বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১০ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৯
গল্প/কবিতা: ৩৭টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

স্বাধীনতার ডাক

বিজয় ডিসেম্বর ২০১৪

বিজয় দিবস

বিজয় ডিসেম্বর ২০১৪

একটা খুন

উচ্ছ্বাস জুন ২০১৪

ভৌতিক (নভেম্বর ২০১৪)

মোট ভোট রক্তপান

কামরুল হাছান মাসুক
comment ৭  favorite ০  import_contacts ৫৪১
ট্টমি নামের এক ব্যক্তি পদ্মা নদীর চরে বসত গড়েছে। উনার সম্পর্কে বিভিন্ন প্রথা প্রচলিত আছে। উনি নাকি মানুষের রক্তপান করেন। উনার খাদ্য বলতে একমাত্র মানুষের রক্ত। মানুষের রক্ত ব্যতীত অন্য কিছু পান করেন না। পদ্মা নদীর চরের আশেপাশের মানুষরা তাই সবসময় সতর্ক থাকেন। ট্টমি যে চরে থাকে সেই চরে কেউ যাওয়ার চেষ্টা করে না। কেউ যদি যায় তাহলে তাকেও বারংবার নিষেধ করে। পদ্মার চরের বসবাসরত শিক্ষিত মানুষরা বিষয়টা বিশ্বাস করে না। লোকের মুখে অনেক কথাই শুনা যায় যা মিথ্যায় ভরপুর থাকে। সুতরাং শিক্ষিত মানুষরা বিষয়টা বিশ্বাস করে না আবার রহস্য সমাধানেও কেউ এগিয়ে আসে না। যারা বিষয়টা বিশ্বাস করে না তাদের ঐ চরে একরাত্র গিয়ে থাকতে বললে, কেউ থাকতে চায় না। অবন্তী নামের একটি মেয়ে পদার্থ বিজ্ঞানে হাবার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টরেট করে যখন দেশে এসে এই ঘটনা শুনল, তখন ওর কৌতূহল হল। পৃথিবী এমন অনেক কিছুই ঘটতে পারে যার ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারে না। ব্যাখ্যা না দেওয়া পর্যন্ত রহস্যর গবেষণা চালিয়ে যেতে হয়। তাহলে অনেক কিছু বেড়িয়ে আসে। অবন্তী তাই ঠিক করল সে ট্টমি নামের ব্যক্তিটির চরে যাবে। বিষয়টা কারো সাথে শেয়ার করা যাবে না। বললেই বলবে, ছেলে মানুষ যেতে পারে না, মেয়ে মানুষ হয়ে যাবে কিভাবে। অবন্তী তাই সিদ্ধান্ত নিল, কাউকে না জানিয়ে সে একাই ট্টমির চরে যাবে। রাতের অন্ধকারেই অবন্তী ট্টমির চরের উদ্দেশ্য রওয়ানা দিল। চরে যাওয়ার সময় যতটা ভয় পেয়েছিল, চরে নামার সাথে সাথেই ভয়টা কেটে গেল। অবন্তী অনেকটা অসতর্ক ভাবেই হাঁটাহাঁটি করছে। কোথায়ও কোন বিপদের গন্ধ পাচ্ছে না। তবে রাতের আকাশে চর টাকে এত সুন্দর মনে হচ্ছে যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। সে এলোমেলো ভাবে হাঁটছে। একটা রহস্য সমাধানের জন্য যে সে এসেছে তা ভূলেই গেল। চরটাকে যত দেখছে ততই চরটার প্রেমে পড়ে যাচ্ছে। এত সুন্দর চর পদ্মার পারে দ্বিতীয়টি আর নেই। অবন্তী— ভাবতে লাগল, চরটাকে অবশ্যই ট্টমি নামের লোকটা অনেক দেখা শুনা করে। চরটা এতই পরিপাটি ছিল যে, এটাকে দেখতে অনেকটা সিঙ্গাপুর দেশের মত লাগে। বাংলাদেশের ভিতরে পদ্মার একটি চরে এত সুন্দর সাজানো গোছানো থাকতে পারে তা অবন্তি—র কল্পনাতেই আসে না। এটাকে যদি পর্যটনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয় তাহলে বিশ্ব থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার লোক এই চরে বেড়াতে আসবে। অবন্তি— যখন এরকম ভাবছিল তখন হাঁটার শব্দ শুনতে পেল। রাতের অন্ধকারে এরকম হাঁটার শব্দ শুনতে পেয়ে সত্যিই ভয় পেয়ে গেল। খুব সতর্কতার সাথে হাঁটার শব্দের উৎসস্থল খোঁজতে লাগল। অল্প কিছুক্ষণ বাদেই একটি সুদর্শন যুবককে দেখতে পেল। এটাই হয়ত ট্টমি হবে। সে মানুষের রক্ত খাবে কেন। এত সুন্দর ছেলেকে দেখেই অবন্তি—র ইচ্ছা হল ছেলেটির সাথে পরিচয় হতে। ডাক দিতে যাবে এমন সময় মনে হল সে না রহস্য সমাধান করতে এসেছে। সুতরাং ট্টমির দিকে নজর রাখতে লাগল। ট্টমি ঘুরছে, বসছে, চিন্ত—া করছে। অবন্তি—ও ট্টমিকে অনুসরণ করছে। এভাবে সাত আট ঘন্টা কেঁটে গেল। অবন্তি— ট্টমিকে দেখে অন্য কিছু মনে হয় নি। তাকে স্বাভাবিক সুস্থ মানুষই মনে হচ্ছে। রাতের বেলায় হয়ত ট্টমি ঘুমায় না। এটা হতেই পারে। অনেক মানুষই আছে যারা রাতে ঘুমায় না। পাখির মত জেগে থাকে। অবন্তি— ফিরে আসতে যাবে এমন সময় সে একটা নৌকা আসতে দেখল। নৌকাটিতে ছোট্ট একটি ছেলে বসা। চারদিকে ঘিরে আছে র্যা বের মত পোশাক পরা চার পাঁচটি সুঠাম দেখের ব্যক্তি। তাদের দেখেই মনে হচ্ছে তারা বাচ্চাটাকে কিডনাপ করে এনেছে। নৌকা থেকে বাচ্চাটাকে নামিয়েই লোকগুলি চিৎকার করতে লাগল। কি বলছে কিছুই বুঝা যাচ্ছে না। হাত নড়ে কি যেন ইশারা করছে। অবন্তি— ভয় পেয়ে গেল। কারণ তাকে মনে হয় দেখে ফেলেছে তাই তারা তাকে ধরার জন্য এরকম করছে। অবন্তি— কাঁশফুল বনে লোকাতে চেষ্টা করল। একটি গর্ত দেখে গর্তের মধ্যে লুকালো। লোকগুলি অস্ত্র তাক করে এদিক ওদিক দেখতে লাগল। অবন্তি—র পায়ের নিচে হঠাৎ করে শব্দ করে উঠল। অবন্তি—র ভয়ে গলা শুকিয়ে আসল। মনে হচ্ছে এখনই তাকে ধরে ফেলবে। পায়ের নিচে তাকাতেই দেখতে পেল, গর্তের মধ্যে কোন মাটি নেই। অনেকটা ম্যানখুলের ঢাকনার মত কি যেন দেওয়া। লোকগুলিকে দেখা যাচ্ছে। লোকগুলি ছেলেটাকে বেঁধে রেখেছে। অল্প কিছুক্ষণ পরেই দেখা গেল দশবারজন লোককেও বেঁধে আনা হয়েছে। অস্ত্রধারী লোকগুলি বেঁধে আনা লোকগুলিকে কি যেন ইশারা করছে। বেঁধে আনা লোকগুলি ইশারা অনুযায়ী কাজ করতে অসম্মতি জানাচ্ছে। অস্ত্রধারী লোকগুলি হাতে পায়ে গুলি করতে লাগল। বেঁধে আনা লোকগুলি কুঁকড়াতে লাগল। এর মধ্যেই দেখা গেল কয়েকজন মারা গেছে। যারা বেঁচে আছে তাদের পায়ে হাতেও গুলি লাগা। তাদের কি যেন ইশারা করছে। তারা বারবার অসম্মতি জানাচ্ছে। অসম্মতি জানানোর সাথে সাথেই গুলি করে মেরে ফেলছে। এরকম ভয়াবহ দৃশ্য অবন্তি— জীবনে কখনো দেখি নি। অবন্তি—র মনে হচ্ছে এখনই সে চিৎকার করবে। কিন্তু কিছুই করল না। কিছু করলেই জীবটাকে দিয়ে দিতে হবে। সুতরাং যে করেই হোক রহস্য সমাধান করতেই হবে। বেঁধে আনা লোকগুলিকে গুলি দেওয়ার সাথে সাথে মারাত্তক অত্যাচার করছে। এদের চিৎকারে আকাশ পাতাল ভারি হয়ে যাচ্ছে। নদীর ঘর্জন শুনা না গেলেও লোকগুলির চিৎকার শুনা যাচ্ছে। এভাবে একে একে করে সবাইকেই মেরে ফেলল। মেরে ফেলা লোকগুলিকে ব¯—ায় ভরে আরেকটি নৌকা যুগে কোথায় যেন পাঠিয়ে দেওয়া হল। এরপর আরেক দল লোককে বেঁধে আনা হল। তাদের দেখেই মনে হচ্ছে অনেক নির্যাতন করে আনা হয়েছে। লোকগুলিকে আবার আগের মতই ইশারা করতে লাগল। একটা লোক এগিয়ে গেল। বেঁধে রাখা ছেলেটার গলায় কামড় বসিয়ে দিল। ছেলেটা আকাশ পাতাল কাঁপিয়ে চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে গেল। ছেলেটাকে কয়েকজন ডাক্তারের পোশাক পরা লোক ট্রেতে করে নিয়ে গেল। এভাবে রাতে কয়েকজন ছেলেকে ধরে আনা হল। একই ঘটনা পুনরাবৃত্তি হতে লাগল। অবন্তি—র শরীলের প্রতিটা রোম খাড়া হয়ে গেল। ভয়ে নড়তে চড়তে পারছে না। লোকগুলি যাওয়ার পরও অবন্তি— এক পাও বাড়ির দিকে রওয়ানা হওয়ার জন্য যেতে পারেনি। সকালের রৌদ্র উঠল। অবন্তি— উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করল। লোকগুলি যে থাকতে পারে এরকম চিন্ত—া না করেই নদীর তীরে আসল। নদীর তীরে কিছুই নেই। অবন্তি— যে নৌকা নিয়ে এখানে এসেছিল তা রাতেই ভাসিয়ে দিয়েছে। নৌকা দেখে যদি ট্টমি সন্দেহ করে তাই। এখন মনে হচ্ছে ম¯— বড় বোকামি হয়েছে। কয়েক ঘন্টা যাওয়ার পরও কোন নৌকা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। এদিক দিয়ে কোন নৌকা আসে না। এই তীর থেকে ডাকলেও হয়ত কোন নৌকা আসবে না। অবন্তি— এমন একটা ঝামেলায় পড়ছে, না পারছে থাকতে আবার না পারছে চলে যেতে। সারাদিন এভাবে চেষ্টা করেও কোন নৌকার দেখা পেল না। ক্ষিদায় অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। বাঁচতে হবে ভেবে অবন্তি— খাবারের খোঁজ করতে লাগল। এই চড়ে কোন মানুষ থাকে না। এখানে খাবারও থাকার কথা না। তারপরও দেখতে দুষ নেই। তাই খোঁজতে লাগল। চড়ের পশ্চিম পার্শ্বে অর্ধেক খাওয়া কিছু বিরানির প্যাকেট পেল। বিরানিগুলি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তারপরও সে এগুলি খেল। শক্তি সঞ্চয় হওয়ার পর সে কেন এখানে এসেছে তা মাথায় আসল। সব ভয়কে তুচ্ছ করে সে সাহসের সাথে বলতে লাগল, অবশ্যই আমি এই রহস্যর সমাধান করব। অবন্তি— গতকালের গর্তের কাছে চলে গেল। অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর বুঝতে পারল এই ঢাকনার ভিতরে অবশ্যই কিছু না কিছু আছে। শাঁফল বা লোহা জাতীয় কিছু থাকলে ভাল হত। এখানে এগুলি পাওয়া যাবে না। সুতরাং বিকল্প পথই ভাবতে হবে। ঢাকনা নিয়ে নাড়াচাড়া করতেই দেখা গেল ঢাকনার পাশেই একটি সুইচ দেওয়া। অবন্তি— সুইচ দিল। সুইচ দেওয়ার সাথে সাথেই ঢাকনাটি জ্বলে উঠল। ঢাকনার উপরই দেখা গেল পিন নাম্বার এবং পাসওয়ার্ড চাইছে। তার মানে পিন নাম্বার এবং পাসওয়ার্ড না দিলে ঢাকনা খুলবে না। অনেকক্ষণ চেষ্টা করেও কিছু হচ্ছে না। এদিকে আঁধার নেমে আসছে। অবন্তি— কি করবে বুঝতে পারছে না। অদৃষ্টের হাতেই সব ছেড়ে দেওয়ার চিন্ত—া করল। আগের দিনের মত আজকেও লুকিয়ে থাকার বাসনা পোষণ করল। এমন ভাবে লুকিয়ে থাকতে হবে যেন তাদের সম¯— কর্মকান্ড দেখা যায়। রাত হতেই লোকগুলোর আনাগোনা শুনতে পেল। গতদিনের মত কিছুই দেখতে পেল না। গতদিন ছিল পূর্ণিমার চাঁদ। আজকে পূর্ণিমার চাঁদ আকাশে নেই। সুতরাং শব্দ শুনা ছাড়া কিছুই দেখতে পেল না। পরের দিন আবার সূর্যের আলোতে উঠে খাবারের খোঁজ করতে লাগল। রাতের বেলায় শব্দ যে দিক দিয়ে আসছিল সেদিকে খাবার পাওয়া গেল। বিরানির সাথে মাংস। অল্প কিছু খেয়েই বুঝতে পারল মাংসগুলি মানুষের মাংস। ভিতর থেকে রক্ত সহকারে সবকিছু বেড়িয়ে আসতে চাইছে। কয়েকবার বুমি করল। অবন্তি— সমগ্র চরটাতে ঘুরেও ট্টমি বা তার লোকগুলিকে দেখতে পেল না। রাত হলেই কোথায় থেকে যেন বেড়িয়ে আসে। অবন্তি— ভাবছে, লোকগুলি কি বাহির থেকে আসে। নাকি এই চরেই বাস করে। এই চরে বাস করলে লোকগুলি কোথায়। এমন যখন ভাবছে তখন ঢাকনাটির কথা মনে হল। ঢাকনাটি অনেক চেষ্টা করেও খুলতে পারল না। আবার রাত। আবার আগের মত অভিজ্ঞতা। অবন্তি— ব্রিটেনে হাসপাতালের মর্গে একটি গবেষণার জন্য কয়েকদিন থেকেছেন বলে রক্ষা। নয়ত প্রথম দিনই মরে যেতেন। অবন্তি— সাহসি হয়ে পরের দিন র্যা বের পোশাক পরা লোকগুলিকে অনুসরণ করতে লাগলেন। তারা প্রতিদিনই কয়েকজন ছেলেকে ধরে আনে। বেঁধে রাখা লোকগুলিকে দিয়ে ছেলেগুলির রক্ত খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। কেউ অমত করলেই তাকে মেরে ফেলেন। অবন্তি— র্যা বের পোশাক পরা লোকগুলিকে দেখতে লাগলেন তারা তাদের কর্ম শেষ করে কোথায় যান। সকাল হওয়ার আগেই দেখা গেল র্যাষবের মত দেখতে লোকগুলি ঢাকনা খুলে ঢাকনার ভিতরে ঢুকে যেতে লাগলেন। তার মানে রাতের বেলা ছাড়া তারা বের হয় না। তাদের যত কর্মকান্ড সব রাতের বেলাই। ঢাকনাগুলিই হচ্ছে তাদের নিচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। অবন্তি— অনেক চেষ্টা করে ঢাকনা গুলির পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। এখন সমস্যা হচ্ছে তারা নিশ্চই বুঝতে পারবেন কেউ তাদের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে দিয়েছে। তখন খোঁজা খুঁজি করলেই অবন্তি— ধরা পরে যাবে। তাই আবার চেষ্টা করে আগের অবস্থানে আনতে লাগল। শেষ পর্যন্ত— সফল হল। এভাবে কয়েক রাত আগের অবস্থায় আনা এবং পরিবর্তন করতে করতে একদিন খুলে গেল। দিনের বেলায় ঢাকনা খুলে প্রবেশ করতেই অবন্তি— অবাক হয়ে গেল। রাষ্ট্রপ্রতির ভবনও এত সুন্দর হয় না। সবাই গভীর ঘুমে। সবার সাথেই অস্ত্রসস্ত্র রাখা। ট্টমি তাহলে এই চরে নিজস্ব রাজ্য তৈরি করেছে। বেঁধে আনা লোকগুলিকে খুঁজতে লাগল। কোথায়ও পেল না। ট্টমি নামের লোকটাকেও পাওয়া গেল না। শুধুমাত্র অস্ত্রধারী লোকগুলিই গভীর ঘুমে। আলাদা আলাদা র“ম থাকলেও কোথাও কোন দরজা, জানালা নেই। বিশেষ কোন প্রক্রিয়ায় হয়ত বাহিরের আলো ভিতরে প্রবেশ করিয়েছে ফলে দিনের বেলায় মাটির নিচে থাকা সত্তে¡ও কোন অন্ধকার নেই। রাত হবার আগেই অবন্তি— মাটির উপর উঠে আসল। আজকের রাতটিতে অবন্তি— চিন্ত—া করল ধরে আনা লোকগুলিকে না দেখে ট্টমির অবস্থানটা চিহিৃত করতে হবে। র্যাঠবের মত পোশাক পড়া লোকগুলি বের হয় মধ্যরাতে। ট্টমিকে সন্ধ্যা রাতেই দেখতে পাওয়া গেল। ট্টমি একমনে হাঁটছেন। এই লোককে দেখে কে বলবে এত বড় ভয়ংকর মানুষখেকু। ট্টমিকে দেখা গেল ল্যাপটপ নিয়ে ব্য¯—। ট্টমিও তাহলে ল্যাপটপ চালায়। কি আজব রে বাবা। মধ্যরাত আসার সাথে সাথেই ট্টমি কেমন যেন বেপোরোয়া হয়ে গেল। মনে হয় রক্তের নেশা তার পেয়ে বসেছে। বেঁধে আনা মানুষগুলিকে তার সামনে প্রথমে আনা হল। সে প্রতিটি মানুষ থেকে রক্ত পান করতে লাগল। মানুষগুলির গলায় একটি ফুমের মত কি যেন দেওয়া। ফুমটাকে সরিয়েই রক্ত পান করতে লাগল। লোকগুলিকে দেখেও মনে হচ্ছে তারা অভ্য¯—। রক্ত খাওয়া শেষে লোকগুলিকে বেঁধে আগের জায়গায় নিয়ে যাওয়া হল। ট্টমি লাকড়ি দিয়ে আগুন জ্বালাতে ব্য¯—। কয়েকজন র্যা বের পোশাকের মত অস্ত্রধারী লোক ট্টমির কাছে মানুষদের পায়ের রান, হাতের রান এনে রাখল। ট্টমি এগুলোকে শিকের মধ্যে ঢুকাতে লাগল। শিকের মধ্যে ঢুকিয়ে আগুনে জলসাতে লাগল। অস্ত্রধারী লোকগুলোকে খেতে বলল। অস্ত্রধারী লোকগুলি বিরানির প্যাকেটের মত মনে হয় পোলাও অথবা ভাত হবে বের করে শিকের জলসানো মাংস দিয়ে খেতে লাগল। ট্টমি এগুলি খাচ্ছে না। তবে দেখে দেখে মজা পাচ্ছে বুঝা গেল। খাওয়া শেষে অস্ত্রধারী লোকগুলি চলে গেল। ট্টমি ভয়ংকর একটি মুখোশ পরল। দেখলে মনে হয় অন্য কোন গ্রহ থেকে আসা কোন জন্তু। মুখোশ পরে ভিন্ন ভাষায় শব্দ করে বেঁধে আনা লোকগুলির কাছে গেল। বেঁধে আনা লোকগুলি ট্টমিকে দেখেই কেউ কেউ অজ্ঞান হয়ে গেল। সমগ্র চরেই দেখা গেল গ্র“পে গ্র“পে ভয়ংকর এই কর্মকান্ড চলে। প্রত্যেকটি গ্র“পেই ট্টমি ভিন্ন ভিন্ন মুখোশে উপস্থিত হতে লাগল। এভাবেই সারারাত ট্টমির তান্ডবলিলা চলল। পরের দিনও অবন্তি— ট্টমির আবাস্থলটা খুঁজে বের করতে চেষ্টা করল। ট্টমির অবস্থানটা কিছুতেই নিশ্চিত করতে পারল না। তবে বেঁধে রাখা লোকগুলির অবস্থান নিশ্চিত করা গেছে। সুরঙ্গ দিয়ে নদীতে যাওয়ার একটি রা¯—া আছে। সুরঙ্গ বরাবর একটি নৌকা এমনভাবে সেট করে রাখা হয়েছে দূর থেকে দেখতে এটিকে নৌকা মনে হবে। আসলে এটি নৌকা না। এটা হচ্ছে একটি র“ম। বেঁধে আনা লোকগুলিকে এই ঘন র“মে রাখা হয়। অবন্তি—কে দেখে লোকগুলো হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। অবন্তি— তাদের বুঝাল এখান থেকে যে করেই হোক এদের বের করে নিয়ে যাবে। আজ যেহেতু সন্ধা হয়ে গেছে সুতরাং আজকের রাতটুকু ধৈয্য ধরতে হবে। এখন সবাই জেগে যাবে। ট্টমিও হয়ত কোথাও থেকে এসে হাজির হবে। অবন্তি— তড়িৎ গতিতে উপরে উঠে আসল। অবন্তি—র খারাপ লাগছে। আজকে দিনে যদি তাদের উদ্ধার করা যেত তাহলে কয়েকটি প্রাণ বাঁচত। কিছুই করার নেই। এখন একটু ভূল হলেই সব শেষ হয়ে যাবে। অবন্তি—কে মরতে হবে। সবাইকেই মরতে হবে। ট্টমির রহস্য হয়ত কোনদিন সমাধান করা যাবে না। চরের বাসিন্দারার কাছে সে সবসময়ই রহস্যজনক হয়ে থাকবে। মানুষ হয়ত বলবে সে রক্তপান করে। কেউ বিশ্বাস করবে না। বিশ্বাস করার কথাও না। আজকের এই আধুনিক যুগে বাংলাদেশের মত জায়গায় এরকম রক্তপান করে তা কারো কাছে বিশ্বাসযোগ্য না হওয়ার কথাই। যত যাই হোক, ঘটনা কিন্তু সত্য। এখন কেউ বিশ্বাস করুক আর না করুক। পরের দিন সকাল হতেই অবন্তি— মাটির নিচে গেল। দিন হতেই ট্টমি সুরঙ্গ পথ দিয়ে লোকালয়ে চলে যায়। অবন্তি— সবাইকে মুক্ত করল। ট্টমির মুখোশগুলো পরে অস্ত্রধারী লোকগুলিকে বেঁধে ফেলা হল। অস্ত্রধারী লোকগুলি কিছু বুঝে উঠার আগেই বন্ধি হয়ে গেল। ট্টমি মুখোশগুলি দিয়েই অস্ত্রধারী লোকগুলিকে বুঝাতে চেষ্টা করত সে যে কোন সময় যে কোন আকার ধারণ করতে পারে। তার ক্ষমতা অনেক। সে পুরো দুনিয়াকে শাষণ করবে। অস্ত্রধারী লোকগুলিও ট্টমির মুখোশটাকে ভয় পেত। এটা এতই ভয়ঙ্কর ছিল যে কেউ দেখলেই অজ্ঞান হয়ে যেত। মুখোশটা শরীলের সাথে এমনভাবে লেগে থাকে আসল না নকল কিছুই বুঝা যায় না। অস্ত্রধারী লোকগুলিও বলতে লাগল তাদের বাধ্য করে এখানে আটকে রাখছে। তারা ভাবত, ট্টমি নামের লোকটির কোন ঐশ্যরিক ক্ষমতা আছে। তাই সে যা যা বলত সবাই তা তাই করত। এদের কাছ থেকে অনেক তথ্য জানা গেল। প্রথম দিকে ছেলে ধরার কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে ছেলে কিনে আনত। তারপর থেকে নিজের লোক দিয়ে ধরে আনতে থাকে। শুধুমাত্র ছেলে আনে কারণ তাদের শক্তি কম থাকে। তাদের ভাল ভাবে ব্যবহার করা যায়। অনেককে বিদেশে পাঠানোর নাম করে সহজ সরল লোকগুলিকে এখানে নিয়ে আসে। ট্টমি আসার সাথে সাথেই তাকে ধরা হল। সে সব কিছু স্বীকার করল। ট্টমির একটা আদম ব্যবসা আছে। আদম ব্যবস্থার মাধ্যমে সে লোক সংগ্রহ করে। দলীয় র্যাদব সদস্য দিয়ে বাচ্চাদের কিডনাপ করে। ট্টমির চেয়েছিল সে ভ্যাম্পেয়ার হতে। সারা পৃথিবীর মানুষকে ভ্যাম্পেয়ার করতে। অনেক চেষ্টা করেও যখন ভ্যাম্পায়ার হতে পারি নি সে হতাশায় ভোগতে লাগল। হতাশা থেকেই তার মাথায় এরকম একটি চিন্তা আসে। এরপর থেকেই সে এরকম ভয়াবহ একটি পরিকল্পনা হাতে নেয়।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন