বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৫ ডিসেম্বর ১৯৮৫
গল্প/কবিতা: ২টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

২৫

মুক্তির চেতনা (মার্চ ২০১২)

মোট ভোট ২৫ আমাদের মুক্তির চেতনা

নীলাকাশ
comment ৯  favorite ০  import_contacts ২০৭
পঁচিশ কোটি বাংলা ভাষা-ভাষীর প্রাপ্তির ঝুলিতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী শ্রেষ্ঠ অর্জন বায়ান্নের একুশ- যা গর্বভরে বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করা যায়। পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র বাঙালিরাই ভাষার জন্যে জীবন দিয়েছে এবং এই প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছে যে, স্বাধিকারের প্রশ্নে আর জনমেও এর ব্যত্যয় ঘটবে না। এমন বিশ্বাস থেকেই জন্ম নিয়েছে বজ্র-কঠিন 'জয় বাংলা' ধ্বনি। 'আমার সোনার বাংলা'র পরিবর্তে 'পাক সার জমিন সাদ-বাদ' কণ্ঠে তুললে মাত্র নয় মাসের লড়াইয়ে স্বাধীনতা আসতো না হয়তো কোনোদিনই। একাত্তরে প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধা একুশের চেতনাকে মর্মে মর্মে হৃদয়ঙ্গম করেছিলো বলেই সম্ভব হয়েছে বিজয়ের সাতকাহন রচনা। মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শুরু করে দেশী-বিদেশী চক্রান্ত- সর্বোপরি যখনই বাংলার আকাশে দুর্যোগের ঘনঘটা আবিভর্ূত হয় তাকে পরাভূত করতে একুশ টগবগে যুবকের ন্যায় ভূমিকা রাখে। জাতিসত্তার মৌলিক আদর্শের ভিত্তিমূল একুশের নৃত্যপাগল ছন্দ যেনো বিপুল প্রাণশক্তির চক্রাকার প্রক্রিয়া। একুশ আমাদের শিখিয়েছে রক্তদানের পূণ্য। যেখানেই অন্যায়_ সমূলে ভেসে গেছে একুশের চেতনার বন্যায়। বৃহত্তর স্বার্থ ত্যাগ করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক কল্পিত স্বর্গ চূর্ণ-বিচূর্ণ করার তাগিদ একুশেরই মহান দর্শন। তাইতো- 'একুশ আমার অহঙ্কার/ একুশ আমার পতাকার অন্তসার।'

৮ ফাল্গুন যখন একুশে ফেব্রুয়ারি হলো, বাংলা ততক্ষণে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা। কিন্তু ব্যাপারটি মর্মান্তিক যে, আন্তর্জাতিক ভাষার তলে পড়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বেঁচে থাকার নাম করে কোনোরকমে টিকে আছে। অদূর ভবিষ্যতে বিলুপ্তির আশঙ্কা থেকে বলা যায় যে, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল-কলেজগুলোর বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন এবং নিজেদের উদাসীনতায় সন্তানদের অনেকেই মিশেল বাংলা বলতে পারলেও শুদ্ধ লিখতে পারে না। এক্ষেত্রে মাইকেল মধুসূদন দত্ত স্বকীয় প্রতিভার এপিঠ-ওপিঠ বিবেচনায় বিশেষভাবে স্মরণীয়। পলাশের রঙ্গে রাঙ্গা রাজপথ যেথায়। বদলে গেছে ক্যালেন্ডারের তারিখটিও। আজ রাজপথে দেখি নগ্ন পায়ের সারি, দেখি শহীদ মিনারের পাদমূলে ফুলের বৈচিত্র্য। বইয়ের পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠায় খুঁজেছি।

সালাম, বরকত, রফিকরা কোথায়? তোমাদের দেশমুক্তির চেতনা, ভাষামুক্তির চেতনা আজ আমাদের মধ্যে বড়ই অভাব।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • আহমেদ সাবের
    আহমেদ সাবের ভাল লাগল ছোট্ট প্রবন্ধটা।
    প্রত্যুত্তর . ১৪ মার্চ, ২০১২
  • মামুন ম. আজিজ
    মামুন ম. আজিজ ব্রিফ প্রবন্ধ। ভালো প্রবন্ধ। গল্প আশা করে থাকলাম
    প্রত্যুত্তর . ১৯ মার্চ, ২০১২
  • মারুফ মুস্তাফা আযাদ
    মারুফ মুস্তাফা আযাদ ভাই, আত্মাদের ডাইকা খালি খালি তাগো কষ্ট দিয়েন না। আত্মার কোনো শক্তি নাই। যদি থাকত তাইলে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার এগো আত্মা আইসা এই দেশের অপসংস্কৃতি চর্চাকারী আর মিথ্যাবাদী নেতাগো গলাডা ধইরা মুরগির মত ছিড়া ফালাইত। রাজাকাররা যদ্দুর খাইছে, বাকিডা এরা শেষ কইরা দিছে...
    প্রত্যুত্তর . ২৪ মার্চ, ২০১২