বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৩ এপ্রিল ১৯৭০
গল্প/কবিতা: ৫৮টি

সমন্বিত স্কোর

বিচারক স্কোরঃ ১.৮ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.২ / ৩.০

তর্ক শালীনতা

ঘৃণা সেপ্টেম্বর ২০১৬

অধিকার ষোলকলা

প্রায়শ্চিত্ত জুন ২০১৬

সহবত

উপলব্ধি এপ্রিল ২০১৬

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী (সেপ্টেম্বর ২০১৪)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট জীবনের জন্য বাঁচা

দীপঙ্কর বেরা
comment ৬  favorite ০  import_contacts ৭৩০
গোপলাদের বাড়ির পেছনে কিছু ঝোপঝাড় আর গাছের বন ছিল । তার একেবারে শেষটায় শ্মশান । সে বার ওদের বাড়ির পেছনের এক বয়স্ক দাদুকে পোড়াতে দেখেছিল । আর মা বাবা দাদা দিদি খুব ভয় পেয়েছিল । মা বলেছিল ওখানে ভূত পেত নন্দী ভিঙিরা আসে । ওদের অনেক শক্তি । জ্যান্ত চিবিয়ে মানুষকে খেয়ে ফেলতে পারে । ওরা অশরীরী । শ্মশানেই ওদের বাস ।
সেবার মামা বাড়ি যাওয়ার পথে এ রকম শ্মশান দেখেছে । অবশ্য তখন ছিল নিরিবিলি । দিদির মুখে শুনেছে – এ সব জায়গায় তান্ত্রিকরা থাকে তারা ভূত ভবিষ্যৎ সব বলে দিতে পারে । বাঁচার উপায় বলে দিতে পারে ।
বাবাকে সে কথা জিজ্ঞেস করলে রাতে শুয়ে শুয়ে ঘুম চোখে বাবা বলত – সে রকম কারো সঙ্গে দেখা হলে খিদে না লাগার উপায় জেনে নিতাম ।
গোপলা রাস্তায় এমন সাধুদের ওদের পাড়াতেই দেখেছে । গোপলা বাচ্চা বলে এ সব কোন কথাই জিজ্ঞেস করার সুযোগ পায় নি ।
আর একটা জিনিস গোপলাকে খুব ভাবায় সেটা হল খিদে । যখনই বাড়ি ফেরে মা বলে খাবার নেই , রাত্তিরে সবাই এক সঙ্গে খেতে বসে দেখে এইটুকু খাবার ভাগ করতেই শেষ হয়ে যায় । কার পেট ভরে কে জানে ? সবাই ঢক ঢক করে জল খায় । কোন কোন রাতে তাও জোটে না ।
তখন সারা ঝুপড়ি সেই মামা বাড়ি যাওয়ার পথে দেখা শ্মশানের মত একলা পড়ে থাকে । কেউ কথা বলে না । কি রকম যেন কুণ্ডলী পাকিয়ে রাতটা কাবার করতে সবাই না শোয়ার মত শুয়ে পড়ে ।
এ দৃশ্য গোপলা অতটা না বুঝতে পারলেও বেশ বুকের মধ্যে কাঁপন ধরায় । তবে এ নিয়ে মা বাবা দাদা দিদির মধ্যে কোন বড় ঝগড়া ঝাটি দোষারোপ হতে দেখে নি গোপলা । তাই একে আনন্দে বাঁচার জায়গা ভাবতেই পারে ।
আজকে বুড়ো জ্যেঠুর চিতা জ্বালিয়ে বাবা ফিরেছে । তাদের বাড়িতে দু কোঁচড় মুড়ি দিয়েছিল তাই আনতে গিয়ে রাস্তার ধারের কুকুরটা টান মেরে সব ফেলে খেয়ে নিয়েছে । রাতে কারো কিছু খাওয়া হয় নি । গোপলার পেট জ্বলছে । মধ্য রাত । গোপলা পায়ে পায়ে চলে এল শ্মশানে । তখনও চিতা জ্বলছে । গাছের সারি । কালো কালো ঝোপের মাঝে পাখিদের ডানা ঝাপটানো আর ঝিঁ ঝিঁ-র ডাক ।
আশে পাশে কোথাও দৈত্য দানো ভুত পেত কাওকে দেখতে পেল না । এমন কি আত্মা নিয়ে যাওয়ার যমদূতও নেই । তফাতে দাঁড়িয়ে গোপলা দেখল কি যেন একটা নিবু নিবু চিতার কাছ থেকে সরে গেল । পেটের মধ্যে খিদে যে করে হোক এর নিবারণ চাই । তাই বলে ফেলল – কে ? ওখানে কে ?
ভূতের প্রশ্নটাই গোপলা করে ফেলায় বাধ্য হয়ে বেরিয়ে এল একজন । হয়তো মানুষ বা অন্য কেউ । ছাই মাখা । চোখ দুটো না তিনটে কে জানে । গায়ে পোশাক নেই না লেপ্টে আছে জানা যাচ্ছে না । খুব বেশি লম্বা নয় গোপলার চেয়ে একটু বড় । কথা বলল – এত রাতে তুমি এখানে ?
আওয়াজটা লোকটার কাছ থেকে আসছে না কোথাও যেন ভেসে বেড়াচ্ছে । পেটে খিদের জ্বালা , কতদিন পেটভরে খাওয়াই হয় নি , মাথা টন টন করছে । তাই ঘুরেই প্রশ্নটা করল – আমি কি জানতে পারি ? তুমি এখানে কি করছ ?
-আমি তো এখানেই থাকি । লোভ পাপ হিংসার ক্ষয় হলে আমার সৃষ্টি হয় । তোমার ভয় করছে না । আর কেনই বা এসেছ এখানে ? কি চাই ?
- পেটে খিদের চেয়ে আর বড় ভয় কি আছে ? এখানেই শুধু বিশ্ব নিশ্চুপ অথচ কি যেন জিজ্ঞাসা ঘোরে ফেরে । আমি তাই খাওয়ারের সন্ধান অথবা খিদের নিবারণে এসেছি । তুমি কি ভূতের রাজা ?
- না । আমি তোমাকে এ সব কিছুই দিতে পারব না । আমি জীবনকে আবহমান বাঁচিয়ে রাখার বিজ্ঞানী । অনেকটাই সফল । আরো কয়েক হাজার বছরের মধ্যে তোমার উত্তর পেয়ে যাবে ।
-আমি কি অত বছর থাকব ? কাল সকালে আমি কি খাব ?
- কেন ? যাও , ছিনিয়ে নাও । মানুষের জন্য প্রচুর খাওয়ার জমা আছে । ভাগ হলে অনেকেই খেতে পাবে । তুমিও ।
- চুরি করব ? তোমার খাওয়ার লাগে না ।
- খাওয়ার না লাগলে সে মৃত । তুমি অনেক ছোট বুঝবে না । খুব সাহস করে আমাকে তুমিই প্রথম খুঁজে পেলে । আমি প্রায় অনেক বছর থেকে যুদ্ধ হানাহানি মানুষের মানুষমারা ক্ষমতা অধিকার ধ্বংস থেকে মুখ তুলে গবেষণা শুরু করেছি কিভাবে জীবনকে বাঁচিয়ে রাখা যায় । বাল্মীকি কি ভাবে ষাট হাজার বছর বেঁচে ছিলেন ?
গোপলা অত শত বুঝলো না । বলল – সেই দুদিন আগে কি খেয়েছি মনে নেই । এ তল্লাটে কত জন খেতে পাচ্ছে না । কালকে সকালে খাব কি তার কি হবে ? কি গবেষণা করলে ?
-খাওয়ার সামনে চলে এল তুমি গপাগপ খাবে আর আরাম করে শুয়ে থাকবে তার জন্য কি আর গবেষণা করব । যাও চেষ্টা চালাও পেয়ে যাবে ।
-তুমি কি খিদে না পাওয়ার কিছু বের করতে পারবে ?
-তাই তো করছি । আমার পেছনে এই হাওয়া ব্যাগে অনেক কিছু রহস্যের যন্ত্র আছে । অনেক দূর এগিয়েছি । তুমি আমাকে সাহায্য করলে হয়তো কিছু হাজার বছর কমতে পারে ।
-কি ভাবে ?
-তুমি এবার থেকে মানুষের জীবন ফলো করবে । যা বলে যা করে আর যা হয়ে যায় তার মধ্যে তফাৎ কোথায় । তাতেই হবে ।
-গবেষণার যন্ত্র নেই , ল্যাবরেটরি নেই । রঙভরা লাল নীল তরল নেই । কি করে আমার খিদে মেটার রহস্য বের করবে ?
-ও সব ধ্বংসে জন্য । আমি মৃত্যুর থেকে জীবনের পার্থক্যের সাথে জীবনকে আবহমান করতে চাইছি । যাও সূর্য এসে পড়ল । দিনমান এসে গেল আমি এবার অন্য রাতে যাব । এ ভাবে যুগের জীবনে জীবনের খোঁজ করব ।
এদিকে ওদিক করে কোন এক অজানা পথে এঁকে বেঁকে সে মিলিয়ে যেতে লাগল । গোপলা বলল- আবার কখন দেখা হবে ।
আকাশবাণীর মত শোনা গেল – তোমার কাজ জানতে আমাকে আসতেই হবে । তুমি যাও ।
চিতা নিভে গেছে । লোকটা এখনো যাচ্ছে । কোথায় যেন ।
গোপলা নিজেকে জয় করার মত করে পা পা করে ঘরে ফিরে এল । গরীবের ঘরে খিদের সমাধান ! আর কি চাই ? মার কোল ঘেঁষে শুয়ে পড়ল । ঘুমনোর আগে বেশ বুঝতে পারল । সে স্বপ্ন দেখে নি ।
সকালে বাবা কাজে গিয়ে দুপুরের আগেই খাবার এনেছিল । দিদির সঙ্গে গোপলা স্কুলে গেল । আর এক দৃষ্টিতে গোপলা তার মা বাবা দিদি স্কুলের মাষ্টার পাশের বাড়ির কাকু বন্ধু বা রাস্তার যার সঙ্গে দেখা হয় তাকেই খুব খুঁটিয়ে দেখে । আর মনে মনে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করে ।
কিছু বুঝতে পারে কিছু পারে না । কিন্তু এই সব খবর যেখানে মৃত্যু হয় সেখানে তার সঙ্গে দেখা হয় আর তাকে জানায় । আর গোপলার খিদে ধীরে ধীরে কমছে । তিনদিন নিরন্ন থেকেও একটুও ক্ষমতা কমে নি ।
চালিয়ে যাচ্ছে গোপলার বাঁচা । আমাদের আরো কয়েক হাজার বছর অপেক্ষা করতে হবে নিট ফলের জন্য । গোপলা এগিয়ে যাও ।
তখন জীবন হবে শুধু জীবনের জন্য ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন