বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৩ এপ্রিল ১৯৭০
গল্প/কবিতা: ৫৮টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

তর্ক শালীনতা

ঘৃণা সেপ্টেম্বর ২০১৬

অধিকার ষোলকলা

প্রায়শ্চিত্ত জুন ২০১৬

সহবত

উপলব্ধি এপ্রিল ২০১৬

প্রত্যয় (অক্টোবর ২০১৪)

কর্মের সাধনা

দীপঙ্কর বেরা
comment ৬  favorite ০  import_contacts ৫২৮
তখন বর্ষাকাল । বাড়ি থেকে বেরিয়ে এক পা এক পা করে ইট ফেলে দেওয়া আছে । তাতে চলতে গিয়ে একটু এদিক ওদিক হলেই পিচিক পিচিক করে কাদা ছিটকে পড়বেই ।
স্কুল ড্রেস পরে গোপলা বেরিয়ে ধপাস করেই পড়ে গেল । কাদায় মাখামাখি । মুখ দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে ‘মাগো মা , মাগো মা মা মা ‘ বলতে লাগল । মা ধান সেদ্ধ করতে করতে জ্বালানো উনুন ফেলে দৌড়ে বেরিয়ে এল – কি ! কি হল ! ম্যাঁ ম্যাঁ করছিস কেন ? উঠ উঠে পড় । ওঠ ওঠ ।
একটুও হাত ধরল না । গোপলাকে নিজেকেই উঠতে হল । বুকের কাছ লাগল । কান্না থামতে চাইল না । তার উপর মায়ের এই বকুনি । গোপলার কাছে অসহ্য । সামনের দিকে তাকাল । দাদা দিদি চলে যাচ্ছে স্কুলে ।
মা বকেই চলেছে – কোন পড়া বাকী আছে । আমাদের এই তো রাস্তা সারাদিন কাদার মধ্যে খেলছো এই রাস্তায় দৌড়চ্ছ তখন তো কিছু হয় না এখন বেরিয়ে পড়ে গেলে ।
গোপলা একটু আগের কথা ভাবতে লাগল । পড়া কোনদিন দেয় না হঠাৎ দুদিন আগে বিনয়বাবু পড়া দিয়েছিল । সেই পড়া হঠাৎ স্কুলের বই গোছানোর সময় দেখতে পায় । এমনিতে গোপলা স্কুল ফাঁকি দেয় না । বিনয়বাবু কড়া ধাতের । মার খেতেই হবে । তাই স্কুল যেতে মন চাইছিল না ।
মা সেই মনকে কি করে দেখতে পেল ভেবেই গোপলার বেশ অবাকই লাগল । প্রায় ঠেলা দিতে দিতেই মা সেই কাদা লাগা জামা প্যান্ট ধুয়ে বকতে বকতে স্কুলে যেতে বাধ্য করল । সেদিন মার অনেক কাজ ছিল । কোথায় যেন যেতেই হবে । না হলে রাতে হাড়ি চড়বে না ।
প্রায় কাঁদতে কাঁদতে রাস্তায় পিছল কাদার মধ্যে পা ফেলে ফেলে স্কুলে যেতেই হল ।
বিনয়বাবু পড়া বুঝিয়ে সেদিন পিছল রাস্তায় কিভাবে চলতে হয় আর পরিবেশ আমাদের জীবনে যে ভূমিকা নেয় তার সম্বন্ধে এত সুন্দর বুঝিয়ে ছিলেন তা বলার নয় । আর প্রধান শিক্ষক মহাশয় সেদিন গোপলাদের ক্লাস নিয়েছিল যা পড়ার চেয়েও অনেক বেশি পাওয়া ।
ঘরে ফিরেই গোপলা মাকে লক্ষ্য করছিল । কাজের মাঝে কাজ করতে করতে গোপলা দাদা দিদি সবার ঠিক খেয়াল রাখে কি করে ?
তার উপর এতটা আত্মবিশ্বাস কি করে পাচ্ছে যে সকালে স্কুলে যাওয়া বা কখন কোন কাজ কখন করা দরকার কেন করা দরকার ঠিক বুঝতে পারে । কিন্তু কি করে ?
মায়ের সারাদিন জীবন সংগ্রামের কাজের মধ্যে যে প্রত্যয় গোপলা দেখছিল তাই গোপলাকে আরো বড় হতে কেউ কোনভাবে আটকাতে পারে নি । মাকে দেখতে দেখতে বুঝতে শিখেছে মানবিক আসলে কি ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন