বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৩ এপ্রিল ১৯৭০
গল্প/কবিতা: ৫৮টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৮

বিচারক স্কোরঃ ১.৪ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.৪ / ৩.০

তর্ক শালীনতা

ঘৃণা সেপ্টেম্বর ২০১৬

অধিকার ষোলকলা

প্রায়শ্চিত্ত জুন ২০১৬

সহবত

উপলব্ধি এপ্রিল ২০১৬

গভীরতা (সেপ্টেম্বর ২০১৫)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৮ ছাদ

দীপঙ্কর বেরা
comment ৬  favorite ০  import_contacts ৪৭৪
গোপলাদের বাড়িতে কোন ছাদ নেই । ছিটে বেড়াতে মাঝে মাঝে মাটি খসে পড়ছে । আর উপরের দোচালাতে খড় ত্রিপল টালি আরও কত কি ? ঝড়ে উড়ে যায় , বৃষ্টিতে সারা ঘর ভিজে একসা হয়ে যায় । বর্ষার ঠিক আগে আগে সারাই না করলে বাস করা যাবেই না । তাই এই ছাদে ওঠাও যায় না ।
বাড়ির পাশ দিয়ে রোজ মোহিনা টাই পরে ঢাউস একখানা গাড়িতে স্কুলে যায় । ড্রেসটা সুন্দর । আরও সুন্দর ওর বিকেলে বেড়াতে যাওয়া । একদম পরী । সব সময় সেজেগুজে যেন উড়তেই থাকে । কথা বলার সুযোগ হয়নি । কিন্তু শুনেছে । খুব মিষ্টি ঝরে পড়ে ঠোঁট দুটোতে । ও বন্ধুদের বলেছে - ছাদে উঠে বিকেল দেখতে দারুণ লাগে । সূর্যের সাথে নিবিড় গল্প করা যায় । পৃথিবীর চলমান আরও কাছ থেকে দেখা যায় ।
হাঁ করে মোহিনাকে দেখতে দেখতে গোপলা খোলা আকাশ আর মাটিকে বুঝতে চেষ্টা করে ।
গোপলা যে স্কুলে পড়ে তার বিল্ডিংটা পাকা কিন্তু ছাদে ওঠাই যায় না । স্যার বলেছে – সিঁড়ি ভেঙে একে একে উঠতে হয় । তবেই জীবন সার্থক ও শান্তিতে কাটবে । স্টেপ জাম্প দিলেই ছাদে উঠেই আবার পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা । গোপলা সিঁড়িতে পা দিয়েই উপরে তাকায় নিচে দেখে ।
বাবার কষ্টের খাটুনি মাটিতেই । ফসল ফলিয়ে বইতে বইতে মাথাকেই ছাদ বানিয়ে ফেলেছে । মা তো এ বাড়ি ও বাড়ি আর নিজের বাড়িতে চক্কর দিতে দিতে মাটি কামড়েই পড়ে থাকে । উপরের দিকে তাকানোর সময়ই পায় না । ছাদ তো অনেক দূর ! তাহলে ছাদে উঠে অন্তত একবার এ পৃথিবীকে গোপলা কি ভালো করে দেখতেই পাবে না ।
যারা দশ বিশ তলায় থাকে , রোজ পৃথিবীর চলমান দেখে আর সূর্যের সাথে নিবিড় গল্প করে সার্থক হয়ে যায় । নিশ্চয়ই তারা সুন্দর অনাবিল ।
প্রতিদিনই তো কত ইট কাঠ পাথরে তলার পরে তলা , ছাদের পরে ছাদ গড়ে উঠছে । ছেয়ে ফেলেছে চারধার । লোহা আর পাথরের ঝনঝন শব্দ । এত উঁচুতে আরও উঁচুতে লোকগুলো কাছ করে ছাদ বানিয়েই যাচ্ছে ।
বদ্ধ কুয়োর মত ঘিরে ফেলেছে গোপলাদের ঘরটা। নিজেদের এই জায়গায় যখন তখন দাঁও লাগতেই আছে । গোপলা অতশত বোঝে না । ছাদে ওঠার মোহ ছেপে ধরেছে ।
তাই ছাদ বানানোর স্বপ্নে মোহিনাকে পায় । বইয়ের পাতায় পাতায় ছাদের গল্প কিছুতেই বাদ দেয় না । যেটুকু পায় যতটুকু পায় সেই ছাদে নিজেকে মোহিনার মুখোমুখি বসায় । কিন্তু সূর্যের সাথে গল্প , বিকেলের পৃথিবী অনাবিল আর কথার ফুলরেণু ঠোঁট হারিয়ে যায় । নাস্তানাবুদ গোপলা হাল ছাড়ে না । এগিয়ে যায় ।
গোপলা বড় হচ্ছে আরও বড় হবে । দেখা যাক ছাদে বসে গোপলা মোহিনা একসাথে নিবিড় গল্প করতে পারে কি না ?
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন