিন্তু কবিতার তাতে কোন উৎসাহ নাই। কারণ সারাক্ষন তার কাছে এক কথা পাশ করে বরুন ঢাকায় চলে গেলে সে একাকী কেমনে থাকবে। ডাঃ বরুন আলাদা বাসা নেয়। সেই বাসায় অবাধে চলাচল করে কবিতা রানী।


রোজার ঈদে বরুন ছুটি পাবে না। তাই ১৫ রোজায় কবিতাকে নিয়ে মোস্তফাপুর আসে। রাতে দিয়ে আবার
পরের দিন ফিরে যেয়ে হাসপাতালে ডিউটি করে। কলেজের সবাই তাদের এই বিষয়টি জানে এবং খুব উপভোগকরে। ঈদ শেষ হয় কলেজ খোলে। বরুন অপেক্ষায় থাকে কবিতার ফোনের। কবে সে আসবে অথবা তাকেনিতে যেতে বলবে... কিন্তু কিছু হয় না। জুনিওর একজনের কাছ থেকে খবর জানে কবিতা গত ৩ দিন হল কলেজে এসে ক্লাস করছে। বরুন দৌড়ে সব কাজ ফেলে কবিতার হোস্টেলে যায়। কবিতাকে ডেকে পাঠালেআসে না। দীর্ঘ ১ ঘণ্টা গেস্ট রুমে বসে বসে ক্লান্ত বরুন প্রায় ৪ বারের লোক পাঠানোর পর কবিতার মুখ দর্শনকরে। কিন্তু একি ... কবিতার মুখে বিরক্তির ছাপ ! বরুন ঠাণ্ডা নির্মোহ গলায় জানতে চায় কবে এসেছে।কবিতাও নিরস ভঙ্গিতে উত্তর দেয়। বরুনের এই আচরণ ভাল লাগে না। বরুন এবার জানতে চায় কবে এসেছেকেন আসার খবর জানায় নি। কবিতা আগের মত নিরস উত্তরে জানায় ইচ্ছে করেনি আর সাথে বাবার একবন্ধু এসেছে বলে জানায় নি। বরুনের এই আচরণে খুব রাগ ধরে। সাইজে বেঁটে লকদের রাগ নাকি খুব বেশিহয়। চুপচাপ শান্ত বুদ্ধিমান বরুন হটাত রেগে যায়... রেগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। কবিতার গালে হাতের ৫ আঙ্গুল বসিয়ে দিয়ে গায়ের জোরে ২ থাপ্পর দেয়। কবিতা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ৩য় বার হাত
উপরে উঠাতেই কবিতা ধুম ধাম মার শুরু করে। বরুন হতবম্ব হয়ে থেমে যায়... নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে
সোফায় ধুপ করে বসে পরে। কবিতা পাশ দাঁড়িয়ে ফুঁসতে থাকে... এর ফাকে মোবাইলেও কার সাথে নিচু স্বরে
কথা বলে। প্রায় আধা ঘণ্টা বরুন যেমন বসে থাকে তেমনি কবিতাও দাঁড়িয়ে থাকে ঠায়। এই দুইজনের
ইতঃপূর্বে এমন হাল্কা মার পিটের ঘটনা যেমন অতি মাইরের মাঝে আবেগে ঠিক হত, এদিন হয় না। বরুন কি
করবে বুঝতে পারে না। এমন সময় বাস স্ট্যান্ডের শ্রমিক নেতার মত ভারী চেহারার এক জন লোক আসে।
প্রথমেই বরুণকে ডেকে কোন সৌজন্যতার বালাই না দেখিয়ে কর্কশ স্বরে বোকা শুরু করে। নিজ শহরের নিজ
কলেজের হোস্টেলে বাইরের এই লকের এই আচরণে বরুন আরও হতবিহবল ও কিংকর্তব্যবিমুর হয়ে যায়।
ষণ্ডা চেহারার লোকটি কবিতার বাবার বন্ধু পরিচয় দিয়ে বরুণকে কবিতার কাছ থেকে সরে যেতে বলে অথবা
তার মৃত দেহ কোন ইটের ভাটায় জ্বালিয়ে দেয়া হবে বলে শাসায়। এই সময় বরুন কবিতার চোখে মুখে বেশ
দিপ্তিময় উজ্জ্বল্যতা দেখে যা তাকে আহত করার জন্য না শাসানোর জন্য বুঝে উঠা না। শুধু জান প্রান দিয়ে
ভালবাসার প্রতিদানে কবিতা কর্তৃক তার আজকের এই আচরণে ও নিজ কলেজের ক্যাম্পাসে বহিরাগত
লোকের দ্বারা নিগৃহীত হওয়ার ঘটনা সে ভুলতে পারে না। মাথা নিচু করে বেড় হয়ে আসে কবিতার
হোস্টেলের গেস্ট রুম থেকে !


আজকাল ইন্টার্নশিপ প্রশিক্ষনে তেমন করাকরি নাই। তাই টানা ৫ দিন কলেজ বা হাসপাতালের কোথাও বরুনকে দেখা না গেলেও কেউ বরুনের খোঁজ নেয় না। বরুনের আত্মগোপনে থাকলেও কবিতা ঠিক মত ক্লাশ ওপরীক্ষা দেয়। বরুনের বন্ধু আনন্দ ৫ দিন ওর ফোন বন্ধ পেয়ে ওর বাসায় যায়। অনেকক্ষণ চেষ্টায় যখন রুম
খুলছিল না, তখন পুলিশ কে জানাতে যাবে এমন সময় এক বিধস্থ চেহারায় মলিন শুকনো মুখের বরুন কুমার
রুম খুলে দেয়। বরুনের এই চেহারা দেখে চিৎকার দিয়ে ওঠে আনন্দ ! ঘরের ভিতর নিকষ অন্ধকার। বিছনার
নিচে পরে আছে ৫ পাতা রিলাক্সেন ট্যাবলেট এর খালি মোড়ক। আনন্দকে জানায় প্রতিদিন সে এক পাতা করে
খেয়ে নিজেকে ঘুমিয়ে রেখেছে। কারণ চোখ খুললেই কবিতাকে মনে পরে... আনন্দ ফোন করে ওদের ব্যাচের ৪বন্ধুকে ডাক দেয়। ওরা এসে সমস্ত কিছু শোনে। নিজেদের কান কে বিশ্বাস করতে পারে না। বরুণকে গোছল
করায় এরপর ওকে নিয়ে হোটেলে যায়... বরুন আধা রুটি খেয়ে হর হর করে বমি করে দেয়। হাসপাতালে
ভর্তি করে দেয়া হয়। ৩ দিন নিয়মিত চিকিতসায় বরুন দাঁড়িয়ে যায় আর বন্ধুদের সাহচর্যে নিজেকে আবারো
তৈরি করতে সাহস নেয় । জীবনের প্রতি গভীর ভালবাসায় আবারো জীবন কে সাজাতে চায়, কিন্তু কবিতার
ছেড়ে যাওয়াকে সে কোন মতেই মেনে নিতে পারে না। অধিক প্রত্যয়ী বরুন কুমারের জীবন সামনে এগিয়ে
যায় প্রত্যয়হীনতায় এলেবেলে মেঠোপথে মুখ থুবড়ে ! যার প্রায় পুরো পথ জুরে বিছানো আছে কবিতার সাথে তার আবেগ মাখা স্মৃতি! যা সে কোনদিন ভুলতে চাইলেও পারবে না। বিশ্বাসের প্রতিদানে সে যে অবিশ্বাসের মায়াজ্বালে জড়িয়েছে নিজেকে তার থেকে বেড়িয়ে আসা খুব সহজ হবে না ! বরুণের জীবন এখন বিড়ম্বনার এক সমুদ্র, যা অতিক্রম করতে যে উদ্যম আর প্রত্যয় দরকার বরুণের সেখানে এখন প্রচণ্ড ঘাটতি দেখা যায় !
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন