বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ এপ্রিল ১৯৮৮
গল্প/কবিতা: ১২টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৪৯

বিচারক স্কোরঃ ২.৪ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.০৯ / ৩.০

মৃত নদী

অসহায়ত্ব আগস্ট ২০১৪

এক ফোঁটা শিশির

আমি নভেম্বর ২০১৩

ভিতরে শূন্যতা

শুন্যতা অক্টোবর ২০১৩

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী (নভেম্বর ২০১২)

মোট ভোট ৮০ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৪৯ দাদুর গল্প

হিমেল চৌধুরী
comment ৩২  favorite ১  import_contacts ৬৬৮
দাদুর কাছে অনেক গল্প শুনেছি। গল্পের জন্য তাগাদা দিয়ে খুব বিরক্ত করতাম। জানতেনও অনেক গল্প। সেই আদিযুগের গল্প। বানর থেকে মানুষ হওয়ার গল্প। ভিন গ্রহে প্রাণের গল্প। এসব গল্প শুনে আমি হারিয়ে যেতাম কল্পনারাজ্যে । আমার মনের মধ্যে তৈরি হত নতুন ভুবন।

মানব জাতীর পূর্ব পুরুষ ছিল বানর। বানর থেকেই এই মনব রূপী মানুষের জন্ম। কালক্রমে বিবর্তনের মধ্য দিয়ে আজকের এই সভ্য মানুষ। মানুষের এ চেহারায় আসতে লেগেছে মিলিয়ন মিলিয়ন বছর। মানুষের আগে লেজ ছিল। যেমন বেঙাচি। জন্মের সাথে সাথে যে লেজ থাকে, বড় হয়ে বেঙ হলে লেজ মুছে যায়।

দাড়াও দাদু। মানুষের সাথে সবচেয়ে বেশী মিল রয়েছে শিম্পাঞ্জির। সমস্ত প্রাণী জাতীর মধ্যে একমাত্র মানব জাতীর পর জ্ঞান বুদ্ধিতে শিম্পাঞ্জির স্থান । দেহের আকার গঠন এমন কি হাত পা মুখমণ্ডল সব দিক থেকে। বানর যদি মানুষ হতে পারে। তাহলে শিম্পাঞ্জি গুলো এখনো মানুষে পরিণত হলনা কেন ? মানুষ হয়েছে কোটি কোটি বছর আগে। বাকী বানর আর শিম্পাঞ্জিগুলো এখনো কেন মানুষ হলনা। চিড়িয়াখানায় একটি শিম্পাঞ্জি দেখেছি সে তো এখনো মানুষ হয়নি। দাদুকে প্রশ্ন করি। দাদু বলে: এটা আমার কথা না। বিজ্ঞানীদের কথা। - আচ্ছা বুঝলাম বিজ্ঞানীদের কথা। তাহলে বেঙের লেজের সাথে যে যুক্তিটা দিয়েছে । সেখানেও আমার একটা প্রশ্ন আছে। লেজ বিলুপ্তির সাথে সাথে বেঙ কেন মানুষ হয় না ?

গল্পের মাঝে এত প্রশ্ন করলে শুনতে যেমন ভাল লাগে না। বলতেও বিরক্ত লাগে। দাদু আস্তে করে আমার দিকে তাকিয়ে বলে - আচ্ছা ঠিক আছে তুমি বলে যাও। আমার কথায় দাদু আবার বলতে শুরু করেন।

তাহলে এবার অন্য একটি গল্প বলি। : ঠিক আছে বল।

পৃথিবী সৃষ্টির পর বন জঙ্গলে ভরা ছিল। মানুষ এবং সমস্ত প্রাণী তখন এক সাথে বসবাস করত। বাঘে যেমন মানুষ খেত, মানুষও বাঘ সহ যেকোনো প্রাণী ধরে কাঁচা খেত। অবশ্য মানুষ নিরীহ ছোট প্রাণীই বেশী শিকার করত। পাহাড়ের গুহায় গাছে বাস করত। কথা বলতে পারত না। ইশারা ইঙ্গিতে ভাব প্রকাশ করত। পৃথিবীর পানি গুলো বরফ হয়ে জমে ছিল। তখন অস্ট্রেলিয়ার স্টার দ্বীপে বিমানের মতো একটি বিশাল কিছু একটা এসে নামে। জঙ্গলের প্রাণী গুলো ভয়ে দৌড়া দৌড়ি করতে থাকে। এমন আজব জিনিস কেউ কোন দিন দেখেনি। কয়েক দিন পর খাদ্য আহরণ করতে করতে পৃথিবীর প্রাণীরা আবার সেই স্থানে যায়। গিয়ে দেখে আজব ধরণের প্রাণীরা তাদের যানে কি যেন করছে। তখনো যানটি ঠিককরার চেষ্টা করছে। কিন্তু ঠিক হচ্ছে না। তারা স্বজাতির কাছে সাহায্য চেয়েছে। সেই অজানা গ্রহ থেকে সাহায্য আসতেও অনেক দিন লাগবে। আজব প্রাণী গুলো বলে চল এই দ্বীপটা আমরা ঘুরে দেখে আসি। তারা ঘুরতে বের হয়। ঘুরতে গিয়ে দেখে বিভিন্ন ছোট বড় প্রাণী। পৃথিবীর প্রাণী গুলো দেখে আশ্চর্য হয়। ভয়ে সব দৌড়ে পালায়। তারা ইশারায় ডাকে, শব্দ করে শব্দ করে ডাকে। পৃথিবীর প্রাণীরা তা বুঝেনা। কয়েকদিন একি স্থানে থাকার কারণে মানুষ একটু একটু কাছে ঘেষতে থাকে। তারা কি কি করে তা দেখে মানুষও অনুকরণ করতে থাকে। এভাবে মানুষ বুঝল যে এরা আমাদের জন্য ক্ষতিকারক নয়। তাই আরও কাছে আসতে থাকে। ঐ প্রাণীরাও কাছে রাখে।

ভিন গ্রহের প্রাণী গুলো মানুষের এই অনুকরণ জ্ঞান দেখে বুঝে যায়, এই প্রাণী গুলো পৃথিবীর অন্যসব প্রাণী থেকে আলাদা। অনুকরণ জ্ঞান আছে। এদের শিক্ষা দিলে এরা অনেক কিছুই শিখতে পারবে। তারা আরও বুঝল মানুষের চাহিদা শুধু খাদ্য। সারাদিন খাদ্য খোঁজা ছাড়া আর কোন কাজ নেই। তখন আজব প্রাণী গুলো মানুষের খাদ্যের ব্যবস্থা করে। খাবার দিয়ে তাদের সাথেই রাখে।

মানুষও তাদের সাথে থাকতে শুরু করে নির্ভয়ে। তাদের উন্নত সব আচার আচরণ পুরো আয়ত্ত করতে পারেনি। কিন্তু কিছু কিছু আচরণ আয়ত্তে আসে। গরু ছাগল হাঁস মুরগীকে মানুষ যেমন গৃহপালিত পশুতে পরিণত করেছে। ডাকলে তারা কাছে আসে। তেমনি মানুষও হয়ে যায় তাদের পালিত। বিভিন্ন কিছু তাদের শিক্ষা দিতে থাকে । শিক্ষা নিতে পারে এমন ছাত্রকেই শিক্ষকগণ পছন্দ করেন বেশী। তাদের শিক্ষাদিতেও ভালবাসেন। তারা জ্ঞান অর্জন করে হয় আরও জ্ঞানী। একদিন তারাও অন্যদেরকে শিক্ষা দেয়। যে ছাত্ররা শিক্ষা নিতে অনীহা দেখায় বা আয়ত্ত করতে পারে না। তাদের ব্রেইন কিছুটা হলেও ঐসব ছাত্রদের তুলনায় কম তীক্ষ্ম। মানুষ এখানে প্রমাণ করেছে পৃথিবীর সকল প্রাণী থেকে তারা অনেক বেশী জ্ঞানী।

বনের তোতা পাখির মতো মানুষেরও কথা বন্ধ ছিল। প্রশিক্ষণে কিছু শব্দ করতে শেখে। তার পর ফুটে মুখের কথা। অসুখে চিকিৎসা নিতে পারে। আগুন জ্বালতে পারে। রান্না করতে পারে এবং নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ঘর বানাতে পারে। কয়েক বছরের প্রশিক্ষণে এসব কাজে দক্ষ হয়ে উঠে মানুষ।

যখন মানুষ আগুন জ্বালাতে শিখে তখন, পশু শিকার করতে গিয়ে বন আগুনে পোড়ে। শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে আগুন জ্বালায়। আত্ম রক্ষার্থে আগুন জ্বালায়। এভাবে আগুনের তাপে পৃথিবী উত্তপ্ত হতে থাকে। তখন যেসব পানি বরফ হয়ে জমেছিল। আবহাওয়া উত্তপ্ত হওয়াতে বরফগুলো গলতে শুরু করে। সমতল ভূমি ছিল সাগর মহাসাগর এর তলা গুলো। বাকী স্থান ছিল পাহাড় পর্বত। আস্তে আস্তে বরফ গলে পানি বাড়তে থাকে। ডুবতে থাকে সমতল ভূমি। মানুষ সহ অন্য প্রাণীরাও আস্তে আস্তে উঠতে থাকে উপরের দিকে। বর্তমানে মানুষ যেখানে বাস করে তা মূলত পাহাড়ের চুড়া। প্রতিটি দেশ মহাদেশ সব গুলিই একেকটি পাহাড়।

স্টার দ্বীপে এখনো তেমন উন্নত বসতি স্থাপন হয়নি। অথচ লক্ষ লক্ষ বছর আগেই সেখানে আজব প্রাণী গুলো তৈরি করেছে রানওয়ে। একসময় তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে আসে সাহায্যকারী দল। তারা চলে যায় তাদের গন্তব্যে । এই কয়েক যুগের প্রশিক্ষণে মানুষ যা আয়ত্ত করেছে তা হয়তো ছিল মানুষের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু ভিন গ্রহীদের তুলনায় অতি নগণ্য। এর চাইতে বেশী শিখবার ক্ষমতা মানুষের ছিলনা অথবা ঐ প্রাণী গুলো চলে যাওয়ায় আর বেশী শিক্ষা দেওয়ার সময় পায়নি। পৃথিবীর সব প্রাণীদের মধ্যে মানুষের ব্রেইনই সব চাইতে বুদ্ধিমান। বনের তোতা যেমন মানুষের প্রশিক্ষণে কথা বলতে পারে। ভিন গ্রহীদের দেওয়া শিক্ষায় বনের তোতার মতো বন্ধ ব্রেইন খুলেছে মানুষেরও । তারাও কিছুটা শিক্ষা দিয়ে হয়তো হয়েছে তৃপ্ত।

গ্রানাইট পাথর দিয়ে তৈরি বিশাল বিশাল মূর্তি গুলো তারাই তৈরি করেছিল। তারা চলে যাবার সময় পাঁচ ছয় ফুট আকৃতির বড় বড় গ্রানাইট পাথরের হেলমেট গুলো তারা ফেলে যায়। এখনো সেই হেলমেট মূর্তি গুলো তেমনি পড়ে আছে। বর্তমানে বৈজ্ঞানিকেরা সেখানে নিউক্লিয়ার সন্ধান পেয়েছেন। ভিন গ্রহীরা এত আগেই নিউক্লিয়ার ব্যবহার জানত। আর পৃথিবীর মানুষ নিউক্লিয়ার ব্যবহার শুরু করেছে মাত্র অল্প কিছুদিন ধরে। রানওয়েতে একটি স্টার চিহ্ন আঁকা আছে। উপর থেকে দেখতে ঠিক তারার মতো। হয়তো এটা ছিল তাদের কোন সংকেত।

মানুষ এখনো জানে না বিশাল পিরামিড তৈরির রহস্য। বিশাল আকৃতির বড়বড় পাথর তারা ঐ সময়ে কি ভাবে কেটে এত উপরে স্থাপন করেছিল। পিরামিডের ভিতর যন্ত্র ছাড়া তাপমাত্রা একিমাত্রায় বজায় রাখার কি প্রযুক্তি। তারা কিভাবে জেনে ছিল মমি তৈরির কৌশল। এখনো আবিষ্কৃত হচ্ছে বিভিন্ন পাহাড়ের গুহায় বর্তমানের বিমান কপ্টার আকৃতির চিত্র। নিশ্চয় এইসব কৌশল ঐ ভিন গ্রহের প্রাণীদের নিকট থেকেই পেয়েছিল। লক্ষ লক্ষ বছরে পৃথিবীতে ঘটে গেছে অনেক ভূমিকম্প সুনামি। ঘটে গেছে অনেক প্রলয়। তখন উন্নত প্রযুক্তির মানুষ গুলো বাস করত তাদের তৈরি করা শহরে। প্রলয়ে ঐ সব শহর ধ্বংস হওয়াতে ঐ জ্ঞানী মানুষ গুলোও ধ্বংস হয়ে গেছে। আর মানুষ গুলোর সাথে হারিয়ে গেছে সেই প্রযুক্তি। অথচ পিরামিড গুলো এখনো দাঁড়িয়ে আছে কাল ও প্রযুক্তির সাক্ষী হয়ে।

এখনো পৃথিবীতে মাঝে মাঝ আসে খুব দ্রুত একটি যান। মানুষ তার নাম দিয়েছে সসার । কোন গ্রহ থেকে আসে কোথায় যায়। কি থাকে তাতে। মানুষ তার কোন ধারণাই করতে পারে না। এ থেকে নিশ্চয়ই প্রমাণ মেলে ভিন গ্রহেও আছে মানুষের চাইতে জ্ঞানী কোন প্রাণী। কোটি কোটি আলোক বর্ষ দূরে। যা মানুষের কল্পনা ও জ্ঞানের বাইরে।

মানুষ এখনো জানে না কোন গ্রহে জীবন ধারণ করা সম্ভব কি না। অথবা কোন গ্রহে প্রাণ আছে কি না। এখনো মানুষের সে কল্পনা শক্তিও তৈরি হয়নি। অথচ দশ হাজার আলোক বর্ষ দূরের নক্ষত্রে খবর এখন মানুষের জানা। হয়তো মানুষ কোন দিন ঐসব গ্রহে গিয়ে আবিষ্কার করবে নতুন কিছু।

দাদু ছিলেন অন্য সব সচেতন মানুষের মতোই কল্পনা বিলাসী। তিনি সব সময়ই ছিলে আধুনিক। গ্রহ নক্ষত্র নিয়ে ভাবতেন অনেক কিছু। ভাবতেন প্রাণী জগত এবং পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়ে। মাঝে মাঝে আমার সাথে তার কল্পনা ভাগাভাগি করতেন। দাদুর গল্প শুনে আমার মাথায়ও তখন কল্পনার ঢেউ খেলত। শিহরণ জাগত। এই কল্পনাই হয়তো একদিন বিশেষ জ্ঞানের মাধ্যমে, মানুষকে পৌঁছে দিবে ভিন্ন কোন গ্রহে বাস্তবে। আবিষ্কার করবে নতুন কোন গ্রহ, যেখানে আছে প্রাণ। সেদিন এই কল্পনা হবে সত্য।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন