বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৫ আগস্ট ১৯৮২
গল্প/কবিতা: ১৫টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৩

বিচারক স্কোরঃ ২.৪৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮৫ / ৩.০

রাত্রি

রাত মে ২০১৪

বেঁচে থাকার মুহুর্ত

ভালবাসি তোমায় ফেব্রুয়ারী ২০১৪

টানাপোড়েন

ক্ষোভ জানুয়ারী ২০১৪

কৈশোর (মার্চ ২০১৪)

মোট ভোট ৩৪ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৩ স্বপ্নের খুব কাছে

ইন্দ্রাণী সেনগুপ্ত
comment ২০  favorite ২  import_contacts ৬৪২

ঘন কুয়াশায় ঢাকা হালকা অন্ধকার চিরে ছুটে আসছে মিতুন। লেকটা পনের বার অন্তত পাক খাওয়া চাই-ই চাই। পরনে দাদার পুরোন ট্র্যাকস্যুটটা, পায়ে কাপড়ের জুতো, চুলটা উঁচু করে মাথার ওপর তোলা। রোগা ছিপছিপে শরীরে কৈশোর যৌবনের দিকে পা বাড়িয়ে আছে প্রায়। শীতটা কমে এসেছে কদিন ধরে,তবে মিতুনের যখন ভোর হয় কিছুটা ঠান্ডার আমেজ লেগে থাকে প্রকৃতিতে।একবার পাক খেয়ে নিলেই শীত উধাও। রোজ চারটেয় ওঠা অ্যালার্মের শব্দে। ঘড়ি ধরে সময় এগিয়ে চলে দ্রুত। ভোরের এই ঘন্টাতিনেক সময় মিতুনের একেবারে নিজস্ব। পনের বার চক্কর মারা আর সাথে সাথে বিভিন্ন ফ্রিহ্যান্ড এক্সারসাইজ, প্রবালদাই দেখিয়ে দিয়েছে সব। প্রবালদা বলে মিতুনের মধ্যে নাকি আগুন আছে, এখন শুধু সঠিক সময়ের অপেক্ষা, নিজেকে তৈরি করে নিতে হবে এই সময়ে। যে কোন সাফল্যের মূল্যেই পরিশ্রম। পরিশ্রম ছাড়া কিচ্ছু হয়না। ‘স্পিড মিতুন, স্পিড, আরো স্পিড চাই, আরো স্পিড। সবাইকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে হবে লক্ষ্যের কাছে,আর তোর লক্ষ্য এখন ঐ লালফিতেটা, পৌঁছতে হবে সবার থেকে অনেক অনেক আগে’। প্রবালদার কথাগুলো কানে বাজে, মিতুনকে ঐ কথাগুলোই ছুটিয়ে বেড়ায় অনবরত।প্রবালদার কথা অক্ষরে অক্ষরে মেনে নিয়ে তিনঘন্টা পার হয়ে যায় ঝরের গতিতে। এবার ঘরে ফেরার পালা। ক্লান্ত শরীরে ধীর পায়ে এগিয়ে চলে মিতুন। বাড়িতে তখন সকাল হয়ে গেছে অনেকক্ষণ। আঁচ পড়ে গেছে উনুনে, রান্না চাপান হয়ে গেছে মায়ের। দাদা তড়িঘড়ি তৈরি হচ্ছে দোকানে যাওয়ার জন্য। দরজা পেরিয়ে উঠোনে আসতেই মায়ের চিৎকার – ‘রোজ রোজ এই এক নাটক শুরু হয়েছে। সকালটায় একটু হাত লাগাতে পারিস না সাথে?তা না, ধিঙ্গি মেয়ে দৌড়তে চলল। এতবার যে বলি দাদার দেরি হয়ে যায় দোকানে যেতে, সকালটায় বাড়ি থেকে বেরোস না। একটা কথাও কানে তোলে না, বজ্জাত মেয়ে কোথাকার’। মিতুনের ভীষন বলতে ইচ্ছে করে –‘দাদার কাজ যেমন দোকানে, আমার কাজ তেমন মাঠে। আমার কাজ আমাকে করতে হবেই। মেয়ে বলে কি শুধু রান্নাবাটি খেলতে হবে?’ বলে না কিছুই। প্রবালদাই বারণ করেছে। কথায় কথা বাড়ে। যেভাবেই হোক দাঁতে দাঁত চেপে কাটিয়ে দিতে হবে এই সময়টা, সঠিক সময় আসার আগের এই সময়টা। প্রবালদা বলেছে আর খুব বেশি দেরি নেই। সামনেই জেলাস্তরের সিলেকশান। সেই সিলেকশানেরই পূর্বপ্রস্তুতি চলছে এখন। প্রবালদা বলে, মিতুনের যা স্পিড, তাতে ও সহজেই উতরে যেতে পারে এই সিলেকশান, কিন্তু এসব ক্ষেত্রে খুটির জোরটাও কম জরুরী নয়, যা মিতুনের নেই। তাই নিজেকে এমনভাবে তৈরি করে নিতে হবে যাতে সকলের থেকে ও অনেকটাই এগিয়ে থাকতে পারে, যাতে ওকে বাদ দেওয়ার প্রশ্নটাই অবান্তর হয়ে যায়।প্রবালদার কথা মিতুনকে উত্তেজিত করে আরো, উৎসাহ বেড়ে যায় বহুগুণ। এই মানুষটা, একমাত্র এই মানুষটাই মিতুনকে হাত ধরে ঘুরিয়ে আনে স্বপ্নের খুব কাছ থেকে। না, আরো একজন আছে, জানে মিতুন, যে সমর্থন করে তাকে, যে তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে ছ’ফুট বাই তিন’ফুট খাটে শুয়ে, যে পঙ্গু অবস্থাতেও দৌড়ে বেড়ায় লেকের ধারে, মিতুনেরই চারপাশে সর্বক্ষণ। মুখের ভাষা হারিয়ে গেছে সেই কবে, মনের ভাষা ফুটে ওঠে চোখে। সেই চোখের নিরব সমর্থন প্রেরণা জোগায় তাকে। মায়ের চিৎকারকে তুচ্ছ করে তাই মিতুন মাথা নিচু করে সোজা চলে আসে বাবার কাছে। পাশে বসে হাত বুলিয়ে দেয় মাথায়,বুকে। বাবার চোখ কি ছলছল করে ওঠে হঠাৎ!কে জানে, তবু মিতুনের মনে হয় বাবার কষ্ট হচ্ছে। বাবার কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে বলে মিতুন –‘কষ্ট পেও না বাবা,প্রবালদা বলেছে পরের মাসেই সিলেকশান হয়ে যাবে। তারপর আমার আর কোন কষ্ট থাকবে না দেখ। মাও আর বকবে না আমাকে। আর তো ক’টা দিন’। বাবার মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে হাসির আভাসে, মনে হয় মিতুনের, এই মনে হওয়াটুকুই স্বস্তি দেয় মিতুনকে। চটপট জামাকাপড় পালটে মায়ের সাথে হাত লাগায় মিতুন। দাদার খাবার বাড়ে, খাবার জল তুলে আনে রাস্তার ওপারের কল থেকে। জামাকাপড় কাঁচতে বসে কলপাড়ে। ব্যয় সংকোচের জন্য গুড়ো সাবানের বদলে সস্তার বার সাবান নিয়ে আসে দাদা। এরপর শুরু হয় দুপুরের খাওয়ার আয়োজন, মায়ের হাতে হাতে জোগাড় দেয় মিতুন। বাবার জন্য করতে হয় আলাদা করে গলা ভাত,তাই চামচে করে মুখে দিয়ে দিতে হয় আস্তে আস্তে। এভাবেই বয়ে চলে দিন, প্রত্যেকটা দিন গড়িয়ে যায় বিকেলের দিকে। খাওয়া সেরে উঠতে সাড়ে তিনটে প্রায়। এবার মায়ের বিশ্রামের সময়। মেঝেতে মাদুর পেতে শোয় মা, পাশে মিতুন। পরিশ্রান্ত মা ঘুমিয়ে পড়ে কিছুক্ষণেই,মিতুন অপেক্ষা করে বিকেল হওয়ার। সাড়ে চারটে বাজতে না বাজতেই উঠে পরে মিতুন, জামাকাপড় পড়ে তৈরি হয়ে নেয় চটজলদি। আবার প্র্যাকটিস, এবার আর লেকের ধারে নয়। পাশের পাড়ায় অ্যাথলেটিক ক্লাবে এই সময় থাকে প্রবালদা। এবার তার হাতে কলমে শেখার পালা। কিছুদিন অন্তর অন্তর ফ্রিহ্যান্ড এক্সারসাইজের পরিমাণ বাড়তে থাকে আর কমতে থাকে সময়। সময় ধরে দৌড় করায় প্রবালদা, আরো কম, আরো কম সময়, আরো আরো কম। কেমন একটা নেশায় পেয়ে ধরে মিতুনকে। দৌড়ের নেশা, সবাইকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার নেশা। এই নেশায় কেটে যায় ঘন্টার পর ঘন্টা।বাড়ি ফিরতে ফিরতে সাতটা-সাড়ে সাতটা, কোন কোন দিন আটটাও। শুরু হয় মায়ের গজগজানি আর দাদার দাবড়ানি-‘এত রাত অবধি চরে ফেরা হল’, ‘রাস্তা যখন এত ভাল লাগে আর ফেরার কি দরকার,রাস্তাতে থেকে গেলেই হয়’, ‘ঐ ছোঁড়ার সাথে মেশা বন্ধ কর মিতু। বখাটে ছেলে একটা। তার সাথে মেয়ের এত পিরিত কিসের!’ – এসব কথা রোজকার নিয়ম। প্রতিদিনের পাপক্ষয়ের সাথে জড়িয়ে আছে আষ্টেপৃষ্টে। মিতুন এখনও চুপ। জামাকাপড় পাল্টে হাতমুখ ধুয়ে বাবার পাশে গিয়ে বসে কিছুক্ষণ। এ বাড়িতে এই জায়গাটাই তার একমাত্র আশ্রয়স্থল। বাবাকে বলে তার প্র্যাকটিসের চুলচেরা বিবরণ। বাবা বুঝতে পারে কি না কে জানে! এরপর উঠে রান্নাঘরে যায় মিতুন। আটা মেখে বেলতে থাকে, মা এসে উনুনে চাটু চাপায়। এভাবেই শেষ হয় একটা গোটা দিন। একটা দিন,দিনের পর দিন। রাতের পর রাত। আবার হয় ভোর, আবার শুরু হয় স্বপ্নের।

ভোর ঠিক চারটেয় অ্যালার্ম দেওয়া থাকে। শব্দে ঘুম ভাঙল মিতুনের, উঠতে যাবে বিছানা ছেড়ে,হাত চেপে ধরেছে মা
–‘তোকে না বারণ করেছি বেরতে’
-‘আমাকে যেতেই হবে মা’
-‘যেতেই হবে আবার কি? এবার থেকে কোথাও বেরবে না, এই আমি বলে রাখলাম’
-‘চলেই তো আসব সাতটার মধ্যে’
-‘না,কোন দরকার নেই। সারাদিন বাইরে বাইরে থেকে চেহারার অবস্থা কি হয়েছে দেখেছিস?’
-‘তাতে হল টা কি? আমি কোন সুন্দরী প্রতিযোগিতায় নাম দিতে যাচ্ছি?’
-‘আবার মুখে মুখে কথা? একপাও বাড়ি থেকে নড়বে না তুমি। বিকেলে কিছু লোকজন আসবে বাড়িতে’
-‘এ আবার কি? বাড়িতে লোক আসবে বলে আমি লেকে যাব না? অদ্ভুত তো!’
-‘অদ্ভুত হোক আর যাই হোক, তুমি বাড়ি থেকে বেরবে না’
-‘কারা আসবে?’
-‘সে এলেই দেখতে পাবে। এবার শুয়ে পড় চুপচাপ। আর কোন কথা শুনতে চাই না আমি’
মন বিদ্রোহ করে উঠল এইবার। কিন্তু সব কিছু সহ্য করতে হবে বিনা প্রতিবাদে, প্রবালদাই বলেছে। আজ দাদা দোকানে গেল না,তাই রান্নাবান্নার তাড়া নেই। মা আজ পড়েছে মিতুনকে নিয়ে। ব্যসন-দুধের সর দিয়ে চলছে রূপচর্চা। একটা গোটা ডিম লাগিয়ে দিল চুলে। অসহ্য লাগছে মিতুনের। অসহ্য-অসহ্য। মিতুন কচি খুকিটি নয় যে কিছুই বুঝতে পারছেনা। গোটা আয়োজনের মূল কারণটা যত স্পষ্ট হচ্ছে তত বিরক্তিটা বাড়ছে মিতুনের। নষ্ট হয়ে গেল গোটা দিনটা। একটা পুরো দিন সে প্র্যাকটিস না করেই কাটিয়ে দিল। বিকেল থেকে মিতুনকে সাজাতে শুরু করল মা। ট্রাঙ্ক খুলে বের করল খুব যত্ন করে রাখা নিজের সবথেকে ভাল পিয়োর সিল্ক শাড়িটা,সাথে সামান্য গয়না, সব দিয়ে সাজাল মিতুনকে, চুল বেঁধে দিল স্বযত্নে। আলতো সাজগোজেই খুলল রূপ-‘আমার মেয়েটাকে কি মিস্টি দেখতে বল তো দেখি। একটু সাজলে গুজলে কত ভাল দেখায়। তা না, সারাদিন পেত্নি হয়ে থাকিস’। সব কথা নিঃশব্দে হজম করল মিতুন। মনের ভিতর তোলপাড়,আয়নায় নিজেকে দেখল, সত্যিই ভাল লাগছে দেখতে,আর এই ভাল লাগাটাই আশঙ্কার মূল।
এরপরের ঘন্টাতিনেক সময় যেন কেটে গেল চোখের পলকে। কখন যেন এসে পড়ল জনাসাতেক মহিলা-পুরুষের একটি গোটাদল। আপ্যায়ন,মিস্টির প্লেট,মা আর দাদার বিগলিত কথোপকথন,মিতুনের গুনগান আর সদাব্যস্ত পরিস্থিতির মধ্যে বেজে গেল রাত ন’টা প্রায়। পাত্রপক্ষ যাওয়ার আগে একরকম পাকা কথা দিয়েই গেল। মা আর দাদার মুখ আনন্দে উদ্ভাসিত। মিতুন ঠায় বসে আছে বাবার বিছানার পাশে। বাবার চোখের দৃষ্টি আজ অস্পষ্ট, কেমন যেন ভাসা ভাসা। মা আর দাদা এসে ঢুকল ঘরে, আনন্দে আপ্লুত হয়ে মা জড়িয়ে ধরল মিতুনকে –‘যাক বাবা, সব ভালোয় ভালোয় মিটে গেছে। ওগো শুনছ, ওরা পাকা কথা দিয়ে গেল প্রায়। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিয়ের তারিখ ঠিক করতে হবে, ওদের খুব তাড়া। কোন চাহিদা নেই, জামাইকেও তো দেখতে একেবারে হীরের টুকরো। মিতুন আমাদের অনেক ভাগ্য করে এসেছে। তবে,আমাদের সাধ্যমত যেটুকু পারি তা তো দিতেই হবে। মানসন্মানের ব্যাপার’।
-‘হ্যাঁ মা, খাট আলমারির অর্ডারটা আমি এই সপ্তাহেই দিয়ে আসব। ওঁরা বলছিলেন সামনের মাসেই দশে একটা বিয়ের তারিখ আছে। ঐ দিন সেরে ফেললেই তো হয়। আমাদের তো আত্মীয়স্বজন তেমন বেশি নয়, ও ঠিক নেমন্তন্ন করা হয়ে যাবে’।
-‘হ্যাঁ, তবে তুই সেটাই কর। ওঁরা কাল পরশুর মধ্যে এসে জানিয়ে যাবে। এলে তাহলে ঐ তারিখটাই বলব’
মিতুন তাকায় বাবার দিকে। আজ আর নেই কোন আশ্রয়, বড় নির্জীব দেখায় বাবার চোখদুটো,বড় ক্লান্ত। উঠে দাঁড়ায় মিতুন –‘আমি বিয়ে করতে পারব না মা’
-‘মানে!!’
-‘মানে আমি এখন বিয়ে করব না। সামনে আমার অনেক কাজ। এখন বিয়ে করা সম্ভব নয়’
-‘মেরে মুখ ভেঙে দেব হারামজাদি’ পলকে উধাও মায়ের হাসিমুখ। -‘ফের যদি ওকথা বলিস। তোকে ওঁরা পছন্দ করেছেন এই তোর সাতপুরুষের ভাগ্যি, আবার বলে বিয়ে করবে না। ছেলে কত শিক্ষিত জানিস? গ্র্যাজুয়েট। আর তুই তো টেনেটুনে মাধ্যমিক। এখনকার দিনে পাশ না করা মেয়েদের বিয়ে হয় না কি এত চট করে? তাও ওঁরা দয়া করলেন বলে বিয়েটা হচ্ছে’
-‘বললাম তো আমি বিয়ে করব না। সামনেই আমার জেলাস্তরের সিলেকশান হবে। এখন বিয়ে করব কি করে!’
দাদা চেঁচিয়ে উঠল এবার -‘আর যদি তুই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিস। অনেক দৌড়দৌড়ি হয়েছে,এবার সব বন্ধ। দরকার হলে তালাবন্ধ হয়ে থাকবি। এ বিয়ে তোকে করতেই হবে’
-‘জোর করে বিয়ে দিবি?’
-‘দরকার হলে তাই দেব। আর একটাও কথা না। দুমদাম করে বেরিয়ে গেল দাদা,পিছনে মা। মিতুন বসে রইল একভাবে। প্রবালদা বলেছিল সহ্য করতে। কিন্তু কতদিন! এরা যা শুরু করেছে তাতে তো সামনের মাসেই তারিখ ঠিক করে ফেলবে। হঠাৎ বাইরে শোরগোল, প্রবালদার গলা মনে হচ্ছে! দৌড়ে বেরল মিতুন।
-‘মাসিমা, আপনি ভুল করছেন। একটা খবর দিয়েই আমি চলে যাব’
-‘না বাপু,তোমাকে আর কিছু বলতে হবেনা। আমরা চাই না, আমাদের মেয়ে তোমার সাথে মিশুক। তাছাড়া,ও আর ওসব দৌড়দৌড়ি করবেনা, যা করেছে করেছে এতদিন, আর নয়’
-‘করবে না মানে? কি বলছেন আপনি! জানেন ওর ট্যালেন্ট কতটা?’
-‘ওসব জেনে আমার কাজ নেই বাপু। তুমি এস’
-‘মিতুনকে ডেকে দিন, ওর সাথে কথা না বলে আমি যাব না’
-‘মা তোর সাথে অনেকক্ষণ ভালভাবে কথা বলেছে। বেশি বাড়াবাড়ি করিস না, তাহলে ঝামেলা হয়ে যাবে’
ততক্ষণে মিতুন এসে দাঁড়িয়েছে উঠোনে –‘প্রবাল দা !’
-‘এই তো মিতুন। জেলার সিলেকশান সামনের মাসের ৫ তারিখ। তোকে ভাল করতেই হবে মনে থাকে যেন। মনের ইচ্ছে থাকলে কোন বাঁধাই বাঁধা নয়, এই কথাটা শুধু মনে রাখিস’
বেরিয়ে গেল প্রবালদা। মা টেনে নিয়ে গেল মিতুনকে ঘরের ভিতর। দাদা সদর দরজা বন্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দিল। এবার থেকে এই দরজায় তালা লাগান থাকবে সর্বক্ষণ যাতে উটকো লোক ঢুকে পড়তে না পারে যখনতখন। তাছাড়া,মিতুনকেও তো আটকে রাখার প্রয়োজন হতে পারে যদি অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করার চেষ্টা করে।

এক মাস সময় কেটে গেল ঝড়ের গতিতে। বাড়ি জুড়ে উৎসবের আমেজ। মিতুন গৃহবন্দি প্রায়। বাইরে মায়ের সাথে বেরিয়েছে মাত্র দু’বার। সদর দরজা এখন তালা দেওয়া সবসময়। চাবি থাকে দাদা অথবা মায়ের কাছে। তাই বেরন সম্ভব হয়নি। মিতুন তবু নিশ্চিন্ত, মিতুন জানে ঠিক সময় সব কিছু ঠিকই হবে। আর এই ভরসার একমাত্র কারণ প্রবালদার পাঠানো ছোট্ট একটা চিরকুট। হ্যা,বিয়ের দিন নির্ধারণের পরের দিন পাশের বাড়ির কৃষ্ণাকাকিমা এল বাড়িতে,সাথে মিতুনের প্রায় সমবয়সী তনু, কাকিমার মেয়ে। মিতুন বাবার কাছে বসেছিল, মেয়েটি একফাঁকে টুক করে ঘরে ঢুকে একটা ছোট্ট কাগজের টুকরো গুজে দিয়ে গিয়েছিল মিতুনের হাতে। অবাক বিস্ময়ে তাকিয়েছিল মিতুন,তনু মিতুনের হাতে হাত রেখে অল্প হেসে বিদায় নিয়েছিল। মিতুন চিরকুটটা খুলে অবাক, অল্প কয়েকটা শব্দ পর পর লেখা –‘৫ তারিখ ভোররাতে বেরিয়ে আসতে হবে। ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়। বাকি দায়িত্ব আমার-প্রবালদা’। শব্দগুলো বার বার পড়েও আশ মেটে না মিতুনের।একটা বিরাট বোঝা নেমে গেল যেন মাথার উপর থেকে। এরপর থেকে প্র্যাকটিস শুরু হয় বাড়ির ছাদে, ভোরে যাওয়া আর হয়না,মা বুঝতে পেরে যাবে। তাই একটু বেলা বাড়তেই ছাদে চলে যায় মিতুন রোদ পোহাতে। মা আর এখন সংসারের কাজে ডাকে না মিতুনকে। আর কয়েকটা দিন বাকি, তাই হয়ত কষ্ট দিতে চায়না। ছাদে গিয়ে শুরু হয় ফ্রিহ্যান্ড এক্সারসাইজ, পাপোষ পেতে আঙুলে ভর করে দৌড় প্র্যাকটিস হয় এক জায়গায় দাঁড়িয়ে যাতে নিচে আওয়াজ না যায়। ঘন্টা দেড়েক কি দুয়েক সময় পাওয়া যায়। তারপর মা ডাকতে থাকে নিচে, বেশিক্ষণ থাকা যায় না আর। এভাবেই মাসখানেক কেটে যায় রুটিন ধরে।
আজ ৫ তারিখ। ভোররাতে উঠতে হবে, কিন্তু অ্যালার্ম দেওয়া যাবে না, ঘুম ভেঙে যাবে সকলের। তাই মাঝরাত থেকেই জেগে রয়েছে মিতুন, বুকে অজানা এক আশঙ্কা, সাথে উত্তেজনাও।সন্ধ্যের দিকে ছাদে গিয়ে সব রেডি করে রেখেছে মিতুন,ছাদের দরজাটাও খুলে রেখে এসেছে যাতে শব্দ না হয় কোন। ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যেও পুবের আকাশে যেন হালকা আলোর আভা,আরো পাঁচ মিনিট-দশ মিনিট,আস্তে আস্তে ফরসা হচ্ছে আকাশ। এখন ক’টা বাজে কে জানে। ভোররাত বোধহয় একেই বলে। এবার বেরতে হবে মিতুনকে। তাকায় পাশে ঘুমন্ত মায়ের দিকে,ওপাশ ফিরে শুয়ে আছে। খুব সন্তর্পণে উঠে পড়ে মিতুন,ভেজান দরজা খোলে নিঃশব্দে। পায়ে পায়ে চলে যায় ছাদের সিঁড়ির কাছে। অন্ধকারে দেখা যায় না কিছু, তবু হাতড়ে হাতড়ে খুব ধীরে পৌঁছে যায় ছাদের দরজায়,ভেজান দরজা ঠেলে মিতুন পৌঁছে যায় ছাদে। একপশলা হিমেল বাতাসের স্পর্শ লাগে গায়ে,প্রাণভরে অনুভব করে মিতুন। সময় বড় কম, যে কোন সময়ে ঘুম ভেঙে যেতে পারে মায়ের। ছাদের ধারে চলে আসে মিতুন। মায়ের দু’টো শাড়ি ভাল করে বেঁধে লোহার রডের সাথে আটকে রেখেছিল গতরাতে। শাড়ি ঝুলিয়ে দেয় নিচে। শাড়ি ধরে দেওয়ালে ভর দিয়ে নেমে আসতে খুব একটা অসুবিধা হয় না মিতুনের। নিচে নেমেই শুরু হয় দৌড়, মনে হয় কতযুগ বাদে আবার প্রাণপণে দৌড়চ্ছে সে। দৌড়তে দৌড়তে চোখ চলে যায় পাশের বাড়ির দিকে, জানলার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মুখটা দেখতে পায় আধো অন্ধকারে, তনু হাসিমুখে হাত নেড়ে বিদায় জানায় তাকে। আরো একবার কৃতজ্ঞ বোধ করে মিতুন ঐ মেয়েটার জন্য। কিন্তু,সে যাবে কোথায় এখন। প্রবালদার বাড়িতেই যেতে হবে,কিন্তু এই সময় হঠাৎ এভাবে যাওয়া কি উচিত হবে! উচিত অনুচিত ভাবার অবকাশ এখন আর নেই। ছুটতে ছুটতে মিতুন পৌঁছে যায় প্রবালদার বাড়ির দরজায়। বার দুয়েক কড়া নাড়তেই খুলে যায় দরজা।
-‘আমি জানতাম তুই আসবি। কি গো,আমি বলেছিলাম না ও পারবে’
হাসিমুখে বেরিয়ে এলেন প্রবালদার স্ত্রী মালবিকাদি। হাত ধরে নিয়ে গেলেন ঘরে –‘আমরা কিন্তু আজ প্রায় সারারাত জেগে। ও বলেছিল তুমি ঠিক আসবে,আমার বিশ্বাস হয়নি। তুমি সত্যি প্রমান করে দিলে ওকে। এবার চল,চটপট রেডি হয়ে নেবে,এখান থেকে যত তাড়াতাড়ি বেড়িয়ে যাওয়া যায় ততই ভাল। ঘরে ঢুকল মিতুন। মালবিকাদি আগে থেকে সব গুছিয়েই রেখেছিলেন। চটপট জামাকাপড় পাল্টে নিল মিতুন। মিনিট পনেরর মধ্যেই বেড়িয়ে পড়ল তিনজনে স্টেশানের দিকে। ভোরের আলো তখন অনেকটাই ফুটে উঠেছে। খুব জোরে পা চালিয়ে এগিয়ে চলল তিনজন। মিনিট দশেক অপেক্ষার পরেই চলে এল ট্রেন। মিতুন পা রাখল অজানা ভবিষ্যতের রাস্তায়,মা-দাদা তখনও হয়ত আচ্ছন্ন নিশ্চিন্ত গভীর ঘুমে। আর বাবা! হঠাৎ করে দু’চোখ ছাপিয়ে এল জল, বাবাকে একটিবার বলেও আসা হল না।

১২ জন মেয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে লাইনজুড়ে পরপর। মিতুন ৭ নম্বরে। সকলের মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব মাপা। মিতুন তাকিয়ে আছে সামনের দিকে, সাদা দাগ দু’দিকে, মাঝের অপ্রশস্ত পথ। এই পথটাই মিতুনের ভবিষ্যৎ নির্ধারক। প্রবালদা আর মালবিকাদি দাঁড়িয়ে রয়েছে কিছুটা দূরে, হাত তুলে আশ্বস্ত করতে চাইছে মিতুনকে। আরো একজোড়া চোখ সেই সময় লক্ষ্য করছে শুধু মিতুনকেই, যদিও মিতুনের কাছে তা অজানা। বাঁশি বেজে উঠল,সবাই প্রস্তুত। আরো একবার বাজার সাথে সাথেই শুরু প্রতিযোগিতা। মিতুনের লক্ষ্য সামনে, আশেপাশের সবকিছু হারিয়ে গেছে সেই মুহূর্তে,দৃষ্টি আটকে শুধু সাদা দু’টো লাইন আর মাঝের অপ্রশস্ত পথ।দৌড়চ্ছে মিতুন, প্রাণপণে দৌড়ে চলেছে। শোরগোল চতুর্দিকে, হাততালির আওয়াজ মুহুর্মুহু। কিছুই কানে যাচ্ছে না মিতুনের,লক্ষ্য স্থির। লক্ষ্যের খুব কাছে পৌঁছে গেছে মিতুন, আর কিছুটা,আর অল্প কিছুটা, আর একটুখানি, আর..... শেষ হল দৌড়, লালফিতে ছুঁয়ে আরো কিছুটা এগিয়ে গেল মিতুন। প্রবালদা ছুটে এসে জড়িয়ে ধরল মিতুনকে। মালবিকাদিও চলে এসেছে একছুটে।
-‘আমি জানতাম তুই পারবি। জানতাম আমি’
মিতুন এখন ছুঁয়ে রয়েছে তার স্বপ্নকে। হাত বুলিয়ে অনুভব করছে তার স্পর্শের কোমলতা।মিতুনকে ঘিরে এখন অনেক মানুষের সমারোহ। অনেক অভিনন্দন মিশে গেছে বাতাসে। উচ্ছ্বাস ফেটে পড়ছে প্রবালদার চোখে মুখে, মালবিকাদিও উচ্ছ্বসিত। মিতুন দেখছে প্রবালদাকে, শ্রদ্ধামিশ্রিত কৃতজ্ঞতায় ভরে উঠছে মন। এই মানুষটাকে আনন্দ দিতে পারার আনন্দটা যেন জেতার আনন্দের থেকেও বহুগুণ বেশি। মালবিকাদি ভিড় ঠেলে মিতুনকে নিয়ে গেল একপাশে –‘দেখ তো চিনতে পার কি না?’ মালবিকাদির দৃষ্টি অনুসরণ করে মিতুন তাকাল,কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে একটি ছেলে, খুব চেনা চেনা যেন। মিতুনের সাথে চোখাচোখি হতেই এগিয়ে আসছে ছেলেটি। হাসি হাসি মুখ,স্মৃতি হাতড়ে হঠাৎ মনে পড়ে যায় মিতুনের,পাত্রপক্ষের মধ্যমণি হয়ে থাকা লাজুক লাজুক মুখটা এখন অনেক সপ্রতিভ। এর খবর মালবিকাদি কোথা থেকে পেল! ততক্ষণে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে ছেলেটি। মিতুন তাকাল মালবিকাদির দিকে, মালবিকাদির মুখেও হাসি, প্রায় সাথে সাথেই ভিড় ঠেলে প্রবালদাও এসে পড়েছে –‘চিনতে পারিস একে?’
-‘হ্যাঁ, পারছি। কিন্তু !!’
-‘তোকে কথাটা আগে বলিনি। কারণ তোর কনসেনট্রেশান নষ্ট হত তাতে। আমি নিজেই যোগাযোগ করেছি সিদ্ধার্থর সাথে, তোর বিয়ের খবর শোনার পর’
-‘কেন!’
-‘আমার মনে হয়েছিল ওর সাথে কথা বললে সমস্যার সমাধান হতে পারে’
তাকিয়ে রইল মিতুন, ওর মাথায় কিছুই ঢুকছে না।
হাসল প্রবালদা –‘আচ্ছা সিদ্ধার্থ, তোমরা কথা বল,আমরা পাশেই আছি’
কিছুটা দূরে সরে গেল প্রবালদা আর মালবিকাদি। মিতুন কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। সিদ্ধার্থই কথা বলল –‘অনেক অভিনন্দন’
-‘ধন্যবাদ’
-‘তোমাকে কয়েকটা কথা বলার আছে,মন দিয়ে শোন। তারপর তোমার ইচ্ছেমতই কাজ হবে’
তাকাল মিতুন পরিপূর্ণ দৃষ্টিতে।
-‘এই বিয়েটা তোমার অমতেই ঠিক করা হয়েছে প্রবালদার কাছে শুনেছি। তুমি হয়ত জান না প্রবালদার সাথে আমার একটা বিশেষ সম্পর্ক আছে বহুদিন ধরে। উনি আমার জীবনের অনেকখানি। সে কথা আরেকদিন বলব খন। তোমার সব কথাই আমি প্রবালদার কাছে শুনেছি।বিয়ের জন্য আমি কোনভাবেই তোমাকে জোর করব না, তবে আমার মনে হয় বিয়েটা হলে তোমার এগিয়ে চলার পথটা প্রশস্ত হবে। তোমার পরিবারের কথা ভেবেই আমার সেটা মনে হয়’।
-‘কেন?’
-‘তোমার পারিবারিক বাঁধার কথা আমি সবটাই শুনেছি’
-‘বিয়ে হলে সেই বাঁধাটা কি থাকবেনা?’
-‘না,থাকবে না’
-‘আপনি এত জোর দিয়ে বলতে পারেন কি ভাবে?’
-‘চাকুরিস্থলে আমাকে একাই থাকতে হয় এখন। বিয়ের পর আমরা দু’জনে থাকব। দু’জনের পরিবারে অসুবিধা তৈরি করবে কে?’
-‘আপনিই যদি করেন?’
-‘এতক্ষণ কথা বলার পর কি তাই মনে হল?’
মুখ নিচু করে ফেলল মিতুন। সামনের মানুষটাকে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হল খুব,নিজের স্বপ্নকে আরও কাছ থেকে অনুভব করতে পারল যেন। তবু একটা সংশয় আঁকড়ে ধরে আছে তাকে। উচিত অনুচিত বুঝে উঠতে পারল না কিছু। অদূরে দাঁড়িয়ে প্রবালদা’রা। মিতুন তাকাল সেদিকে। প্রবালদা তাকিয়ে আছে এইদিকেই। মালবিকাদিকে সাথে নিয়ে ফিরল –‘কি? কথা হল?’
-‘হ্যাঁ’
-‘কি করবি ঠিক করলি?’
-‘জানি না’
-‘মানে?’
-‘মানে আপনি জানেন’
মিতুনের মাথায় হাত রাখলেন প্রবালদা। এটুকু বুঝতে পারলেন, মিতুনের জীবনের এত বড় সিদ্ধান্তের ভার তাকেই নিতে হবে।
সিদ্ধার্থর দিকে ফিরলেন প্রবালদা –‘কি? বিশ্বাস করা যায় তো?’
-‘সে আপনি বুঝবেন। আপনার সাথে আমার আলাপ তো খুব কম দিনের নয়। আপনি যা বুঝবেন তাই হবে’
-‘এতো মহা মুশকিল। দু’জনে মিলে আমাকে কি বিপাকে ফেললে বল তো। ধর্মসংকটে পড়তে হবে নাকি!’
সিদ্ধার্থ তাকাল মিতুনের দিকে। মিতুনের মাথা নিচু,দৃষ্টি ছড়িয়ে আছে মাঠের দিকে। দৃষ্টি জুড়ে এগিয়ে চলার স্বপ্ন, আশা আশঙ্কার দোলাচলে দুলছে হ্রদয়, দুলছে মন।তবু বিশ্বাস তার স্থির জীবনের ওপর,প্রবালদার স্থির করে দেওয়া জীবনপথে জয় তার অবধারিত। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। সামনের মাঠটা দু’হাত বাড়িয়ে ডাকছে মিতুনকে। আরো দৌড়তে হবে,আরো আরো আরো। ‘স্পিড মিতুন, স্পিড, আরো স্পিড চাই, আরো স্পিড। সবাইকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে হবে লক্ষ্যের কাছে, আর তোর লক্ষ্য এখন ঐ লালফিতেটা, পৌঁছতে হবে সবার থেকে অনেক অনেক আগে’।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন