বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ নভেম্বর ১৯৬৫
গল্প/কবিতা: ১টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

১৮

মুক্তিযোদ্ধা (ডিসেম্বর ২০১২)

মোট ভোট ১৮ এক অনুজ বৃক্ষ সহোদর

আফজালুর rahman
comment ১৩  favorite ২  import_contacts ২৭১
আমাদের বাবা তার ছাত্রদের পড়াতেন ইতিহাস
আর আমাদের দিতেন দর্শনের পাঠ
সে সুত্রেই আবাল্য বৃক্ষসমুদয় হয়ে ওঠেছে আমাদের আত্মীয়।

একাত্তুরের দশমাস পাকিদের তাড়া খাওয়া অনেক পরিবারের সাথে
আমারাও গ্রামে আশ্রয় নিয়েছিলাম
আমার অগ্রজ তখন জেলা স্কুলের ছাত্রনিবাস ছাড়ার সময়
ব্যাগের ভেতর বই পত্রের সাথে নিয়েএসেছিলো এক মেহগনি শিশু
বাড়ির অন্দরে বৃদ্ধ কাঠালগাছটি যেখানে ঝড়ের তান্ডবে ভেঙ্গে পড়েছিলো
সেখানটায় সে মেহগনি শিশুটি লাগিয়ে দিয়েছিলো।

সে তল্লাটে তখন সে-ই প্রথম বিদেশী অতিথি
দাদুমা কন্টক আবেষ্টনী দিয়ে সযতনে তাকে ডেকেদিলেন-
কেননা সুতীয়া পার হয়ে হানাদাররা গ্রামে ডুকেগেলে
আমরা বাড়িঘর ছেড়ে আরো প্রান্তিক জনপদে ছুটে যাই।

এ ভাবেই মরণপণ যুদ্ধ গেল
স্বাধীনতার সৌর চার দশকও পেড়িয়ে গেল
আমাদের পূর্ব-পুরূষের ভিটের রাষ্ট্রশাসনের তিন পর্বের সমবয়সী
বাড়িটাও ততদিনে বুড়ো হতশ্রী।

নুতন বাড়ি বানাবার আয়োজন নিয়ে
আমরা একদিন পৈতৃক ভিটেয় গিয়ে হতবাক-
বাড়ির অন্দরের সেই মেহগনি শিশুটিকে দেখি
আকাশ ছুতে গিয়ে সে
বিশাল উচুতে মাথা তুলে দাড়িয়েছে।

বাড়ির সবাই বল্লেন, এই মেহগনি দিয়েই হবে নুতন বাড়ির
সব দরজা জানালা, আর যাকিছু আসবাব
আমরা বলি না, ও আমাদের বৃক্ষ সহোদর-
আমাদের জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরেও
আকাশে মাথা তুলে জানান দেবে
সে আমাদের অনুজ বৃক্ষ সহোদর্।।

মৈমনসিং, ২১ কার্তিক ১৪১৯
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন