বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২১ জুন ১৯৮১
গল্প/কবিতা: ১টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

গল্প - উপলব্ধি (এপ্রিল ২০১৬)

মোট ভোট তুমি কি শুধুই একুশে ফেব্র“য়ারী?

আব্দুল হাদী Tuhin
comment ৭  favorite ০  import_contacts ১৩০
‘সত্যিই আমি একজন ভাষা শহীদের স্ত্রী! আমাদের রাষ্ট্রভাষা বাংলা আমার স্বামীর অবদান!’ এসব ভেবে রাবেয়ার বুকটা গর্বে ফুলে ওঠে। কিন্তু সাথে সাথে সেই ভাবটা বিলীন হয়ে যায় এই ভেবে যে, তার স্বামী সহ যত ভাষাপ্রেমিক তাদের মাতৃভাষা বাংলার জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তা আজ অনেকাংশেই অবহেলিত। রাবেয়ার বয়স ৮০ বছরের মতো হলে কী হবে! তিনি একজন শিক্ষিতা, তার মাঝে এখনও কাজ করে দৃঢ় মনোবল, অদম্য সাহস আর আত্মবিশ্বাস। তাই তো মন খারাপ হওয়ার সাথে সাথেই মন স্বাভাবিক করার জন্য আবার ভাবলেন যে, সার্বভৌম, স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টিতেও তো তার স্বামীর অবদান রয়েছে। যেহেতু, ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ, যা থেকে উদ্ভব হয় স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ; সুতরাং এতে তার স্বামীর অবদান অনস্বীকার্য।
আজ মহান একুশে ফেব্র“য়ারী। আর এজন্য রাবেয়া বেগমের আজ বার বার স্বামীর কথা মনে হচ্ছে। প্রতি বছরের মতো এবার ও তিনি স্বামীর মাগফিরাতের জন্য সারাদিন নামায, তিলাওয়াত ও তাসবীহ পড়ে আল্লাহর নিকট প্্রার্থনা করলেন। তবে শরীরের কর্মক্ষমতা কমে যাচ্ছে বলে নামায-তিলাওয়াত করতে অনেক কষ্ট হয়।
রাবেয়া বেগমের সংসারে তিনি একা, সাথে থাকে ২০ বছরের একটা ভাইপো আর একটা কাজের বুয়া। আর একমাত্র মেয়ে ঢাকায় স্বামী-সংসার নিয়ে ব্যস্ত। প্রতিদিন ফোন কওে মায়ের খোঁজ নেয়, মাঝে মাঝে দেখতে এসে কয়েকদিন থেকে যায়।
বিকেলবেলা প্রতিদিনের মতো আজ ও রাবেয়া বেগম বেলকনিতে বসে চা খাচ্ছেন আর বাংলা ভাষার দৈন্যদশার কথা ভাবছেন; ‘বাঙালিরা নামেই শুধু বাঙালি, কিন্তু তাদেও প্রকৃত বাঙালিত্বেও পরিচয় কোথায়? বাংলাদেশের সর্বস্তরে এখনও বাংলা ভাষার চর্চা ও ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি। এমনকি ভাষা আন্দোলনের দিনটিও আমরা ইংরেজি তারিখে স্বরণ করি, কিন্তু আমরা ভুলে যাই যে, সে দিনটি ছিল ৮ই ফাল্গুন।”
রাবেয়া বেগমের এসব চিন্তা তার জন্য আজ নতুন নয়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর একটি উক্তি তার মনে কড়া নাড়ল, “আমরা বঙ্গদেশবাসী। আমাদের কথাবার্তার, ভয়-ভালোবাসার, চিন্তা-কল্পনার ভাষা বাংলা।”
রাবেয়া বেগমের আফসোস হল, “হায়! উনার মতো যদি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মনে এই কথাগুলো গেঁথে থাকতো, তাহলে আমাদের বাংলা ভাষার এমন অপব্যবহার হত না।
রাত বারোটা ছুঁই ছুই। এখনও চারদিকে ভাষা দিবসকে অনুষ্ঠান হচ্ছে। কিন্তু রাবেয়া বেগমের কাছে এসব খেলাধূলার মতো মনে হচ্ছে। কারণ, কাল ই শুরু হয়ে যাবে বাংলার সাথে ইংরেজী, হিন্দীসহ অন্য ভাষার ব্যবহার; আচার-অনুষ্ঠানাদিতে অন্য সংস্কৃতির অনুসরণ। তার মনে প্রশ্ন জাগলো, “বাংলা ভাষার একই বাক্যে যখন সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটে তখন তা গুরুচন্ডালী দোষে দূষিত হয়, যা বর্জনীয়; আর যদি বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে অন্যান্য সংস্কৃতির প্রবেশ ঘটে আর তা বাংলাভাষী সংস্কৃতির অপব্যবহার ঘটায় তাহলে তা কোন দোষে দোষী? আর তা বর্জনীয় নয় কী?
বাংলা ভাষার দুরবস্থা দেখে অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের মনে যে প্রশ্ন জেগে উঠেছিল, সেই প্রশ্ন রাবেয়া বেগমের মনেও জেগে উঠলো, “তুমি কি শুধুই একুশে ফেব্র“য়ারী?”
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন