বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৬ মার্চ ১৯৭৪
গল্প/কবিতা: ২৮টি

স্কুল

শিক্ষা / শিক্ষক নভেম্বর ২০১৫

বিস্ময় বিমান

কোমলতা জুলাই ২০১৫

এ দিগন্ত আমার নয়!

দিগন্ত মার্চ ২০১৫

মুক্তিযোদ্ধা (ডিসেম্বর ২০১২)

পৃথুর পৃথিবী

হাবিবুর রহমান
comment ২৩  favorite ১  import_contacts ৫৮৫
[এবারের বিষয়টা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, আমাদের অস্তিত্বর স্তম্ভ। এ বিষয় নিয়ে লেখার জন্য প্রচুর পড়াশোনা এবং গবেষণা দরকার, আমি এ বিষয় নিয়ে কল্প গল্প লিখতে চাইনা। তাই আমার গল্প ভবিষ্যতের এক মুক্তিযোদ্ধার....যার যুদ্ধ যুদ্ধের বিরুদ্ধে]

দুই হাজার দশ দশকে যা বলা হতো অবিসম্ভাবি, সেইটা এড়ানো গেল না। কিন্তু তখন বিষয়টাকে গুরুত্ব দিলনা কেউ। স্বার্থপরের মত সকলে নিজের ইচ্ছা মত প্রকৃতি মায়ের উপর খগড় হস্ত স্থাপন করেই চলল। প্রকৃতি তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাতে বেশী সময় নেয় নি। সেই চির চেনা পৃথিবী খুব তাড়াতাড়ি অচেনা হয়ে গেল। প্রকৃতির নিয়মাবর্তিক রূপান্তর গুলো বন্ধ হয়ে গেল। প্রকৃতি এখন অন্যরকম। হাহাকার করে বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকতে থাকতে যখন ক্লান্ত হয়ে অস্থির হয়ে যায় সবাই, তখন বিষাক্ত বর্ষণ চারপাশকে আরো খাঁ খাঁ করে তোলে। কখনোবা প্রচন্ড দূষিত জলপ্রবাহ ভাসিয়ে নেয় চারদিক। কখনোবা ধুলি ঝড় তোলপাড় করে দুমড়ে মুছড়ে ফেলে রেখে যায় লোকালয়।

পৃথিবী জুড়ে খাবার উপযোগী বিশুদ্ধ পানির খুবই অভাব। সবখানে পানির জন্য হাহাকার। পানির অভাবে পৃথিবীর অনেক প্রানীই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। যারা টিকে আছে তারাও আছে বিপন্ন অবস্থায়। এখনো অবশিষ্ট যেটুকু বিশুদ্ধ পানি আছে সেটুকুর দখল নেয়ার জন্য হন্যে হয়ে সবাই তাদের সমস্ত শক্তি নিয়োগ করেছে। বিশুদ্ধ পানি এখন পৃথিবীর সব চাইতে দামী বস্তু। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ রোগ জ্বরায় আক্রান্ত। পৃথিবীর জনসংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে।
পানির অভাবে ফসল ফলানো এখন খুবই ব্যয় সাধ্য ব্যপার। প্রাকৃতিক খাবার সবার ভাগ্যে জুটে না। কৃত্তিম খাবার খেয়ে বেঁচে আছে অধিকাংশ মানুষ। প্রকৃতির খাবার খেতে পারে পৃথিবীর হাতে গোনা কিছু ধন্নাঢ্য ব্যক্তি। যেখানে তাদের জন্য এই খাবার ফলানো হয় সেখানকার নিরাপত্তার জন্য কয়েক ‘শ ব্যটালিয়ন সোলজার নিয়োজিত থাকে হার রাত দিন। এই সকল সোলজারদের কপালেও এই সকল খাবার জোটেনা। তবে শক্তির কাছে সবাই বধ। অন্যান্য সুযোগ সুবিধা এই সকল সোলজারদের প্রচুর।

যে উদ্দেশ্যে প্রকৃতির বিরুদ্ধচারণ করে পানি প্রবাহের গতি পথে বড় বড় বাঁধ তৈরি করা হয়েছিল সেগুলো কিন্তু বেকার কঙ্কাল হিসাবে অশ্রব্য গালি-গালাজ করে যেন বাতাসের দমকার সাথে সাথে। তাতেও মানুষের বোধদয় হয় বলে মনে হয় না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবতার পর মানুষ আশা করেছিল ইচ্ছে করে এমন কোন পরিনতি কোন ভাবেই টেনে আনা হবে না। কিন্তু সুক্ষ্মভাবে আলোচনায় ছিল যা, বেমালুম তাই ঘটে গেল পৃথিবীতে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধটা কেউ এড়াতে পারল না। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মত এটা কোন জাতীগত যুদ্ধ নয়। এ যুদ্ধে কোন মিত্রবাহিনী নেই। সবাই সবার শত্রু। মানুষই মানুষের শত্রু। ২০১১ সালের অক্টোবরের ১৮ তারিখ পৃথুর যখন জন্ম হয় সেই সময়, পৃথিবীর এমন পরিনতির কথা কদাচিত মানুষের মনে উদয় হয়েছে। কিন্তু মাত্র ৩৫ বছরের মাথায় পৃথিবীটা বেমালুম অন্যরকম হয়ে গেল।

ধূ ধূ বালুচরের মধ্যে সাতটি তাবু খাটিয়ে অস্থায়ী একটা ক্যাম্প করেছে পৃথুর বাহিনী। ওর দলে মোট ১৫ জন সদস্য। আধুনিক এবং মারত্মক ধ্বংসাত্মক অস্ত্রপাতি সমৃদ্ধ দলটি। তবে পৃথুর দলে কোন প্রশিক্ষিত সেনা সদস্য নেই। এক সময় এরা সবাই ছিল সাধারণ জনগণ।

পৃথুর তাবুটার সামনে একটা ছোট কাঠের টেবিল পাতা হয়েছে সেখানে একটা চেয়ার নিয়ে বসে আছে ও। টেবিলে একটা সলিসিট স্ক্রিণের একটা ম্যাপ টেবিলে বিছানো আছে। এটা কাগজের ম্যাপের মতোই রলিং করে রাখা যায়, তবে এটি একটি ডিজিটাল ম্যাপ। পৃথুর পোড় খাওয়া চোখ অবশ্য ম্যাপের দিকে নেই। ওর চোখ দূরে অস্থিমজ্জার মত পড়ে থাকা একটা ব্যারাজের দিকে। এখন এর কোন কার্যকলাপ নেই। এটাকে এক সময় ডাকা হতো ফারাক্কা বাঁধ। পৃথুর কাল চোখের মনির পরিবর্তনে ক্রোধ প্রকাশ পাচ্ছে। ক্রোধ অস্ত্রর সাথে এবং মানুষের বিবেকহীনতার সাথে। কিন্তু কোন মানুষের প্রতি ওর কোন বিদ্দ্যেশ নেই। ওদের সবার শরীরে জড়ানো আছে ভয়ংকর আর ধ্বংসাত্মক সব অস্ত্র। কেউ দেখলে কল্পনা করতে পারবে না এই পৃথুই খুব নামকরা এক প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। হঠাৎ এক দমকা বাতাস এসে পৃথুর ময়লা জামা কাপড় ও চুল গুলো নাড়িয়ে দিয়ে চলে গেল। যেন একটা আগুনের হলকা ওদেরকে পার হয়ে চলে গেল।

পৃথু ম্যাপটায় চোখ নামিয়ে আনে। হাতের স্পর্শে ম্যাপটাতে বাধেঁর ছবিটা বড় করে নেয়। ভাল করে দেখে নেয় পুরো এলাকাটা। কিছু ইউনিট খরচ করলে লাইভ ডাউনলোড করে পুরো এলাকাটা দেখে আসা যেতে পারে। কিন্তু কোন দরকার আছে বলে মনে হয়না। এই সব এলাকায় কেউ সৈন্য দল অকাজে ফেলে রাখার প্রয়োজন মনে করে না। জলের আধারের পাশেই এখন সকল সৈন্যবাহিনী। এই সব উষর মরু এলাকায় কে পড়ে মরতে আসে। এমনিতেই মৃত্যু যখন মানুষের পায়ে পায়ে চলে। পৃথু এই বাঁধ টাকে ধ্বংস করে দিতে চায়। ইচ্ছে করলে এখান থেকেই বাঁধটাকে চুর্ণবিচুর্ণ করে দিতে পারে কিন্তু খুব কাছ থেকে এটাকে ধ্বংস করতে চায় ওরা। খুব কাছ থেকে ধ্বংসটা উপভোগ করতে চায়।

পৃথু ও তার বাহিনী মানব জাতীর সাথে যুদ্ধ করে না। এই বাহিনীর সবাই বিশ্বাস করে পৃথিবী আবার সকল মানুষের বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। তাই নতুন পৃথিবীকে মানুষের বসবাসের উপযোগী করে তোলার জন্যই যুদ্ধ করে যাচ্ছে এই বাহিনী । যুদ্ধের বিরুদ্ধেই ওদের যুদ্ধ। প্রকৃতিকে তার নিজের জায়গায় ফিরিয়ে দিতে চায় ওরা যাতে নতুন পৃথিবী কোন ভাবেই বাধা গ্রস্থ না হয়। পৃথু ও তার বাহিনী পৃথিবীকে বদলে দিতে চায়।
নিজেকে খুব ক্লান্ত লাগছে পৃথুর। এ রকম আরও কয়েকটি বাঁধ ধ্বংস করেছে ওরা। কোথাও কোন বাধার সম্মুখিন হয়নি। আসলে বাঁধ গুলোর আশে পাশে এখন কোন লোকালয় নেই। কোন সৈন্য দলও নেই। তবু পৃথু খুবই সতর্ক। কোন ভাবেই দলের সদস্যদের ক্ষতি হয় এমন কোন পদক্ষেপ নেয় না। দলের সদস্যদের কাছেও পৃথু খুবই শ্রদ্ধার পাত্র। ওর নির্দেশে যে কোন কঠিন কাজে নির্দিধায় ঝাপিয়ে পড়তে প্রস্তুত। উঠে দাড়াল পৃথু। ওর ক্যাম্পটার চারদিক চোখ বুলাল। দুইজন সতর্ক প্রহরী ছাড়া সবাই তাবুতে বা তাবুর বাইরে শরীর এলিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে। কিছুক্ষন পর প্রহরী দু’জনের দায়িত্ব অন্য দু’জন বুঝে নিল। ক্লান্ত প্রহরী দ্বয় একটা তাবুর ছায়ায় বালুর মধ্যে গা এলিয়ে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল কিছুক্ষনের মধ্যে। পৃথু ওর তবুটাতে গিয়ে বালুর উপর বিছানো বিছানাটাতে শুয়ে পড়ল। কখনোই ক্লান্তি শরীরে বাসা বাধতে দেয়া যাবেনা। ঘুমিয়ে নেয়া দরকার। ঘুমে জড়িয়ে এলো চোখ।

ঘুম ভাঙ্গল সুন্দর একটা অনুভূতি নিয়ে। সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখেছে ও। দৃঢ়াকে পেলে এখন এই সুন্দর স্বপ্নের কথাটা বলা যেত। এত সুন্দর স্বপ্ন হয় না। ও দেখল, কুলকুল করে বয়ে যাওয়া একটা নদী। নদীর পানি এত স্বচ্ছ্ব যে এর তলদেশ স্পষ্ট দেখা যায়। নদীর পাশে একটা কাশ বন। সাদা সাদা কাশ ফুল ফুটে আছে। বাতাসে কাশফুল গুলো মাথা ঝাকিয়ে ঝাকিয়ে নাচছে। কাশ পাতায় পাতায় বাতাস গড়িয়ে যাওয়ার দ্বারুন এক গান বাজছে যেন। আকাশ জুড়ে তুলো মেঘের সমারোহ। সূর্য নতজানু, পশ্চিম কোনে লাল আভা ছড়িয়ে রয়েছে। কাশ বনটার কাছেই বিস্তির্ণ সবুজ একটা প্রান্তর। বর্ণালী রঙের অসংখ্য প্রজাপতি আর ঘাস ফড়িং এর রাজত্ব্য যেন একটা। সেই সবুজ গালিচায় বসে আছে দৃঢ়া। ওর কোল জুড়ে একটা ফুটফুটে ছেলে শিশু। ঠিক পৃথুর মতই দেখতে। কোথ্থেকে একটা ছাগল ছানা এসে জুটেছে। ওদের কে ঘিরে স্বভাবজাত লম্ফঝম্ফ করে বেড়াচ্ছে। ছাগল ছানাটার সাথে সাথে দৃঢ়ার শিশুটা নাচছে। কোল থেকে নেমে গিয়ে ঘাসের মধ্যে হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে গেলে। এবার ছাগল ছানাটা ওকে ঘিরেই লাফাচ্ছে। দৃঢ়ার ছেলেটা খলখল করে হেসে উঠল। সে কী এক ভুবন ভোলানো হাসি! ঘুমটা ভেঙ্গে গেল, স্বপ্নটার জন্য মায়া হল পৃথুর। ইস! যদি আরও কিছুক্ষণ স্বপ্নের মাঝে থাকতে পারত?

পৃথুর দলটা ওদের ক্যাম্পটা গুটিয়ে নিল। কিছুক্ষনের মধ্যে পাঁচটা হেভি ডিউটি ট্রাক ধুলো উড়িয়ে চলল বাঁধটার দিকে। বাঁধটার কাছাকাছি এসে ট্রাক গুলো থামল। আসে পাশে কোন লোকালয় নেই। দূরবীন লাগিয়ে যতটুকু দেখা যায় তাতে কোথাও কোন সেনা দলের অবস্থান চোখে পড়েনি ওদের। পৃথুর দলটা কাজে লেগে গেল। পুরো বাঁধটাকে ঘিরে অনেক গুলো বিস্ফোরক লাগানো হল। সবগুলো বিস্ফোরক এক সাথে বিস্ফোরিত হবে। এমন ভাবে ধ্বংস হবে বাঁধটি যে এর কোন চিহ্নই থাকবে না। বিশাল এক স্থাপনা। পুরো কাজ শেষ করতে অনেক সময় লেগে গেল । কাজটা শেষ হয়ে যাওয়ার পরে সবাই একত্রিত হয়ে পুরো পরিকল্পনাটা আবার যাচাই করে নিল। প্রত্যেকটা কাজ ঠিক মত হয়েছে কিনা পরখ করে নিল। সব কিছু নিশ্চিত হওয়ার পর বিস্ফোরনের সময় নির্দেশ করে সবাই নিরাপদ দূরত্বে চলে গেল।

গগণ বিদারি শব্দে কেঁপে উঠল পুরো এলাকা। কুন্ডলি পাকিয়ে আকাশে ছড়িয়ে পড়ল ধূলোর আস্তর। চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে বাঁধটা। ছোট ছোট টুকরোয় পরিণত হয়ে গেছে। মানুষ যদি আরও অনেক আগে এ গুলোকে ধ্বংস করতো তবে হয়তো তারা আজ ধ্বংসের দ্বারে এসে দাড়াতো না। আর ভুল নয়। এভাবে আর ভুল নয়। তৃপ্তি নিয়ে বিস্ফোরণটা দেখল পৃথুর দলটা।

অনেক্ষন বাদে বাতাসের ধূলি গুলো মিলিয়ে যেতেই ওরা দেখতে পেল চারদিক থেকে অনেক গুলো যুদ্ধ ট্রাক ধূলো উড়িয়ে তাদের দিকে এগিয়ে আসছে। এখন আর সরে যাওয়ার রাস্তা খোলা নেই। এতক্ষন এখানে থাকা ঠিক হয়নি। বুঝতে পারছে পৃথু। কিন্তু এখন আর কিছু করার নেই। কোন রকম প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করল না ওরা। মানব জাতীর সাথে তাদের কোন বিদ্দ্যেশ নেই। মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে নারাজ। যা হবার হবে। ওরা ১৫ জন গোল হয়ে দাড়িয়ে পড়ল। হাতের অস্ত্র গুলো শত্রুর দিকে তাক না করে, মাটিতে সেটে ধরেছে। তার মানে অস্ত্র সমর্পণ নয়। সংঘাত এড়ানোর বানী। তবে মাথা নত না করে মরার পাত্রও ওরা নয়। ট্রাক গুলো একটা নিরাপদ দূরত্বে থামল। ট্রাক গুলো থেকে অসংখ্য সৈন্য ঝাপিয়ে ঝাপিয়ে নামল। কিছুক্ষনের মধ্যেই অস্ত্র তাক করে ওদের কে ঘিরে ধরল। একটা জীপ গাড়ি পৃথুর দলটার কাছে এসে থামল। গাড়ীটা থেকে দৃঢ়তার সাথে নামে দাড়াল কর্ণেল যোশী। পৃথুর থেকে বয়স দুই তিন বছর কম হবে। সুঠাম দেহ, আত্মবিশ্বাসী চোখ। পৃথুর দলটার দিকে তাকাল। দলনেতাকে সহজেই আন্দাজ করা যায়। যোশী দৃঢ় পদক্ষেপে তার দিকে এগিয়ে গেল। পৃথুর চোখের দিকে তাকিয়ে থমকে গেল। ওর দৃষ্টিতে মহাত্মা গান্ধির ভাষা। এই দৃষ্টিতে পৃথিবীর সকল মানুষ ভেদাভেদহীন, এক। ওর চোখে মুখে দৃঢ়তা যেন ভারতীয় পৌরানিক কাহিনীর সেই চরিত্র যার নাম পৃথু। যাকে মানুষ রাজা বলে ডাকত। যে কিনা পৃথিবীকে পাহাড় ও সমতলে ভাগ করে মানুষের বসবাসের উপযোগি করে তুলেছিল? পৃথিবীকে দোহন করে মানুষের জন্য শস্য ফলিয়েছিল? যাকে বলা হতো পৃথিবীর পিতা?

তবেকি এই সেই পৃথু যে যুদ্ধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছে? যে কিনা বিশ্বাস করে পৃথিবী আবার মানুষের বসবাসের উপযোগী হয়ে উঠবে? যার বানী সমস্ত পৃথিবীর মানুষকে পুনরায় বাঁচার প্রেরনা যোগাচ্ছে।

নিজের অজান্তে কর্নেল যোশী সোজা হয়ে এক পায়ে মাটিতে প্রচন্ড শক্তিতে আঘাত করে পৃথুকে সেলুট করে বসল। অস্ত্র তাক করে রাখা সৈন্যরা দ্বিধান্বিত হয়ে গেল। উত্তোলিত অস্ত্র কি করবে বুঝতে পারছে না। কর্নেল যোশী তার বাহিনীর দিকে ঘুরে দাড়াল। বলল, কমরেডস্! এ হচ্ছে আমাদের সেই দলপতি পৃথু। এবার সকল সৈন্য তাদের অস্ত্র নামিয়ে নিল। কর্নেল যোশী বলল, “এই বার আমাদের যুদ্ধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। আমারা জয়ি হবই”। সকল সৈন্য আকাশে অস্ত্র উচিয়ে সমস্বরে চিৎকার করে উঠল, জয় মানবতা।

পৃথু নিশ্চিত পৃথিবী আবার মনোরমা হয়ে উঠবে। তবে এখনো পাড়ি দিতে হবে অনেক পথ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • তাপসকিরণ রায়
    তাপসকিরণ রায় গল্পের শুরুটা কোনো প্রবন্ধের মত লাগছিল.শুরুতে কিছু কিছু শব্দের পুনঃপুনঃ ব্যাহার চোখে পড়েছে.পৃথুর পরিচয় ব্যাপারটা নিয়ে একটি ভূমিকা দিয়ে রাখলে গল্পটি আরো স্পষ্ট হত বলে আমি মনে করি.তবু গল্পের দ্বীতিয়ার্ধে সাবলীলতা ফিরে এসেছে ,ভালো লেগেছে.শেষ দিকটা আরো ভালো লেগেছে.
    প্রত্যুত্তর . ২০ ডিসেম্বর, ২০১২
  • সিয়াম সোহানূর
    সিয়াম সোহানূর সাধারণ মানুষকে স্বপ্ন দেখানোটা একটা বিরাট কাজ । আপনি সেই কাজটি করেন অসীম মমতায় , নিপুণ দক্ষতায় । যখনই আপনার লেখা পড়ি অন্যরকম একটা ভাল লাগায় সিক্ত হই । অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ।
    প্রত্যুত্তর . ২১ ডিসেম্বর, ২০১২
  • সুমন
    সুমন পৌরণিক একটা চরিত্রকে কল্পবিজ্ঞানে সেটে দেয়া তারপর গল্পের মোরাল যখন হয় "জয় মানবতা" তখন ভাবতে বাধ্য লেখক অনেক দূর পর্যন্ত চিন্তা করার ক্ষমতা রাখে। আপনার গল্পের মত আমিও বলি মানবতার জয় হোক। অনেক অভিনন্দন আপনাকে সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখানো জন্য যেখা...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ২৬ ডিসেম্বর, ২০১২