বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৭ জুলাই ১৯৯০
গল্প/কবিতা: ৪টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

২৫

মা (মে ২০১১)

মোট ভোট ২৫ আমার আম্মা

linta
comment ২৭  favorite ১  import_contacts ৩৪৩
কোনো গল্প পড়ার চেয়ে লিখতেই বেশি ভালো লাগে আমার। অন্য কোনো বিষয় না, আমি সব সময় ভালোবাসা বিষয়ক জিনিশপত্র নিয়েই ঘাটাঘাটি বেশী করি। কিন্তু মা নিয়ে এবারই প্রথম লেখা। মা শব্দটা শুনলেই সব কিছু কিভাবে যেন থেমে যায়। অদ্ভুত এক শব্দ মা। কোনো চিন্তা ভাবনা ছাড়া লিখতে বসলে যা হয়। কথা খুঁজে পাওয়া যায় না সময় মত। সুন্দর একটা সুচনাও দিতে পারলাম না মা’কে নিয়ে।
আমার মা সবার মা থেকে একদমই আলাদা না। আমরা বান্ধবীরা যখন কথা বলি আমাদের নিজেদের মা সম্পর্কে তখন দেখা যায় যে ওদের মা’র সাথে আমার মা’র কোনো পার্থক্য নেই। সবার একই অভিযোগ, আমার মা আমাকে স্বাধীনতা দিতে চায় না। নিজের আচলের তলে বেধে রাখতে চায় আজীবন। সব কাজ সে করে দিতে চায়, সাহায্য করতে চায়। অথচ তারা নিজেরা কিন্তু যতটুকু আনন্দ করা যেত সেই সময় তারা ঠিকই করেছে। অথচ আমাদের বেলায় যত হাবিজাবি নিয়ম কানুন। তারা কি কখনোও বুঝবে না যে আমরা বড় হয়েছি, আমাদের খারাপ ভালো বোঝার বয়স হয়েছে, তাদের চোখে কি আমরা এই জীবনে বড় হবো না?? এই প্রশ্ন আমার মত হাজার সন্তানদের?
অবশ্য কিছু কিছু সময় আমি নিজেই বড় হতে চাইনা। আম্মার অতি আদর আর প্রশ্রয় যে যাই বলুক না কেন কিছু কিছু জিনিশ আম্মা না করে দিলে ভালো লাগে না। যেমন আমার চুল বেঁধে দেয়া। এই কাজটা কখনোই নিজের করতে ইচ্ছা করে না। আম্মা ছাড়া অন্য কাউকে দিয়ে চুল বাধাতে ভালোও লাগে না। বড় আপু মেঝ আপু এর জন্য অনেক বকাঝকা করলেও আমি এবং আমার মা কোনো কথায় কান না দিয়েই আমাদের মত চলতে থাকি। তারপর প্রতিদিন সকালে ক্লাসে যাওয়ার আগে আম্মা কাপড় বের না করে দিলে আমি কি পড়ে বাইরে যাবো তা নিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়ি। তাই প্রতিদিনই আম্মা সকাল বেলা আমার কাপড় বের করে রেখে দেয়। আবার মাঝে মাঝে আম্মার উপর রাগও হয়, আম্মার সাথে ঝগড়াও হয়। এইতো সেদিনও পড়ালেখা বাদ দিয়ে ইংরেজি সিনেমা দেখার জন্য কত বকা খেলাম। আমাকে সাধারণত কেউ বকা দেয় না দেখে অল্পতেই খুব কষ্ট পাই। কান্নাকাটি করে অবস্থা খারাপ। রাগ করে রাতে ভাত খাবো না দেখে তাড়াতাড়ি শুয়ে পরলাম। ভাত টেবিলে দিয়েই আম্মা আমাকে ধরে আদর করে টেবিলে নিয়ে গেলো, তারপর আমি নবাবের বেটি ভাত খেলাম। এসব আমার আর আম্মার প্রতিদিনের কাজ।
যখন খুব ভালো করি পরীক্ষায় তখন আম্মার চোখে খুশীতে পানি চলে আসে। যখন এস.এস.সি.তে এ+ পাই তখন আম্মা আমাকে সবার সামনে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দেয়। ওই দৃশ্যটা হয়তোবা আমি আমার জীবনে কখনই ভুলতে পারবো না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এইচ.এস.সি.তে খুব খারাপ ফলাফল করি। আম্মাও কাঁদে আমিও কাঁদি। এক বছর পর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই এবং প্রথম সেমিস্টারে ৩.৭২ পাই, যেটা আমাদের ডিপার্টমেন্ট এ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জি.পি.এ.। আমার লক্ষ্য আমি পরের সেমিস্টারগুলোতে আরোও ভালো করে প্রথম হবো ইনশাল্লাহ।
আমার আম্মাকে আবার সেই সুখের কান্নাটা কাদাতে চাই। যেনো আমার আম্মা মাথা উঁচু করে বলতে পারে যে তার মেয়েও কোনো অংশে কম নয়।
কি লিখতে চাইলাম আর কি লিখে ফেললাম। আমি এমনি। আমার মায়ের আহ্লাদী মেয়ে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন