বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১০ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৯
গল্প/কবিতা: ৩৭টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

২২

স্বাধীনতার ডাক

বিজয় ডিসেম্বর ২০১৪

বিজয় দিবস

বিজয় ডিসেম্বর ২০১৪

রক্তপান

ভৌতিক নভেম্বর ২০১৪

শাড়ী (সেপ্টেম্বর ২০১২)

মোট ভোট ২২ শাড়ী সংস্কৃতি

কামরুল হাছান মাসুক
comment ১১  favorite ০  import_contacts ৪১৯
বাবা তুমি আমাকে একটা শাড়ী এনে দিবা।
মা তকে কতবার বলেছি তুই বাংলাদেশি সংস্কৃতিটাকে এখানে আনিছ না। এটা আমেরিকা। এটা বাংলাদেশ নয়। এখানে শাড়ী পড়ে ঘুরে বেড়ালে মানুষ তাকিয়ে তাকিয়ে হাসবে।
বাবা এটা তোমার ভূল ধারণা। এখানে সবাই সবাইকে সম্মান করে। সুতরাং কেউ যদি কারো সংস্কৃতিটাকে ধরে রাখতে চায় তাহলে এখানে কেউ এ নিয়ে মাথা ঘামাবে না। সুতরাং তুমি আমাকে অবশ্যই একটা শাড়ী কিনে দিবে।
লতা তুই একটু বেশি বাড়াবাড়ি করছিস না। আমরা এখানকার সিটিজেন। আমরা এখানে স্থায়ী হয়ে গেছি। আমরা কখনো বাংলাদেশে ফিরে যাব না। সুতরাং এখানকার সংস্কৃতিটাকে মেনে নেওয়া আমাদের কর্তব্য। তুই একটা তুচ্ছ শাড়ী নিয়ে আমার সাথে এরকম তর্কতর্কি করছিস। ভাবতেই কেমন লাগছে।
বাবা তুমি যেটাকে তুচ্ছ মনে করছ আসলে সেটা তুচ্ছ না। এটা একটা শাড়ীর ব্যাপার না। এটা সমগ্র বাংলাদেশের সংস্কৃতির ব্যাপার। তুমি শাড়ীটাকে তুচ্ছ করে সমগ্র বাংলাদেশের সংস্কৃতিটাকেই তুচ্ছ করছ। তুমি নিশ্চই জান শাড়ী বাংলাদেশের সংস্কৃতির একটা অংশ। আমাদের দেশের মেয়েরা পহেলা বৈশাখে, বসন্ত বরণে এবং বিবাহ উৎসবে শাড়ী পড়ে। এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতির সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে মিশে আছে।
লতা আমি আমেরিকার একটা নামি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করি। তুর চেয়ে আমি কম বুঝি না। যে জায়গায় যেটা প্রজোয্য যেখানে সেটাকেই ধারণ করতে হয়।
বাবা তুমি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে পার। তুমি অনেক বুদ্ধিজীবী হতে পার। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তোমার কথা মানতে পারছি না। কারণ আমার যেটা মনে হয়, যে যেই জায়গাই থাকুক না কেন তার অবশ্যই তার নিজস্ব সংস্কৃতিটাকে ধরে রাখতে হবে।
ধর, তুমি বড় কোন কিছু আবিষ্কার করলা। তাহলে তোমার নাম হবে। তোমার নাম হলেই তুমি কোন দেশের এই পরিচয়টা আসবে। তখন তুমি কি করবা। না পারবা নিজের দেশের সংস্কৃতিটাকে তুলে ধরতে। না পারবে ভিন দেশের সংস্কৃতিটাকে তুলে ধরতে। এই জন্য সব সময় নিজের দেশের সংস্কৃতিটাকে ধরে রাখার জন্য অনুশীলন করতে হয়। তাহলে দেখবে কারো কাছে হাত পাততে হবে না।
যাক, আমার বলার ছিল বললাম। মানলেও মানতে পার। না মানলেও মানতে পার। তবে কেউ যদি তোমাকে টিস করে তাহলে আমাকে কিছু বলতে পারবে না।
ঠিক আছে বাবা। তাই হবে। তোমাকে কিছু বলব না। আমার দেশের সংস্কৃতিটাকে আমি ফুটিয়ে তুলব।
আমেরিকানরা কোন কিছুতেই কোন বিষয়ে আগ্রহ দেখায় না। তবে লতার শাড়ীটার বিষয়ে সবাই আগ্রহ দেখাল। কেউ কেউ বিরুপ মন্তব্য করতেও দ্বিধাবোধ করল না। সবার একটাই কৌতুহল কোন দেশ থেকে এসেছে।
আমেরিকানরা ভদ্র হলেও টিস করতে তারা কখনো দ্বিধাবোধ করে না। যেমন ধরা যাক, কেউ মুসলিম বললেই তাকে টিস করা আরম্ভ করবে। কারণ তারা ধারণ করে রেখেছে মুসলমান মানেই সন্ত্রাসী। সুতরাং মুসলিম কাউকে দেখলেই সন্ত্রাসী হিসেবে তাকে টিস করা আরম্ভ করবে। তারা এরকম বিষয়গুলোতে অনেক মজা পেয়ে থাকে। তবে সবাই যে করে তা কিন্তু না। কেউ কেউ করে। লতার ক্ষেত্রেও তাই ঘটল। লতার শাড়ীকে নিয়ে টিস করতে লাগল। লতা তার দেশ বাংলাদেশ বলার সাথে সাথেই সবাই হেসে উঠল। বাংলাদেশ নামে যে একটা দেশ আছে এই বিষয়টাই তারা জানে না। তারা নিজেদের গন্ডির ভিতর ছাড়া অন্য কোন কিছুই জানে না। অল্প বিস্তর যারা জানে তারা বলতে লাগল, ঐ দেশে নাকি মানুষ না খেয়ে মারা যায় তাহলে এত বড় শাড়ী তারা পড়ার টাকা পায় কোথায়। হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষ না খেয়ে মারা যায় ঐ দেশে এত বড় বড় শাড়ী পড়ে। কি আজব তামাসা।
দেখতে দেখতে অনেক লোক জড়ো হয়ে যায়। আমেরিকানরা কৌতুহলে বিশ্বাসী। সুতরাং এরকম এত বড় একটা জটলা দেখে মানুষ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মজা দেখতে লাগল। একটা সময় মানুষের ভিড় এতটা বেড়ে গেল যে, যানযটের উপক্রম হয়ে গেল।
কয়েক মুহুর্তের মধ্যেই প্যা পু্যঁ বাশিঁ বাজাতে বাজাতে পুলিশের গাড়ী এসে গেল। তাদের মূল ঘটনাস্থলে পোঁছতে অনেক সময় লাগল। সংবাদকর্মীরা ও বসে নেই। সংবাদ কর্মীরা সংবাদ দেবার মত তথ্য পেয়ে ছোটে আসতে লাগল। কয়েক ঘন্টার মধ্যেই এলাকা লোকে লোকারন্য হয়ে গেল।
লতার ভয় করতে লাগল। তার মনে হতে লাগল সে চিরিয়াখানার কোন জন্তো। এমন একটা অবস্থা হল যে, লোক ঠেলে সে যে বাহির হবে এই অবস্থাও নেই। লতার কান্না পেতে লাগল তবুও সে নিজেকে প্রাণপ্রণে সামলাতে চেষ্টা করল। কারণ এত গুলো মানুষের সামনে তার নিজের সংস্কৃতিটাকে বিজর্সন দিতে পারে না। তাকে তার বিশ্বাসের প্রতি অটল থাকতে হবে। সে যে তার সংস্কৃতিটাকে সম্মান করার জন্য শাড়ীটাকে পড়েছে সেটা তাকে এই হাজারো মানুষের সামনে প্রমাণ করে দেখাতে হবে।
সংবাদকর্মীরা লতাকে একের পর এক প্রশ্ন করেই যাচ্ছে। টেলিভিশন চ্যানেলের কর্মকর্তারা সংবাদটিকে ভাল ভাবেই লুফে নিয়েছে। মজার সংবাদটি সারা দেশে প্রচার করছে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • রোদের ছায়া
    রোদের ছায়া গল্পটি আধুনিক রূপকথার গল্প মনে হলো , যাই হোক লিখতে থাকুন বেশি বেশি .........তবে বানানে কিন্তু প্রচুর সময় দিয়ে হবে . টিস = টিজ ( তবে গল্পে এই শব্দ না ব্যবহার করলেও চলত , এর বাংলা অর্থ টা ব্যবহার করা যেত )
    প্রত্যুত্তর . ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • জাকিয়া জেসমিন যূথী
    জাকিয়া জেসমিন যূথী আমেরিকায় এইরকম কাহিনী ঘটে তা তো জানা ছিলো না। পরিচিত ও আত্মীয় স্বজনের অনেকেই সেখানে থাকে। বাংলাদেশী পোশাকেই থাকে সেখানে। আপনি এভাবে গল্পকে উপস্থাপন না করিয়ে বরং শাড়ি দেখে বিদেশীরা খুব পছন্দ করেছে সেটা তুলে ধরতে পারতেন। আর, আপনার বোধহয় অজানা যে, শাড়ি শুধুই...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • মাহবুব খান
    মাহবুব খান আলাদা রকম গল্প /ভালো লাগলো
    প্রত্যুত্তর . ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১২