বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২ জানুয়ারী ১৯৭৫
গল্প/কবিতা: ৩৯টি

সমন্বিত স্কোর

৫.৭৫

বিচারক স্কোরঃ ৩.৬৯ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.০৬ / ৩.০

ঋতুবিহারী

কি যেন একটা জানুয়ারী ২০১৭

ত্রিভুজ সংসার

আমার আমি অক্টোবর ২০১৬

মধু বাউল

ঘৃণা সেপ্টেম্বর ২০১৬

দিগন্ত (মার্চ ২০১৫)

মোট ভোট ২৪ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৫.৭৫ সোনার আংটি

মোজাম্মেল কবির
comment ২৪  favorite ২  import_contacts ১,২৩৬

স্বামী তার দেবরের মতো নেশা পানি খেয়ে বাড়ি ফিরে না । রাত দুপুরে বাড়ি ফিরলেও জাহানারা নিশ্চিন্ত থাকে । সাত বছরের সংসার জাহানারার। মেয়ের বয়স চার বছর। পেটে সাত মাসের সন্তান। মাস দুয়েকের মধ্যে আল্লাহ চাইলে চার জনের সংসার হবে। সংসারের বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার ধরন বদলাতে থাকে। এই সাত বছরে স্বামী তুমি থেকে তুই ডাকে নেমে এলেও প্রেমে ভাটা পরেনি একরত্তি। যখন তখন রাগ একটু বেশী করে। বউ আর কন্যা হাফিজুলের জীবন। সিগারেটের নেশা ছাড়া আর কোন বাজে নেশা নাই।
ছোট ভাই আজিজুলকে পড়ালেখা করিয়ে মালয়েশিয়া পাঠায় হাফিজ। বছর দশেক সেখানে কাজ করে ফিরে আসে। ভালোই টাকা পয়সা করেছে। গ্রামে বেশ নাম ডাক। ধান চালের আড়ত, গোটা দশেক অটোরিকশা বেশ জমি জমাও কিনেছে। মিছিল মিটিংয়েও দেখা যায় আজকাল। শোনা যাচ্ছে সামনে মেম্বার পদে নির্বাচন করবে। বড় ভায়ের এই সবে তেমন আগ্রহ নেই। ভাইকে বিয়ে করিয়ে সংসার আলাদা করে দিয়েছে। তার কথা -নিজের সংসার নিয়া সুখে থাক। তোর কামাই তুই খা। লোকে যাতে না কয় ছোট ভায়ের কামাই খায় হাফিজুল। আজিজুলের বউটা প্রায়ই দিনের বেলা জাহানারার কাছে এসে কান্নাকাটি করে। আনেক চাপ দেয়ার পর জানতে পারে আজকাল তার দেবর মাঝে মাঝে বেশ্যা পাড়ায় রাত কাটায়। জাহানারার তাই আভাবের সংসারেই যেন স্বর্গসুখ।


এক... দুই... তিন... দরজায় পর পর তিনটা টোকা দিলে জাহানারা বুঝতে পারে স্বামী বাড়ি ফিরেছে। টোকা দেয়ার ধরন বেশ পরিচিত। অন্য কেউ টোকা দিলে সহজেই বুঝতে পারে। শীতের রাতে বাড়ী ফিরে কাঁথার নীচ থেকে এই ভারী শরির নিয়ে জাগাতে খারাপই লাগছে। তাই দ্বিতীয় বার টোকা দিতে শব্দটা নীচু হয়ে আসে। প্রথম টোকাতেই জেগে উঠে জাহানারা, দরজা পর্যন্ত আসতে দেরী হয়। ম্যাচের কাঠিতে কুপি ধরিয়ে দরজা খুলে দেয়। এক মাসের বিদ্যুৎ বিল বাকী থাকায় লাইন কেটে দিয়েছে। দরজা খুলে জাহানারা কুপি হাতে নিয়ে রান্না ঘরের দিকে যেতে থাকে। হাফিজুল জিজ্ঞাস করে -কই যাসরে জাহান?
-হাত মুখ ধুইবা পানি গরম কইরা দেই। জাহানারা বলে।
-নারে এতো রাইতে কষ্ট কইরা পানি গরম করার দরকার নাই। তুই যায়া শুয়া পর। আমি কলে চাপ দিয়া কিছু পানি ফালায়া পানি তুইল্যা লই। তাইলে কুসুম গরম পানি উঠে।
হাফিজুল হাতের টর্চ মেরে গোয়াল ঘরে দুইটা হালের বলদ দুইটা গাভী আর ছাগল তিনটা দেখে নেয়। কপালে ভাঁজ পড়ে। শেষ পর্যন্ত সংসার খরচ চালাতে হালের বলদে হাত দিতে না হয় আবার! মেয়েটাকে আগামী মাসে স্কুলে ভর্তি করতে হবে। জাহানারা ঠিক করেছে তখন একটা ছাগল বিক্রি করে দিবে। গোয়াল ঘরের অর্ধেকটা জুড়ে বাধা কপি। প্রায় মাস খানেক ধরে অবরোধ হরতালে ঢাকা শহরে গাড়ি যাচ্ছে না ঠিক মতো। এক টাকা দরে কপি কিনে নেয়ার মতো পাইকার নেই। আড়তে নিয়ে গেলে বেচা বিক্রি তো হয়ই না যে দরে বিক্রি হয় তাতে ভেন গাড়ির ভাড়া উঠে না। তারচে গরুকে খাওয়ালে লাভ।
মাঘ মাস চলে যাচ্ছিলো, ধার কর্জ করে শেষ সম্বল দেড় বিঘাতে বোরো লাগিয়ে দিয়েছে। ফসল উঠার আগে মাস চারেক সংসার খরচ নিয়ে চিন্তা হাফিজুলের। মহাজনের পাওনা টাকার চাপ নেই কিন্তু ঘরে চুলা তো জ্বালতে হবে। মহাজন শুক্কুর চাচার প্রস্তাবটা মন্দ না। জাহানারার সাথে একটু পরামর্শ করতে চাইছে হাফিজুল।
হাত মুখ ধুয়ে ঘরে এসে হাফিজুল ডানে বায়ে তাকাচ্ছে। জাহানারার কাছে মনে হলো স্বামী কিছু একটা খুজছে । গামছাটা হাতে তুলে দিয়ে বলে -কি খুজতাছো?
-কিছু নারে জাহান। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে নিরব হয়ে যায় হাফিজুল।
ঘরে একটা আলনা দুইটা কাঠের চেয়ার একটা কাঠের আলমারী একটা টেবিল। ঘুমানোর জন্য একটা পুরনো খাট। সবই তো দরকারি। বিক্রি করার মতো কিছু নেই। জাহানারা ঠিক বুঝতে পারে স্বামী কিছু একটা খুজছে যা বিক্রি করে অন্তত হাজার খানেক টাকা পাওয়া যাবে। আগামী কাল চাল ডাল না কিনলে চুলায় আগুন জ্বলবে না। বিছানায় বসে ভাতের থালায় হাত দিয়ে হঠাৎ চোখ বড় করে তাকায় হাফিজুল। চোখে ভরসার চমক। বউকে বলে -জাহান আমার একটা সোনার আংটি আছিলো না?
-হ আছে তো। কি করবা? হাতে দিবা?
-কি যে কস তুই! সোনার আংটি হাতে দিয়া কি হইবো? ভাবতাছিলাম বিক্রি করলে...
-কি যে কও, এই আংটি তোমারে বেচতে দিমু না। ব্যবস্থা একটা আছে।
-কি ব্যাবস্থা?
-আগে ভাত খাও পরে কইতাছি।
-কথাটা তরে কইনাই, শুক্কুর চাচা একটা প্রস্তাব দিছে। মন্দ না। তিন চাইর মাস কামডা করলে বোরো উঠার আগ পর্যন্ত ভাতের চিন্তা নাই।
-কি কাম?
-রাইতের বেলা ঢাকায় যে তরিতরকারির ট্রাক যায় সেইখানে হেল্পারের কাম।
-তুমি ট্রাক হেল্পারের কাম করবা?
-তাতে কি? কাম কোনডাই ছোড না। তা ছাড়া রাইতের বেলা কেডা দেখতে যাইবো? দেখলেই ক্ষতি কি? আমিতো মানুষ ঠকাইতে যামু না!
-না হেইডা কইনাই। যেই কাম কোন দিন করো নাই... জাহানারার চোখ জলে ছলছল করছে।
-আরে কান্দস কে? কান্দনের কি অইলো? দুঃখের সময় কানলে দুঃখ বাইড়া যায়। সুখের সময় কানবি তাইলে সুখ বাড়বো।
জাহানারা আরও শব্দ করে কাঁদতে থাকে। চোখ মুছে জাহানারা আলমারীর নীচের পাল্লাটা খুলে মাটির ব্যাংকটা এনে দেয় হাফিজুলের সামনে। এক টাকা দুই টাকা পাচ টাকার কয়েন সঞ্চয় করে এতে। প্রতি বছর রোজার ঈদের দুই দিন আগে মাটির ব্যাংক ভেঙ্গে এই জমানো টাকায় নতুন জামা কাপড় কিনে। এই পর্যন্ত খুব বেশী জমেনি। হয়তো পাচ ছয়শ টাকা হবে।
হাফিজুল বলে -এইটা আনছস কে?
-বিপদের সময় কাজে না লাগলে টেকা জমায়া লাভ কি? কাইলকা বাজার সদাই নিয়া আসো।
হাফিজুলের কন্ঠে জোর নেই। অভাবের সময় মানুষের মনের জোর কমে যায়। হাফিজুল আপন মানুষের কাছে আত্মসমর্পনে লজ্জার কিছু দেখছে না।
জাহানারা স্বামীর বাম হাতটা টেনে মধ্যমায় সোনার আংটি পড়িয়ে দেয়। হাফিজুল শুধু তাকিয়ে থাকে। কুপির আলোতে শ্যামলা বউটা দেখতে লাল মনে হচ্ছে। চোখের কোনে জমে থাকা জল কুপির আলোয় চিক চিক করছে। এক ফোঁটা পূর্ণ হলে টপ করে ঝড়ে পরতো। আধ ফোঁটা জল।
-ট্রাকে কাম করবা। পথে কতো আপদ বিপদ হইতে পারে। তখন বেইচ্যা দিও। জাহানারা আঁচলে চোখ মুছে।


নদীতে এই দিনে বেলেমাছ ধরা পরে। খুব ভোরে হাফিজুল নদী থেকে বেশ বড় সাইজের কিছু বেলেমাছ ধরে আনে। মাটির ব্যাংকে ছয়শ তেতাল্লিশ টাকা জমা হয়েছিলো। চাল ডাল কিনে শদুয়েক টাকা হাতে আছে। ঘরে যে খাবার আছে তাতে দিন দশেক চলবে। মেয়েটা দুপুর বেলা বাবাকে ছাড়া খেতে বসে না। বাইল্যা মাছ খুব পছন্দ করে মিনা। মিনা আজকাল কথা শিখেছে খুব। বাবা এলেই দুনিয়ার সব প্রশ্ন শুরু করে। যেন বাবার জন্য মাথায় জমিয়ে রাখে সব। বছর খানেক আগে দাদা মারা গেছে। এর পর থেকে মেয়েটা জটিল সব প্রশ্ন করতে শুরু করেছে। সব প্রশ্নের উত্তর হাফিজুলের নিজেরো জানা নেই।

আজ রাত থেকে হাফিজুলের ট্রাকের চাকরী শুরু।
টানা তিন চার দিন গাড়িতে থাকতে হবে। হাত খরচের জন্য জাহানারার হাতে একটা একশ টাকার নোট দেয় হাফিজুল।
বাবা মা মন খারাপ করলে মিনা বুঝতে পারে। তখন সে কোন প্রশ্ন করে না। কিন্তু তার চোখ দেখে বুঝা যায় তার মনে অনেক প্রশ্ন। মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে মনটা খুশীতে ভরে উঠে। -কিরে মা আইজ তুই কিছু কস না ক্যা?
-তোমার মন ভালা অইলে কমু বাবা।
-আমার মন ভালা আছেরে মা, ক তুই কি কইবি।
-আইচ্ছা বাবা, দাদাজানের লগে মোবাইলে কথা কওয়া যায় না?
-নারে মা। তোর দাদাজান আল্লার কাছে চইলা গেছে।
-আল্লার কাছে কি মোবাইল ফোন নাই?
-আছেরে মা, কিন্তু আল্লার কাছে মানুষ চইলা গেলে তার সাথে আর কথা কওয়ার নিয়ম রাখেনাই আল্লায়।
-আল্লা কই থাকে?
-আল্লা আকাশের উপরেও থাকে আবার পাতালেও থাকে। আল্লা সবখানে থাকে।
-আল্লা মানুষরে কেন নিয়া যায়?
-মানুষ আল্লার কাছ থেইক্যা আসে সেই জন্যই আল্লার কাছে ফিইরা যায়রে মা।
জাহানারা একটা পাতলা কম্বল হাফিজুলের হাতে তুলে দেয়। বাবা মেয়ের কথা এখানেই থেমে যায়। রাতে বেশ কুয়াশা পরে। বেশ শীত। এই কম্বলটা গায়ে দিয়ে মাথা কান ঢেকে গাড়ির ভিতরে বসে থাকলে বেশ আরাম হবে। গায়ে জড়িয়ে শুয়ে থাকতেও পারবে।


কফিলউদ্দিন বেশ দক্ষ ট্রাক চালক। তার গাড়ির চাকার নীচে কোন দিন একটা গরু ছাগল পরেনি। খুব দরদী মানুষ। লালন সাঁই এর ভক্ত। হাফিজুলকে দেখে তার বেশ পছন্দ হয়েছে। সিগনাল ওভারটেক ডান বাম সব কিছু বুঝিয়ে দেয়। কয়েক দিন একটু সমস্যা হলেও সব ঠিক হয়ে যাবে বলে আস্বস্ত করে। দেশের অবস্থা বেশী সুবিধার না একটু চোখ কান খোলা রাখবা, এই বলে সতর্ক করে । আল্লাহ ভরসা। পেটের জ্বালা তো আর দেশের অবস্থা বুঝে না। তার তিন বেলা নিয়ম মাফিক চাই।
সুন্দরগঞ্জ বাজার থেকে বেগুন আর কপি ভর্তি ট্রাক রাত এগারোটায় ছাড়ে। ঢাকা যাবে। প্রচন্ড কুয়াশায় কয়েক ফুট দূরে দৃষ্টি আটকে যায়। গাড়ির গতি খুব কম। রাতে চালকদের ঘুম পায় বলে কেউ কেউ গান বাজায়। কফিলউদ্দিন নিজে গান গায়। নতুন সহকারীকে কাজে মন লাগাতে প্রথম দিন একটু বেশী খাতির করে কথা বলছে। গান গেয়ে শুনিয়ে অর্থ বুঝিয়ে দিচ্ছে। কফিল গাইছে-
ওরে... হাড়ের ঠুনি চামড়ার ছানি...
হাড়ের ঠুনি চামড়ার ছানি বানাইয়াছে কি সুন্দর
সে ঘরেনি বাস করে তোর ঘরের কারিগর
ওরে বানাইয়া রঙমহল ঘর...
সে ঘরেনি বাস করে তোর ঘরের কারিগর...

-বুঝছ মিয়া গানে কি কইছে? নতুন সাগরেদকে বলে কফিল।
-না উস্তাদ কিছুই বুঝিনাই।
-আরে মিয়া এইডা বুঝলানা? এইযে তোমার শরিলডা, হাড্ডি মাংসের শরিল। এইডা মনে করো একটা ঘর। এই ঘরে আছে তোমার অন্তর। এই ঘরটা কে বানাইছে?
-আল্লায় বানাইছে উস্তাদ।
-হ্যা, এইতো বুঝছ। তাইলে আল্লা হইলো এই ঘরের কারিগর। ঘরের কারিগর বাস করা মানে কি? মানে হইলো দমে দমে আল্লার নাম নেওয়া। সব সময় আল্লার নাম স্বরণ করবা... বাকিটা শোনো...

ঘরের আট কুঠুরি নয় দরজা হয়,
আঠারো মুকামের মানুষ আঠারো জন রয়
ওরে রবি শশী দুইটি বাতি...
ওরে রবি শশী দুইটি বাতি জ্বলিতেছে নিরন্তর
সে ঘরেনি বাস করে তোর ঘরের কারিগর...

গাইতে গাইতে কফিল গানের মধ্যে ডুবে গেছে। রাত তখন তিনটা বাজে। গাড়ি বগুড়া পার হয়ে এসেছে ঘন্টা খানেক আগে। সামনে একটা বাঁশবন তার একটু দূরেই খাবার হোটেল। সেখানে দুজনে খাবার খেয়ে নিবে।
বাঁশবন পার হওয়ার সময় কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই একটা আগুন ছুটে আসে ট্রাকের ক্যাবিনের ভিতরে। ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের ধানক্ষেতে উল্টে পরে। রাতে দূর দূরান্ত থেকে লোকজন ছুটে আসতে একটু দেরী হয়। পেট্রোল বোমার আগুন নিভাতে সক্ষম হয় কিন্তু ততক্ষণে যা ঘটার ঘটে গেছে।


শেরপুর থানার বারান্দায় সাদা কাপড়ে ঢাকা দুটি লাশ পরে আছে। দুপুর থেকে কফিলের বউ বাচ্চা এসে কান্নাকাটি করছে। কফিলের স্ত্রী বার বার স্বামীর লাশটি চিনতে চেষ্টা করছে। পারছে না। হারের উপরে পোড়া মাংসের আবরণ ছাড়া কিছু নেই। সন্ধ্যার পর পুলিশ লাশ মর্গে পাঠিয়ে দিবে।

খবর পেয়ে জাহানারা এসে পৌছতে অনেক দেরী হয়। দিগন্তে সূর্যটা তখন আগুনের রঙ ধরেছে। কিছুক্ষণ পর এই শক্তিধর সূর্যটা দিগন্তে হারিয়ে যাবে। তার পর পৃথিবীতে নেমে আসবে অন্ধকার। অথচ পৃথিবীর মায়ায় সূর্যটা বার বার ফিরে আসে নতুন আলো নিয়ে। জাহানারার জীবনে আলো ফিরে আসার আর কোন সম্ভাবনাই রইলো না। জাহানারার জীবনে আর কখনো ভোর হবে না।
স্বামীর লাশ সনাক্ত করতে জাহানারার সময় লাগেনি। হাফিজুলের বাম হাতের আঙ্গুলে পোড়া মাংসের সাথে তখনো আটকে ছিলো সোনার আংটি।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন