বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১০ জুন ১৯৭৬
গল্প/কবিতা: ৭টি

সমন্বিত স্কোর

২.৩৩

বিচারক স্কোরঃ ০.৬৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৬৮ / ৩.০

নট রিচে-বেল

আমি নভেম্বর ২০১৩

প্রজাপতি

শুন্যতা অক্টোবর ২০১৩

খাটিয়া

শুন্যতা অক্টোবর ২০১৩

গল্প - এ কেমন প্রেম? (আগস্ট ২০১৬)

মোট ভোট ১৪ প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.৩৩ ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি

অলভ্য ঘোষ
comment ৭  favorite ০  import_contacts ১৫৪
ছ সপ্তাহে সুন্দরী হয়ে ওঠার তত্ত্ব । টি .ভি , ম্যাগাজিন
পোস্টারে সুন্দরীদের হাতছানি । পাশের বাড়ির পম্পা
মাধুরী কাটিং চুল কেটে বাঁকা ভুরু টাকে মসৃণ করে তোলে ।
ব্যালকনিতে ইচ্ছাকৃত-ভাবে আনাগোনা করে । পম্পার মা খুশি
হয় ছেলেরা শিস দিলে কিংবা বাড়ির আনাচে কানাচে পাক
খেলে । তবুও মুখে বলতে হয় ; বকাটে ।
দিন দিন পম্পার অনুরাগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে ; রূপের
সার্টিফিকেটে ঝোলা পূর্ণ হয়ে ওঠে । পম্পার মা ওয়েল্থ
লিস্ট করে দেখে সম্পদের লেখচিত্রে কে এগিয়ে ।
নিউ মার্কেটে পম্পার সাথে বিনোদকে দেখে সুমিত খোঁচে গেলে
পম্পা বিনোদকে মাসতুতো দাদা বলে পরিচয় দেয় ।
পম্পাদের বাড়ির সামনের চায়ের দোকানে আজকাল
সঞ্জু রোজ অপেক্ষা করে ; তাকে এক ঝলক দেখার জন্য ।
চায়ের দোকানওলার লাভ হয় ।
সঞ্জুর চেহারা রোগাটে ।গায়ের রং কালো, চোখ দুটো
কোটরে বসা ছোটো ছোটো ,চোয়াল ভাঙা , নাক খেঁদা ,
সোদপুর বাজারে ওর বাবার একটা মুদির দোকান আছে ।
চলে না । এখন আর্ট কলেজের ছাত্র সে ।
স্কুলের থেকে সঞ্জু পম্পা কে ভালবাসে ।
কিন্তু পম্পার মনের গণ্ডির ভেতরে প্রবেশের অধিকার তার
নেই । সঞ্জু বিশ্বাস করে ভালবাসার ব্যাখ্যা হয় না । শুধু
একটা অদৃশ্য বুঝে নেওয়া পৃথিবীর অণু-পরমাণুতে লুকিয়ে
রয়েছে । সঞ্জু ভাবে ; এমন একটা প্রডাক্ট যদি হতো মানুষের
মুখে নয় ; মনে মাখত সকলে ; মন সুন্দর করে তোলার
ক্রিম '' ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি '' । তাহলে বোধয় অসুন্দর
আর কিছু থাকতো না । পম্পার মুখের মতো মনটাও সুন্দর
হতো । খাদ বাদ দিয়ে একটা নিরেট সোনা হতো পম্পা ।
মাধুরী দীক্ষিতের বদলে মনে মাখা ক্রিমের বিজ্ঞাপনী মডেল
হতো সে ।
প্রতিদিন সন্ধ্যার দিকে একটা লাল মারুতি পম্পাকে নিয়ে কালো
ধোঁয়া উড়িয়ে চলে যায় । সঞ্জুর শ্বাস যন্ত্রে এক দাগ করে বাসা
বাঁধতে থাকে কার্বন ডাই অক্সাইড ।
একদিন সকালে পম্পার বডিটা লেকের জলে পাওয়া যায় ।
অবিন্যস্ত চুল ; মুখের ওপর ঘনীভূত । শরীরে বিচ্ছিন্ন ভাবে
আঁচড়ের ছাপ । কারা দুহাতে আঁচড়ে খুবলিয়ে নিতে চেয়েছে
পম্পার রূপ ! হৃদপিণ্ড টা তখনো অক্ষত লেকের
জলে শীতল !
সেদিন বিকেলে টি.ভি র খবরে পম্পার মা হাউ-হাউ করে কাঁদছে ।
পম্পার বাবা প্রয়োজনে সুপ্রিম কোট অবধি কেস লড়বে বলছে ।
বেশ কয়েক টি মহিলা সমিতি এসে দাঁড়িয়েছে ওদের পাশে ।
সঞ্জুর মুখে এখন আগাছার মতো দাঁড়ি গোঁফ , উসকো খুসকো
চুল , চেহারা আরো পাকিয়ে দড়ি হয়েছে । রাস্তায় ;রাস্তায় কাগজ
কুড়োয় । লোকে পাগল বলে । তার ক্যানভাসে কোন রং আর
কথা বলে না । বোবা হয়ে গিয়েছে । ঢুলু ঢুলু চোখে বিঞ্জাপন
খোঁজে ; '' মনে মাখা ক্রিমের '' ।
যা মনে মাখলে পৃথিবী টা সুন্দর মনে হবে ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন