বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৩ এপ্রিল ১৯৭০
গল্প/কবিতা: ৫৮টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৪৪

বিচারক স্কোরঃ ১.৯৪ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৫ / ৩.০

তর্ক শালীনতা

ঘৃণা সেপ্টেম্বর ২০১৬

অধিকার ষোলকলা

প্রায়শ্চিত্ত জুন ২০১৬

সহবত

উপলব্ধি এপ্রিল ২০১৬

ভালবাসি তোমায় (ফেব্রুয়ারী ২০১৪)

মোট ভোট ২০ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৪৪ ভালবাসার ঘর

দীপঙ্কর বেরা
comment ১০  favorite ১  import_contacts ৯৮১
এই সব ঘরগুলোতে থাকার সুবিধা আছে । যেখানে কাজে যাব , সেখানেই থাকতে হবে । তাই সেখানে ঘরটা সাজিয়ে নিই । ওই একটা খাট আর কিছু বইপত্তর নিয়ে সাজান সংসার । দুটো রুম । মাসি আসে । কোন ঝুট ঝামেলা নেই ।
এ কাজ পেয়েছি প্রায় বছর পাঁচেক । কিন্তু কোন টাকাই তেমন জমাতে পারি নি । গ্রামের বাড়িতে যা পেয়েছি তা প্রায় সব ফেলে এসেছি । এখন সূচ থেকে ফাল সব আমার নিজের পয়সায় কেনা ।
এবার যা হবার বাঙালী মধ্যবিত্ত , বিয়ের কথা চালাচালি হচ্ছে । প্রেম থাকলে কোন ঝামেলা নেই , কিন্তু আমার পক্ষে কেন জানি না তা হয়ে উঠে নি । অনেককে আমার পছন্দ হয়েছে , কিন্তু সে পছন্দ নানান কারণে তা নিজের কাছে থেকে গেছে । আমাকে কারো পছন্দ হয়েছে আমি কোনভাবেই কারো কাছ থেকে জানতে পারি নি । এমন কি মাস মাইনে কাজ পাওয়ার পরও । তাই সম্বন্ধ করে দেখাশোনা । চলতেই লাগল । তার সাথে সাথে চলতে লাগল এই ঘরটাকে গুছানোর পালা । পর্দা ছিল না লাগালাম । একটা খাট করতে দিলাম । আর ইনস্টলমেন্টে বানাতে দিলাম গলার হার ।
অবশেষে একজনকে পছন্দ হলো । আমি নিজের কথা সবার সামনে এবং একা একাও বললাম । এক কথায় সেদিনই আমার ভাল লেগে যায় । এখন তার আমাকে ভাল লেগেছে কি না আমি তা জানতে পারি নি । বিয়েতে সে রাজি , কিন্তু গ্রামে ছেলে বা মেয়ের মতামত কেউ জানতেই চায় না । তাছাড়া কাজের ফাঁকে বলে খুব কম দিনের মধ্যে ব্যবস্থা করে ফেলতে হয় । ফলে কোথাও আর একা একা দেখা হয় নি । সমস্ত ঘটনাটি আমার গ্রামেই হয় ।
এদিকে এই বাসায় খাট এসে গেল । নতুন বিছানার চাদর মশারি মেঝেতে ছোট কার্পেট । ঘর রং করালাম । আরো অনেক ভাবে সাজালাম । অনেক জিনিসও কিনলাম। মনে মনে ভাবলাম আমি তো তোমায় ভালবাসি কিন্তু তুমি কি ???
বিয়ের আশীর্বাদের হার পছন্দ কি না জানি । বিয়েতে ‘মুখদেখা’ এবং অন্য সব মুড দেখে বুঝলাম খুশি । বাসরেও কথা হয় নি । তারপরের নানান অনুষ্ঠানে কথা বলা হয়ে উঠে নি । জীবনের এতদিনে ভালবাসার কথা ঠিক বুঝতে পারি নি। পেটের সন্ধানে সময় কেটেছে । তাই খুব খুব জানার ইচ্ছে মনের মধ্যে তুমি আমায় ভাল বাসত ।
আবার ভাবি কি করে বাসবে । আগে আমাকে জানুক । তবুও যে টুকু দেখছে এত কাজের মাঝে কিছু একটা বলুক বা করুক যাতে আমি বুঝতে পারি আমাকে ভালবাসে আর আমি বলতে পারি তোমায় ভালবাসি ।
প্রায় সব অনুষ্ঠান শেষ করে আমার কাজের জায়গায় ফিরব । কলিকদের ঘরটা আরো ভাল করে সাজাতে বলেছি । সেদিন নিজের জায়গা ছেড়ে আসার জন্য ও খুব কেঁদেছিল আমি বিভ্রান্ত তবে কি ? না থাক ।
সারা রাস্তায় কিছু বলল না , খেল না । দুজনে । তাও । আমি জোর করি নি । এর আগে গ্রামে সোহাগ রাতের চল নেই তাও ঐ দিন দশের মধ্যে দুজনে চার পাঁচ বার একা একা থেকেছি কিন্তু আমার অনেক কথার মাঝে কিছু বলে নি । আমিও কোন জোর করি নি ।
আমার কাজের জায়গায় পৌঁছে গেলাম । ঢোকার মুখে কলিগরা দাঁড়িয়ে ছিল । ওদের কিছুজন আমার মত কিছুজনের ওখানেই বাড়ি । ছোট আলাপ সেরেই এগিয়ে গেলাম । ও নমস্কার করল । বিকেল মত হবে । পড়ন্ত রোদ । আর বলতে গেলে নিজেদের বাড়ির লোকজন কেউ নেই আমরা যেন হনিমুনে এসেছি ।
এটা ওটা বলতে বলতে চাবি নিয়ে দরজা খুলে বললাম – এসো । এটা তোমার ঘর ।
ও ঘরে পা দিয়ে বলে উঠল – বাহ-হ-হ-হ ......
এই বাহ শুনেই আমার মনে খুশির ঝিলিক দিয়ে উঠল । আর আমার জীবন বদলে গেল । আমিও প্রাণ খুলে বলে ফেললাম – ভালবাসি তোমায় .........।
সারা ঘর ভরে উঠল খিলখিল হাসিতে । সে হাসি আজও চলছে আরো এগিয়ে .........।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন