বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৪ মার্চ ১৯৮৪
গল্প/কবিতা: ১৮টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৬৯

বিচারক স্কোরঃ ২.২৯ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৪ / ৩.০

আধারে এতটুকু আলো

দিগন্ত মার্চ ২০১৫

মৃত্যু ফাঁদ

ব্যথা জানুয়ারী ২০১৫

ভয়

ভৌতিক নভেম্বর ২০১৪

প্রত্যয় (অক্টোবর ২০১৪)

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৬৯ জোনাকির আলোয়

নাজনীন পলি
comment ১৫  favorite ০  import_contacts ৭৪৪
এক
দিনের আলো নিভেছে অনেকক্ষণ হল । বাঁশ বাগানটা নিকষ কালোই ঢেকে গেছে শুধু কতগুলো জোনাক জ্বলছে আর নিভছে । পাশ দিয়ে বয়ে চলা নদীর কুলকুল ধনীর সাথে তাল মিলিয়ে কার যেন কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছে । চৌকিদার রমিজ মিয়া কান পেতে শব্দটার উৎস নির্ণয় করার চেষ্টা করে । সন্ধ্যার পর এই বাঁশ বাগানে মানুষের আনাগোনা খুব একটা দেখা যায় না । কথিত আছে সন্ধ্যার পর বাঁশ বাগানে নাকি ভুতেদের আবির্ভাব ঘটে থাকে আর ভুতেরা মানুষ দেখলেই নাকি ঘাড় মটকে দেয় । রমিজ মিয়ার ভয় ডর কম, তার কাজ হচ্ছে গ্রামের মানুষদের রক্ষা করা সেই যদি তুচ্ছ কারণে ভয় পায় তাহলে চলবে কিভাবে । যদিও আজ রমিজ মিয়ার কেমন জানি গায়ে কাটা দিচ্ছে । মনে হচ্ছে এটা ভুতের কান্না নয়তো ?

দুই
মন খারাপ হলেই প্রজ্ঞা নদীর পাশের এই বাঁশ বাগানে বসে থাকে। জোনাকিদের সাথে মনের দুঃখ ভাগ করে নেই ।আগে মা যখন বকা দিতো তখন এখানে এসে বসে থাকতো । আজ অবশ্য কেউ বকা দেয়নি তারপরও ও এখানে এসে বসে আসে আর বকাটা দেবেই বা কে ? বকাতো শুধু ওর মাই দিতো কিন্তু আজ ওর মা কোন কথাই বলেনি ওর সাথে মা আজ শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে আর বাবা ? বাবার চোখের দিকে তাকাতে হবে ভেবে প্রজ্ঞার মনে হচ্ছে ওর পায়ের নিচের সব মাটি যদি সরে যেত তাহলে সে মাটির নিচেই চলে যেত । প্রজ্ঞা তার মা বাবার একমাত্র সন্তান , কত ভালবাসেন ওরা ওকে অথচ ও ওদের সব আশা আকাঙ্ক্ষার উপর পানি ঢেলে দিয়েছে ।ও বাবা প্রায় বলতো আমার মেয়ে একদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে , আমার অধরা স্বপ্ন আমার মেয়েই পূর্ণ করবে । কিন্তু ও এটা কি করলো ! ছিঃ নিজেকে ধিক্কার দেয় প্রজ্ঞা ।
মা ওকে কতবার বারন করেছে কোন ছেলের সাথে ঘনিষ্ঠতা না করতে । ছেলেরা মেয়েদের কত সর্বনাশ করতে পারে এটা গল্পের ছলে বুঝিয়েছে অথচ ও কখনো সেসব কথা কানে তোলেনি । আজ যদি ও ওর মার কথা শুনতো তবে কি আবীর ওর সাথে এমন করার সুযোগ পেত ?আর ওর এই পরিণতি হতো ? মা , মাগো আমি ভুল করেছি , আমি মস্ত বড় ভুল করেছি বলতে বলতে প্রজ্ঞা কাঁদতে থাকে ।

তিন
এইতো কয়েক মাস আগের কথা ওর মা সেদিন সন্ধ্যার পর বাইরে থাকা নিয়ে বকা দিয়েছিল । প্রজ্ঞা মন খারাপ করে এখানে এসে জোনাকিদের সাথে মনের কথা বলছিল । ঠিক তখনই আবীর এসে ওর পিছনে দাঁড়ায় । এই অন্ধকারে কি কর তুমি আবীর বলেছিল । আবীরকে দেখে প্রজ্ঞা দৌড়ে পালিয়ে যায় । আবীর হচ্ছে প্রজ্ঞার বাবার ফুফাতো বোনের ছেলে । ও ঢাকা থেকে গ্রাম দেখতে এসেছে ।প্রজ্ঞা খেয়াল করতো আবীর কেমন করে যেন ওর দিকে তাকাতো আর স্কুলে যাবার পথে , আসার পথে ওর সাথে গল্প করতো । কিন্তু ভুলেও প্রজ্ঞার মার সামনে গল্প করতো না ।প্রজ্ঞার কাছে আবীরকে শাকিব খান মনে হত ।প্রজ্ঞার বান্ধবীরা বলতো তোর ফুফাতো ভাইটা কি সুন্দর আর কত সুন্দর করে কথা বলে । আবীরের সাথে হাঁটতে, কথা বলতে বলতে প্রজ্ঞার মনে হয়েছে ও যেন এক রাজকুমারী । ওর দাদীর মুখে শোনা সেই রাজকুমারী যাকে রাক্ষস আটকে রেখেছিল সাত সমুদ্র তের নদী পারের রাক্ষস পুরিতে । আর আবীর গল্পের রাজকুমার যে কিনা এসেছে পঙ্খীরাজে করে ওকে রাক্ষসদের হাত থেকে রক্ষা করতে । আবীরের সাথে গল্প করতে করতে রূপকথার রাজকুমার রাজকন্যারা , সিনেমাতে দেখা নায়ক নায়িকারা এসেছে ওর স্বপ্নে । ও স্বপ্ন আর বাস্তবকে এক করে ফেলেছে আর প্রতি নিয়ত ওর মাকে মনে হয়েছে খলনায়িকা কখনো বা রাক্ষুসি ।

এখন যেখানে প্রজ্ঞা বসে আছে এইখানে বসেইতো আবীর ওকে বলেছিল ভালবাসি । আর জোনাকিরা আলো জ্বেলে ওদের স্বাগত জানিয়েছিল । প্রজ্ঞার সদ্য ফোঁটা কলিতে আবীর বুলিয়েছিল সুখের পরশ । আহ ! এত সুখ , এত সুখ প্রজ্ঞা কোনদিন পায়নি তবে মা কেন বারণ করে ? আবীরের মুখ থেকেই প্রজ্ঞা জেনেছিল বড়রা এমন করেই নাকি একজন আরেক জনের কাছ থেকে সুখ নেই আর ছোটদের জন্য যত নিষেধাজ্ঞা । আরও কত গোপন রহস্য যে প্রজ্ঞার সম্মুখে আবীর উন্মুক্ত করেছিলো । আবীরই ওকে মোবাইল দিয়েছিল । ওরা রাত জেগে গল্প করতো । আর এভাবেই প্রজ্ঞার পড়াশোনায় মনযোগ কমতে থাকে ।

চার
আবীর ঢাকা চলে যাওয়ার পরও ওদের কথা হত । তারপর হঠাৎ করেই আবীরের কণ্ঠ বদলে যেতে থাকে । ফোন দিলেই কর্কশ কণ্ঠে কথা বলে । তারপর একদিন দেখে আবীরের নাম্বার বন্ধ , বন্ধতো বন্ধই আর কথা বলতে পারে না কোন যোগাযোগ হয় না । প্রজ্ঞার অস্থিরতা বাড়তে থাকে । প্রজ্ঞা কোন উপায় না দেখে ওর চাচাতো বোনের কাছে যেয়ে আবীর সম্পর্কে জানতে চায় । প্রজ্ঞার চাচাতো বোন ঢাকাতে অনার্স পড়ে ,কিছুদিন আবীরদের বাসাতে ছিল ।প্রজ্ঞা প্রথমে সব কিছু খুলে বলতে চায়নি পরে উপায় না দেখে বোনের কাছে আবীরের সাথে সম্পর্কের কথা বলে । বোনের কাছ থেকে যা জানতে পারে তা কখনো প্রজ্ঞার কল্পনাতেও আসেনি ।
আর আজ যখন ওর এস এস সি পরীক্ষার ফল বের হল তখনই প্রজ্ঞার কাছে স্পষ্ট হল কি ক্ষতি ওর হয়েছে ।

পাঁচ
রমিজ মিয়ার পায়ের শব্দে প্রজ্ঞার কান্না থেমে যায়, টর্চ লাইটের তীব্র আলোয় চোখ ধাধিয়ে যায় । কে ? কে ওখানে ? তুমি হেড মাস্টারের মাইয়ে না ? প্রজ্ঞা সম্মতি জানায় । তুমি এই অন্ধকারে বসে আছো , তোমার ভয় ডর নাই ? রমিজ মিয়া কাছে এসে বসে – কি হইছে মণি , তুমি কানতিছিলে ক্যান ? রমিজ মিয়ার প্রশ্ন শুনে প্রজ্ঞা আবার ও কাঁদতে শুরু করে । চৌকিদার দাদা , আমার রেজাল্ট দিসে আমি খুব খারাপ রেজাল্ট করেছি । ও এই কতা , এই জন্নি তোমার মনডা খারাপ রমিজ মিয়ার কণ্ঠে স্নেহ ঝরে পড়ে । যা ওয়ার তা তো ওয়েই গেছে এহন কানলি কি আর রিজাল্ট বালো অয়ে জাবেনে তারচি বরং এরপরে বালোবাবি পইড়ে পরিক্ষে দিবা তালিইতো সব ঠিক অয়ে জাবেনে । মানসির জীবনডা ওলো এই জোনাকির আলোর মতন জ্বলা-নিবা , এই সুখ এই দুঃখ । অহন যাও তোমার বাপ মায়ে নিচ্চয়ই তুমারে খুইজে বেরাচ্ছে ।

শেষ
রমিজ মিয়ার কথা শুনে প্রজ্ঞার ভাল লাগে ।সেদিন যখন ওর চাচাতো বোনের কাছ থেকে জেনেছিল আবীর একটা ভণ্ড ,নানান মেয়ের সাথে ওর সম্পর্ক । পড়াশোনা করে না শুধু বাজে সিনেমা দেখে আর মেয়েদের সাথে গল্প করে । অনেক চেষ্টা করেও ওর বাপ মা ওকে সৎ পথে আনতে পারেনি । এসব শুনে প্রজ্ঞার মাথা ঝিমঝিম করতে থাকে । প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারে না ও এত বড় ধোঁকার শিকার হয়েছে ।আস্তে আস্তে প্রজ্ঞার কাছে সব পরিস্কার হয় । মা কেন বারণ করতো , কেন শাসন করতো ।বরাবর ক্লাসে ফাস্ট হওয়া প্রজ্ঞা আজ এস এস সি পরীক্ষাতে এ প্লাসতো দূরের কথা , এ গ্রেড ও পায়নি । মা রেজাল্ট শোনার পর থেকেই ঝিম মেরে বসে আছে তাছাড়া মা আবীরের দেওয়া মোবাইলটা ও দেখে ফেলেছে । এখন কিভাবে দাঁড়াবে ও ওর বাবা মার সামনে ? প্রজ্ঞার মনের মধ্যে যুদ্ধ চলছে । সে কিছুতেই বুঝতে পারছে না কি করবে ? রমিজ মিয়া তাড়া দেয় চল মণি , তোমারে বাড়ীতে দিয়ে আসি । প্রজ্ঞা বাড়ীর পথে পা বাড়ায় আর সিদ্ধান্ত নেয় সে সব সত্য বলবে আর কোনদিন মা বাবার অবাধ্য হবে না ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • শামীম খান
    শামীম খান ভালো গল্প । বানানের দিকে একটু খেয়াল দেয়া দরকার ছিল । শুভ কামনা রইল ।
    প্রত্যুত্তর . ২২ অক্টোবর, ২০১৪
    • নাজনীন পলি অনেক ধন্যবাদ। যদি বলতেন কি কি বানান ভুল হয়েছে তাহলে ভবিষ্যতে সংশোধন করা যেতো । আর এখানে কিছু শব্দ ইচ্ছে করেই আঞ্চলিক ভাষাতে লেখা হয়েছে এই জন্য বানানগুলো অন্য রকম হয়েছে । শুভেচ্ছা ।
      প্রত্যুত্তর . ২৬ অক্টোবর, ২০১৪
    • এফ, আই , জুয়েল # ঝগড়ার লাইনে যাওয়ার দরকার কি ? লেখায় টাইপ মিস্টেক হতেই পারে ।।
      প্রত্যুত্তর . ২৯ অক্টোবর, ২০১৪
    • শামীম খান প্রিয় নাজনীন , আমি আপনার লেখাটিকে খাট করিনি । বানান ভুল অসাবধানতার জন্য হতে পারে । ব্যস্ততা বা রাইটিং মোড ও এ জন্য দায়ী হতে পারে । আমি আপনার লেখাটিকে যথোপযুক্ত নম্বরও দিয়েছি । কি কি ভুল ছিল সেটা দেখানোর জায়গা এটা নয় । আমার মন্তব্য আপনাকে অপ্রত্যাশিতভাবে ব্যথিত করেছে , আমি দুঃখিত । শুভকামনা সতত । @ জুয়েল ভাই , আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ।
      প্রত্যুত্তর . ৩০ অক্টোবর, ২০১৪
    • নাজনীন পলি আপনার মন্তব্য মোটেও আমাকে ব্যথিত করেনি । কি কি বানান ভুল জানলে আমি সত্যি আনন্দিত হতাম ।
      প্রত্যুত্তর . ৩০ অক্টোবর, ২০১৪
    • এফ, আই , জুয়েল # নাজনীন পলি--------এই শব্দদুটোর বানান ভুল বলে মনে হচ্ছে । তোর কিছু করার আছে ? ==== নাজনীন = নাজনিন এবং পলি = পলী হবে ।।
      প্রত্যুত্তর . ৩০ অক্টোবর, ২০১৪
  • এফ, আই , জুয়েল
    এফ, আই , জুয়েল # অনেক সুন্দর একটি লেখা । সমাজ জীবনের অহরহ ঘটে যাওয়া ঘটনাবলীর বর্ননা বেশ দারুন হয়েছে ।। ধন্যবাদ ।।
    প্রত্যুত্তর . ২৯ অক্টোবর, ২০১৪
  • রোদের ছায়া
    রোদের ছায়া সুন্দর আর শিক্ষণীয় লেখা। এটা আজকালকার ইয়াং জেনারেশনের পড়া দরকার। ভাল লাগল। ভোট দেবার সময় শেষ হয়ে গেল বলে ভোট দিতে পারলাম না। সত্যি খুব দুঃখিত।
    প্রত্যুত্তর . ৩০ অক্টোবর, ২০১৪
    • নাজনীন পলি পড়েছেন জেনে ভাল লাগছে । আগামী সংখ্যাতে ও একটা গল্প দিয়েছি, পড়ার আমন্ত্রণ রইলো ।
      প্রত্যুত্তর . ৩০ অক্টোবর, ২০১৪